📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 অত্যাধিক ভূমিকম্প

📄 অত্যাধিক ভূমিকম্প


অত্যধিক ভূমিকম্প কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ وَتَكْثُرَ الزَّلَازِلُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ভূমিকম্প বেড়ে যাবে। (বুখারী ৭১২১)
ইতিপূর্বে অনেক ভূমিকম্প দেখা দিয়েছে। তবে কিয়ামত যতই ঘনিয়ে আসবে ততই ভূমিকম্প আরো ব্যাপক এবং আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে। আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'হওয়ালাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () নিজের হাত খানা আমার মাথায় রেখে বললেনঃ
يَا ابْنَ حَوَالَةَ ! إِذَا رَأَيْتَ الْخِلَافَةَ قَدْ نَزَلَتِ الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ؛ فَقَدْ دَنَتِ الزَّلَازِلُ وَ الْبَلَايَا وَالْأُمُورُ الْعِظَامُ، وَ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ إِلَى النَّاسِ مِنْ يَدِي هَذِهِ مِنْ رَأْسِكِ.
অর্থাৎ হে ইব্‌নু 'হাওয়ালাহ্! যখন তুমি দেখবে, বাইতুল মাকদিসে খিলাফত প্রথা চালু হয়েছে তখন মনে করবে, ভূমিকম্প, বিপদাপদ এবং বড়ো বড়ো অঘটনসমূহ অতি সন্নিকটে। তখন কিয়ামত এতো অতি সন্নিকটে যেমন আমার হাত তোমার মাথার সন্নিকটে। (আহমাদ ৫/২৮৮ আবূ দাউদ/'আউন ৭/২০৯-২১০ 'হাকিম ৪৫/৪২৫ স'হীহুল জামি', হাদীস ৭৭IS)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ভূমিধ্বস, বিকৃতি ও ক্ষেপণ

