📄 প্রতিবেশীর সাথে দুর্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন ও অশ্লীলতার ছড়াছড়ি
প্রতিবেশীর সাথে দুর্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন ও অশ্লীলতার ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَظْهَرَ الْفُحْشُ وَالتَّفَاحُشُ، وَقَطِيْعَةُ الرَّحِمِ، وَسُوْءُ الْمُجَاوَرَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মানব সমাজে অশ্লীলতা প্রকাশ পায়, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন ও প্রতিবেশীর সাথে অশুভ আচরণ করা হয়। (আহমাদ ১০/২৬-৩১)
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ الْفُحْشُ وَالتَّفَحُشُ وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে ব্যাপক অশ্লীলতা ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা। (মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৭/২৮৪)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ... قَطَعَ الْأَرْحَامِ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করণ বিশেষভাবে দেখা দিবে। (আহমাদ ৫/৩৩৩)
রাসূল () যে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন তা আজ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হচ্ছে। মানুষ এখন আর গল্প-গুজবের সময় শরীয়তের কোন তোয়াক্কাই করে না। মুখে যাই আসে সে তাই বলে ফেলে।
মাসের পর মাস বছরের পর বছর চলে যায়; অথচ আত্মীয়ের সাথে আত্মীয়ের কোন দেখা-সাক্ষাৎ নেই। রাসূল () আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার ব্যাপারে নিজ উম্মতকে বিশেষভাবে হুঁশিয়ার করেন।
জুবায়ের বিন্ মুতু'ইম থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ.
অর্থাৎ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না। (বুখারী ৫৯৮৪; মুসলিম ২৫৫৬ তিরমিযী, হাদীস ১৯০৯ আবু দাউদ, হাদীস ১৬৯৬ আব্দুর রায্যাক, হাদীস ২০২৩৮ বায়হাক্বী, হাদীস ১২৯৯৭)
আবূ মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী () ইরশাদ করেনঃ
ثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ الْخَمْرِ وَقَاطِعُ الرَّحِمِ وَمُصَدِّقُ بِالسِّحْرِ.
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে নাঃ অভ্যস্ত মদ্যপায়ী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ও যাদুতে বিশ্বাসী। (আহমাদ, হাদীস ১৯৫৮৭ হা'কিম, হাদীস ৭২৩৪ ইবনু হিব্বان, হাদীস ৫৩৪৬)
কেউ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলে আল্লাহ্ তা'আলাও তার সাথে নিজ সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الْخَلْقَ، حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ خَلْقِهِ قَالَتِ الرَّحِمُ: هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ بِكَ مِنَ الْقَطِيعَةِ، قَالَ: نَعَمْ، أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ: بَلَى يَا رَبِّ قَالَ: فَهُوَ لَكِ.
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার সৃষ্টিকুল সৃজন শেষে আত্মীয়তার বন্ধন (দাঁড়িয়ে) বললোঃ এটিই হচ্ছে সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ হ্যাঁ, ঠিকই। তুমি কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, আমি ওর সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করবো যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে এবং আমি ওর সাথেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবো যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে। তখন সে বললোঃ আমি এ কথায় অবশ্যই রাজি আছি হে আমার প্রভু! তখন আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ তা হলে তোমার জন্য তাই হোক। (বুখারী ৪৮৩০, ৫৯৮৭; মুসলিম ২৫৫৪)
এরপর রাসূল () নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ، أُوْلَائِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ.
অর্থাৎ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ্ তা'আলা এদেরকেই করেন অভিশপ্ত, বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন। (মুহাম্মাদ: ২২-২৩)
বর্তমান যুগে কোন প্রতিবেশীর খবরাখবর তার নিকটতম প্রতিবেশীও নিতে চায় না। বরং সুযোগ পেলে তাকে কষ্ট দিতেও ছাড়ে না; অথচ নিজ প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ.
অর্থাৎ সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। (মুসলিম ৪৬)
যে ব্যক্তি নিজ প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় সে সত্যিকারের মু'মিন নয়। আবূ শুরাইহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী () ইরশাদ করেনঃ
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ: وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ !؟ قَالَ: الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ.
