📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 তুরষ্কিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ

📄 তুরষ্কিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ


মুসলমানদের সাথে তুরকিস্তানীদের যুদ্ধ কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ التَّرْكَ، قَوْمًا وُجُوهُهُمْ كَالْمَجَانِ الْمُطْرَقَةِ، يَلْبَسُونَ الشَّعْرَ، وَيَمْشُونَ فِي الشَّعْرِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মুসলমানরা তুরকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করবে। তাদের চেহারা হবে চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায় তথা চওড়া ও ঝুলে পড়া গণ্ডদেশ বিশিষ্ট। তারা পশমের কাপড় ও জুতো পরিধান করবে। (মুসলিম ২৯১২)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا التَّرْكَ صِغَارَ الْأَعْيُنِ، حُمْرَ الْوُجُوْهِ، ذُلْفَ الْأُنُوفِ، كَأَنَّ وُجُوْهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطَرَّقَةُ، وَلَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা তুরকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করবে। তাদের চোখ হবে ছোট। চেহারা হবে লাল। নাক হবে ছোট ও চেপটা। তাদের চেহারা যেন চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায় তথা চওড়া ও ঝুলে পড়া গণ্ডদেশ বিশিষ্ট। কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির সাথে যুদ্ধ করবে। যাদের জুতো হবে পশমের। (বুখারী ২৯২৮, ২৯২৯; মুসলিম ২৯১২)
'আমর বিন্ তালিব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا يَنْتَعِلُوْنَ نِعَالَ الشَّعْرِ، وَإِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا عِرَاضَ الْوُجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ.
অর্থাৎ কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্য থেকে এটিও একটি যে, তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে যারা পশমের জুতো পরিধান করবে। কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্য থেকে এটিও আরেকটি যে, তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে যাদের চেহারা হবে চওড়া যেন চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায়। (বুখারী ২৯২৭)
সাহাবাদের যুগেই মুসলমানরা তুরকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করেছে। তখন ছিলো বনু উমাইয়াহ্ তথা মু'আবিয়া এর খিলাফতকাল।
মু'আবিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি একদা মু'আবিয়া বিন্ আবূ সুফ্ইয়ান (স) এর নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁর জনৈক গভর্নরের কাছ থেকে এ মর্মে একটি চিঠি এসেছে যে, তিনি তুরকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে পরাজিত করেছেন। তাদের অনেককে হত্যা করেছেন এবং প্রচুর যুদ্ধলব্ধ মালও আহরণ করেছেন। তা পড়ে মু'আবিয়া খুবই রাগান্বিত হন এবং তাঁর নিকট এ মর্মে লিখতে আদেশ করেন যে, আমি তোমার কথায় বুঝতে পেরেছি যে, তুমি অনেককে হত্যা করেছো এবং প্রচুর যুদ্ধলব্ধ মাল সংগ্রহ করেছো। আমি যেন আর না শুনি যে, তুমি তাদের সাথে যুদ্ধে মেতে উঠেছো যতক্ষণ না আমার আদেশ আসবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ কেন হে আমীরুল মু'মিনীন! তিনি বললেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ
لَتَظْهَرَنَّ التَّرْكُ عَلَى الْعَرَبِ حَتَّى تُلْحِقَهَا بِمَنَابِتِ الشَّيْحِ وَالْقَيْصُوْمِ.
