📄 সিফ্ফীনর যুদ্ধ
উষ্ট্র যুদ্ধ ছাড়া সাহাবাদের মধ্যে আর যে যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছে তা হচ্ছে স্বিফ্ফীন যুদ্ধ। এ যুদ্ধের প্রতিও রাসূল (ﷺ) তা সংঘটিত হওয়ার বহু পূর্বেই সাহাবাদেরকে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلُ فِئَتَانَ عَظِيمَتَانِ، يَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ دَعْوَاهُمَا وَاحِدَةً.
অর্থাৎ কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না দু'টি বড় দল পরস্পর যুদ্ধ করবে। যুদ্ধটি হবে খুবই ভয়াবহ এবং তাদের দাবিও হবে একই। (বুখারী ৩৬০৮, ৩৬০৯, ৬৯৩৫, ৭১২১; মুসলিম ১৫৭)
তবে উভয় দলের মধ্যে 'আলী-এর দলটিই ছিলো সত্যের উপর।
যায়েদ বিন্ ওয়াহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আমরা 'হুযাইফাহ্-এর নিকট অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি আমাদেরকে বললেনঃ তোমাদের কি অবস্থা হবে?!; অথচ তোমরা একে অপরকে হত্যা করছো। তখন উপস্থিত সবাই বললোঃ তা হলে আপনি আমাদেরকে এ মুহূর্তে কি করতে বলছেন? তিনি বললেনঃ
انْظُرُوا الْفِرْقَةَ الَّتِي تَدْعُو إِلَى أَمْرٍ عَلِي، فَالْزَمُوْهَا، فَإِنَّهَا عَلَى الْحَقِّ.
অর্থাৎ তোমরা 'আলী-এর পক্ষকে সমর্থন করবে এবং তাদের সাথেই সর্বদা থাকবে। কারণ, তারাই সত্যের উপর। (ফাতহুল বা'রি ১৩/৮৫)
পরিশেষে হিজরী ছত্রিশ সনের জিলহজ্জ মাসে 'আলী ও মু'আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর উভয় পক্ষের মাঝে 'ইরাকের সীমান্তবর্তী এলাকা রিক্বার পার্শ্ববর্তী ফুরাত নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত সিফফীন নামক এলাকায় এক মহা যুদ্ধ বেধে যায়। তাতে একে অপরের উপর সর্বমোট সত্তরটি আক্রমণ করে। যাতে প্রাণ হারায় প্রায় সত্তর হাজার মানুষ।
'আলী ও মু'আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কখনো এ যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন না। তবে প্রত্যেক পক্ষেই ছিলো কিছু প্রবৃত্তিপূজারী মানুষ। যেমনঃ আন্তার নাখা'য়ী, হাশিম বিন্ 'উদ্বাহ্ আল-মিরক্কাল, আব্দুর রহমান বিন্ খালিদ বিন্ ওলীদ, আবূ ল-আ'ওয়ার আস-সুলামী প্রমুখ। তারা অন্যদেরকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতো। তাদের কেউ ছিলো 'উসমান ও মু'আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর অতি ভক্ত তথা 'উসমান এর হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণকারী। তারা 'আলী কে এতটুকুও সহ্য করতে পারতো না। আবার কেউ ছিলো 'আলী এর অতি ভক্ত। তারা মু'আবিয়া কে এতটুকুও সহ্য করতে পারতো না। এভাবেই পরস্পরের মাঝে যুদ্ধ বেধে যায় এবং তারা 'আলী ও মু'আবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
যুদ্ধটি নিয়মতান্ত্রিক ছিলো না। বরং তা ছিলো জাহিলী যুদ্ধের ন্যায়। এতে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো এলোমেলো। চিন্তা-চেতনা ছিলো বিভিন্ন ধরনের। এ জন্যই ইমাম যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ফিতনা শুরু হয়েছে। তখনো সাহাবাদের অনেকেই জীবিত। তাঁরা এ ব্যাপারে একমত ছিলেন যে, কুর'আনের অপব্যাখ্যা করে যত রক্তই প্রবাহিত হয়েছে, যত সম্পদই লুট-পাট হয়েছে এবং যত ইয্যতই লুণ্ঠিত হয়েছে তা সবই অযথা। এর কোন বিচার নেই। তা জাহিলী যুগের বিশৃঙ্খলার ন্যায়।
📄 খারিজীদের আবির্ভাব
