📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া

📄 নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া


নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া এবং খারাপ লোকের আধিক্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত। এমনকি পরিশেষে শুধু খারাপ লোকই দুনিয়ার বুকে বেঁচে থাকবে। আর তখনই তাদের উপর কিয়ামত কায়িম হবে। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ الْخَلْقِ.
অর্থাৎ একমাত্র নিকৃষ্ট মানুষের উপরই কিয়ামত কায়িম হবে। (মুসলিম ২৯৪৯)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَأْخُذَ اللهُ شَرِيطَتَهُ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَيَبْقَى فِيْهَا عَجَاجَةً، لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا، وَلَا يُنْكِرُوْنَ مُنْكَرًا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে এ বিশ্ব ভুবন থেকে উঠিয়ে নেন। অতঃপর এ দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে শুধু নিকৃষ্ট জন সাধারণ। তারা ভালোকেও ভালো বলবে না এবং খারাপকেও খারাপ বলবে না। (আহমাদ ১১/১৮১-১৮২ 'হাকিম ৪/৪৩৫)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে ইমাম 'হাকিম, যাহাবী ও আল্লামাহ্ আহমাদ শাকির হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। 'আমর বিন্ শু'আইব তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُغَرْبَلُونَ فِيْهِ غَرْبَلَةً، يَبْقَى مِنْهُمْ حُثَالَةٌ، قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ، وَاخْتَلَفُوا ، فَكَانُوا هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ.
অর্থাৎ এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষকে চালন দিয়ে চালিয়ে তথা যাচাই-বাছাই করে ভালো লোকদেরকে উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন শুধুমাত্র খারাপ লোকই বেঁচে থাকবে। তাদের কোন আমানত ও অঙ্গীকার ঠিক থাকবে না। তারা পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবে। যেন এক হাতের আঙ্গুলকে অন্য হাতের আঙ্গুলের মাঝে ঢুকানো হয়েছে। (আহমাদ ১২/১২ 'হাকিম ৪/৪৩৫)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 সমাজে নিচু লোকদের নেতৃত্ব

📄 সমাজে নিচু লোকদের নেতৃত্ব


সমাজে নিচু লোকদের নেতৃত্ব কিয়ামতের আরেকটি আলামত। যতই কিয়ামত ঘনিয়ে আসবে ততই সমাজের নিচু শ্রেণীর লোকেরা সমাজের নেতৃত্ব দিবে। বর্তমান মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ ক্ষমতাধররা ধর্মীয় জ্ঞানে মূর্খ এবং ধার্মিকতায় একেবারেই শূন্যের কোঠায়; অথচ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে, সমাজের নেতৃত্ব ওরাই দিবেন যাঁরা হবেন ধর্মীয় জ্ঞানে পণ্ডিত ও আল্লাহভীরু। কারণ, তাঁরাই হচ্ছেন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট একমাত্র সম্মানের পাত্র। এ কারণেই রাসূল (ﷺ) কোন এলাকার দায়িত্বশীল নিয়োগ করতেন এমন ব্যক্তিকে যিনি ছিলেন উপস্থিত সবার মধ্যে বেশি জ্ঞানের অধিকারী এবং উক্ত কাজের সত্যিকারের উপযুক্ত। তেমনিভাবে তাঁর খলীফাগণও উক্ত নিয়োগ পদ্ধতি পালন করেন।
একদা নাজরানবাসীরা রাসূল (স) এর নিকট তাদের উপর দায়িত্বশীল হিসেবে একজন আমানতদার ব্যক্তি কামনা করছিলো। তখন রাসূল () বলেনঃ
لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكُمْ رَجُلًا أَمِينًا حَقًّا أَمِينٍ، فَاسْتَشْرَفَ لَهُ النَّاسُ، فَبَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট একজন সত্যিকার আমানতদার ব্যক্তি পাঠাবো। তখন সবাই উঁকিঝুঁকি মারছিলো রাসূল () কাকে পাঠাবেন তা জানার জন্য। অতঃপর রাসূল () হযরত আবূ 'উবাইদাহ্ বিন্ জারাহ্ কেই পাঠিয়ে দিলেন। (বুখারী ৪৩৮১)
নিম্নে উক্ত আলামত সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস বর্ণিত হলোঃ
আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّهَا سَتَأْتِي عَلَى النَّاسِ سِنُونَ خَدَّاعَةٌ، يُصَدِّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ، وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ، وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ، وَيُخَوَّنُ فِيهَا الْأَمِينُ، وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ، قِيلَ: وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ؟ قَالَ: السَّفِيهُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ.
অর্থাৎ অচিরেই এমন কিছু বছর আসবে যাতে মানুষ ধোকা খাবে। তাতে মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী মনে করা হবে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী মনে করা হবে। আত্মসাৎকারীকে আমানতদার মনে করা হবে এবং আমানতদারকে আত্মসাৎকারী মনে করা হবে। সে সময় রুওয়াইবেযা কথা বলবে। রাসূল () কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ রুওয়াইবেযা কে? তিনি বললেনঃ রুওয়াইবেযা হচ্ছে সে বেকুব লোক যে জাতীয় ব্যাপারে কথা বলবে। (আহমাদ ১৫/৩৭-৩৮)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
وَإِذَا كَانَتِ الْعُرَاةُ الْحُفَاةُ رُؤُوسَ النَّاسِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا.
অর্থাৎ যখন জামা-কাপড় ও জুতোবিহীন লোকেরা মানুষের নেতৃত্ব দিবে তখনই মনে করবে কিয়ামত অতি সন্নিকটে। (মুসলিম ৯)
'উমর বিন্ খাত্তাব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ : أَنْ يَغْلِبَ عَلَى الدُّنْيَا لُكَعُ ابْنُ لُكَ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে অযোগ্য অপদার্থ লোক দুনিয়ার নেতৃত্ব দেয়া। (মাজমা'উয্যাওয়ায়িদ ৭/৩২৫)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
অর্থাৎ যখন নেতৃত্ব অযোগ্যের হাতে তুলে দেয়া হয় তখনই কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। (বুখারী ৬৪৯৬)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ... أَنْ يَعْلُو التَّحُوتُ الْوُعُولَ، أَكَذَلِكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ سَمِعْتَهُ مِنْ حِبِي ؟ قَالَ : نَعَمْ؛ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، قُلْنَا : وَمَا التَّحُوتُ؟ قَالَ: فَسُولُ الرِّجَالِ وَأَهْلُ الْبُيُوتِ الْغَامِضَةِ يُرْفَعُوْنَ فَوْقَ صَالِحِيْهِمْ، وَالْوُعُولُ: أَهْلُ الْبُيُوتِ الصَّالِحَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে "তু'হুত" (নিচু লোকেরা) "উ'উল" (ভালো লোকের) উপর নেতৃত্ব দিবে। বর্ণনাকারী হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌! তুমি কি উক্ত হাদীসটি আমার প্রিয় নবী থেকে শুনছিলে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, কা'বার প্রভুর কসম! আমি তা প্রিয় নবী থেকে শুনেছি। শ্রোতারা বললোঃ "তু'হুত" কি? তিনি বললেনঃ "তু'হুত" মানে নিচু লোক। অপ্রসিদ্ধ ঘরের লোকেরা ভালো লোকদের উপর মর্যাদা পাবে। আর "উ'উল" মানে ভালো ঘরের লোকেরা। (মাজমা'উয্যাওয়ায়িদ ৭/৩২৭)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى تَصِيرَ لِلْكَعِ ابْنِ لُكَ.
অর্থাৎ দুনিয়া নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না তা অযোগ্য অপদার্থ লোকের হাতে চলে যাবে। (আহমাদ ১৬/২৮৪ স'হী'হুল্ জামি', হাদীস ৭১৪৯)
'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكُوْنَ أَسْعَدُ النَّاسِ بِالدُّنْيَا لُكَعُ ابْنُ لُكَ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না দুনিয়ার সব চাইতে ভাগ্যবান ব্যক্তি হবে অযোগ্য অপদার্থ। (আহমাদ ৫/৩৮৯ স'হী'হুল্ জামি', হাদীস ৭৩০৮)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 শুধু পরিচিতজনকেই সালাম দেয়া