অর্থাৎ তুরকিস্তানীরা অবশ্যই আরবদের উপর জয়ী হবে। এমনকি তারা আরবদেরকে তাড়াতে তাড়াতে শী'হ্ ও ক্বাইস্থম নামক সুগন্ধময় উদ্ভিদ এলাকায় পৌঁছে দিবে। (ফাত্হুল বারী ৬/৬০৯)
বুরাইদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি একদা রাসূল (ﷺ) এর নিকট বসা ছিলাম। তখন রাসূল (ﷺ) বলছিলেনঃ
إِنَّ أُمَّتِي يَسُوقُهَا قَوْمٌ عِرَاضُ الْأَوْجُهِ، صِغَارُ الْأَعْيُنِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْحَجَفُ - ثَلَاثَ مَرَّاتٍ - حَتَّى يُلْحِقُوهُمْ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ، أَمَّا السَّابِقَةُ الْأُولَى، فَيَنْجُو مَنْ هَرَبَ مِنْهُمْ، وَأَمَّا الثَّانِيَةُ، فَيَهْلِكُ بَعْضُ وَيَنْجُوْ بَعْضُ، وَأَمَّا الثَّالِثَةُ، فَيَصْطَلِمُوْنَ كُلُّهُمْ مَنْ بَقِيَ مِنْهُمْ، قَالُوا : يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَنْ هُمْ؟ قَالَ: هُمُ التَّرْكُ، قَالَ: أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَرْبِطُنَّ خُيُولَهُمْ إِلَى سَوَارِي مَسَاجِدِ الْمُسْلِمِينَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতদেরকে তাড়িয়ে বেড়াবে এমন এক জাতি যাদের চেহারা হবে প্রশস্ত। নাক হবে ছোট। যেন তাদের চেহারা ঢালের ন্যায়। রাসূল (ﷺ) উক্ত কথাটি তিন বার বলেছেন। এমনকি তারা আমার উম্মতদেরকে তাড়াতে তাড়াতে আরব উপদ্বীপে পৌঁছিয়ে দিবে। প্রথম দলটির কেউ কেউ পালিয়ে বাঁচবে। আর দ্বিতীয় দলটির কেউ মরবে আবার কেউ বাঁচবে। তৃতীয় দলটিকে কচু কাটা তথা একেবারেই নিঃশেষ করে দেয়া হবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র নবী! তারা কারা? তিনি বললেনঃ তারা তুরকিস্তানী। তিনি আরো বলেনঃ সে সত্তার কসম খেয়ে বলছি যাঁর হাতে আমার জীবন! তারা তাদের ঘোড়াগুলো বেঁধে রাখবে মুসলমানদের মসজিদের খুঁটির সাথে। (আহমদ ৫/৩৪৮-৩৪৯)
এ হাদীসটি শুনে বুরাইদাহ্ (রাঃ) তাঁর সাথে সর্বদা দু' তিনটি উট, সফরের সামান ও প্রয়োজনীয় পানপাত্র প্রস্তুত রাখতেন। যাতে তাদের খপ্পর থেকে সহজে পালানো যায়।
ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তাদের মাঝে ও মুসলমানদের মাঝে একটি দেয়াল ছিলো। তবে তা পরবর্তীতে একটু একটু করে খুলে দেয়া হয় এবং তাদের অনেককেই বন্দী করা হয়। তাদের ব্যাপারে কিছু মুসলিম রাষ্ট্রপতি অতি উৎসাহী হয়ে পড়ে। কারণ, তারা ছিলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও অতি সাহসী। এমনকি মু'তাসিম বিল্লাহ্'র অধিকাংশ সেনা সদস্য তারাই ছিলো। অতঃপর তারাই তাঁর রাষ্ট্রের উপর হস্তক্ষেপ করে তাঁর ছেলে মুতাওয়াক্কিল এবং আরো অন্যান্যদেরকে হত্যা করে।
এ দিকে সামানী রাষ্ট্রপতিরাও ছিলো তুরকিস্তানী। একদা মিসর, শাম এবং হিজাজও ছিলো তাদের কর্তৃত্বাধীন। তেমনিভাবে তাতারীরাও ছিলো তুরকিস্তানী। কারণ, তুরকিস্তানীদের সকল বৈশিষ্ট্যই তাদের মধ্যে পাওয়া যায়। চেঙ্গিজ খান ছিলো তাদের প্রধান এবং তাদের মধ্যে সর্বশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলো তাইমুর লঙ্ক। এক সুদীর্ঘ সময় পুরো প্রাচ্যেই চলছিলো তাদের তাণ্ডবলীলা। তারা বাগদাদে ঢুকে খলীফা মুস্তা'স্বিমকে হত্যা করে এবং শহরটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।
