📄 রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাতের প্রতি ভীষণ অনীহা
রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাতের প্রতি ভীষণ অনীহা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَمُرَّ الرَّجُلُ بِالْمَسْجِدِ؛ لَا يُصَلِّي فِيْهِ رَكْعَتَيْنِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে এই যে, জনৈক ব্যক্তি মসজিদের উপর দিয়ে চলে যাবে; অথচ সে তাতে দু' রাক্'আত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামায পড়বে না। (ইবনু খুযাইমাহ্ ২/২৮০-২৮৪)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
أَنْ يَجْتَازَ الرَّجُلُ بِالْمَسْجِدِ، فَلَا يُصَلِّي فِيهِ.
অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি মসজিদ অতিক্রম করবে; অথচ তাতে তার নামায খানা আদায় করে নিবে না। (মামা'উয্যাওয়ারিদ্ ৭/৩২৯)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُتَّخَذَ الْمَسَاجِدُ طُرُقًا.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে এই যে, মসজিদগুলোকে তখন রাস্তা বানিয়ে নেয়া হবে। (ত্বায়ালিসী/মিন'হাহ্ ২/১১২ 'হাকিম ৪/৪৪৬)
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَمَارَاتِ السَّاعَةِ أَنْ تُتَّخَذَ الْمَسَاجِدُ طُرُقًا.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে এই যে, মসজিদগুলোকে তখন রাস্তা বানিয়ে নেয়া হবে। (ত্বায়ালিসী/মিন'হাহ্ ২/১১২ 'হাকিম ৪/৪৪৬)
অথচ যে কোন সময় মসজিদে ঢুকলে সর্ব প্রথম দু' রাক্'আত "তাহিয়্যাতুল মাসজিদ" পড়ে নিতে হয়।
রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ، فَلَا يَجْلِسُ حَتَّى يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ.
অর্থাৎ যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন দু' রাক্'আত নামায আদায় না করে না বসে। (বুখারী ৪৪৪, ১১৬৩; মুসলিম ৭১৪)
অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হলো এই যে, বর্তমান যুগে বিশ্বের কিছু কিছু প্রাচীন মসজিদ যিকির ও ইবাদাতের জায়গা না হয়ে পর্যটন এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। যাতে কাফির, মুশরিকরাও অবাধে প্রবেশ করে।
📄 নতুন চাঁদ বড় আকারে দেখা দেয়া
নতুন চাঁদ বড় আকারে দেখা দেয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
مِنْ اقْتِرَابِ السَّاعَةِ انْتِفَاخُ الْأَهِلَّةِ.
অর্থাৎ কিয়ামত সন্নিকটে আসার আলামত এও যে, নতুন চাঁদ তখন বড় আকারে দেখা দিবে। (স'হী'হুল্ জামি', হাদীস ৫৭৭৪)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
مِنْ اقْتِرَابِ السَّاعَةِ انْتِفَاخُ الْأَهِلَّةِ، وَأَنْ يُرَى الْهِلَالُ لِلَيْلَةٍ، فَيُقَالُ: لِلَّيْلَتَيْنِ.
অর্থাৎ কিয়ামত সন্নিকটে আসার আলামত এও যে, নতুন চাঁদ তখন বড় আকারে দেখা দিবে। এক রাত্রির চাঁদ দেখে বলা হবেঃ এ তো দু' রাত্রির চাঁদ। (মায়া'উয্যাওয়ায়িদ ৩/১৪৬)
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَمَارَاتِ السَّاعَةِ أَنْ يُرَى الْهِلَالُ لِلَيْلَةٍ فَيُقَالُ: لِلَّيْلَتَيْنِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত এটিও যে, তখন এক রাত্রির চাঁদ দেখে বলা হবেঃ এ তো দু' রাত্রির চাঁদ। (স'হী'হুল জামি', হাদীস ৫৭৭৫)
📄 যত্রতত্র মিথ্যার ছড়াছড়ি এবং সংবাদ প্রচারে সত্যতা যাচাই না করা
যত্রতত্র মিথ্যার ছড়াছড়ি এবং সংবাদ প্রচারে সত্যতা যাচাই না করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
سَيَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِي أُنَاسٌ يُحَدِّثُونَكُمْ مَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ.