📄 শুধু পরিচিতজনকেই সালাম দেয়া


শুধু পরিচিতজনকেই সালাম দেয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُسَلَّمَ الرَّجُلُ عَلَى الرَّجُلِ، لَا يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِلَّا لِلْمَعْرِفَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে একে অপরকে সালাম দিবে শুধুমাত্র পরিচয়ের ভিত্তিতেই। (আহমাদ্‌ ৫/৩২৬)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ تَسْلِيمَ الْخَاصَّةِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বক্ষণে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদেরকেই সালাম দেয়া হবে। (আহমাদ্ ৫/৩৩৩)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 অল্প জ্ঞানের লোকদের নিকট ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণ করা

📄 অল্প জ্ঞানের লোকদের নিকট ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণ করা


অল্প জ্ঞানের লোকদের নিকট ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণ করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ উমাইয়াহ্ জুমা'হী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ثَلَاثًا : إِحْدَاهُنَّ : أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الْأَصَاغِرِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে তিনটিঃ তার মধ্য থেকে একটি হচ্ছে, অল্প জ্ঞানের লোকদের নিকটই তখন ধর্মীয় জ্ঞান অন্বেষণ করা হবে। (যুহৃদ/ইবনুল মুবারক, হাদীস ৬১ স'হী'হুল্ জামি', হাদীস ৭৩০৮)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا أَتَاهُمُ الْعِلْمُ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ، وَمِنْ أَكَابِرِهِمْ، فَإِذَا أَتَاهُمُ الْعِلْمُ مِنْ قِبَلِ أَصَاغِرِهِمْ، وَتَفَرَّقَتْ أَهْوَاؤُهُمْ هَلَكُوا.
অর্থাৎ মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের উপর থাকবে যতক্ষণ তারা রাসূল () এর বড় বড় সাহাবী থেকে জ্ঞান আহরণ করবে। আর যখন তারা ছোটদের থেকে জ্ঞান আহরণ করবে এবং তাদের খেয়াল খুশী মতো দলে দলে বিভক্ত হবে তখনই তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। (যুহদ/ইবনুল মুবারক, হাদীস ৮১৫ আব্দুর রায্যাক, হাদীস ২০৪৪৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00