📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 উম্মতে মুহাম্মদীর মাঝে শিরকের দ্রুত বিস্তার

📄 উম্মতে মুহাম্মদীর মাঝে শিরকের দ্রুত বিস্তার


উম্মতে মুহাম্মদীর মাঝে শিরকের দ্রুত বিস্তার কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র শির্ক ও শির্ক জাতীয় আমল অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কবর পূজা, মূর্তি পূজা আজ মুসলিম বিশ্বের আনাচে-কানাচে পুরোদমেই চলছে। ওলীদের কবর থেকে হরদম বরকত নেয়া হচ্ছে। মানুষ তাকে চুমু খাচ্ছে ও অতি সম্মান করছে। কবরের জন্য যে কোন বস্তু মানত করা হচ্ছে। ওলীদের কবরকে নিয়ে বার্ষিক ওরস মাহফিলও করা হচ্ছে। বরং এ যুগের অনেক কবর পূর্বেকার লাত, উয্যা, মানাতকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সাউবান থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِذَا وُضِعَ السَّيْفُ فِي أُمَّتِي لَمْ يُرْفَعُ عَنْهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَلَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ، وَحَتَّى تَعْبُدَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي الْأَوْثَانَ.
অর্থাৎ যখন আমার উম্মতের মধ্যে হত্যাকাণ্ড শুরু হবে তখন তা আর কিয়ামত পর্যন্ত উঠিয়ে নেয়া হবে না। কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের মধ্য থেকে কোন না কোন সম্প্রদায় মুর্শিকদের সাথে মিশে যায় এবং মূর্তি পূজা করে। (আবূ দাউদ/'আউনুল্ মা'বুদ ১১/৩২২-৩২৪ তিরমিযী ৬/৪৬৬ স'হীহুল জা'মি', হাদীস ৭২৯৫)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِي الْخَلَصَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দাউস্ গোত্রের মহিলারা পাছা নাচিয়ে যুখালাসা নামক মূর্তির তাওয়াফ করবে। (বুখারী ৭১১৬; মুসলিম ২৯০৬ বাগাওয়ী, হাদীস ৪২৮৫ ইবনু হিব্বান, হাদীস ৬৭১৪ আব্দুর রায্যাক, হাদীস ২০৭৯৫)
'আয়িশা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى تُعْبَدَ اللَّاتُ وَالْعُزَّى.
অর্থাৎ দিন-রাত নিঃশেষ হবে না তথা কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না লাত ও 'উয্যার পূজা করা হয়। (মুসলিম ২৯০৭)
'আয়িশা বলেনঃ আমি উক্ত হাদীস শুনে রাসূল () কে বললামঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি তো মনে করতাম, যখন আল্লাহ্ তা'আলা নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেছেনঃ
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ.
অর্থাৎ তিনিই সেই সত্তা যিনি স্বীয় রাসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত তথা কুর'আন এবং সত্য ধর্ম দিয়ে। যেন তিনি বিজয়ী করতে পারেন উক্ত ধর্মকে সকল ধর্মের উপর। যদিও তা মুর্শিকরা অপছন্দ করে। (তাওবাহ্: ৩৩)
আমি তো মনে করতাম যে, যখন আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত আয়াত নাযিল করেছেন তখন ইসলাম ধর্ম অবশ্যই পরিপূর্ণরূপে পুরো বিশ্বে প্রকাশ পাবে। রাসূল () তা শুনে বললেনঃ
إِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللهُ ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَوَفَّى كُلَّ مَنْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ إِيْمَانٍ، فَيَبْقَى مَنْ لَا خَيْرَ فِيْهِ، فَيَرْجِعُوْنَ إِلَى دِينِ آبَائِهِمْ.
অর্থাৎ তুমি যা মনে করতে তাই হবে। তবে যতো দিন আল্লাহ্ তা'আলা তা ইচ্ছে করবেন। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা এমন এক ধরনের উত্তম হাওয়া বইয়ে দিবেন যা প্রত্যেক মু'মিন বান্দাহকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যাবে যার অন্তরে একটি রাইয়ের দানা পরিমাণও ঈমান রয়েছে। এরপর এমন সব লোক বেঁচে থাকবে যাদের মধ্যে কোন কল্যাণই থাকবে না এবং তারা সবাই নিজ বাপ-দাদার ধর্মের দিকে আবারো ফিরে যাবে। (মুসলিম ২৯০৭)