তবে তুরকিস্তানীদের অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁদের হাতেই ইসলাম ও মুসলমানদের বহু কল্যাণ সাধিত হয়। তাঁরা একটি শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করেন। তাতে করে ইসলামের প্রভাব বহুলাংশেই বৃদ্ধি পায়। তাঁরা অনেকগুলো কাফির এলাকা বিজয় করেন। তার মধ্যে রোমের রাজধানী ছিলো অন্যতম।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 অনারবদের সাথে যুদ্ধ

📄 অনারবদের সাথে যুদ্ধ


অনারবদের সাথে যুদ্ধ কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خُوْزًا وَكَرْمَانَ مِنَ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فطْسَ الْأُنْوْفِ، صِغَارَ الْأَعْيُنِ، وُجُوهُهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ، نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা খুজিস্তানী ও কিরমানীদের সাথে যুদ্ধ করবে। যারা অনারব। তাদের চেহারা হবে লাল। নাক হবে ছোট ও চেপটা। চোখ হবে ছোট। তাদের চেহারা যেন চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায় তথা চৌড়া ও ঝুলে পড়া গণ্ডদেশ বিশিষ্ট এবং যাদের জুতো হবে পশমের। (বুখারী ৩৫৯০)
এরা তুরকিস্তানী নয় ঠিকই। তবে এদের বৈশিষ্ট্যের সাথে তুরকিস্তানীদের বৈশিষ্ট্যের খুব একটা মিল রয়েছে। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, এরা সবাই অনারব এবং এ অনারবদের সাথেই হবে মুসলমানদের বিপুল সংখ্যক যুদ্ধ-বিগ্রহ।
সামুরাহ্ (ﷴ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
يُوشِكُ أَنْ يَمْلَأَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَيْدِيَكُمْ مِنَ الْعَجَمِ، ثُمَّ يَكُونُونَ أُسْدًا لاَ يَفِرُّوْنَ، فَيَقْتُلُونَ مُقَاتِلَتَكُمْ، وَيَأْكُلُونَ فَيْتَكُمْ.
অর্থাৎ অচিরেই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের মধ্যে তথা মুসলমানদের মধ্যে অনারবদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন। তারা হবে সিংহের মতো অতি সাহসী। যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে তারা কখনোই পিছপা হবে না। তারা তোমাদের যুদ্ধবাজ সৈন্যদেরকে হত্যা করবে এবং পেছনে ফেলে আসা ধন-সম্পদ খাবে। (আহমাদ ৫/১১ মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/৩১০)
আবূ হুরাইরাহ্ (ﷳ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
يُوشِكُ أَنْ يَكْثُرَ فِيكُمْ مِنَ الْعَجَمِ أُسْدُ لَا يَفِرُّوْنَ، فَيَقْتُلُوْنَ مُقَاتِلَتَكُمْ، وَيَأْكُلُونَ فَيْتَكُمْ.
অর্থাৎ অচিরেই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের মধ্যে তথা মুসলমানদের মধ্যে অনারবদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন। তারা হবে সিংহের মতো অতি সাহসী। যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে তারা কখনোই পিছপা হবে না। তারা তোমাদের যুদ্ধবাজ সৈন্যদেরকে হত্যা করবে এবং পেছনে ফেলে আসা ধন-সম্পদ খাবে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/৩১১)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসদ্বয় দুর্বল। তবে ইমাম হাইসামী হাদীসদ্বয়কে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 আমানতের খিয়ানত

📄 আমানতের খিয়ানত


আমানতের খিয়ানত কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ (ﷳ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
إِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ، قَالَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ.
