📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 মদ্যপানের ছড়াছড়ি

📄 মদ্যপানের ছড়াছড়ি


মদ্যপানের ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَفِي رِوَايَةٍ وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةُ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০, ৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)
শুধু মদ্যপান যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা একদা হালালও মনে করা হবে। আবূ 'আমির আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامُ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)
কেউ কেউ তা সরাসরি হালাল মনে না করলেও ভিন্ন নামে উহাকে হালাল মনে করবে। 'উবাদাহ্ বিন্ স্বামিত্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
لَتَسْتَحِلَّنَّ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ بِاسْمٍ يُسَمُّوْنَهَا إِيَّاهُ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক মদকে হালাল মনে করবে প্রচলিত নাম ভিন্ন অন্য নামে। যা তারাই সুচতুরভাবে চয়ন করবে। (আহমাদ্ ৫/৩১৮ ইবনু মাজাহ্ ২/১১২৩ স'হীহুল জামি', হাদীস ৪৯৪৫)
মা'রিফাতপন্থী কিছু কাফির মদকে রূহের খোরাক বলেও মনে করে। মদকে হালাল মনে করা আবার দু' ধরনের হতে পারেঃ
ক. মদ পান করা হালাল বলে বিশ্বাস করা।
খ. পানির মতো তা অত্যধিক পান করা। যা কার্যতঃ হালাল হওয়াই প্রমাণ করে।
বর্তমান যুগে প্রকাশ্যভাবে মদের ব্যবসা ও যত্রতত্র উহার পান কিয়ামত অতি সন্নিকটে বলেই প্রমাণ করে।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 মসজিদগুলোকে অত্যাধিক সুসজ্জিত করণ ও তা নিয়ে পরস্পর গর্ব করা

📄 মসজিদগুলোকে অত্যাধিক সুসজ্জিত করণ ও তা নিয়ে পরস্পর গর্ব করা


মসজিদগুলোকে অত্যধিক সুসজ্জিত করণ ও তা নিয়ে পরস্পর গর্ব করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মানুষ মসজিদ নিয়ে পরস্পর গর্ব করে। (আহমাদ ৫/৩১৮ স'হীহুল্ জামি', হাদীস ৭২৯৮)
আনাস্ বলেনঃ তারা মসজিদ নিয়ে পরস্পর গর্ব করবে ঠিকই। তবে মসজিদের মুসল্লী হবে খুবই কম।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ
لَتُزَخْرِفُنَّهَا كَمَا زَخْرَفَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى.
অর্থাৎ তোমরা একদা মসজিদগুলোকে সুসজ্জিত করবে যেমনিভাবে সুসজ্জিত করেছে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের মন্দিরগুলোকে। (ফাত্হুল বারী ১/৫৩৯)
মসজিদ নির্মাণের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ মুসল্লীদেরকে গরম, ঠাণ্ডা ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করা। এ ছাড়া অন্য কিছু নয়।
'উমর মসজিদে নববী সংস্কারের সময় অধিনস্থ কর্মকর্তাকে এ বলে আদেশ করেনঃ
أَكِنَّ النَّاسَ مِنَ الْمَطَرِ، وَإِيَّاكَ أَنْ تُحَمِّرَ أَوْ تُصَفِّرَ فَتَفْتِنَ النَّاسَ.
অর্থাৎ মানুষকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করো। লাল বা হলদে বানাতে যাবে না। তা হলে মানুষ নামায থেকে অন্য মনস্ক হয়ে যাবে। (ফাত্হুল বারী ১/৫৩৯)
বর্তমান যুগে মসজিদগুলোকে শুধু লাল বা হলদেই বানানো হচ্ছে না বরং উহাকে কাপড়ের নকশার মতো নকশাদার করা হচ্ছে। বিশ্বের বুকে এমন অনেক মসজিদ রয়েছে যা আজো কারুশিল্পের এক এক ভাস্কর দৃষ্টান্ত।
মসজিদ ও কুর'আনের কারুকার্য যখন ব্যাপক রূপ ধারণ করবে তখনই মুসলমানদের ধ্বংস অনিবার্য।
আবৃদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
إِذَا زَوَّقْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ، وَحَلَّيْتُمْ مَصَاحِفَكُمْ؛ فَالدَّمَارُ عَلَيْكُمْ.
অর্থাৎ যখন তোমরা মসজিদ ও কুর'আন মাজীদকে কারুমণ্ডিত করবে তখনই তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য। (সহীহুল জামি' ৫৯৯)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 বড়ো বড়ো অট্টালিকা নির্মাণে জোর প্রতিযোগিতা