📄 ভূমিধ্বস, বিকৃতি ও ক্ষেপণ


ভূমিধস, বিকৃতি ও ক্ষেপণ কিয়ামতের আরেকটি আলামত। 'আয়িশা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَكُونُ فِي آخِرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفُ وَمَسْخُ وَقَذْفُ، قَالَتْ : قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَتَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُوْنَ؟ قَالَ: نَعَمْ؛ إِذَا ظَهَرَ الْخَبَتُ.
অর্থাৎ এ উম্মতের শেষ দিকে দেখা দিবে ভূমিধস, বিকৃতি ও ক্ষেপণ। হযরত 'আয়িশা বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমরা কি তখন ধ্বংস হয়ে যাবো; অথচ তখনো আমাদের মধ্যে থাকবে সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ। রাসূল () বললেনঃ হ্যাঁ, তাই হবে যখন অপকর্ম সর্বস্তরে বিস্তার লাভ করবে। (তিরমিযী ৬/৪১৮ স'হীহুল জামি', হাদীস ৮০১২)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ مَسْخُ وَ خَسْفُ وَقَذْفٌ.
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে বিকৃতি, ভূমিধস ও নিক্ষেপ দেখা দিবে। (ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৪৯)
বিশেষ করে তাক্বদীরে যারা অবিশ্বাসী তাদের মধ্যেই বিকৃতি ও নিক্ষেপ দেখা দিবে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي مَسْخُ وَقَدْفُ، وَهُوَ فِي الزَّنْدَقِيَّةِ وَالْقَدْرِيَّةِ.
অর্থাৎ অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে দেখা দিবে বিকৃতি ও নিক্ষেপ। তবে তা হবে বিশেষ করে তাক্বদীরে অবিশ্বাসীদের মাঝে। (আহমাদ ৯/৭৩-৭৪)
অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ
فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفُ أَوْ مَسْخُ أَوْ قَذَفُ فِي أَهْلِ الْقَدْرِ.
অর্থাৎ এ উম্মতের মধ্যে দেখা দিবে ভূমিধস, বিকৃতি ও নিক্ষেপ। আর তা হবে বিশেষ করে তাক্বদীরে অবিশ্বাসীদের মাঝে। (তিরমিযী ৬/৩৬৭-৩৬৮)
কিয়ামতের পূর্বে আরবরাই বিশেষভাবে ভূমিধসের স্বীকার হবে। আব্দুর রহমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেনঃ তাঁর পিতা বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُخْسَفَ بِقَبَائِلَ، فَيُقَالُ: مَنْ بَقِيَ مِنْ بَنِي فُلَانٍ؟ قَالَ: فَعَرَفْتُ حِينَ قَالَ: قَبَائِلَ أَنَّهَا الْعَرَبُ، لِأَنَّ الْعَجَمَ تُنْسَبُ إِلَى قُرَاهَا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না কয়েকটি আরব বংশ ভূমিধসে আক্রান্ত হয়। তখন জিজ্ঞাসা করা হবেঃ অমুক বংশের আর কে বেঁচে আছে? বর্ণনাকারী সাহাবী বলেনঃ "কাবায়িল" শব্দ শুনতেই আমার মনে হলো, এরা আরব। কারণ, অনারবদেরকে এলাকার প্রতি সম্পৃক্ত করেই তাদের পরিচয় দেয়া হয়। যেমনঃ বলা হতোঃ রোমান, পারস্যবাসী ইত্যাদি। (আহমাদ ৪/৪৮৩ মাজা'উয যাওয়ায়িদ ৮/৯)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে ইমাম হাইসামী হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বাক্বীরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূল () কে মিম্বরে খুতবারত অবস্থায় বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ
إِذَا سَمِعْتُمْ بِجَيْشِي قَدْ خُسِفَ بِهِ قَرِيبًا؛ فَقَدْ أَظَلَّتِ السَّاعَةُ.
অর্থাৎ যখন তুমি শুনবে আমার সেনাদল অতি নিকটেই ভূমিধসে আক্রান্ত হয়েছে তখন মনে করবে, কিয়ামতই এসে গেছে। (আহমাদ ৬/৩৭৮-৩৭৯ স'হীহুল জামি', হাদীস ৬৩১)
ইতিপূর্বে যে ভূমিধসগুলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে দেখা দিয়েছে তা গুনাহগারদের প্রতি সংকেত মাত্র। যাতে তারা পুনরায় সঠিক পথে ফিরে আসে। 'ইম্মান বিন্ 'হুস্বাইন থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفُ وَمَسْخُ وَقَذُفُ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! وَمَتَى ذَلِكَ؟ قَالَ: إِذَا ظَهَرَتِ الْقِيَانُ وَالْمَعَازِفُ، وَشُرِبَتِ الْخُمُوْرُ.
অর্থাৎ এ উম্মতের মাঝে ভূমিধস, বিকৃতি ও নিক্ষেপ দেখা দিবে। জনৈক সাহাবী বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রসূল! তা কখন হবে? তিনি বললেনঃ যখন গায়ক-গায়িকা ও হরেক রকমের বাদ্যযন্ত্র বিস্তার লাভ করবে এবং মদ পান করা হবে। (তিরমিযী, হাদীস ৪৫৮ স'হীহুল জামি', হাদীস ৪১১৯)
আবূ মালিক আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّوْنَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا، يُعْرَفُ عَلَى رُؤُوسِهِمْ بِالْمَعَازِفِ، يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الْأَرْضَ، وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ.
অর্থাৎ অচিরেই আমার কিছু উম্মত মদ পান করবে পরিচিত নাম ভিন্ন অন্য নামে। তাদের সামনেই বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে। আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে ভূমিধসে আক্রান্ত করবেন এবং তাদের কাউ কাউকে শূকর ও বানরে পরিণত করবেন। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৪০২০ স'হীহুল জামি', হাদীস ৪১১৯)
বিকৃতি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য উভয়ভাবেই হতে পারে। তবে যদি তা অপ্রকাশ্যভাবেই ধরে নেয়া হয় তা হলে তা এখনই পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, যারা বর্তমানে গুনাহ্'র কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক বা হালাল মনে করছে তাদের অন্তরের বিপুল পরিবর্তন ঘটেছে। তারা হালাল-হারাম, বৈধাবৈধের মাঝে কোন পার্থক্যই করে না। এ দিকে প্রকাশ্য বিকৃত তো তাদের জন্য বরাদ্দ থাকছেই।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া