অর্থাৎ আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। রাসূল () কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল ()! সে ব্যক্তি কে? তিনি বললেনঃ যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। (বুখারী ৬০১৬)
নিজ প্রতিবেশীর প্রতি দয়াশীল হওয়া সত্যিকারের ঈমানের পরিচায়ক।
আবূ হুরাইরাহ্ এবং আবূ শুরাইহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحْسِنُ إِلَى جَارِهِ.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি দয়াশীল হয়। (মুসলিম ৪৭, ৪৮)
📄 বৃদ্ধদের কৃত্রিমভাবে যৌবন দেখানো
বুড়োদের সাদা চুলকে কালো করে কৃত্রিমভাবে যৌবন দেখানো কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَكُونَ قَوْمُ يَخْضِبُونَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ، لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ.
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন কিছু লোক বেরুবে যারা সাদা চুলকে কালো করবে। মনে হবে যেন কবুতরের পেট। তারা জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। (আহমাদ্ ৪/১৫৬ আবূ দাউদ/'আউন ১১/২৬৬)
বর্তমান যুগে কিছু সংখ্যক লোক তো তাদের চেহারাকে বাস্তবেই কবুতরের পেট বানিয়ে ফেলে। চার দিক থেকে কামিয়ে শুধু থুতনির উপরই কিছু দাঁড়ি রেখে দেয় এবং তা কালো রঙ্গে রঙ্গীন করে। তখন থুতনিটাকে হুবহু কবুতরের পেটের মতোই দেখা যায়।
চুল বা দাঁড়ি সাদা হয়ে গেলে তাতে কালো রঙ ছাড়া অন্য যে কোন রঙ ব্যবহার করা যায়। বরং তা করাই শ্রেয়। কারণ, তাতে করে ইহুদি ও খ্রিস্টানের সাথে এক ধরনের অমিল সৃষ্টি হয় যা শরীয়তের একান্ত কাম্য।
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ মক্কা বিজয়ের দিন আবূ কু'হাফাকে রাসূল (স) এর সামনে উপস্থিত করা হলো। তাঁর দাঁড়ি ও মাথার চুলগুলো ছিলো সাগামা উদ্ভিদের ন্যায় সাদা। তা দেখে রাসূল () সাহাবাদেরকে বললেনঃ
غَيْرُوا هَذَا بِشَيْءٍ وَاجْتَنِبُوا السَّوَادَ.
অর্থাৎ এর চুল-দাঁড়িগুলোকে কোন কিছু দিয়ে রঙ্গীন করে নাও। তবে কালো রঙ লাগাবে না। (মুসলিম ২১০২)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى لَا يَصْبَغُوْنَ، فَخَالِفُوْهُمْ.
অর্থাৎ ইহুদি-খ্রিস্টানরা চুল-দাঁড়ি কালার করে না। অতএব তোমরা তাদের উল্টোটা তথা দাঁড়ি-চুলগুলোকে কালার করবে। (মুসলিম ২১০৩)
📄 অত্যাধিক কার্পণ্য
অত্যধিক কার্পণ্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَظْهَرَ الشُّحُ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে এই যে, তখন কার্পণ্য প্রকাশ পাবে। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৭/৩২৭)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ، وَيُقْبَضُ الْعِلْمُ، وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ، وَيُلْقَى الشُّحُ، وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ، قَالُوا: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: الْقَتْلُ.
অর্থাৎ সময় খুবই নিকটবর্তী হবে, ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে, কার্পণ্য নিক্ষিপ্ত হবে এবং হারজ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হারজ কি? রাসূল () বললেনঃ হারজ মানে হত্যাকাণ্ড। (মুসলিম ১৫৭)
মু'আবিয়া থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَزْدَادُ الْأَمْرُ إِلَّا شِدَّةً، وَلَا يَزْدَادُ النَّاسُ إِلَّا شُحًا.
অর্থাৎ দিন দিন পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হবে এবং মানুষ ধীরে ধীরে আরো কৃপণ হয়ে উঠবে। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৮/১৪)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে ইমাম হাইসামী হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কার্পণ্য সমূহ ধ্বংসের মূল।
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
اتَّقُوا الظُّلْمَ؛ فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَاتَّقُوا الشُّحَ؛ فَإِنَّ الشُّحَّ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، حَمَلَهُمْ عَلَى أَنْ سَفَكُوْا دِمَاءَهُمْ، وَاسْتَحَلُّوْا مَحَارِمَهُمْ.
