📄 অত্যাধিক ব্যবসা-বাণিজ্য
অত্যধিক ব্যবসা-বাণিজ্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত। ব্যবসা-বাণিজ্য তখন এতো অধিকহারে সম্প্রসারিত হবে যে, মহিলারাও তাতে অংশ গ্রহণ করবে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স:) ইরশাদ করেনঃ
بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ تَسْلِيمُ الْخَاصَّةِ وَفُشُو التِّجَارَةِ، حَتَّى تُشَارِكَ الْمَرْأَةُ زَوْجَهَا فِي التِّجَارَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে শুধু বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদেরকেই সালাম দেয়া হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য অধিক হারে বিস্তার লাভ করবে। এমনকি মহিলারাও ব্যবসা-বাণিজ্যে পুরুষের সহযোগী হবে। (আহমাদ্ ৫/৩৩৩ 'হাকিম ৪/৪৪৫-৪৪৬)
'আমর বিন্ তালিব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স:) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَفْشُوَ الْمَالُ وَيَكْثُرَ وَتَفْشُوَ التِّجَارَةُ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত এই যে, ধন-সম্পদ বেড়ে যাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য অধিক হারে বিস্তার লাভ করবে। (নাসায়ী, হাদীস ৭/২৪৪ আহমাদ্ ৫/৬৯)
রাসূল (স:) তাঁর উম্মতের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় পাননি। বরং তিনি ভয় পেয়েছেন ধনাধিক্য ও দুনিয়া কামাইয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতার। 'আমর বিন্ 'আউফ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স:) ইরশাদ করেনঃ
وَاللَّهِ مَا الفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ الدُّنْيَا عَلَيْكُمْ كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا، وَتُهْلِكُهُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ، وَفِي رِوَايَةٍ: وَتُلْهِيْكُمْ كَمَا أَلْهَتْهُمْ.
অর্থাৎ আল্লাহ্'র কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় পাচ্ছি না। বরং ভয় পাচ্ছি এ ব্যাপারে যে, তোমাদের উপর দুনিয়া উন্মুক্ত করে দেয়া হবে যেমনিভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে পূর্ববর্তীদের উপর। অতঃপর তোমরা তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে যেমনিভাবে ওরা প্রতিযোগিতা করেছে এবং এ দুনিয়াই তোমাদেরকে ধ্বংস করবে যেমনিভাবে ওদেরকে ধ্বংস করেছে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, এ দুনিয়াই তোমাদেরকে গাফিল করবে যেমনিভাবে ওদেরকে গাফিল করেছে। (বুখারী ৪০১৫, ৬৪২৫; মুসলিম ২৯৬১)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর বিন্ 'আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِذَا فُتِحَتْ عَلَيْكُمْ فَارِسُ وَالرُّوْمُ، أَيُّ قَوْمٍ أَنْتُمْ؟ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ : نَقُولُ كَمَا أَمَرَنَا اللهُ ، قَالَ رَسُولُ اللهِ : أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ، تَتَنَافَسُونَ ثُمَّ تَتَحَاسَدُوْنَ، ثُمَّ تَتَدَابَرُوْنَ، ثُمَّ تَتَبَاغَضُونَ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ.
অর্থাৎ যখন রোম ও পারস্য স্বাধীন হবে তখন তোমরা কি করবে? হযরত আব্দুর রহমান বিন্ 'আউফ () বলেনঃ তখন আমরা তাই বলবো যা আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে আদেশ করেছেন। রাসূল ( বলেনঃ না কি এ ছাড়া অন্য কিছু। বরং তোমরা পরস্পর প্রতিযোগিতা করবে। হিংসা-বিদ্বেষ করবে। একে অপরের পেছনে পড়বে। পরস্পর শত্রুতা করবে অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু। (মুসলিম ২৯৬২)
📄 অত্যাধিক ভূমিকম্প
অত্যধিক ভূমিকম্প কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ وَتَكْثُرَ الزَّلَازِلُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ভূমিকম্প বেড়ে যাবে। (বুখারী ৭১২১)
ইতিপূর্বে অনেক ভূমিকম্প দেখা দিয়েছে। তবে কিয়ামত যতই ঘনিয়ে আসবে ততই ভূমিকম্প আরো ব্যাপক এবং আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে। আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'হওয়ালাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল () নিজের হাত খানা আমার মাথায় রেখে বললেনঃ
يَا ابْنَ حَوَالَةَ ! إِذَا رَأَيْتَ الْخِلَافَةَ قَدْ نَزَلَتِ الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ؛ فَقَدْ دَنَتِ الزَّلَازِلُ وَ الْبَلَايَا وَالْأُمُورُ الْعِظَامُ، وَ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ إِلَى النَّاسِ مِنْ يَدِي هَذِهِ مِنْ رَأْسِكِ.