📄 নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া


নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া এবং খারাপ লোকের আধিক্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত। এমনকি পরিশেষে শুধু খারাপ লোকই দুনিয়ার বুকে বেঁচে থাকবে। আর তখনই তাদের উপর কিয়ামত কায়িম হবে। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ الْخَلْقِ.
অর্থাৎ একমাত্র নিকৃষ্ট মানুষের উপরই কিয়ামত কায়িম হবে। (মুসলিম ২৯৪৯)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَأْخُذَ اللهُ شَرِيطَتَهُ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَيَبْقَى فِيْهَا عَجَاجَةً، لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا، وَلَا يُنْكِرُوْنَ مُنْكَرًا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে এ বিশ্ব ভুবন থেকে উঠিয়ে নেন। অতঃপর এ দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে শুধু নিকৃষ্ট জন সাধারণ। তারা ভালোকেও ভালো বলবে না এবং খারাপকেও খারাপ বলবে না। (আহমাদ ১১/১৮১-১৮২ 'হাকিম ৪/৪৩৫)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে ইমাম 'হাকিম, যাহাবী ও আল্লামাহ্ আহমাদ শাকির হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। 'আমর বিন্ শু'আইব তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُغَرْبَلُونَ فِيْهِ غَرْبَلَةً، يَبْقَى مِنْهُمْ حُثَالَةٌ، قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ، وَاخْتَلَفُوا ، فَكَانُوا هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ.
অর্থাৎ এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষকে চালন দিয়ে চালিয়ে তথা যাচাই-বাছাই করে ভালো লোকদেরকে উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন শুধুমাত্র খারাপ লোকই বেঁচে থাকবে। তাদের কোন আমানত ও অঙ্গীকার ঠিক থাকবে না। তারা পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবে। যেন এক হাতের আঙ্গুলকে অন্য হাতের আঙ্গুলের মাঝে ঢুকানো হয়েছে। (আহমাদ ১২/১২ 'হাকিম ৪/৪৩৫)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 সমাজে নিচু লোকদের নেতৃত্ব

