📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 সার্বিক নিরাপত্তা

📄 সার্বিক নিরাপত্তা


মুসলিম এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা কিয়ামতের আরেকটি আলামত। যা ছিলো এবং আবারো আসবে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ بَيْنَ الْعِرَاقِ وَمَكَّةَ، لَا يَخَافُ إِلَّا ضَلَالَ الطَّرِيقِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না কোন আরোহী ইরাক ও মক্কার মাঝে নির্ভয়ে ভ্রমণ করবে। তার শুধু ভয় থাকবে পথ হারিয়ে যাওয়ার। (আহমাদ ২/৩৭০-৩৭১)
সাহাবাদের যুগে এমনটি ঘটেছিলো। যখন পুরো এলাকায় ইনসাফ বিরাজ করছিলো।
'আদি' বিন্ হা'তিম থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () একদা আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ
يَا عَدِيٌّ هَلْ رَأَيْتَ الْحَيْرَةَ؟ قُلْتُ : لَمْ أَرَهَا، وَقَدْ أُنْبِئْتُ عَنْهَا، قَالَ : فَإِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةً لَتَرَيَنَّ الظَّعِينَةَ تَرْتَحِلُ مِنَ الْحِيرَةِ حَتَّى تَطُوْفَ بِالْكَعْبَةِ لَا تَخَافُ إِلَّا الله.
অর্থাৎ হে 'আদি'! তুমি কি 'হীরায় গিয়েছিলে? আমি বললামঃ যাইনি। তবে 'হীরা এলাকার নাম শুনেছি। তখন রাসূল () আমাকে বললেনঃ হে 'আদি'! তুমি বেঁচে থাকলে অবশ্যই দেখবে যে, একদা জনৈকা মুসাফির মহিলা 'হীরা থেকে রওয়ানা করে মক্কায় পৌঁছে কা'বা ঘর তাওয়াফ করবে; অথচ পথিমধ্যে সে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া আর কাউকেই ভয় পাবে না। (বুখারী ৩৫৯৫)
ইমাম মাহ্দী ও 'ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) এর যুগে পুরো বিশ্বে যখন আবারো ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে তখন আবারো সমাজের প্রতিটি স্তরে পূর্ণ নিরাপত্তা বিরাজ করবে।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 ‘হিজাযের আগুন

📄 ‘হিজাযের আগুন


'হিজাযের আগুন কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَخْرُجَ نَارٌ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ، تُضِيءُ أَعْنَاقَ الْإِبِلِ بِبُصْرَى.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না হিজায ভূখণ্ড (মক্কা-মদীনা) থেকে আগুন বের হয়। যে আগুনের আলোয় বুস্বরা এলাকার উটের গলা নযরে পড়বে। (বুখারী ৭১১৮; মুসলিম ২৯০২)
হিজরী ছয় শত চুয়ান্ন শতাব্দীর পাঁচই জুমাদাস্ সানী রোজ জুমাবার মদীনার পূর্ব দিকের হারাহ্ এর পেছনে এ আগুন দেখা যায়। যা ছিলো খুবই ভয়াবহ। অন্তত চার-পাঁচ মাইল ব্যাপী। পাথরগুলো সীসার মতো গলে গিয়ে কালো রং ধারণ করছিলো। উক্ত আগুনের আলোতে তখনকার লোকেরা তাইমা' এলাকা পর্যন্ত চলা-ফেরা করছিলো। যা ছিলো দীর্ঘ এক মাস ব্যাপী। (নিহায়াহ/আল্ফিতানু ওয়াল্ল্ফালাহিম ১/২৬-২৭)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আমাদের যুগেই হিজরী ছয় শত চুয়ান্ন শতাব্দীতে মদীনার পূর্ব দিকের হারাহ্ এর পেছনে এ আগুন দেখা যায়। সে আগুন ছিলো খুবই ভয়াবহ। সিরিয়া ও তার আশপাশের লোকেরা এবং মদীনাবাসীরা তা অবলোকন করেছে। (শর্'হুন্ নাওয়াওয়ী ১৮/২৮)
ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ বুস্বরা এলাকার একাধিক গ্রাম্য ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিয়েছে যে, তারা 'হিজাযের আগুনের আলোয় বুস্বরা এলাকার উটের গলা দেখতে পেয়েছে। (নিহায়াহ/আল্ফিতানু ওয়াল্ল্ফালাহিম ১/১৪)
ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ উক্ত আগুন মক্কা ও বুস্বরা এলাকার পাহাড়গুলোর উপর থেকে দেখা গিয়েছে। (তাক্বিরাহ্ পৃষ্ঠা ৬৩৬)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 তুরষ্কিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ

