📄 শুধু পরিচিতজনকেই সালাম দেয়া
শুধু পরিচিতজনকেই সালাম দেয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُسَلَّمَ الرَّجُلُ عَلَى الرَّجُلِ، لَا يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِلَّا لِلْمَعْرِفَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে একে অপরকে সালাম দিবে শুধুমাত্র পরিচয়ের ভিত্তিতেই। (আহমাদ্ ৫/৩২৬)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ تَسْلِيمَ الْخَاصَّةِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বক্ষণে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদেরকেই সালাম দেয়া হবে। (আহমাদ্ ৫/৩৩৩)
📄 অল্প জ্ঞানের লোকদের নিকট ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণ করা
অল্প জ্ঞানের লোকদের নিকট ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণ করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ উমাইয়াহ্ জুমা'হী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ثَلَاثًا : إِحْدَاهُنَّ : أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الْأَصَاغِرِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে তিনটিঃ তার মধ্য থেকে একটি হচ্ছে, অল্প জ্ঞানের লোকদের নিকটই তখন ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণ করা হবে। (যুহৃদ/ইবনুল মুবারক, হাদীস ৬১ স'হী'হুল্ জামি', হাদীস ৭৩০৮)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا أَتَاهُمُ الْعِلْمُ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ، وَمِنْ أَكَابِرِهِمْ، فَإِذَا أَتَاهُمُ الْعِلْمُ مِنْ قِبَلِ أَصَاغِرِهِمْ، وَتَفَرَّقَتْ أَهْوَاؤُهُمْ هَلَكُوا.
অর্থাৎ মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের উপর থাকবে যতক্ষণ তারা রাসূল () এর বড় বড় সাহাবী থেকে জ্ঞান আহরণ করবে। আর যখন তারা ছোটদের থেকে জ্ঞান আহরণ করবে এবং তাদের খেয়াল খুশী মতো দলে দলে বিভক্ত হবে তখনই তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। (যুহদ/ইবনুল মুবারক, হাদীস ৮১৫ আব্দুর রায্যাক, হাদীস ২০৪৪৬)
📄 কাপড় পরিহিতা উলঙ্গিনী মহিলাদের আবির্ভাব
কাপড় পরিহিতা উলঙ্গিনী মহিলাদের আবির্ভাব কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহ আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
سَيَكُونَ فِي آخِرِ أُمَّتِي رِجَالٌ يَرْكَبُونَ عَلَى سُرُوجٍ كَأَشْبَاءِ الرِّحَالِ، يَنْزِلُونَ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسَاجِدِ، نِسَاؤُهُمْ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ عَلَى رُؤُوسِهِمْ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْعِجَافِ الْعَنُوهُنَّ، فَإِنَّهُنَّ مَلْعُوْنَاتٌ، لَوْ كَانَتْ وَرَاءَكُمْ أُمَّةٌ مِنَ الْأُمَمِ لَخَدَمْنَ نِسَاؤُكُمْ نِسَاءَهُمْ كَمَا يَقْدِمْنَكُمْ نِسَاءُ الْأُمَمِ قَبْلَكُمْ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের শেষাংশে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হবে যারা ঘরের ন্যায় আসনে তথা গাড়িতে আরোহণ করবে। যাতে চড়ে তারা মসজিদের দরজায় অবতরণ করবে। তাদের মহিলারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। তাদের মাথা হবে দুর্বল খুরাসানী উটের কুঁজোর ন্যায়। তোমরা তাদেরকে অভিসম্পাত করবে। কারণ, তারা অভিসম্পাত পাওয়ার উপযুক্তা। তোমাদের পর যদি অন্য কোন জাতির আবির্ভাব হয় তা হলে তোমাদের মহিলারা তাদের মহিলাদের খিদমত করবে যেমনিভাবে পূর্বেকার জাতির মহিলারা তোমাদের খিদমত করে। (আহমাদ্ ১২/৩৬)
سَيَكُونَ فِي آخِرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ رِجَالٌ يَرْكَبُونَ عَلَى الْمَيَائِرِ حَتَّى يَأْتُوا أَبْوَابَ مَسَاجِدِهِمْ، نِسَاؤُهُمْ كَاسِيَاتُ عَارِيَاتٌ.