অর্থাৎ যখন তুমি দেখবে আমানতের খিয়ানত হতে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। বর্ণনাকারী বললেনঃ হে আল্লাহ্'র রাসূল! তা আবার কিভাবে? তিনি বললেনঃ যখন কোন গুরু দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তিকে দেয়া হবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। (বুখারী ৬৪৯৬)
কিয়ামতের পূর্বক্ষণে একদা মানুষের অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন অন্তরে উহার দাগ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। 'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা রাসূল (আমানত উঠিয়ে নেয়া সম্পর্কে বলেনঃ
يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الْأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ، فَيَظَلُّ أَثَرُهَا مِثْلَ أَثَرِ الْوَكْتِ، ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ فَيَبْقَى أَثَرُهَا مِثْلَ الْمَجْلِ، كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ، فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيْهِ شَيْءٌ ، فَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُوْنَ، فَلَا يَكَادُ أَحَدٌ يُوَدِّيْ الْأَمَانَةَ، فَيُقَالُ: إِنَّ فِي بَنِي فُلَانٍ رَجُلًا أَمِينًا، وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ : مَا أَعْقَلَهُ وَمَا أَظْرَفَهُ وَمَا أَجْلَدَهُ، وَمَا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ خَرْدَلٍ مِنْ إِيْمَانٍ.
অর্থাৎ কেউ ঘুমিয়ে পড়লে তার অন্তর থেকে আমানত টুকু উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন এর দাগ টুকু তার অন্তরে কোন এক বিন্দুর দাগের ন্যায় অবশিষ্ট থাকবে। আবারো সে ঘুমিয়ে পড়লে আমানতের বাকি অংশ টুকু তার অন্তর থেকে উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন এর দাগ টুকু তার অন্তরে কোন এক কর্মঠ ব্যক্তির হাতের দাগের ন্যায় অবশিষ্ট থাকবে। যেমনঃ তুমি কোন জ্বলন্ত কয়লা অসতর্কভাবে পায়ের উপর ফেলে দিলে। আর তখনই সেখানে একটি ফোস্কা ফুটে গেলো। তখন ফোস্কাটিকে দেখতে উঁচু দেখা যাবে ঠিকই; কিন্তু তাতে দূষিত পানি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। ভোর হলে সবাই একে অপরের হাতে বায়'আত করবে ঠিকই। কিন্তু তাদের মধ্যে এমন কোন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না যে তার উপর অর্পিত আমানত টুকু আদায় করবে। তখন এ কথা বলা হবে যে, শুনেছিলামঃ অমুক বংশে নাকি একজন আমানতদার ব্যক্তি ছিলো। তখন কারো কারোর সম্পর্কে এ কথাও বলা হবে যে, লোকটি কতই না বুদ্ধিমান! কতই না চালাক! কতই না বীর সাহসী! অথচ তার অন্তরে একটি সরিষা পরিমাণও ঈমান নেই। (বুখারী ৬৪৯৭)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ধর্মীয় জ্ঞানের আকাল ও মূর্খতার ছড়াছড়ি

📄 ধর্মীয় জ্ঞানের আকাল ও মূর্খতার ছড়াছড়ি


ধর্মীয় জ্ঞানের আকাল ও মূর্খতার ছড়াছড়ি কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَفِي رِوَايَةٍ: وَيَثْبُتَ الجَهْلُ، وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَظْهَرَ الزِّنَا وَيَقِلُّ الرِّجَالُ وَيَكْثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةُ الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হয়, মূর্খতা প্রকাশ পায়, অন্য বর্ণনায় রয়েছে, মূর্খতা জেঁকে বসে, মদ পান করা হয়, ব্যভিচার প্রকাশ পায়, পুরুষ কমে যায় এবং মহিলা বেড়ে যায়। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার জন্য এক জন মাত্র পরিচালনাকারী থাকবে। (বুখারী ৮০, ৮১, ৬৮০৮; মুসলিম ২৬৭১)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ ও আবূ মূসা আশ্'আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ لَأَيَّامًا يَنْزِلَ فِيهَا الْجَهْلُ، وَيُرْفَعُ فِيهَا الْعِلْمُ وَيَكْثُرَ فِيهَا الْهَرْجُ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বক্ষণে এমন কিছু দিন আসবে যখন মূর্খতা অবতীর্ণ হবে, ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে এবং হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাবে। (বুখারী ৭০৬২, ৭০৬৩, ৭০৬৪, ৭০৬৬; মুসলিম ২৬৭২)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ، وَيُقْبَضُ الْعِلْمُ، وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ، وَيُلْقَى الشُّحُ، وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ ، قَالُوا: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: الْقَتْلُ.