📄 তুরষ্কিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ


মুসলমানদের সাথে তুরকিস্তানীদের যুদ্ধ কিয়ামতের আরেকটি আলামত।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ التَّرْكَ، قَوْمًا وُجُوهُهُمْ كَالْمَجَانِ الْمُطْرَقَةِ، يَلْبَسُونَ الشَّعْرَ، وَيَمْشُونَ فِي الشَّعْرِ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মুসলমানরা তুরকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করবে। তাদের চেহারা হবে চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায় তথা চওড়া ও ঝুলে পড়া গণ্ডদেশ বিশিষ্ট। তারা পশমের কাপড় ও জুতো পরিধান করবে। (মুসলিম ২৯১২)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا التَّرْكَ صِغَارَ الْأَعْيُنِ، حُمْرَ الْوُجُوْهِ، ذُلْفَ الْأُنُوفِ، كَأَنَّ وُجُوْهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطَرَّقَةُ، وَلَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা তুরকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করবে। তাদের চোখ হবে ছোট। চেহারা হবে লাল। নাক হবে ছোট ও চেপটা। তাদের চেহারা যেন চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায় তথা চওড়া ও ঝুলে পড়া গণ্ডদেশ বিশিষ্ট। কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির সাথে যুদ্ধ করবে। যাদের জুতো হবে পশমের। (বুখারী ২৯২৮, ২৯২৯; মুসলিম ২৯১২)
'আমর বিন্ তালিব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا يَنْتَعِلُوْنَ نِعَالَ الشَّعْرِ، وَإِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا عِرَاضَ الْوُجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ.
অর্থাৎ কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্য থেকে এটিও একটি যে, তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে যারা পশমের জুতো পরিধান করবে। কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্য থেকে এটিও আরেকটি যে, তোমরা এমন এক জাতির সঙ্গে যুদ্ধ করবে যাদের চেহারা হবে চওড়া যেন চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায়। (বুখারী ২৯২৭)
সাহাবাদের যুগেই মুসলমানরা তুরকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করেছে। তখন ছিলো বনু উমাইয়াহ্ তথা মু'আবিয়া এর খিলাফতকাল।
মু'আবিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি একদা মু'আবিয়া বিন্ আবূ সুফ্ইয়ান (স) এর নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁর জনৈক গভর্নরের কাছ থেকে এ মর্মে একটি চিঠি এসেছে যে, তিনি তুরকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে পরাজিত করেছেন। তাদের অনেককে হত্যা করেছেন এবং প্রচুর যুদ্ধলব্ধ মালও আহরণ করেছেন। তা পড়ে মু'আবিয়া খুবই রাগান্বিত হন এবং তাঁর নিকট এ মর্মে লিখতে আদেশ করেন যে, আমি তোমার কথায় বুঝতে পেরেছি যে, তুমি অনেককে হত্যা করেছো এবং প্রচুর যুদ্ধলব্ধ মাল সংগ্রহ করেছো। আমি যেন আর না শুনি যে, তুমি তাদের সাথে যুদ্ধে মেতে উঠেছো যতক্ষণ না আমার আদেশ আসবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ কেন হে আমীরুল মু'মিনীন! তিনি বললেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ
لَتَظْهَرَنَّ التَّرْكُ عَلَى الْعَرَبِ حَتَّى تُلْحِقَهَا بِمَنَابِتِ الشَّيْحِ وَالْقَيْصُوْمِ.
অর্থাৎ তুরকিস্তানীরা অবশ্যই আরবদের উপর জয়ী হবে। এমনকি তারা আরবদেরকে তাড়াতে তাড়াতে শী'হ্ ও ক্বাইস্থম নামক সুগন্ধময় উদ্ভিদ এলাকায় পৌঁছে দিবে। (ফাত্হুল বারী ৬/৬০৯)
বুরাইদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমি একদা রাসূল (ﷺ) এর নিকট বসা ছিলাম। তখন রাসূল (ﷺ) বলছিলেনঃ
إِنَّ أُمَّتِي يَسُوقُهَا قَوْمٌ عِرَاضُ الْأَوْجُهِ، صِغَارُ الْأَعْيُنِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْحَجَفُ - ثَلَاثَ مَرَّاتٍ - حَتَّى يُلْحِقُوهُمْ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ، أَمَّا السَّابِقَةُ الْأُولَى، فَيَنْجُو مَنْ هَرَبَ مِنْهُمْ، وَأَمَّا الثَّانِيَةُ، فَيَهْلِكُ بَعْضُ وَيَنْجُوْ بَعْضُ، وَأَمَّا الثَّالِثَةُ، فَيَصْطَلِمُوْنَ كُلُّهُمْ مَنْ بَقِيَ مِنْهُمْ، قَالُوا : يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَنْ هُمْ؟ قَالَ: هُمُ التَّرْكُ، قَالَ: أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَرْبِطُنَّ خُيُولَهُمْ إِلَى سَوَارِي مَسَاجِدِ الْمُسْلِمِينَ.
অর্থাৎ আমার উম্মতদেরকে তাড়িয়ে বেড়াবে এমন এক জাতি যাদের চেহারা হবে প্রশস্ত। নাক হবে ছোট। যেন তাদের চেহারা ঢালের ন্যায়। রাসূল (ﷺ) উক্ত কথাটি তিন বার বলেছেন। এমনকি তারা আমার উম্মতদেরকে তাড়াতে তাড়াতে আরব উপদ্বীপে পৌঁছিয়ে দিবে। প্রথম দলটির কেউ কেউ পালিয়ে বাঁচবে। আর দ্বিতীয় দলটির কেউ মরবে আবার কেউ বাঁচবে। তৃতীয় দলটিকে কচু কাটা তথা একেবারেই নিঃশেষ করে দেয়া হবে। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্'র নবী! তারা কারা? তিনি বললেনঃ তারা তুরকিস্তানী। তিনি আরো বলেনঃ সে সত্তার কসম খেয়ে বলছি যাঁর হাতে আমার জীবন! তারা তাদের ঘোড়াগুলো বেঁধে রাখবে মুসলমানদের মসজিদের খুঁটির সাথে। (আহমদ ৫/৩৪৮-৩৪৯)
এ হাদীসটি শুনে বুরাইদাহ্ (রাঃ) তাঁর সাথে সর্বদা দু' তিনটি উট, সফরের সামান ও প্রয়োজনীয় পানপাত্র প্রস্তুত রাখতেন। যাতে তাদের খপ্পর থেকে সহজে পালানো যায়।
ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ তাদের মাঝে ও মুসলমানদের মাঝে একটি দেয়াল ছিলো। তবে তা পরবর্তীতে একটু একটু করে খুলে দেয়া হয় এবং তাদের অনেককেই বন্দী করা হয়। তাদের ব্যাপারে কিছু মুসলিম রাষ্ট্রপতি অতি উৎসাহী হয়ে পড়ে। কারণ, তারা ছিলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও অতি সাহসী। এমনকি মু'তাসিম বিল্লাহ্'র অধিকাংশ সেনা সদস্য তারাই ছিলো। অতঃপর তারাই তাঁর রাষ্ট্রের উপর হস্তক্ষেপ করে তাঁর ছেলে মুতাওয়াক্কিল এবং আরো অন্যান্যদেরকে হত্যা করে।
এ দিকে সামানী রাষ্ট্রপতিরাও ছিলো তুরকিস্তানী। একদা মিসর, শাম এবং হিজাজও ছিলো তাদের কর্তৃত্বাধীন। তেমনিভাবে তাতারীরাও ছিলো তুরকিস্তানী। কারণ, তুরকিস্তানীদের সকল বৈশিষ্ট্যই তাদের মধ্যে পাওয়া যায়। চেঙ্গিজ খান ছিলো তাদের প্রধান এবং তাদের মধ্যে সর্বশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলো তাইমুর লঙ্ক। এক সুদীর্ঘ সময় পুরো প্রাচ্যেই চলছিলো তাদের তাণ্ডবলীলা। তারা বাগদাদে ঢুকে খলীফা মুস্তা'স্বিমকে হত্যা করে এবং শহরটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়।
তবে তুরকিস্তানীদের অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁদের হাতেই ইসলাম ও মুসলমানদের বহু কল্যাণ সাধিত হয়। তাঁরা একটি শক্তিশালী ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করেন। তাতে করে ইসলামের প্রভাব বহুলাংশেই বৃদ্ধি পায়। তাঁরা অনেকগুলো কাফির এলাকা বিজয় করেন। তার মধ্যে রোমের রাজধানী ছিলো অন্যতম।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 অনারবদের সাথে যুদ্ধ

