📄 সত্য সাক্ষ্য লুকিয়ে রেখে অধিক হারে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া
সত্য সাক্ষ্য লুকিয়ে রেখে অধিক হারে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ شَهَادَةَ الزُّوْرِ، وَكِتْمَانَ شَهَادَةِ الْحَقِّ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বে সত্য সাক্ষ্য লুকিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্যই দেয়া হবে। (আহমাদ ৫/৩৩৩)
মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া যেমন হারাম তেমনিভাবে সত্য সাক্ষ্য লুকিয়ে রাখাও হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ، وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ، وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ.
অর্থাৎ তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে নিশ্চয়ই তার মন পাপাচারী। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে সম্যক অবগত। (বাক্বারাহ: ২৮৩)
মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কবীরা গুনাহ্ বটে। আনাস্ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ: الْإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ، وَقَوْلُ الزُّوْرِ، أَوْ قَالَ: وَشَهَادَةُ الزُّوْرِ.
অর্থাৎ সর্ববৃহৎ কবীরা গুনাহ্ হচ্ছে চারটিঃ আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করা, কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে হত্যা করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া ও মিথ্যা কথা বলা। বর্ণনাকারী বলেনঃ হয়তো বা রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। (বুখারী ৬৯১৯; মুসলিম ৮৮)
এ ছাড়াও মিথ্যা সাক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে অন্যের উপর যুলুম ও মানুষের অধিকার নষ্ট করা। যা এ জাতীয় মানুষের মধ্যে ঈমানের অতি দুর্বলতা এবং আল্লাহভীতি না থাকারই প্রমাণ বহন করে।
📄 পুরুষের স্বল্পতা ও মহিলাদের আধিক্য
পুরুষের স্বল্পতা ও মহিলাদের আধিক্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَفِي رِوَايَةٍ: وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةُ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০, ৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)
মহিলাদের সংখ্যাধিক্য জন্ম সূত্রেও হতে পারে আবার অধিক হারে যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হওয়ার কারণেও হতে পারে। মুসলিম শরীফের বর্ণনায় রয়েছে,
وَيَذْهَبَ الرِّجَالُ وَتَبْقَى النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً قَيِّمُ وَاحِدٌ.
অর্থাৎ পুরুষ চলে যাবে এবং মহিলারাই থেকে যাবে। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে।
উপরোক্ত হাদীসে পঞ্চাশ জন মহিলা বলতে সুনির্দিষ্ট পঞ্চাশ সংখ্যাই বুঝানো হয়নি। বরং তাতে মহিলাদের সংখ্যাধিক্যের কথাই বুঝানো হয়েছে। কারণ, অন্য হাদীসে চল্লিশ জনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আবূ মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল() ইরশাদ করেনঃ
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَطُوفُ الرَّجُلُ فِيْهِ بِالصَّدَقَةِ مِنَ الذَّهَبِ، ثُمَّ لَا يَجِدُ أَحَدًا يَأْخُذُهَا مِنْهُ، وَيُرَى الرَّجُلُ الْوَاحِدُ يَتْبَعُهُ أَرْبَعُونَ امْرَأَةٌ يَلُذْنَ بِهِ، مِنْ قِلَّةِ الرِّجَالِ وَكَثْرَةِ النِّسَاءِ.
অর্থাৎ এমন এক সময় আসবে যখন জনৈক ব্যক্তি স্বর্ণের যাকাত নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে; অথচ সে এমন কোন লোক খুঁজে পাবে না যে তার যাকাতটুকু গ্রহণ করবে এবং যখন দেখা যাবে যে, একজন পুরুষের অধীনে রয়েছে চল্লিশ জন মহিলা যারা ভরণ-পোষণের দিক দিয়ে একমাত্র তার উপরই নির্ভরশীল। কারণ, তখন পুরুষ কমে যাবে এবং মহিলা বেড়ে যাবে। (মুসলিম ১০১২)
📄 হঠাৎ মৃত্যুর ছড়াছড়ি
হঠাৎ মৃত্যুর ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَمَارَاتِ السَّاعَةِ ... أَنْ يَظْهَرَ مَوْتُ الْفُجْأَةِ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে হঠাৎ মৃত্যু বেশি বেশি প্রকাশ পাওয়া। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৭/৩২৫ স'হীহুল জা'মি', হাদীস ৫৭৭৫)
বর্তমান যুগে দেখা যায়, মানুষটি খুবই সুস্থ সবল; অথচ একটু পরেই শুনা যায়, লোকটি মারা গেছে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ সময় থাকতে পূর্বের গুনাহ্ থেকে তাওবা করে কুর'আন ও হাদীসের সঠিক পথ গ্রহণ করা।
📄 মানুষের মাঝে শত্রুতা ও পরস্পর সম্পর্কহীনতা
মানুষে মানুষে শত্রুতা ও পরস্পর সম্পর্কহীনতা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () কে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ
عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لَا يُجَلِّيْهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ، وَلَكِنْ أُخْبِرُكُمْ بِمَشَارِيطِهَا، وَمَا يَكُونُ بَيْنَ يَدَيْهَا، إِنَّ بَيْنَ يَدَيْهَا فِتْنَةٌ وَهَرْجًا، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ الْفِتْنَةُ قَدْ عَرَفْنَاهَا، فَالْهَرْجُ مَا هُوَ؟ قَالَ : بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ : الْقَتْلُ، وَيُلْقَى بَيْنَ النَّاسِ التَّنَاكُرُ، فَلَا يَكَادُ أَحَدٌ أَنْ يَعْرِفَ أَحَدًا.
অর্থাৎ কিয়ামতের জ্ঞান তো একমাত্র আমার প্রভুর নিকটেই। সময় মতো তা উদ্ভাসিত করবেন একমাত্র তিনিই। তবে আমি তোমাদেরকে কিয়ামতের কিছু আলামত বলবো। যা কিয়ামতের পূর্বেই দেখা দিবে। কিয়ামতের পূর্বে দেখা দিবে ফিতনা এবং হারজ। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! ফিতনা তো বুঝলাম। কিন্তু হারজ কি? রাসূল () বললেনঃ ইথিওপীয়দের ভাষায় হারজ মানে হত্যা। আর তখন মানুষের মাঝে সম্পর্কহীনতা ঢেলে দেয়া হবে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়াবে যে, তখন কেউ আর কাউকে চিনবে না। (আহমাদ ৫/৩৮৯)
বর্তমান যুগে প্রতিটি ব্যক্তি সর্বদা নিজের লাভকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। যথাসম্ভব সে অন্যের লাভকে এতটুকুও গুরুত্ব দিতে চায় না। তাই একের উপর অন্যের বিশ্বাস এখন তিরোহিত প্রায়। ভাবখানা এমন যে কেউ আর এখন কাউকে চিনে না।