📄 আমানতের খিয়ানত
আমানতের খিয়ানত কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ (ﷳ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
إِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ، قَالَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
অর্থাৎ যখন তুমি দেখবে আমানতের খিয়ানত হতে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। বর্ণনাকারী বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! তা আবার কিভাবে? তিনি বললেনঃ যখন কোন গুরু দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তিকে দেয়া হবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। (বুখারী ৬৪৯৬)
কিয়ামতের পূর্বক্ষণে একদা মানুষের অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন অন্তরে উহার দাগ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল (আমানত উঠিয়ে নেয়া সম্পর্কে বলেনঃ
يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الْأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ، فَيَظَلُّ أَثَرُهَا مِثْلَ أَثَرِ الْوَكْتِ، ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ فَيَبْقَى أَثَرُهَا مِثْلَ الْمَجْلِ، كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ، فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيْهِ شَيْءٌ ، فَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُوْنَ، فَلَا يَكَادُ أَحَدٌ يُوَدِّيْ الْأَمَانَةَ، فَيُقَالُ: إِنَّ فِي بَنِي فُلَانٍ رَجُلًا أَمِينًا، وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ : مَا أَعْقَلَهُ وَمَا أَظْرَفَهُ وَمَا أَجْلَدَهُ، وَمَا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ خَرْدَلٍ مِنْ إِيْمَانٍ.
অর্থাৎ কেউ ঘুমিয়ে পড়লে তার অন্তর থেকে আমানত টুকু উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন এর দাগ টুকু তার অন্তরে কোন এক বিন্দুর দাগের ন্যায় অবশিষ্ট থাকবে। আবারো সে ঘুমিয়ে পড়লে আমানতের বাকি অংশ টুকু তার অন্তর থেকে উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন এর দাগ টুকু তার অন্তরে কোন এক কর্মঠ ব্যক্তির হাতের দাগের ন্যায় অবশিষ্ট থাকবে। যেমনঃ তুমি কোন জ্বলন্ত কয়লা অসতর্কভাবে পায়ের উপর ফেলে দিলে। আর তখনই সেখানে একটি ফোস্কা ফুটে গেলো। তখন ফোস্কাটিকে দেখতে উঁচু দেখা যাবে ঠিকই; কিন্তু তাতে দূষিত পানি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। ভোর হলে সবাই একে অপরের হাতে বায়'আত করবে ঠিকই। কিন্তু তাদের মধ্যে এমন কোন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না যে তার উপর অর্পিত আমানত টুকু আদায় করবে। তখন এ কথা বলা হবে যে, শুনেছিলামঃ অমুক বংশে নাকি একজন আমানতদার ব্যক্তি ছিলো। তখন কারো কারোর সম্পর্কে এ কথাও বলা হবে যে, লোকটি কতই না বুদ্ধিমান! কতই না চালাক! কতই না বীর সাহসী! অথচ তার অন্তরে একটি সরিষা পরিমাণও ঈমান নেই। (বুখারী ৬৪৯৭)
📄 ধর্মীয় জ্ঞানের আকাল ও মূর্খতার ছড়াছড়ি
ধর্মীয় জ্ঞানের আকাল ও মূর্খতার ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَفِي رِوَايَةٍ: وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةُ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০, ৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ ও আবূ মূসা আশ্'আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ لَأَيَّامًا يَنْزِلَ فِيهَا الْجَهْلُ، وَيُرْفَعُ فِيهَا الْعِلْمُ وَيَكْثُرَ فِيهَا الْهَرْجُ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বক্ষণে এমন কিছু দিন আসবে যখন মূর্খতা অবতীর্ণ হবে, ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে এবং হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাবে। (বুখারী ৭০৬২, ৭০৬৩, ৭০৬৪, ৭০৬৬; মুসলিম ২৬৭২)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ، وَيُقْبَضُ الْعِلْمُ، وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ، وَيُلْقَى الشُّحُ، وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ ، قَالُوا: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: الْقَتْلُ.