অর্থাৎ তোমরা যুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, যুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে। তেমনিভাবে তোমরা কার্পণ্য থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, কার্পণ্য পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কার্পণ্য তাদেরকে উৎসাহিত করেছে একে অপরের রক্তপাত ঘটাতে এবং একে অপরের ইয্যত-আবরু লুণ্ঠন করতে। (মুসলিম ২৫৭৮)
কার্পণ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার মধ্যেই সমূহ সফলতা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَمَنْ يُوْقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَائِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ).
অর্থাৎ যারা কার্পণ্য থেকে মুক্ত রয়েছে তারাই সফলকাম। (হাশ্র: ৯ তাগাবুন: ১৬)
📄 অত্যাধিক ব্যবসা-বাণিজ্য
অত্যধিক ব্যবসা-বাণিজ্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত। ব্যবসা-বাণিজ্য তখন এতো অধিকহারে সম্প্রসারিত হবে যে, মহিলারাও তাতে অংশ গ্রহণ করবে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স:) ইরশাদ করেনঃ
بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ تَسْلِيمُ الْخَاصَّةِ وَفُشُو التِّجَارَةِ، حَتَّى تُشَارِكَ الْمَرْأَةُ زَوْجَهَا فِي التِّجَارَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে শুধু বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদেরকেই সালাম দেয়া হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য অধিক হারে বিস্তার লাভ করবে। এমনকি মহিলারাও ব্যবসা-বাণিজ্যে পুরুষের সহযোগী হবে। (আহমাদ্ ৫/৩৩৩ 'হাকিম ৪/৪৪৫-৪৪৬)
'আমর বিন্ তালিব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স:) ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَفْشُوَ الْمَالُ وَيَكْثُرَ وَتَفْشُوَ التِّجَارَةُ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত এই যে, ধন-সম্পদ বেড়ে যাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য অধিক হারে বিস্তার লাভ করবে। (নাসায়ী, হাদীস ৭/২৪৪ আহমাদ্ ৫/৬৯)
রাসূল (স:) তাঁর উম্মতের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় পাননি। বরং তিনি ভয় পেয়েছেন ধনাধিক্য ও দুনিয়া কামাইয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতার। 'আমর বিন্ 'আউফ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (স:) ইরশাদ করেনঃ
وَاللَّهِ مَا الفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ الدُّنْيَا عَلَيْكُمْ كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا، وَتُهْلِكُهُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ، وَفِي رِوَايَةٍ: وَتُلْهِيْكُمْ كَمَا أَلْهَتْهُمْ.
অর্থাৎ আল্লাহ্'র কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় পাচ্ছি না। বরং ভয় পাচ্ছি এ ব্যাপারে যে, তোমাদের উপর দুনিয়া উন্মুক্ত করে দেয়া হবে যেমনিভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে পূর্ববর্তীদের উপর। অতঃপর তোমরা তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে যেমনিভাবে ওরা প্রতিযোগিতা করেছে এবং এ দুনিয়াই তোমাদেরকে ধ্বংস করবে যেমনিভাবে ওদেরকে ধ্বংস করেছে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, এ দুনিয়াই তোমাদেরকে গাফিল করবে যেমনিভাবে ওদেরকে গাফিল করেছে। (বুখারী ৪০১৫, ৬৪২৫; মুসলিম ২৯৬১)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর বিন্ 'আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِذَا فُتِحَتْ عَلَيْكُمْ فَارِسُ وَالرُّوْمُ، أَيُّ قَوْمٍ أَنْتُمْ؟ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ : نَقُولُ كَمَا أَمَرَنَا اللهُ ، قَالَ رَسُولُ اللهِ : أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ، تَتَنَافَسُونَ ثُمَّ تَتَحَاسَدُوْنَ، ثُمَّ تَتَدَابَرُوْنَ، ثُمَّ تَتَبَاغَضُونَ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ.
অর্থাৎ যখন রোম ও পারস্য স্বাধীন হবে তখন তোমরা কি করবে? হযরত আব্দুর রহমান বিন্ 'আউফ () বলেনঃ তখন আমরা তাই বলবো যা আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে আদেশ করেছেন। রাসূল ( বলেনঃ না কি এ ছাড়া অন্য কিছু। বরং তোমরা পরস্পর প্রতিযোগিতা করবে। হিংসা-বিদ্বেষ করবে। একে অপরের পেছনে পড়বে। পরস্পর শত্রুতা করবে অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু। (মুসলিম ২৯৬২)