অর্থাৎ অচিরেই আমার উম্মতের শেষাংশে এমন কিছু লোক আবির্ভূত হবে যারা তোমাদেরকে এমন কিছু হাদীস শুনাবে যা তোমরা ইতিপূর্বে কারো থেকে শুনোনি। না তোমাদের বাপ-দাদা শুনেছে। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তারাও যেন তোমাদের থেকে দূরে থাকে। (মুসলিম ৬)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
يَكُوْنُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُوْنَ كَذَّابُوْنَ، يَأْتُوْنَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوْا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّوْنَكُمْ وَلَا يَفْتِنُوْنَكُمْ.
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন কিছু মিথ্যুক দাজ্জাল বেরুবে যারা তোমাদেরকে এমন কিছু হাদীস শুনাবে যা তোমরা ইতিপূর্বে কারো থেকে শুনোনি। না তোমাদের বাপ-দাদা শুনেছে। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তারাও যেন তোমাদের থেকে দূরে থাকে। তারা যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে এবং ফিতনায় ফেলতে না পারে। (মুসলিম ৭)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'ঊদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَتَمَثَّلُ فِي صُوْرَةِ الرَّجُلِ، فَيَأْتِي الْقَوْمَ فَيُحَدِّثُهُمْ بِالْحَدِيثِ مِنَ الْكَذِبِ، فَيَتَفَرَّقُوْنَ، فَيَقُولُ الرَّجُلُ مِنْهُمْ : سَمِعْتُ رَجُلًا أَعْرِفُ وَجْهَهُ، وَلَا أَدْرِيْ مَا اسْمُهُ يُحَدِّثُ.
অর্থাৎ একদা শয়তান মানুষের রূপ ধারণ করে কোন এক জন সমষ্টির নিকট এসে তাদের নিকট মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করবে। উক্ত জন সমষ্টি ভেঙ্গে যাওয়ার পর তাদের কেউ কেউ বলবেঃ আমি এমন এক ব্যক্তি থেকে হাদীস শুনেছি যার চেহারা চিনি; অথচ তার নাম জানি না। (মুসলিম, ভূমিকা, হাদীস ৭ এর অধীন)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর বিন্ 'আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
إِنَّ فِي الْبَحْرِ شَيَاطِينَ مَسْجُوْنَةً، أَوْثَقَهَا سُلَيْمَانُ، يُوْشِكُ أَنْ تَخْرُجَ فَتَقْرَأَ عَلَى النَّاسِ قُرْآنًا.
অর্থাৎ সাগরের মধ্যে অনেকগুলো শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়েছে। যাদেরকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছেন সুলাইমান (আঃ)। অচিরেই তারা সাগর থেকে বের হয়ে মানুষকে কুর'আন পড়ে শুনাবে; অথচ তা কুর'আন নয়। (মুসলিম, ভূমিকা, হাদীস ৭ এর অধীন)
📄 সত্য সাক্ষ্য লুকিয়ে রেখে অধিক হারে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া
সত্য সাক্ষ্য লুকিয়ে রেখে অধিক হারে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ شَهَادَةَ الزُّوْرِ، وَكِتْمَانَ شَهَادَةِ الْحَقِّ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বে সত্য সাক্ষ্য লুকিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্যই দেয়া হবে। (আহমাদ ৫/৩৩৩)
মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া যেমন হারাম তেমনিভাবে সত্য সাক্ষ্য লুকিয়ে রাখাও হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ، وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ، وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ.
অর্থাৎ তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে নিশ্চয়ই তার মন পাপাচারী। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে সম্যক অবগত। (বাক্বারাহ: ২৮৩)
মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কবীরা গুনাহ্ বটে। আনাস্ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ: الْإِشْرَاكُ بِاللهِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ، وَقَوْلُ الزُّوْرِ، أَوْ قَالَ: وَشَهَادَةُ الزُّوْرِ.
অর্থাৎ সর্ববৃহৎ কবীরা গুনাহ্ হচ্ছে চারটিঃ আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করা, কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে হত্যা করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া ও মিথ্যা কথা বলা। বর্ণনাকারী বলেনঃ হয়তো বা রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। (বুখারী ৬৯১৯; মুসলিম ৮৮)
এ ছাড়াও মিথ্যা সাক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে অন্যের উপর যুলুম ও মানুষের অধিকার নষ্ট করা। যা এ জাতীয় মানুষের মধ্যে ঈমানের অতি দুর্বলতা এবং আল্লাহভীতি না থাকারই প্রমাণ বহন করে।