📄 পুলিশ প্রশাসন ও অধিক হারে যালিমদের সহযোগীর আবির্ভাব
পুলিশ প্রশাসন ও অধিক হারে যালিমদের সহযোগীর আবির্ভাব কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ، كَأَنَّهَا أَذْنَابُ الْبَقَرِ، يَغْدُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ وَيَرُوحُوْنَ فِي غَضَبِهِ.
অর্থাৎ শেষ যুগে এ উম্মতের মাঝে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে। যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় লাঠি। তারা সকাল বেলা অতিবাহিত করবে আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তুষ্টি নিয়ে এবং বিকেল বেলাও অতিবাহিত করবে তাঁরই অসন্তুষ্টি নিয়ে। (আহমাদ ৫/২৫০)
অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ
سَيَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ شُرْطَةً يَغْدُونَ فِي غَضَبِ اللَّهِ وَيَرُوحُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ، فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْ بِطَانَتِهِمْ.
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন কিছু পুলিশ বেরুবে। যারা সকাল বেলা অতিবাহিত করবে আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তুষ্টি নিয়ে এবং বিকেল বেলাও অতিবাহিত করবে তাঁরই অসন্তুষ্টি নিয়ে। তুমি অবশ্যই তাদের সহযোগী হওয়া থেকে বেঁচে থাকবে। (সহীহুল্ জা'মি', হাদীস ৩৫৬০ ইত্'হাফুল্ জামা'আহ্ ১/৫০৭-৫০৮)
রাসূল () এ জাতীয় ব্যক্তিদেরকে জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেছেন।
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا : قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءُ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتُ مَائِلَاتُ، rُؤُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدُنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوْجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا.
অর্থাৎ দু' জাতীয় মানুষ জাহান্নামী। যাদেরকে আমি এখনো দেখিনি। তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে এমন লোক যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় লম্বা লাঠি। যা দিয়ে তারা মানুষকে অযথা প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে এমন মহিলারা যারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। অন্যকে আকর্ষণকারিণী এবং নিজেও হবে অন্যের প্রতি আকৃষ্টা। তাদের মাথা হবে খুরাসানী উটের ঝুলে পড়া কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি উহার সুগন্ধও পাবে না। অথচ উহার সুগন্ধ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। (মুসলিম ২১২৮)
📄 ব্যভিচারের ছড়াছড়ি
ব্যভিচারের ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَفِي رِوَايَةٍ: وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةُ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০, ৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ سَنَوَاتٌ خَدَّاعَاتٌ... وَتَشِيعُ فِيهَا الْفَاحِشَةُ.
অর্থাৎ অচিরেই এমন কিছু বছর আসবে যা মানুষকে ধোঁকায় ফেলে দিবে। তাতে অশ্লীল কাজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়বে। ('হাকিম ৪/৫১২ স'হীহুল জামি', হাদীস ৩৫৪৪)
শুধু ব্যভিচার যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা একদা হালালও মনে করা হবে।
আবূ 'আমির আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)
এ দিকে কিয়ামতের পূর্বক্ষণে উক্ত ব্যভিচার প্রকাশ্যে ও দিবালোকে শুরু হবে। এমনকি তা রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ! لَا تَفْنَى هَذِهِ الْأُمَّةُ حَتَّى يَقُوْمَ الرَّجُلُ إِلَى الْمَرْأَةِ فَيَفْتَرِشُهَا في الطريقِ، فَيَكُونُ خِيَارُهُمْ يَوْمَئِذٍ مَنْ يَقُولُ: لَوْ وَارَيْتَهَا وَرَاءَ هَذَا الْحَائِطِ !.
অর্থাৎ সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! এ উম্মত নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না জনৈক পুরুষ জনৈকা মহিলাকে রাস্তায় শুইয়ে ব্যভিচার করবে। তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই হবে যে বলবেঃ যদি তুমি মহিলাটিকে এ দেয়ালটির আড়ালে নিয়ে ব্যভিচার করতে! (মাজমা'উয় যাওয়ায়িদ্ ৭/৩৩১)
যখন সকল খাঁটি মু'মিন-মুসলমান মৃত্যু বরণ করবে তখন দুনিয়াতে এমন কিছু লোক বেঁচে থাকবে যারা গাধার ন্যায় জনসমক্ষে ব্যভিচার করবে।
নাওয়াস্ বিন্ সাম্'আন থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَا رَجُوْنَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ، فَعَلَيْهِمْ تَقُوْمُ السَّاعَةُ.
অর্থাৎ তখন একমাত্র খারাপ লোকই বেঁচে থাকবে। যারা গাধার ন্যায় জনসমক্ষে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে এবং তাদের উপরই কায়েম হবে কিয়ামত। (মুসলিম ২৯৩৭)
📄 সুদের ছড়াছড়ি
সুদের ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ يَظْهَرُ الرِّبَا
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বক্ষণে সমাজের সর্বস্তরে সুদ বিস্তার লাভ করবে। (আত্তারগীবু ওয়াত্তারহীবু ৩/৯)
আর তা এ কারণেই হবে যে, তখন মানুষ শুধু সঞ্চয়ের পেছনেই পড়ে থাকবে। এ কথা সে কখনোই মাথায় নিবে না যে, তা হালাল পথে আসছে না কি হারাম পথে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، لَا يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ، أَمِنْ حَلَالٍ أَمْ مِنْ حَرَامٍ.
অর্থাৎ মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে যখন কোন ব্যক্তি এ কথা ভাববে না যে সে কিভাবে তার সম্পদগুলো সঞ্চয় করেছে; হালাল পথে না কি হারাম পথে। (বুখারী ২০৬৯, ২০৮৩)
বর্তমানে সুদি ব্যাংকের কোন অভাব নেই। বরং পুরস্কারে ভূষিত করে এ সব ব্যাংকগুলোকে আরো উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাই এদের গাহকও দিন দিন আরো বেড়েই চলছে এবং এদের মাধ্যমেই আজ সমাজে সুদের বিপুল বিস্তার।
📄 বাদ্যযন্ত্রের ছড়াছড়ি
বাদ্যযন্ত্রের ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত। সাহল বিন্ সা'দ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
سَيَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ خَسْفُ وَقَذَفُ وَمَسْخُ، قِيلَ: وَمَتَى ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِذَا ظَهَرَتِ الْمَعَازِفُ وَالْقَيْنَاتُ.
অর্থাৎ অচিরেই শেষ যুগে দেখা দিবে ভূমি ধস, নিক্ষেপ ও বিকৃতি। রাসূল () কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! তা কখন? তিনি বললেনঃ যখন বাদ্যযন্ত্র ও গায়ক-গায়িকারা বেশি হারে প্রকাশ পাবে। (ইবনু মাজাহ্ ২/১৩৫০ স'হীহুল্ জামি', হাদীস ৩৫৫৯)
শুধু বাদ্যযন্ত্র যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা হালালও মনে করা হবে। আবূ 'আমির আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامُ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)