অর্থাৎ হে ইব্নু 'হাওয়ালাহ্! যখন তুমি দেখবে, বাইতুল মাকদিসে খিলাফত প্রথা চালু হয়েছে তখন মনে করবে, ভূমিকম্প, বিপদাপদ এবং বড়ো বড়ো অঘটনসমূহ অতি সন্নিকটে। তখন কিয়ামত এতো অতি সন্নিকটে যেমন আমার হাত তোমার মাথার সন্নিকটে। (আহমাদ ৫/২৮৮ আবূ দাউদ/'আউন ৭/২০৯-২১০ 'হাকিম ৪৫/৪২৫ স'হীহুল জামি', হাদীস ৭৭IS)
📄 ভূমিধ্বস, বিকৃতি ও ক্ষেপণ
ভূমিধস, বিকৃতি ও ক্ষেপণ কিয়ামতের আরেকটি আলামত। 'আয়িশা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَكُونُ فِي آخِرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفُ وَمَسْخُ وَقَذْفُ، قَالَتْ : قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَتَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُوْنَ؟ قَالَ: نَعَمْ؛ إِذَا ظَهَرَ الْخَبَتُ.
অর্থাৎ এ উম্মতের শেষ দিকে দেখা দিবে ভূমিধস, বিকৃতি ও ক্ষেপণ। হযরত 'আয়িশা বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমরা কি তখন ধ্বংস হয়ে যাবো; অথচ তখনো আমাদের মধ্যে থাকবে সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ। রাসূল () বললেনঃ হ্যাঁ, তাই হবে যখন অপকর্ম সর্বস্তরে বিস্তার লাভ করবে। (তিরমিযী ৬/৪১৮ স'হীহুল জামি', হাদীস ৮০১২)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ مَسْخُ وَ خَسْفُ وَقَذْفٌ.
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে বিকৃতি, ভূমিধস ও নিক্ষেপ দেখা দিবে। (ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৪৯)
বিশেষ করে তাক্বদীরে যারা অবিশ্বাসী তাদের মধ্যেই বিকৃতি ও নিক্ষেপ দেখা দিবে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي مَسْخُ وَقَدْفُ، وَهُوَ فِي الزَّنْدَقِيَّةِ وَالْقَدْرِيَّةِ.
অর্থাৎ অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে দেখা দিবে বিকৃতি ও নিক্ষেপ। তবে তা হবে বিশেষ করে তাক্বদীরে অবিশ্বাসীদের মাঝে। (আহমাদ ৯/৭৩-৭৪)
অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ
فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفُ أَوْ مَسْخُ أَوْ قَذَفُ فِي أَهْلِ الْقَدْرِ.
অর্থাৎ এ উম্মতের মধ্যে দেখা দিবে ভূমিধস, বিকৃতি ও নিক্ষেপ। আর তা হবে বিশেষ করে তাক্বদীরে অবিশ্বাসীদের মাঝে। (তিরমিযী ৬/৩৬৭-৩৬৮)
কিয়ামতের পূর্বে আরবরাই বিশেষভাবে ভূমিধসের স্বীকার হবে। আব্দুর রহমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেনঃ তাঁর পিতা বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُخْسَفَ بِقَبَائِلَ، فَيُقَالُ: مَنْ بَقِيَ مِنْ بَنِي فُلَانٍ؟ قَالَ: فَعَرَفْتُ حِينَ قَالَ: قَبَائِلَ أَنَّهَا الْعَرَبُ، لِأَنَّ الْعَجَمَ تُنْسَبُ إِلَى قُرَاهَا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না কয়েকটি আরব বংশ ভূমিধসে আক্রান্ত হয়। তখন জিজ্ঞাসা করা হবেঃ অমুক বংশের আর কে বেঁচে আছে? বর্ণনাকারী সাহাবী বলেনঃ "কাবায়িল" শব্দ শুনতেই আমার মনে হলো, এরা আরব। কারণ, অনারবদেরকে এলাকার প্রতি সম্পৃক্ত করেই তাদের পরিচয় দেয়া হয়। যেমনঃ বলা হতোঃ রোমান, পারস্যবাসী ইত্যাদি। (আহমাদ ৪/৪৮৩ মাজা'উয যাওয়ায়িদ ৮/৯)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে ইমাম হাইসামী হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বাক্বীরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি রাসূল () কে মিম্বরে খুতবারত অবস্থায় বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ
إِذَا سَمِعْتُمْ بِجَيْشِي قَدْ خُسِفَ بِهِ قَرِيبًا؛ فَقَدْ أَظَلَّتِ السَّاعَةُ.
