📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 পুরুষের স্বল্পতা ও মহিলাদের আধিক্য

📄 পুরুষের স্বল্পতা ও মহিলাদের আধিক্য


পুরুষের স্বল্পতা ও মহিলাদের আধিক্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَفِي رِوَايَةٍ: وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةُ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০, ৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)
মহিলাদের সংখ্যাধিক্য জন্ম সূত্রেও হতে পারে আবার অধিক হারে যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হওয়ার কারণেও হতে পারে। মুসলিম শরীফের বর্ণনায় রয়েছে,
وَيَذْهَبَ الرِّجَالُ وَتَبْقَى النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً قَيِّمُ وَاحِدٌ.
অর্থাৎ পুরুষ চলে যাবে এবং মহিলারাই থেকে যাবে। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে।
উপরোক্ত হাদীসে পঞ্চাশ জন মহিলা বলতে সুনির্দিষ্ট পঞ্চাশ সংখ্যাই বুঝানো হয়নি। বরং তাতে মহিলাদের সংখ্যাধিক্যের কথাই বুঝানো হয়েছে। কারণ, অন্য হাদীসে চল্লিশ জনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আবূ মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল() ইরশাদ করেনঃ
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَطُوفُ الرَّجُلُ فِيْهِ بِالصَّدَقَةِ مِنَ الذَّهَبِ، ثُمَّ لَا يَجِدُ أَحَدًا يَأْخُذُهَا مِنْهُ، وَيُرَى الرَّجُلُ الْوَاحِدُ يَتْبَعُهُ أَرْبَعُونَ امْرَأَةٌ يَلُذْنَ بِهِ، مِنْ قِلَّةِ الرِّجَالِ وَكَثْرَةِ النِّسَاءِ.
অর্থাৎ এমন এক সময় আসবে যখন জনৈক ব্যক্তি স্বর্ণের যাকাত নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে; অথচ সে এমন কোন লোক খুঁজে পাবে না যে তার যাকাতটুকু গ্রহণ করবে এবং যখন দেখা যাবে যে, একজন পুরুষের অধীনে রয়েছে চল্লিশ জন মহিলা যারা ভরণ-পোষণের দিক দিয়ে একমাত্র তার উপরই নির্ভরশীল। কারণ, তখন পুরুষ কমে যাবে এবং মহিলা বেড়ে যাবে। (মুসলিম ১০১২)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 হঠাৎ মৃত্যুর ছড়াছড়ি

📄 হঠাৎ মৃত্যুর ছড়াছড়ি


হঠাৎ মৃত্যুর ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَمَارَاتِ السَّاعَةِ ... أَنْ يَظْهَرَ مَوْتُ الْفُجْأَةِ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে হঠাৎ মৃত্যু বেশি বেশি প্রকাশ পাওয়া। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৭/৩২৫ স'হীহুল জা'মি', হাদীস ৫৭৭৫)
বর্তমান যুগে দেখা যায়, মানুষটি খুবই সুস্থ সবল; অথচ একটু পরেই শুনা যায়, লোকটি মারা গেছে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ সময় থাকতে পূর্বের গুনাহ্ থেকে তাওবা করে কুর'আন ও হাদীসের সঠিক পথ গ্রহণ করা।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 মানুষের মাঝে শত্রুতা ও পরস্পর সম্পর্কহীনতা

📄 মানুষের মাঝে শত্রুতা ও পরস্পর সম্পর্কহীনতা


মানুষে মানুষে শত্রুতা ও পরস্পর সম্পর্কহীনতা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () কে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ
عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لَا يُجَلِّيْهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ، وَلَكِنْ أُخْبِرُكُمْ بِمَشَارِيطِهَا، وَمَا يَكُونُ بَيْنَ يَدَيْهَا، إِنَّ بَيْنَ يَدَيْهَا فِتْنَةٌ وَهَرْجًا، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ الْفِتْنَةُ قَدْ عَرَفْنَاهَا، فَالْهَرْجُ مَا هُوَ؟ قَالَ : بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ : الْقَتْلُ، وَيُلْقَى بَيْنَ النَّاسِ التَّنَاكُرُ، فَلَا يَكَادُ أَحَدٌ أَنْ يَعْرِفَ أَحَدًا.
অর্থাৎ কিয়ামতের জ্ঞান তো একমাত্র আমার প্রভুর নিকটেই। সময় মতো তা উদ্ভাসিত করবেন একমাত্র তিনিই। তবে আমি তোমাদেরকে কিয়ামতের কিছু আলামত বলবো। যা কিয়ামতের পূর্বেই দেখা দিবে। কিয়ামতের পূর্বে দেখা দিবে ফিতনা এবং হারজ। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! ফিতনা তো বুঝলাম। কিন্তু হারজ কি? রাসূল () বললেনঃ ইথিওপীয়দের ভাষায় হারজ মানে হত্যা। আর তখন মানুষের মাঝে সম্পর্কহীনতা ঢেলে দেয়া হবে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়াবে যে, তখন কেউ আর কাউকে চিনবে না। (আহমাদ ৫/৩৮৯)
বর্তমান যুগে প্রতিটি ব্যক্তি সর্বদা নিজের লাভকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। যথাসম্ভব সে অন্যের লাভকে এতটুকুও গুরুত্ব দিতে চায় না। তাই একের উপর অন্যের বিশ্বাস এখন তিরোহিত প্রায়। ভাবখানা এমন যে কেউ আর এখন কাউকে চিনে না।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 আরব ভূমি নদ-নদী ও রবিশস্যে ভরে যাওয়া