ফিতনাগুলোর মধ্যে আরেকটি ভয়াবহ ফিতনা হচ্ছে খারিজীদের ফিতনা। স্বিস্ফীন যুদ্ধ শেষে যখন উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত বিশিষ্ট দু' সাহাবী তথা আবু মূসা আশ্'আরী ও 'আমর বিন্ 'আস্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বিচার মেনে নেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখনই কুফায় ফিরার পথে 'আলী এর দল থেকে কিছু সংখ্যক লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অতঃপর তারা কুফা থেকে দু' মাইল দূরে 'হারূরা' নামক এলাকায় অবস্থান নেয়। তাদের সংখ্যা ছিলো মতান্তরে আট বা ষোল হাজার। 'আলী তাদেরকে সাধ্যমত বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আবারো সুপথে ফিরিয়ে আনার জন্য আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কে তাদের নিকট পাঠান। তিনি তাদেরকে ভালোভাবে বুঝালে তাদের অনেকেই সুপথে ফিরে আসে। আর বাকিরা উক্ত ভুল পথেই থেকে যায়।
খারিজীরা 'আলী সম্পর্কে এ কথা অপপ্রচার করে যে, তিনি খিলাফত ছেড়ে দিয়েছেন। তখন তাদের কেউ কেউ তাঁর আনুগত্যে ফিরে আসে। অতঃপর 'আলী কুফার মসজিদে তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তখন মসজিদের আনাচে-কানাচে থেকে এ চিৎকার প্রতিধ্বনিত হয় যে, একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার বিধান ছাড়া অন্য কোন বিধান মানি না, মানবো না এবং তারা 'আলী কে উদ্দেশ্য করে বলেঃ আপনি আল্লাহ্ তা'আলার সাথে বিচারে অন্যকে অংশীদার স্থাপন করেছেন। আপনি মানুষের বিচার মেনে নিয়েছেন। আপনি কুর'আনের বিচার মানেন না।
তখন 'আলী কোন উপায়ান্তর না পেয়ে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আজ থেকে তোমাদের সাথে আমাদের আচরণ এই হবে যে, আমরা তোমাদেরকে কখনো মসজিদে আসা থেকে বারণ করবো না, ফাই তথা যুদ্ধ ছাড়া লব্ধ সমূহ সম্পদ থেকে তোমাদেরকে বঞ্চিত করবো না এবং তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করবো না যতক্ষণ না তোমরা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করো।
অতঃপর তারা সবাই এক জায়গায় একত্রিত হয়। তাদের পাশ দিয়ে যেই যায় তাকে তারা হত্যা করে। একদা তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ্ বিন্ খাব্বাব বিন্ আরাত। তাঁর সাথে ছিলো তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী। তারা তাঁকে হত্যা করেছে এবং তাঁর স্ত্রীর পেট কেটে সন্তানটি বের করে ফেলেছে। ঘটনাটি জানতে পেরে 'আলী তোদেরকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের মধ্য থেকে কে আব্দুল্লাহকে হত্যা করেছে? তারা বললোঃ আমরা সবাই আব্দুল্লাহকে হত্যা করেছি। তখন 'আলী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেন এবং নাহ্রাওয়ান নামক এলাকায় তাদের সাথে ভীষণ যুদ্ধ করে তাদেরকে পরাজিত করেন। সামান্য লোক ছাড়া কেউই তাঁর হাত থেকে রক্ষা পেলো না।
রাসূল() খারিজীদের ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। যা মুতাওয়াতির বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে। ইমাম ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাব আল-বিদায়াহ্ ওয়ান-নিহায়াতে এ সংক্রান্ত তিরিশেরও বেশি হাদীস উল্লেখ করেন। তার মধ্য থেকে কয়েকটি হাদীস নিম্নে বর্ণিত হলোঃ
আবূ সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
تَمْرُقُ مَارِقَةُ عِنْدَ فُرْقَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَقْتُلُهَا أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ.
অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব দেখা দিলে কিছু সংখ্যক লোক তাদের দল থেকে বের হয়ে যাবে। তাদেরকে হত্যা করবে সত্যের নিকটবর্তী দলটিই। (মুসলিম ১০৬৫)
একদা আবূ সা'ঈদ খুদ্রী কে 'হারূরী তথা খারিজীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আমি 'হারূরীদেরকে চিনি না। তবে আমি একদা রাসূল () কে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ
يَخْرُجُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ قَوْمٌ تَحْقِرُوْنَ صَلَاتَكُمْ مَعَ صَلَاتِهِمْ، يَقْرَؤُوْنَ الْقُرْآنَ، لَا يُجَاوِزُ حُلُوْقَهُمْ أَوْ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ.