অর্থাৎ সময় খুবই নিকটবর্তী হবে, ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে, কার্পণ্য নিক্ষিপ্ত হবে এবং হার্জ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হার্জ কি? রাসূল () বললেনঃ হার্জ মানে হত্যাকাণ্ড। (মুসলিম ১৫৭)
এমন হবে না যে, আল্লাহ্ তা'আলা আলিমদের অন্তর থেকে সরাসরি ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নিবেন। বরং তা উঠিয়ে নেয়া হবে আলিমগণের মৃত্যুর মাধ্যমে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর বিন্ 'আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤُوْسًا جُهَالًا، فَسُئِلُوا، فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا.
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের অন্তর থেকে সরাসরি ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নিবেন না। বরং তিনি তা উঠিয়ে নিবেন আলিমগণের মৃত্যুর মাধ্যমে। যখন তিনি দুনিয়াতে আর কোন আলিমই রাখবেন না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা ধর্মীয় জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দিবে। তখন তারা নিজেও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। (বুখারী ১০০)
কারো কারোর ব্যাখ্যা মতে ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়ার মানে এই যে, জ্ঞানী ব্যক্তি যখন বেশি বেশি গুনাহ্ করবে তখন তার জ্ঞান তার অন্তর থেকেই সরাসরি উঠিয়ে নেয়া হবে।
আবার কারো কারোর ব্যাখ্যা মতে ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়ার মানে এই যে, তখন পরিস্থিতি এমন হবে যে, জনসমাজে ধর্মীয় জ্ঞান প্রচারের কোন ধরনের সুযোগ দেয়া হবে না। আর তখন এমনিতেই ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাবে।
আবার কারো কারোর ব্যাখ্যা মতে ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়ার মানে এই যে, মানুষ কুর'আন ও হাদীস অধ্যয়ন করবে ঠিকই। কিন্তু কেউই তদনুরূপ আমল করবে না।
কারো কারোর মতে আলিমগণ ধীরে ধীরে কুর'আন ও হাদীস ভুলে যেতে শুরু করবে। আর এভাবেই ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাবে।
মোটকথা, যেভাবেই হোক না কেন ধর্মীয় জ্ঞান কমতে থাকবে এবং মূর্খতা বাড়তেই থাকবে। পরিশেষে এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ ইসলামের ফরয বিষয়গুলোও জানবে না।
'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَدْرُسُ الْإِسْلَامُ كَمَا يَدْرُسُ وَشْيُ الثَّوْبِ، حَتَّى لَا يُدْرَى مَا صِيَامُ وَلَا صَلَاةٌ وَلَا نُسُكُ وَلَا صَدَقَةً؟ وَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللهِ فِي لَيْلَةٍ فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ آيَةً، وَتَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ : الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْعَجُوزُ يَقُولُونَ ﴿أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ؛ يَقُولُونَ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَنَحْنُ نَقُوْلُهَا، فَقَالَ لَهُ صِلَةُ : مَا تُغْنِي عَنْهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَهُمْ لَا يَدْرُوْنَ مَا صَلَاةٌ وَلَا صِيَامُ وَلَا نُسُكُ وَلَا صَدَقَةً؟ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَهُ، ثُمَّ رَدَّدَهَا عَلَيْهِ ثَلَاثًا، كُلُّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ حُذَيْفَهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فِي الثَّالِثَةِ، فَقَالَ: يَا صِلَةُ تُنْجِيْهِمْ مِنَ النَّارِ ثَلَاثًا.