নবী () এর উক্ত ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হয়েছে। দাউস্ ও তার আশেপাশের গোত্রগুলো একদা যুত্থালাসা নামক মূর্তির পূজা শুরু করেছে। তখন শায়েখ মুহাম্মাদ বিন্ আব্দুল ওয়াহ্হাব (রাহিমাহুল্লাহ) তাদেরকে তাওহীদের দিকে ডাকলেন। শায়েখের দা'ওয়াতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইমাম আব্দুল আজিজ বিন্ মুহাম্মাদ বিন্ স'উদ্ (রাহিমাহুল্লাহ) যুত্থালাসা অভিমুখে দা'য়ীদের একটি দল পাঠান। যাঁরা সবাইকে বুঝিয়ে শুনিয়ে উক্ত মূর্তি ধ্বংস করতে সক্ষম হন। তবে অত্র এলাকায় স'উদ্ বংশের ক্ষমতা কিছু দিনের জন্য অকার্যকর হলে মূর্খরা আবারো যুত্থালাসার পূজা শুরু করে দেয়। অতঃপর স'উদ্ বংশের প্রভাবশালী রাষ্ট্রপতি আব্দুল আজীজ বিন্ আব্দুর রহমান আবারো ক্ষমতায় আরোহণ করলে তিনি তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেন।
শির্ক শুধু গাছ, পাথর আর কবর পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তা আরো অনেক ব্যাপক। বর্তমান যুগে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আল্লাহ্ তা'আলার পাশাপাশি তাগুতদেরকেও বিশেষ অবস্থান দেয়া হচ্ছে। তারা নিজেদের পক্ষ থেকে মনগড়া সংবিধান রচনা করে মানুষের উপর তা চাপিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে মানুষও তা সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهَا وَاحِدًا، لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ.
অর্থাৎ তারা আল্লাহ্ তা'আলাকে ছেড়ে নিজেদের আলিম, ধর্ম যাজক ও মারইয়ামের পুত্র মাসীহ্ (ঈসা) (আঃ) কে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তাদেরকে শুধু এতটুকুই আদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই ইবাদাত করবে। তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোন মা'বুদ নেই। তিনি তাদের শির্ক হতে একেবারেই পূতপবিত্র। (তাওবাহ্: ৩১)
'আদি' বিন্ হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَفِي عُنُقِي صَلِيْبٌ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ : يَا عَدِيٌّ إِطْرَحُ عَنْكَ هَذَا الْوَثَنَ، وَسَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فِي سُورَةِ بَرَاءَةٍ: ﴿وَاتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُوْنِ اللهِ قَالَ: أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ وَلَكِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا أَحَلُّوْا لَهُمْ شَيْئًا إِسْتَحَلُّوهُ وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوْهُ.
অর্থাৎ আমি নবী (সঃ) এর দরবারে গলায় স্বর্ণের ক্রুশ ঝুলিয়ে উপস্থিত হলে তিনি আমাকে ডেকে বলেনঃ হে 'আদি'! এ মূর্তিটি (ক্রুশ) গলা থেকে ফেলে দাও। তখন আমি তাঁকে উক্ত আয়াতটি পড়তে শুনেছি। হযরত 'আদি' বলেনঃ মূলতঃ খ্রিষ্টানরা কখনো তাদের আলিমদের উপাসনা করতো না। তবে তারা হালাল ও হারামের ব্যাপারে বিনা প্রমাণে আলিমদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতো। আর এটিই হচ্ছে আলিমদেরকে প্রভু মানার অর্থ তথা আনুগত্যের শির্ক। (তিরমিযী, হাদীস ৩০৯৫)
হালাল ও হারামের ব্যাপারে বিনা প্রমাণে আলিমদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যদি এতো বড়ো অপরাধ হয়ে থাকে তা হলে যারা ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করে ইসলাম বিরোধী মতবাদ তথা ধর্ম নিরপেক্ষ, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ, পাশ্চাত্য পুঁজিবাদ ও জাতীয়তাবাদকে জীবন সাফল্যের একান্ত চাবিকাঠি বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে তা প্রচারে মদমত্ত হয়ে উঠে তারা কি আবার মুসলমান হতে পারে?