📄 বড়ো বড়ো অট্টালিকা নির্মাণে জোর প্রতিযোগিতা


বড়ো বড়ো অট্টালিকা নির্মাণে জোর প্রতিযোগিতা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
وَإِذَا تَطَاوَلَ رِعَاءُ الْبَهُم فِي الْبُنْيَانِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا.
অর্থাৎ যখন রাখালরা বড়ো বড়ো অট্টালিকা নির্মাণে জোর প্রতিযোগিতা করবে তখনই তা কিয়ামতের একটি আলামত। (মুসলিম ৯)
'উমর বিন খাত্ত্বাব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ.
অর্থাৎ কিয়ামতের আলামত এটাও যে, তখন তুমি কাপড়-জুতোবিহীন গরিব ছাগল রাখালকে দেখবে অট্টালিকা নির্মাণে জোর প্রতিযোগিতা করতে। (মুসলিম ৮)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 রাশি তার প্রভুকে জন্ম দেওয়া

📄 রাশি তার প্রভুকে জন্ম দেওয়া


বান্দির তার প্রভুকে জন্ম দেওয়া কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِذَا وَلَدَتِ الْأَمَةُ رَبَّهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا.
অর্থাৎ যখন কোন বান্দি তার প্রভুকে জন্ম দিবে তখনই তা কিয়ামতের একটি আলামত। (মুসলিম ৯)
বান্দি তার প্রভুকে জন্ম দেয়ার অনেকগুলো অর্থ হতে পারে যা নিম্নরূপঃ
ক. ইসলাম যখন জোরপূর্বক কাফির এলাকায় প্রবেশ করবে তখন মুসলমানরা কাফিরদের স্ত্রী-কন্যাদেরকে বান্দি হিসেবে ব্যবহার করবে। অতঃপর তার থেকে যে সন্তান জন্ম নিবে একদা সে মিরাসী সূত্রে উক্ত বান্দির মনিব হয়ে যাবে।
খ. মালিকরা যখন বাচ্চার জননী বান্দিকে সচরাচর বিক্রি করে দিবে। যা মূলতঃ না জায়িয। তখন ভাগ্যচক্রে তারই সন্তান তাকে বান্দি হিসেবে খরিদ করবে। অথচ সে জানবে না যে, এই তার মা জননী।
গ. বান্দির সাথে তার মালিক ছাড়া অন্য কেউ সন্দেহ বশতঃ হালাল মনে করে সহবাস করবে। তখন তো তার পেট থেকে স্বাধীন পুরুষই জন্ম নিবে। যে পরবর্তীতে তারই প্রভু হবে। এমনো হতে পারে যে, তার সাথে শরীয়ত সম্মতভাবে বিবাহ্ পূর্বক সহবাস করা হবে অথবা ব্যভিচার করা হবে। এরপর তাকে বাজারে বিক্রি করা হলে ঘটনাচক্রে তার সন্তানই তাকে খরিদ করে একদা তার মালিক হয়ে যাবে।
ঘ. সন্তান তার মাতা-পিতার চরম অবাধ্য হবে। তখন সন্তান তার মায়ের সাথে বান্দির আচরণই করবে। তাকে গালি দিবে, মারবে ও তার খিদমত নিবে। আল্লামাহ্ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত ব্যাখ্যাকেই যুক্তিযুক্ত বলে মত ব্যক্ত করেন।
ঙ. শেষ যুগে বান্দিরা অত্যধিক সম্মান পাবে। তখন তাদেরকেই প্রভাবশালীরা বিবাহ্ করবে এবং তাদের ঘর থেকেই তখন তাদের মনিব জন্ম নিবে। আল্লামাহ্ ইব্‌ন্ধু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত মত ব্যক্ত করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00