অর্থাৎ ইসলাম মুছে যাবে যেমনিভাবে মুছে যায় কাপড়ের ডোরা ডোরা দাগগুলো। পরিশেষে এমন পরিস্থিতি হবে যে, কেউ জানবে না রোযা কি, নামায কি, হজ্জ কি এবং সাদাকা কি? এমন একটি রাত আসবে যখন কুর'আনের একটি আয়াতও আর থাকবে না। তবে এমন কিছু লোক বেঁচে থাকবে যারা হবে বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা। তারা বলবেঃ আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে দেখতাম তারা বলতোঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ তথা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া সত্যিকার কোন মা'বুদ নেই। অতএব আমরাও তাই বলি। বর্ণনাকারী স্কিলাহ্ বিন্ যুফার আব্ক্সী তাবি'য়ী 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ তাদের কি ফায়দায় আসবে বলুন তো? অথচ তারা জানে না নামায কি, রোযা কি, হজ্জ কি এবং সাদাকা কি? 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তখন স্কিলাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) কথাটি সর্বমোট তিনবার বলেনঃ প্রত্যেকবারই 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তৃতীয়বার 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) তার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ হে স্কিলাহ্! এ কালিমাহ্ তাদেরকে জাহান্নام থেকে রক্ষা করবে। কথাটি তিনি তিনবার বলেন। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ২/১৩৪৪-১৩৪৫ 'হাকিম ৪/৪৭৩)
উক্ত কালিমাহ্ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে এ জন্যই যে, তখন তাদের পক্ষে এর চাইতে আর বেশি কিছু জানা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই তারা এর চাইতে আর বেশি কিছু জানতে অক্ষম হবে বলেই তো রক্ষা পাবে। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা কারোর উপর তার সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপিয়ে দেন না।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'ঊদ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
لَيُنْزَعَنَّ الْقُرْآنُ مِنْ بَيْنِ أَظْهُرِكُمْ، يُسْرَى عَلَيْهِ لَيْلًا، فَيَذْهَبُ مِنْ أَجْوَافِ الرِّجَالِ، فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ شَيْءٌ.
অর্থাৎ তোমাদের মাঝ থেকে কুর'আন মাজীদ ছিনিয়ে নেয়া হবে। এমন এক রাত্রি আসবে যখন তা মানুষের অন্তর থেকে উঠে যাবে। অতঃপর জমিনে তার কিয়দংশও বাকি থাকবে না। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৭/৩২৯-৩৩০ ফাত্হুল্ বারি ১৩/১৬)
এর চাইতেও আরো মারাত্মক পরিস্থিতি হবে এই যে, দুনিয়াতে তখন এমন কোন লোক বেঁচে থাকবে না যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলাকে চিনবে এবং তাঁর নাম উচ্চারণ করবে। আর তখনই কিয়ামত কায়িম হবে।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ : اللَّهُ اللهُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যে, আল্লাহ্ তা'আলাকে চিনবে ও তাঁর নাম উচ্চারণ করবে এমন ব্যক্তি বিশ্বের বুকে বেঁচে থাকবে না। (মুসলিম ১৪৮)
যখন আমরা জানতে পারলাম, অচিরেই ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে। তাই সময় থাকতেই আমাদের প্রত্যেককে ধর্মীয় ব্যাপারে প্রচুর পরিমাণে কুর'আন ও হাদীসের জ্ঞান আহরণ করতে হবে তা উঠিয়ে নেয়ার পূর্বে।
আবৃদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
مَا لِي أَرَى عُلَمَاءَكُمْ يَذْهَبُونَ، وَجُهَّالُكُمْ لَا يَتَعَلَّمُونَ، فَتَعَلَّمُوا قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ، فَإِنَّ رَفْعَ الْعِلْمِ ذَهَابُ الْعُلَمَاءِ.
অর্থাৎ এমন কেন হলো! আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমাদের আলিমগণ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যাচ্ছেন; অথচ তোমাদের মূর্খরা তাদের থেকে জ্ঞান আহরণ করছে না। তোমরা জ্ঞান আহরণ করো তা উঠিয়ে নেয়ার আগে। কারণ, আলিমগণ বিদায় নেয়া মানে ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাওয়া। (দারেমী ১/৬৯ জামি'উ বায়ানিল্ 'ইল্মি ওয়া ফাযলিহী ২০৭)
📄 পুলিশ প্রশাসন ও অধিক হারে যালিমদের সহযোগীর আবির্ভাব
পুলিশ প্রশাসন ও অধিক হারে যালিমদের সহযোগীর আবির্ভাব কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ، كَأَنَّهَا أَذْنَابُ الْبَقَرِ، يَغْدُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ وَيَرُوحُوْنَ فِي غَضَبِهِ.
অর্থাৎ শেষ যুগে এ উম্মতের মাঝে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে। যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় লাঠি। তারা সকাল বেলা অতিবাহিত করবে আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তুষ্টি নিয়ে এবং বিকেল বেলাও অতিবাহিত করবে তাঁরই অসন্তুষ্টি নিয়ে। (আহমাদ ৫/২৫০)
অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ
سَيَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ شُرْطَةً يَغْدُونَ فِي غَضَبِ اللَّهِ وَيَرُوحُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ، فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْ بِطَانَتِهِمْ.