অর্থাৎ এ উম্মতের শেষাংশে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হবে যারা নরম নরম আসনে তথা উন্নত মানের গাড়িতে আরোহণ করবে। যাতে চড়ে তারা মসজিদের দরোজায় অবতরণ করবে। তাদের মহিলারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। ('হাকিম ৪/৪৩৬)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا : قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءُ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتُ، رُؤُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوْجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا.
অর্থাৎ দু' জাতীয় মানুষ জাহান্নামী। যাদেরকে আমি এখনো দেখিনি। তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে এমন লোক যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় লম্বা লাঠি। যা দিয়ে তারা মানুষকে অযথা প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে এমন মহিলারা যারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। অন্যকে আকর্ষণকারিণী এবং নিজেও হবে অন্যের প্রতি আকৃষ্টা। তাদের মাথা হবে খুরাসানী উটের ঝুলে পড়া কুঁজোর ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি উহার সুগন্ধও পাবে না। অথচ উহার সুগন্ধ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। (মুসলিম ২১২৮)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تَظْهَرَ ثِيَابٌ تَلْبَسُهَا نِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ.
অর্থাৎ কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্য থেকে আরেকটি আলামত এই যে, তখন এমন পোশাক-পরিচ্ছদ আবিষ্কৃত হবে যা পরবে এমন মহিলারা যারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। (মায্যা'উয্যাওয়ায়িদ ৭/৩২৭)
📄 মুমিনের স্বপ্ন সত্য হওয়া
মু'মিনের স্বপ্ন সত্য হওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত। মু'মিনের ঈমান যতই শক্তিশালী হবে ততই তার স্বপ্ন হবে অত্যধিক সত্য।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ؛ لَمْ تَكَدُ رُؤْيَا الْمُسْلِمِ تَكْذِبُ، وَأَصْدَقُكُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُكُمْ حَدِيثًا، وَرُؤْيَا الْمُسْلِمِ جُزْءً مِنْ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَفِي رِوَايَةِ الْبُخَارِيُّ: وَمَا كَانَ مِنَ النُّبُوَّةِ فَإِنَّهُ لَا يَكْذِبُ.
অর্থাৎ (কিয়ামতের) সময় যতই ঘনিয়ে আসবে ততই কোন মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। তবে তোমাদের মধ্যে সব চাইতে বেশি সত্য স্বপ্ন দেখবে সে ব্যক্তি যে সব চাইতে বেশি সত্য কথা বলে। কারণ, মুসলমানের স্বপ্ন তো নবুওয়াতের পঁয়তাল্লিশাংশের একাংশ। বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, আর যা নবুওয়াতের একাংশ তা তো আর মিথ্যা হতে পারে না। (বুখারী ৭০১৭; মুসলিম ২২৬৩)
কখন এ সত্য স্বপ্ন দেখা দিবে তা নিয়ে আলিমদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে যা নিম্নরূপঃ
ক. কিয়ামতের পূর্বক্ষণে যখন ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাবে। অত্যধিক হত্যাকাণ্ড ও ফিতনার দরুন যখন শরীয়তের নিদর্শনসমূহ মুছে যাবে। তখন মানুষের প্রয়োজন দেখা দিবে কোন এক নবীর আবির্ভাবের। কিন্তু আমাদের নবী তো সর্বশেষ নবী। তাঁর পর তো আর কোন নবী আসবেন না। তাই মুসলমানরা তখন সুসংবাদ ও সতর্কতা মূলক সত্য স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে।
খ. মু'মিনদের সংখ্যা যখন কমে যাবে এবং কাফির, মুশরিক, ফাসিক ও মূর্খের সংখ্যা বেড়ে যাবে তখন মু'মিনদেরকে সম্মান ও সান্ত্বনা দেয়ার জন্য এ সত্য স্বপ্ন দেখানো হবে।
গ. 'ঈসা (আঃ) যখন কিয়ামতের পূর্বক্ষণে দুনিয়াতে অবতরণ করবেন তখনকার মু'মিনরা এ সত্য স্বপ্ন দেখবেন। কারণ, তাঁরা হবেন সত্যবাদী মুসলমান এবং তাঁদের স্বপ্নও হবে সত্য।