📄 সমাজে নিচু লোকদের নেতৃত্ব


সমাজে নিচু লোকদের নেতৃত্ব কিয়ামতের আরেকটি আলামত। যতই কিয়ামত ঘনিয়ে আসবে ততই সমাজের নিচু শ্রেণীর লোকেরা সমাজের নেতৃত্ব দিবে। বর্তমান মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ ক্ষমতাধররা ধর্মীয় জ্ঞানে মূর্খ এবং ধার্মিকতায় একেবারেই শূন্যের কোঠায়; অথচ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে, সমাজের নেতৃত্ব ওরাই দিবেন যাঁরা হবেন ধর্মীয় জ্ঞানে পণ্ডিত ও আল্লাহভীরু। কারণ, তাঁরাই হচ্ছেন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট একমাত্র সম্মানের পাত্র। এ কারণেই রাসূল (ﷺ) কোন এলাকার দায়িত্বশীল নিয়োগ করতেন এমন ব্যক্তিকে যিনি ছিলেন উপস্থিত সবার মধ্যে বেশি জ্ঞানের অধিকারী এবং উক্ত কাজের সত্যিকারের উপযুক্ত। তেমনিভাবে তাঁর খলীফাগণও উক্ত নিয়োগ পদ্ধতি পালন করেন।
একদা নাজরানবাসীরা রাসূল (স) এর নিকট তাদের উপর দায়িত্বশীল হিসেবে একজন আমানতদার ব্যক্তি কামনা করছিলো। তখন রাসূল () বলেনঃ
لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكُمْ رَجُلًا أَمِينًا حَقًّا أَمِينٍ، فَاسْتَشْرَفَ لَهُ النَّاسُ، فَبَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট একজন সত্যিকার আমানতদার ব্যক্তি পাঠাবো। তখন সবাই উঁকিঝুঁকি মারছিলো রাসূল () কাকে পাঠাবেন তা জানার জন্য। অতঃপর রাসূল () হযরত আবূ 'উবাইদাহ্ বিন্ জারাহ্ কেই পাঠিয়ে দিলেন। (বুখারী ৪৩৮১)
নিম্নে উক্ত আলামত সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস বর্ণিত হলোঃ
আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّهَا سَتَأْتِي عَلَى النَّاسِ سِنُونَ خَدَّاعَةٌ، يُصَدِّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ، وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ، وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ، وَيُخَوَّنُ فِيهَا الْأَمِينُ، وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ، قِيلَ: وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ؟ قَالَ: السَّفِيهُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ.
অর্থাৎ অচিরেই এমন কিছু বছর আসবে যাতে মানুষ ধোকা খাবে। তাতে মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী মনে করা হবে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী মনে করা হবে। আত্মসাৎকারীকে আমানতদার মনে করা হবে এবং আমানতদারকে আত্মসাৎকারী মনে করা হবে। সে সময় রুওয়াইবেযা কথা বলবে। রাসূল () কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ রুওয়াইবেযা কে? তিনি বললেনঃ রুওয়াইবেযা হচ্ছে সে বেকুব লোক যে জাতীয় ব্যাপারে কথা বলবে। (আহমাদ ১৫/৩৭-৩৮)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
وَإِذَا كَانَتِ الْعُرَاةُ الْحُفَاةُ رُؤُوسَ النَّاسِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا.
অর্থাৎ যখন জামা-কাপড় ও জুতোবিহীন লোকেরা মানুষের নেতৃত্ব দিবে তখনই মনে করবে কিয়ামত অতি সন্নিকটে। (মুসলিম ৯)
'উমর বিন্ খাত্তাব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ : أَنْ يَغْلِبَ عَلَى الدُّنْيَا لُكَعُ ابْنُ لُكَ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে অযোগ্য অপদার্থ লোক দুনিয়ার নেতৃত্ব দেয়া। (মাজমা'উয্যাওয়ায়িদ ৭/৩২৫)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
অর্থাৎ যখন নেতৃত্ব অযোগ্যের হাতে তুলে দেয়া হয় তখনই কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। (বুখারী ৬৪৯৬)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ... أَنْ يَعْلُو التَّحُوتُ الْوُعُولَ، أَكَذَلِكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ سَمِعْتَهُ مِنْ حِبِي ؟ قَالَ : نَعَمْ؛ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، قُلْنَا : وَمَا التَّحُوتُ؟ قَالَ: فَسُولُ الرِّجَالِ وَأَهْلُ الْبُيُوتِ الْغَامِضَةِ يُرْفَعُوْنَ فَوْقَ صَالِحِيْهِمْ، وَالْوُعُولُ: أَهْلُ الْبُيُوتِ الصَّالِحَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে "তু'হুত" (নিচু লোকেরা) "উ'উল" (ভালো লোকের) উপর নেতৃত্ব দিবে। বর্ণনাকারী হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌! তুমি কি উক্ত হাদীসটি আমার প্রিয় নবী থেকে শুনছিলে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, কা'বার প্রভুর কসম! আমি তা প্রিয় নবী থেকে শুনেছি। শ্রোতারা বললোঃ "তু'হুত" কি? তিনি বললেনঃ "তু'হুত" মানে নিচু লোক। অপ্রসিদ্ধ ঘরের লোকেরা ভালো লোকদের উপর মর্যাদা পাবে। আর "উ'উল" মানে ভালো ঘরের লোকেরা। (মাজমা'উয্যাওয়ায়িদ ৭/৩২৭)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى تَصِيرَ لِلْكَعِ ابْنِ لُكَ.
অর্থাৎ দুনিয়া নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না তা অযোগ্য অপদার্থ লোকের হাতে চলে যাবে। (আহমাদ ১৬/২৮৪ স'হী'হুল্ জামি', হাদীস ৭১৪৯)
'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكُوْنَ أَسْعَدُ النَّاسِ بِالدُّنْيَا لُكَعُ ابْنُ لُكَ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না দুনিয়ার সব চাইতে ভাগ্যবান ব্যক্তি হবে অযোগ্য অপদার্থ। (আহমাদ ৫/৩৮৯ স'হী'হুল্ জামি', হাদীস ৭৩০৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00