অর্থাৎ যখন তুমি শুনবে আমার সেনাদল অতি নিকটেই ভূমিধসে আক্রান্ত হয়েছে তখন মনে করবে, কিয়ামতই এসে গেছে। (আহমাদ ৬/৩৭৮-৩৭৯ স'হীহুল জামি', হাদীস ৬৩১)
ইতিপূর্বে যে ভূমিধসগুলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে দেখা দিয়েছে তা গুনাহগারদের প্রতি সংকেত মাত্র। যাতে তারা পুনরায় সঠিক পথে ফিরে আসে। 'ইম্মান বিন্ 'হুস্বাইন থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَسْفُ وَمَسْخُ وَقَذُفُ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! وَمَتَى ذَلِكَ؟ قَالَ: إِذَا ظَهَرَتِ الْقِيَانُ وَالْمَعَازِفُ، وَشُرِبَتِ الْخُمُوْرُ.
অর্থাৎ এ উম্মতের মাঝে ভূমিধস, বিকৃতি ও নিক্ষেপ দেখা দিবে। জনৈক সাহাবী বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রসূল! তা কখন হবে? তিনি বললেনঃ যখন গায়ক-গায়িকা ও হরেক রকমের বাদ্যযন্ত্র বিস্তার লাভ করবে এবং মদ পান করা হবে। (তিরমিযী, হাদীস ৪৫৮ স'হীহুল জামি', হাদীস ৪১১৯)
আবূ মালিক আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّوْنَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا، يُعْرَفُ عَلَى رُؤُوسِهِمْ بِالْمَعَازِفِ، يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الْأَرْضَ، وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ.
অর্থাৎ অচিরেই আমার কিছু উম্মত মদ পান করবে পরিচিত নাম ভিন্ন অন্য নামে। তাদের সামনেই বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে। আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে ভূমিধসে আক্রান্ত করবেন এবং তাদের কাউ কাউকে শূকর ও বানরে পরিণত করবেন। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ৪০২০ স'হীহুল জামি', হাদীস ৪১১৯)
বিকৃতি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য উভয়ভাবেই হতে পারে। তবে যদি তা অপ্রকাশ্যভাবেই ধরে নেয়া হয় তা হলে তা এখনই পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, যারা বর্তমানে গুনাহ্'র কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক বা হালাল মনে করছে তাদের অন্তরের বিপুল পরিবর্তন ঘটেছে। তারা হালাল-হারাম, বৈধাবৈধের মাঝে কোন পার্থক্যই করে না। এ দিকে প্রকাশ্য বিকৃত তো তাদের জন্য বরাদ্দ থাকছেই।
📄 নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া
নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া এবং খারাপ লোকের আধিক্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত। এমনকি পরিশেষে শুধু খারাপ লোকই দুনিয়ার বুকে বেঁচে থাকবে। আর তখনই তাদের উপর কিয়ামত কায়িম হবে। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ الْخَلْقِ.
অর্থাৎ একমাত্র নিকৃষ্ট মানুষের উপরই কিয়ামত কায়িম হবে। (মুসলিম ২৯৪৯)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَأْخُذَ اللهُ شَرِيطَتَهُ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَيَبْقَى فِيْهَا عَجَاجَةً، لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا، وَلَا يُنْكِرُوْنَ مُنْكَرًا.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে এ বিশ্ব ভুবন থেকে উঠিয়ে নেন। অতঃপর এ দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে শুধু নিকৃষ্ট জন সাধারণ। তারা ভালোকেও ভালো বলবে না এবং খারাপকেও খারাপ বলবে না। (আহমাদ ১১/১৮১-১৮২ 'হাকিম ৪/৪৩৫)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে ইমাম 'হাকিম, যাহাবী ও আল্লামাহ্ আহমাদ শাকির হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। 'আমর বিন্ শু'আইব তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يُغَرْبَلُونَ فِيْهِ غَرْبَلَةً، يَبْقَى مِنْهُمْ حُثَالَةٌ، قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ، وَاخْتَلَفُوا ، فَكَانُوا هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ.
অর্থাৎ এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষকে চালন দিয়ে চালিয়ে তথা যাচাই-বাছাই করে ভালো লোকদেরকে উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন শুধুমাত্র খারাপ লোকই বেঁচে থাকবে। তাদের কোন আমানত ও অঙ্গীকার ঠিক থাকবে না। তারা পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবে। যেন এক হাতের আঙ্গুলকে অন্য হাতের আঙ্গুলের মাঝে ঢুকানো হয়েছে। (আহমাদ ১২/১২ 'হাকিম ৪/৪৩৫)