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 প্রতিবেশীর সাথে দুর্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন ও অশ্লীলতার ছড়াছড়ি

📄 প্রতিবেশীর সাথে দুর্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন ও অশ্লীলতার ছড়াছড়ি


প্রতিবেশীর সাথে দুর্ব্যবহার, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন ও অশ্লীলতার ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর (রাযিয়াল্লাহু আন্‌হুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَظْهَرَ الْفُحْشُ وَالتَّفَاحُشُ، وَقَطِيْعَةُ الرَّحِمِ، وَسُوْءُ الْمُجَاوَرَةِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মানব সমাজে অশ্লীলতা প্রকাশ পায়, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন ও প্রতিবেশীর সাথে অশুভ আচরণ করা হয়। (আহমাদ ১০/২৬-৩১)
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ الْفُحْشُ وَالتَّفَحُشُ وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে ব্যাপক অশ্লীলতা ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা। (মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৭/২৮৪)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ... قَطَعَ الْأَرْحَامِ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করণ বিশেষভাবে দেখা দিবে। (আহমাদ ৫/৩৩৩)
রাসূল () যে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন তা আজ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হচ্ছে। মানুষ এখন আর গল্প-গুজবের সময় শরীয়তের কোন তোয়াক্কাই করে না। মুখে যাই আসে সে তাই বলে ফেলে।
মাসের পর মাস বছরের পর বছর চলে যায়; অথচ আত্মীয়ের সাথে আত্মীয়ের কোন দেখা-সাক্ষাৎ নেই। রাসূল () আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার ব্যাপারে নিজ উম্মতকে বিশেষভাবে হুঁশিয়ার করেন।
জুবায়ের বিন্ মুতু'ইম থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ.
অর্থাৎ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না। (বুখারী ৫৯৮৪; মুসলিম ২৫৫৬ তিরমিযী, হাদীস ১৯০৯ আবু দাউদ, হাদীস ১৬৯৬ আব্দুর রায্যাক, হাদীস ২০২৩৮ বায়হাক্বী, হাদীস ১২৯৯৭)
আবূ মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী () ইরশাদ করেনঃ
ثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ الْخَمْرِ وَقَاطِعُ الرَّحِمِ وَمُصَدِّقُ بِالسِّحْرِ.
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে নাঃ অভ্যস্ত মদ্যপায়ী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ও যাদুতে বিশ্বাসী। (আহমাদ, হাদীস ১৯৫৮৭ হা'কিম, হাদীস ৭২৩৪ ইবনু হিব্বان, হাদীস ৫৩৪৬)
কেউ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলে আল্লাহ্ তা'আলাও তার সাথে নিজ সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الْخَلْقَ، حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ خَلْقِهِ قَالَتِ الرَّحِمُ: هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ بِكَ مِنَ الْقَطِيعَةِ، قَالَ: نَعَمْ، أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ: بَلَى يَا رَبِّ قَالَ: فَهُوَ لَكِ.
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার সৃষ্টিকুল সৃজন শেষে আত্মীয়তার বন্ধন (দাঁড়িয়ে) বললোঃ এটিই হচ্ছে সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ হ্যাঁ, ঠিকই। তুমি কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, আমি ওর সঙ্গেই সম্পর্ক স্থাপন করবো যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে এবং আমি ওর সাথেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবো যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে। তখন সে বললোঃ আমি এ কথায় অবশ্যই রাজি আছি হে আমার প্রভু! তখন আল্লাহ্ তা'আলা বললেনঃ তা হলে তোমার জন্য তাই হোক। (বুখারী ৪৮৩০, ৫৯৮৭; মুসলিম ২৫৫৪)
এরপর রাসূল () নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ، أُوْلَائِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ.
অর্থাৎ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ্ তা'আলা এদেরকেই করেন অভিশপ্ত, বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন। (মুহাম্মাদ: ২২-২৩)
বর্তমান যুগে কোন প্রতিবেশীর খবরাখবর তার নিকটতম প্রতিবেশীও নিতে চায় না। বরং সুযোগ পেলে তাকে কষ্ট দিতেও ছাড়ে না; অথচ নিজ প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবে না।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ.
অর্থাৎ সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। (মুসলিম ৪৬)
যে ব্যক্তি নিজ প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় সে সত্যিকারের মু'মিন নয়। আবূ শুরাইহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নবী () ইরশাদ করেনঃ
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ: وَمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ !؟ قَالَ: الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ.
অর্থাৎ আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। রাসূল () কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল ()! সে ব্যক্তি কে? তিনি বললেনঃ যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। (বুখারী ৬০১৬)
নিজ প্রতিবেশীর প্রতি দয়াশীল হওয়া সত্যিকারের ঈমানের পরিচায়ক।
আবূ হুরাইরাহ্ এবং আবূ শুরাইহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحْسِنُ إِلَى جَارِهِ.
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি দয়াশীল হয়। (মুসলিম ৪৭, ৪৮)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 বৃদ্ধদের কৃত্রিমভাবে যৌবন দেখানো