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন কিছু পুলিশ বেরুবে। যারা সকাল বেলা অতিবাহিত করবে আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তুষ্টি নিয়ে এবং বিকেল বেলাও অতিবাহিত করবে তাঁরই অসন্তুষ্টি নিয়ে। তুমি অবশ্যই তাদের সহযোগী হওয়া থেকে বেঁচে থাকবে। (সহীহুল্ জা'মি', হাদীস ৩৫৬০ ইত্'হাফুল্ জামা'আহ্ ১/৫০৭-৫০৮)
রাসূল () এ জাতীয় ব্যক্তিদেরকে জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেছেন।
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا : قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءُ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتُ مَائِلَاتُ، rُؤُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدُنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوْجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا.
অর্থাৎ দু' জাতীয় মানুষ জাহান্নামী। যাদেরকে আমি এখনো দেখিনি। তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে এমন লোক যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় লম্বা লাঠি। যা দিয়ে তারা মানুষকে অযথা প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে এমন মহিলারা যারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। অন্যকে আকর্ষণকারিণী এবং নিজেও হবে অন্যের প্রতি আকৃষ্টা। তাদের মাথা হবে খুরাসানী উটের ঝুলে পড়া কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি উহার সুগন্ধও পাবে না। অথচ উহার সুগন্ধ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। (মুসলিম ২১২৮)
📄 ব্যভিচারের ছড়াছড়ি
ব্যভিচারের ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَفِي رِوَايَةٍ: وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةُ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০, ৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ سَنَوَاتٌ خَدَّاعَاتٌ... وَتَشِيعُ فِيهَا الْفَاحِشَةُ.
অর্থাৎ অচিরেই এমন কিছু বছর আসবে যা মানুষকে ধোঁকায় ফেলে দিবে। তাতে অশ্লীল কাজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়বে। ('হাকিম ৪/৫১২ স'হীহুল জামি', হাদীস ৩৫৪৪)
শুধু ব্যভিচার যে ছড়িয়ে পড়বে তা নয়। বরং তা একদা হালালও মনে করা হবে।
আবূ 'আমির আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড় পরিধান, মদ্য পান ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (বুখারী ৫৫৯০)
এ দিকে কিয়ামতের পূর্বক্ষণে উক্ত ব্যভিচার প্রকাশ্যে ও দিবালোকে শুরু হবে। এমনকি তা রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়বে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ! لَا تَفْنَى هَذِهِ الْأُمَّةُ حَتَّى يَقُوْمَ الرَّجُلُ إِلَى الْمَرْأَةِ فَيَفْتَرِشُهَا في الطريقِ، فَيَكُونُ خِيَارُهُمْ يَوْمَئِذٍ مَنْ يَقُولُ: لَوْ وَارَيْتَهَا وَرَاءَ هَذَا الْحَائِطِ !.
অর্থাৎ সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! এ উম্মত নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না জনৈক পুরুষ জনৈকা মহিলাকে রাস্তায় শুইয়ে ব্যভিচার করবে। তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই হবে যে বলবেঃ যদি তুমি মহিলাটিকে এ দেয়ালটির আড়ালে নিয়ে ব্যভিচার করতে! (মাজমা'উয় যাওয়ায়িদ্ ৭/৩৩১)
যখন সকল খাঁটি মু'মিন-মুসলমান মৃত্যু বরণ করবে তখন দুনিয়াতে এমন কিছু লোক বেঁচে থাকবে যারা গাধার ন্যায় জনসমক্ষে ব্যভিচার করবে।
নাওয়াস্ বিন্ সাম্'আন থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ( ইরশাদ করেনঃ
وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَا رَجُوْنَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ، فَعَلَيْهِمْ تَقُوْمُ السَّاعَةُ.
অর্থাৎ তখন একমাত্র খারাপ লোকই বেঁচে থাকবে। যারা গাধার ন্যায় জনসমক্ষে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে এবং তাদের উপরই কায়েম হবে কিয়ামত। (মুসলিম ২৯৩৭)