অর্থাৎ সময় খুবই নিকটবর্তী হবে, ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে, কার্পণ্য নিক্ষিপ্ত হবে এবং হার্জ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হার্জ কি? রাসূল () বললেনঃ হার্জ মানে হত্যাকাণ্ড। (মুসলিম ১৫৭)
এমন হবে না যে, আল্লাহ্ তা'আলা আলিমদের অন্তর থেকে সরাসরি ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নিবেন। বরং তা উঠিয়ে নেয়া হবে আলিমগণের মৃত্যুর মাধ্যমে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আমর বিন্ 'আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤُوْسًا جُهَالًا، فَسُئِلُوا، فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا.
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের অন্তর থেকে সরাসরি ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নিবেন না। বরং তিনি তা উঠিয়ে নিবেন আলিমগণের মৃত্যুর মাধ্যমে। যখন তিনি দুনিয়াতে আর কোন আলিমই রাখবেন না তখন লোকেরা মূর্খদেরকেই নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা ধর্মীয় জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দিবে। তখন তারা নিজেও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে। (বুখারী ১০০)
কারো কারোর ব্যাখ্যা মতে ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়ার মানে এই যে, জ্ঞানী ব্যক্তি যখন বেশি বেশি গুনাহ্ করবে তখন তার জ্ঞান তার অন্তর থেকেই সরাসরি উঠিয়ে নেয়া হবে।
আবার কারো কারোর ব্যাখ্যা মতে ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়ার মানে এই যে, তখন পরিস্থিতি এমন হবে যে, জনসমাজে ধর্মীয় জ্ঞান প্রচারের কোন ধরনের সুযোগ দেয়া হবে না। আর তখন এমনিতেই ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাবে।
আবার কারো কারোর ব্যাখ্যা মতে ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়ার মানে এই যে, মানুষ কুর'আন ও হাদীস অধ্যয়ন করবে ঠিকই। কিন্তু কেউই তদনুরূপ আমল করবে না।
কারো কারোর মতে আলিমগণ ধীরে ধীরে কুর'আন ও হাদীস ভুলে যেতে শুরু করবে। আর এভাবেই ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাবে।
মোটকথা, যেভাবেই হোক না কেন ধর্মীয় জ্ঞান কমতে থাকবে এবং মূর্খতা বাড়তেই থাকবে। পরিশেষে এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ ইসলামের ফরয বিষয়গুলোও জানবে না।
'হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَدْرُسُ الْإِسْلَامُ كَمَا يَدْرُسُ وَشْيُ الثَّوْبِ، حَتَّى لَا يُدْرَى مَا صِيَامُ وَلَا صَلَاةٌ وَلَا نُسُكُ وَلَا صَدَقَةً؟ وَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللهِ فِي لَيْلَةٍ فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ آيَةً، وَتَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ : الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْعَجُوزُ يَقُولُونَ ﴿أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ؛ يَقُولُونَ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَنَحْنُ نَقُوْلُهَا، فَقَالَ لَهُ صِلَةُ : مَا تُغْنِي عَنْهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَهُمْ لَا يَدْرُوْنَ مَا صَلَاةٌ وَلَا صِيَامُ وَلَا نُسُكُ وَلَا صَدَقَةً؟ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَهُ، ثُمَّ رَدَّدَهَا عَلَيْهِ ثَلَاثًا، كُلُّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ حُذَيْفَهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فِي الثَّالِثَةِ، فَقَالَ: يَا صِلَةُ تُنْجِيْهِمْ مِنَ النَّارِ ثَلَاثًا.
