📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 সুদের ছড়াছড়ি

📄 সুদের ছড়াছড়ি


সুদের ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ يَظْهَرُ الرِّبَا
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বক্ষণে সমাজের সর্বস্তরে সুদ বিস্তার লাভ করবে। (আত্তারগীবু ওয়াত্তারহীবু ৩/৯)
আর তা এ কারণেই হবে যে, তখন মানুষ শুধু সঞ্চয়ের পেছনেই পড়ে থাকবে। এ কথা সে কখনোই মাথায় নিবে না যে, তা হালাল পথে আসছে না কি হারাম পথে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، لَا يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ، أَمِنْ حَلَالٍ أَمْ مِنْ حَرَامٍ.
অর্থাৎ মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে যখন কোন ব্যক্তি এ কথা ভাববে না যে সে কিভাবে তার সম্পদগুলো সঞ্চয় করেছে; হালাল পথে না কি হারাম পথে। (বুখারী ২০৬৯, ২০৮৩)
বর্তমানে সুদি ব্যাংকের কোন অভাব নেই। বরং পুরস্কারে ভূষিত করে এ সব ব্যাংকগুলোকে আরো উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাই এদের গাহকও দিন দিন আরো বেড়েই চলছে এবং এদের মাধ্যমেই আজ সমাজে সুদের বিপুল বিস্তার।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 বাদ্যযন্ত্রের ছড়াছড়ি

📄 বাদ্যযন্ত্রের ছড়াছড়ি


বাদ্যযন্ত্রের ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। সাহল বিন্ সা'দ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
سَيَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ خَسْفُ وَقَذَفُ وَمَسْخُ، قِيلَ: وَمَتَى ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِذَا ظَهَرَتِ الْمَعَازِفُ وَالْقَيْنَاتُ.
অর্থাৎ অচিরেই শেষ যুগে দেখা দিবে ভূমি ধস, নিক্ষেপ ও বিকৃতি। রাসূল () কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! তা কখন? তিনি বললেনঃ যখন বাদ্যযন্ত্র ও গায়ক-গায়িকারা বেশি হারে প্রকাশ পাবে। (ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৫০ স'হীহুল্ জামি', হাদীস ৩৫৫৯)
শুধু বাদ্যযন্ত্র যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা হালালও মনে করা হবে। আবূ 'আমির আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامُ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 মদ্যপানের ছড়াছড়ি

📄 মদ্যপানের ছড়াছড়ি


মদ্যপানের ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَفِي رِوَايَةٍ وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةُ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০, ৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)
শুধু মদ্যপান যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা একদা হালালও মনে করা হবে। আবূ 'আমির আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامُ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)
কেউ কেউ তা সরাসরি হালাল মনে না করলেও ভিন্ন নামে উহাকে হালাল মনে করবে। 'উবাদাহ্ বিন্ স্বামিত্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
لَتَسْتَحِلَّنَّ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ بِاسْمٍ يُسَمُّوْنَهَا إِيَّاهُ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক মদকে হালাল মনে করবে প্রচলিত নাম ভিন্ন অন্য নামে। যা তারাই সুচতুরভাবে চয়ন করবে। (আহমাদ্ ৫/৩১৮ ইবনু মাজাহ্ ২/১১২৩ স'হীহুল জামি', হাদীস ৪৯৪৫)
মা'রিফাতপন্থী কিছু কাফির মদকে রূহের খোরাক বলেও মনে করে। মদকে হালাল মনে করা আবার দু' ধরনের হতে পারেঃ
ক. মদ পান করা হালাল বলে বিশ্বাস করা।
খ. পানির মতো তা অত্যধিক পান করা। যা কার্যতঃ হালাল হওয়াই প্রমাণ করে।
বর্তমান যুগে প্রকাশ্যভাবে মদের ব্যবসা ও যত্রতত্র উহার পান কিয়ামত অতি সন্নিকটে বলেই প্রমাণ করে।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 মসজিদগুলোকে অত্যাধিক সুসজ্জিত করণ ও তা নিয়ে পরস্পর গর্ব করা

📄 মসজিদগুলোকে অত্যাধিক সুসজ্জিত করণ ও তা নিয়ে পরস্পর গর্ব করা


মসজিদগুলোকে অত্যধিক সুসজ্জিত করণ ও তা নিয়ে পরস্পর গর্ব করা কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মানুষ মসজিদ নিয়ে পরস্পর গর্ব করে। (আহমাদ ৫/৩১৮ স'হীহুল্ জামি', হাদীস ৭২৯৮)
আনাস্ বলেনঃ তারা মসজিদ নিয়ে পরস্পর গর্ব করবে ঠিকই। তবে মসজিদের মুসল্লী হবে খুবই কম।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ
لَتُزَخْرِفُنَّهَا كَمَا زَخْرَفَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى.
অর্থাৎ তোমরা একদা মসজিদগুলোকে সুসজ্জিত করবে যেমনিভাবে সুসজ্জিত করেছে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের মন্দিরগুলোকে। (ফাত্হুল বারী ১/৫৩৯)
মসজিদ নির্মাণের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ মুসল্লীদেরকে গরম, ঠাণ্ডা ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করা। এ ছাড়া অন্য কিছু নয়।
'উমর মসজিদে নববী সংস্কারের সময় অধিনস্থ কর্মকর্তাকে এ বলে আদেশ করেনঃ
أَكِنَّ النَّاسَ مِنَ الْمَطَرِ، وَإِيَّاكَ أَنْ تُحَمِّرَ أَوْ تُصَفِّرَ فَتَفْتِنَ النَّاسَ.
অর্থাৎ মানুষকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করো। লাল বা হলদে বানাতে যাবে না। তা হলে মানুষ নামায থেকে অন্য মনস্ক হয়ে যাবে। (ফাত্হুল বারী ১/৫৩৯)
বর্তমান যুগে মসজিদগুলোকে শুধু লাল বা হলদেই বানানো হচ্ছে না বরং উহাকে কাপড়ের নকশার মতো নকশাদার করা হচ্ছে। বিশ্বের বুকে এমন অনেক মসজিদ রয়েছে যা আজো কারুশিল্পের এক এক ভাস্কর দৃষ্টান্ত।
মসজিদ ও কুর'আনের কারুকার্য যখন ব্যাপক রূপ ধারণ করবে তখনই মুসলমানদের ধ্বংস অনিবার্য।
আবৃদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
إِذَا زَوَّقْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ، وَحَلَّيْتُمْ مَصَاحِفَكُمْ؛ فَالدَّمَارُ عَلَيْكُمْ.
অর্থাৎ যখন তোমরা মসজিদ ও কুর'আন মাজীদকে কারুমণ্ডিত করবে তখনই তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য। (সহীহুল জামি' ৫৯৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00