📄 বৃদ্ধদের কৃত্রিমভাবে যৌবন দেখানো


বুড়োদের সাদা চুলকে কালো করে কৃত্রিমভাবে যৌবন দেখানো কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَكُونَ قَوْمُ يَخْضِبُونَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ، لَا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ.
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন কিছু লোক বেরুবে যারা সাদা চুলকে কালো করবে। মনে হবে যেন কবুতরের পেট। তারা জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। (আহমাদ্ ৪/১৫৬ আবূ দাউদ/'আউন ১১/২৬৬)
বর্তমান যুগে কিছু সংখ্যক লোক তো তাদের চেহারাকে বাস্তবেই কবুতরের পেট বানিয়ে ফেলে। চার দিক থেকে কামিয়ে শুধু থুতনির উপরই কিছু দাঁড়ি রেখে দেয় এবং তা কালো রঙ্গে রঙ্গীন করে। তখন থুতনিটাকে হুবহু কবুতরের পেটের মতোই দেখা যায়।
চুল বা দাঁড়ি সাদা হয়ে গেলে তাতে কালো রঙ ছাড়া অন্য যে কোন রঙ ব্যবহার করা যায়। বরং তা করাই শ্রেয়। কারণ, তাতে করে ইহুদি ও খ্রিস্টানের সাথে এক ধরনের অমিল সৃষ্টি হয় যা শরীয়তের একান্ত কাম্য।
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ মক্কা বিজয়ের দিন আবূ কু'হাফাকে রাসূল (স) এর সামনে উপস্থিত করা হলো। তাঁর দাঁড়ি ও মাথার চুলগুলো ছিলো সাগামা উদ্ভিদের ন্যায় সাদা। তা দেখে রাসূল () সাহাবাদেরকে বললেনঃ
غَيْرُوا هَذَا بِشَيْءٍ وَاجْتَنِبُوا السَّوَادَ.
অর্থাৎ এর চুল-দাঁড়িগুলোকে কোন কিছু দিয়ে রঙ্গীন করে নাও। তবে কালো রঙ লাগাবে না। (মুসলিম ২১০২)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى لَا يَصْبَغُوْنَ، فَخَالِفُوْهُمْ.
অর্থাৎ ইহুদি-খ্রিস্টানরা চুল-দাঁড়ি কালার করে না। অতএব তোমরা তাদের উল্টোটা তথা দাঁড়ি-চুলগুলোকে কালার করবে। (মুসলিম ২১০৩)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 অত্যাধিক কার্পণ্য

📄 অত্যাধিক কার্পণ্য


অত্যধিক কার্পণ্য কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَظْهَرَ الشُّحُ.
অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে এই যে, তখন কার্পণ্য প্রকাশ পাবে। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৭/৩২৭)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ، وَيُقْبَضُ الْعِلْمُ، وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ، وَيُلْقَى الشُّحُ، وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ، قَالُوا: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: الْقَتْلُ.
অর্থাৎ সময় খুবই নিকটবর্তী হবে, ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে, কার্পণ্য নিক্ষিপ্ত হবে এবং হারজ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হারজ কি? রাসূল () বললেনঃ হারজ মানে হত্যাকাণ্ড। (মুসলিম ১৫৭)
মু'আবিয়া থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا يَزْدَادُ الْأَمْرُ إِلَّا شِدَّةً، وَلَا يَزْدَادُ النَّاسُ إِلَّا شُحًا.
অর্থাৎ দিন দিন পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হবে এবং মানুষ ধীরে ধীরে আরো কৃপণ হয়ে উঠবে। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৮/১৪)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে ইমাম হাইসামী হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কার্পণ্য সমূহ ধ্বংসের মূল।
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
اتَّقُوا الظُّلْمَ؛ فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَاتَّقُوا الشُّحَ؛ فَإِنَّ الشُّحَّ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، حَمَلَهُمْ عَلَى أَنْ سَفَكُوْا دِمَاءَهُمْ، وَاسْتَحَلُّوْا مَحَارِمَهُمْ.
অর্থাৎ তোমরা যুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, যুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে। তেমনিভাবে তোমরা কার্পণ্য থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, কার্পণ্য পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কার্পণ্য তাদেরকে উৎসাহিত করেছে একে অপরের রক্তপাত ঘটাতে এবং একে অপরের ইয্যত-আবরু লুণ্ঠন করতে। (মুসলিম ২৫৭৮)
কার্পণ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার মধ্যেই সমূহ সফলতা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَمَنْ يُوْقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَائِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ).
অর্থাৎ যারা কার্পণ্য থেকে মুক্ত রয়েছে তারাই সফলকাম। (হাশ্র: ৯ তাগাবুন: ১৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00