📄 অনারবদের সাথে যুদ্ধ


অনারবদের সাথে যুদ্ধ কিয়ামতের আরেকটি আলামত। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خُوْزًا وَكَرْمَانَ مِنَ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فطْسَ الْأُنْوْفِ، صِغَارَ الْأَعْيُنِ، وُجُوهُهُمُ الْمَجَانُ الْمُطْرَقَةُ، نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ.
অর্থাৎ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা খুজিস্তানী ও কিরমানীদের সাথে যুদ্ধ করবে। যারা অনারব। তাদের চেহারা হবে লাল। নাক হবে ছোট ও চেপটা। চোখ হবে ছোট। তাদের চেহারা যেন চামড়া মোড়ানো ঢালের ন্যায় তথা চৌড়া ও ঝুলে পড়া গণ্ডদেশ বিশিষ্ট এবং যাদের জুতো হবে পশমের। (বুখারী ৩৫৯০)
এরা তুরকিস্তানী নয় ঠিকই। তবে এদের বৈশিষ্ট্যের সাথে তুরকিস্তানীদের বৈশিষ্ট্যের খুব একটা মিল রয়েছে। তবে এ কথা নিশ্চিত যে, এরা সবাই অনারব এবং এ অনারবদের সাথেই হবে মুসলমানদের বিপুল সংখ্যক যুদ্ধ-বিগ্রহ।
সামুরাহ্ (ﷴ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
يُوشِكُ أَنْ يَمْلَأَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَيْدِيَكُمْ مِنَ الْعَجَمِ، ثُمَّ يَكُونُونَ أُسْدًا لاَ يَفِرُّوْنَ، فَيَقْتُلُونَ مُقَاتِلَتَكُمْ، وَيَأْكُلُونَ فَيْتَكُمْ.
অর্থাৎ অচিরেই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের মধ্যে তথা মুসলমানদের মধ্যে অনারবদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন। তারা হবে সিংহের মতো অতি সাহসী। যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে তারা কখনোই পিছপা হবে না। তারা তোমাদের যুদ্ধবাজ সৈন্যদেরকে হত্যা করবে এবং পেছনে ফেলে আসা ধন-সম্পদ খাবে। (আহমাদ ৫/১১ মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/৩১০)
আবূ হুরাইরাহ্ (ﷳ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
يُوشِكُ أَنْ يَكْثُرَ فِيكُمْ مِنَ الْعَجَمِ أُسْدُ لَا يَفِرُّوْنَ، فَيَقْتُلُوْنَ مُقَاتِلَتَكُمْ، وَيَأْكُلُونَ فَيْتَكُمْ.
অর্থাৎ অচিরেই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের মধ্যে তথা মুসলমানদের মধ্যে অনারবদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিবেন। তারা হবে সিংহের মতো অতি সাহসী। যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে তারা কখনোই পিছপা হবে না। তারা তোমাদের যুদ্ধবাজ সৈন্যদেরকে হত্যা করবে এবং পেছনে ফেলে আসা ধন-সম্পদ খাবে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/৩১১)
কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসদ্বয় দুর্বল। তবে ইমাম হাইসামী হাদীসদ্বয়কে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00