অর্থাৎ ইসলাম মুছে যাবে যেমনিভাবে মুছে যায় কাপড়ের ডোরা ডোরা দাগগুলো। পরিশেষে এমন পরিস্থিতি হবে যে, কেউ জানবে না রোযা কি, নামায কি, হজ্জ কি এবং সাদাকা কি? এমন একটি রাত আসবে যখন কুর'আনের একটি আয়াতও আর থাকবে না। তবে এমন কিছু লোক বেঁচে থাকবে যারা হবে বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা। তারা বলবেঃ আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে দেখতাম তারা বলতোঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ তথা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া সত্যিকার কোন মা'বুদ নেই। অতএব আমরাও তাই বলি। বর্ণনাকারী স্কিলাহ্ বিন্ যুফার আব্‌ক্সী তাবি'য়ী 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ তাদের কি ফায়দায় আসবে বলুন তো? অথচ তারা জানে না নামায কি, রোযা কি, হজ্জ কি এবং সাদাকা কি? 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তখন স্কিলাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) কথাটি সর্বমোট তিনবার বলেনঃ প্রত্যেকবারই 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তৃতীয়বার 'হুযাইফাহ্ (রাঃ) তার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ হে স্কিলাহ্! এ কালিমাহ্ তাদেরকে জাহান্নام থেকে রক্ষা করবে। কথাটি তিনি তিনবার বলেন। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ২/১৩৪৪-১৩৪৫ 'হাকিম ৪/৪৭৩)
উক্ত কালিমাহ্ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে এ জন্যই যে, তখন তাদের পক্ষে এর চাইতে আর বেশি কিছু জানা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই তারা এর চাইতে আর বেশি কিছু জানতে অক্ষম হবে বলেই তো রক্ষা পাবে। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা কারোর উপর তার সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপিয়ে দেন না।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'ঊদ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
لَيُنْزَعَنَّ الْقُرْآنُ مِنْ بَيْنِ أَظْهُرِكُمْ، يُسْرَى عَلَيْهِ لَيْلًا، فَيَذْهَبُ مِنْ أَجْوَافِ الرِّجَالِ، فَلَا يَبْقَى فِي الْأَرْضِ مِنْهُ شَيْءٌ.
অর্থাৎ তোমাদের মাঝ থেকে কুর'আন মাজীদ ছিনিয়ে নেয়া হবে। এমন এক রাত্রি আসবে যখন তা মানুষের অন্তর থেকে উঠে যাবে। অতঃপর জমিনে তার কিয়দংশও বাকি থাকবে না। (মাজমা'উয যাওয়ায়িদ ৭/৩২৯-৩৩০ ফাত্হুল্ বারি ১৩/১৬)
এর চাইতেও আরো মারাত্মক পরিস্থিতি হবে এই যে, দুনিয়াতে তখন এমন কোন লোক বেঁচে থাকবে না যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলাকে চিনবে এবং তাঁর নাম উচ্চারণ করবে। আর তখনই কিয়ামত কায়িম হবে।
আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ : اللَّهُ اللهُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যে, আল্লাহ্ তা'আলাকে চিনবে ও তাঁর নাম উচ্চারণ করবে এমন ব্যক্তি বিশ্বের বুকে বেঁচে থাকবে না। (মুসলিম ১৪৮)
যখন আমরা জানতে পারলাম, অচিরেই ধর্মীয় জ্ঞান উঠিয়ে নেয়া হবে। তাই সময় থাকতেই আমাদের প্রত্যেককে ধর্মীয় ব্যাপারে প্রচুর পরিমাণে কুর'আন ও হাদীসের জ্ঞান আহরণ করতে হবে তা উঠিয়ে নেয়ার পূর্বে।
আবৃদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
مَا لِي أَرَى عُلَمَاءَكُمْ يَذْهَبُونَ، وَجُهَّالُكُمْ لَا يَتَعَلَّمُونَ، فَتَعَلَّمُوا قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ، فَإِنَّ رَفْعَ الْعِلْمِ ذَهَابُ الْعُلَمَاءِ.
অর্থাৎ এমন কেন হলো! আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমাদের আলিমগণ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যাচ্ছেন; অথচ তোমাদের মূর্খরা তাদের থেকে জ্ঞান আহরণ করছে না। তোমরা জ্ঞান আহরণ করো তা উঠিয়ে নেয়ার আগে। কারণ, আলিমগণ বিদায় নেয়া মানে ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাওয়া। (দারেমী ১/৬৯ জামি'উ বায়ানিল্ 'ইল্মি ওয়া ফাযলিহী ২০৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00