📄 আরব ভূমি নদ-নদী ও রবিশস্যে ভরে যাওয়া


আরব ভূমি নদ-নদী ও রবিশস্যে ভরে যাওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْمَالُ وَيَفِيضَ، حَتَّى يَخْرُجَ الرَّجُلُ بِزَكَاةِ مَالِهِ فَلَا يَجِدُ أَحَدًا يَقْبَلُهَا مِنْهُ، وَحَتَّى تَعُودَ أَرْضُ الْعَرَبِ مُرُوجًا وَأَنْهَارًا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মানুষের ধন-সম্পদ অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, যতক্ষণ না এমন পরিস্থিতি হয় যে, জনৈক ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত নিয়ে ঘর থেকে বের হবে; অথচ সে এমন কোন লোক খুঁজে পাবে না যে তার পক্ষ থেকে যাকাতটুকু গ্রহণ করবে, যতক্ষণ না আরব ভূমি নদ-নদী ও শস্যে ভরে যায়। (মুসলিম ১৫৭)
মু'আয বিন জাবাল্) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা একদা তাবুক যুদ্ধের বছর রাসূল () এর সাথে সফরে বের হয়েছি। তখন তিনি দু' নামায একত্রে পড়তেন। যুহর-আসর একত্রে পড়তেন এবং মাগরিব-'ইশাও একত্রে পড়তেন। একদা তিনি নামায পড়তে দেরি করলেন। অতঃপর তিনি তাঁবু থেকে বের হয়ে যুহর-আসর একত্রে পড়ালেন। পুনরায় তাঁবুতে ঢুকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার বের হয়ে মাগরিব-'ইশা একত্রে পড়ালেন। অতঃপর বললেনঃ
إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ، وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يُضْحِيَ النَّهَارُ، فَمَنْ جَاءَهَا مِنْكُمْ فَلَا يَمَسَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِي، فَجِئْنَاهَا، وَقَدْ سَبَقَنَا إِلَيْهَا رَجُلَانِ، وَالْعَيْنُ مِثْلُ الشَّرَاكِ تَبِضُ بِشَيْءٍ مِنْ مَاءٍ، قَالَ: فَسَأَلَهُمَا رَسُولُ اللهِ ﷺ: هَلْ مَسَسْتُمَا مِنْ مَائِهَا شَيْئًا ۚ قَالَا : نَعَمْ، فَسَبَّهُمَا النَّبِيُّ ﷺ ، وَقَالَ لَهُمَا مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَقُولَ، قَالَ: ثُمَّ غَرَفُوا بِأَيْدِيهِمْ مِنَ الْعَيْنِ قَلِيلًا قَلِيلًا، حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَيْءٍ، قَالَ: وَغَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِيهِ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ، ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا ، فَجَرَتِ الْعَيْنُ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ، حَتَّى اسْتَقَى النَّاسُ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُعَاذَا إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةً أَنْ تَرَى مَا هَاهُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا.
অর্থাৎ তোমরা আগামী কাল তাবুক কূপে পৌঁছুবে। তোমরা সেখানে পৌঁছতে পৌঁছুতে সূর্য তখন আকাশে অনেক দূর উঠে যাবে। তোমাদের কেউ সেখানে পৌঁছুলে সে যেন উক্ত কুয়ার পানি এতটুকুও স্পর্শ না করে যতক্ষণ না আমি সেখানে পৌঁছোই। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমরা সেখানে পৌঁছলাম। তবে আমাদের পূর্বেই সেখানে দু' জন লোক পৌঁছে যায়। কুয়োটি ছিলো এতোই সংকীর্ণ যেন জুতোর ফিতা। তা থেকে একটু একটু পানি বেরুচ্ছিলো। রাসূল (ﷺ) লোক দু'টিকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা কি ইতিপূর্বে এ কুয়োর পানি স্পর্শ করছিলে? তারা বললোঃ হ্যাঁ। অতঃপর রাসূল (ﷺ) তাদেরকে মন্দ-শক্ত যাই বলার বললেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম নিজ নিজ হাতে কুয়ো থেকে একটু একটু পানি উঠাচ্ছিলেন এবং তা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখছিলেন। রাসূল (ﷺ) তাতে তাঁর হাত ও চেহারা ধুয়ে পানিটুকু আবার কুয়োতে ঢেলে দেন। তাতে করে উক্ত কুয়ো থেকে প্রচুর পানি বের হতে শুরু করে। এমনকি সবাই নিজ নিজ প্রয়োজনীয় পানি সেখান থেকেই সংগ্রহ করে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে মু'আহ্! তুমি আরো বয়স পেলে দেখবে অত্র এলাকা বাগ-বাগিচায় ভরে গেছে। (মুসলিম ৭০৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00