অর্থাৎ এ উম্মতের মধ্যেই এমন এক দল লোক জন্ম নিবে যাদের নামাযের পাশে তোমাদের নামায কিছুই মনে হবে না। তারা কুর'আন পড়বে; অথচ তা তাদের গলা অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে যেমনিভাবে বের হয়ে যায় ধনুক থেকে তীর। (বুখারী ৬৯৩১; মুসলিম ১০৬৪)
রাসূল () তাদেরকে হত্যা করতে বলেছেন এবং তাদেরকে হত্যা করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। এতে করে তাদের ব্যাপারটি যে কতো ভয়ঙ্কর তা অনুধাবন করা যায়।
'আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল() ইরশাদ করেনঃ
سَيَخْرُجُ قَوْمُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ، أَحْدَاثُ الْأَسْنَانِ، سُفَهَاءُ الْأَحْلَامِ، يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ، لَا يُجَاوِزُ إِيْمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهُمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ فِي قَتْلِهِمْ أَجْرًا لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
অর্থাৎ অচিরেই শেষ যুগে এমন এক জাতি জন্ম নিবে। যারা হবে বয়সে ছোট এবং বিবেক-বুদ্ধিহীন। ভালো মানুষের ন্যায় তারা সুন্দর সুন্দর কথা বলবে। তবে তাদের ঈমান গলা অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে যেমনিভাবে বের হয়ে যায় ধনুক থেকে তীর। তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাও না কেন হত্যা করবে। কারণ, তাদেরকে হত্যা করলে কিয়ামতের দিন হত্যাকারীর জন্য বিরাট সাওয়াব রয়েছে। (বুখারী ৬৯৩০; মুসলিম ১০৬৬)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) খারিজীদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার সর্ব নিকৃষ্ট সৃষ্টি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেনঃ
انْطَلَقُوا إِلَى آيَاتٍ نَزَلَتْ فِي الْكُفَّارِ فَجَعَلُوهَا عَلَى الْمُؤْمِنِينَ.
অর্থাৎ তারা এমন কিছু আয়াত যা কাফিরদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে তা মুসলমানদের ব্যাপারেই প্রয়োগ করে। (বুখারী, খারিজীদের হত্যা অধ্যায়)
ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) খারিজীদের ব্যাপারে বলেনঃ তাদের উপর কঠিন বিপদ নেমে এসেছে। তারা বাতিল আক্বীদায় বাড়াবাড়ি করেছে। তাইতো তারা বিবাহিত ব্যভিচারীর দণ্ডবিধি তথা রজম বাতিল ঘোষণা করেছে। চোরের হাত বগল পর্যন্ত কেটেছে। ঋতুবতী মহিলার উপর নামায পড়া ফরয করেছে। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেনি তাকে কাফির এবং যে ব্যক্তি অক্ষমতার কারণে তা করেনি তাকে কবীরা গুনাহগার বলেছে; অথচ তাদের নিকট কবীরা গুনাহগারও কাফির। তারা কাফিরদের পেছনে না পড়ে মুসলমানদের পেছনেই পড়েছে। তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করেছে এবং তাদের ধন-সম্পদ লুটে নিয়েছে।
প্রত্যেক যুগেই খারিজীদের আবির্ভাব ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও তা ঘটবে যতক্ষণ না দাজ্জাল বেরিয়ে আসে।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
يَنْشَأُ نَشَءُ يَقْرَؤُوْنَ الْقُرْآنَ، لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، كُلَّمَا خَرَجَ قَرْنُ قُطِعَ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ - رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا - : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: كُلَّمَا خَرَجَ قَرْنُ قُطِعَ أَكْثَرَ مِنْ عِشْرِينَ مَرَّةً حَتَّى يَخْرُجَ فِي عِرَاضِهِمُ الدَّجَّالُ.
অর্থাৎ অচিরেই এমন এক নতুন প্রজন্ম আসবে যারা কুর'আন পড়বে ঠিকই কিন্তু তা তাদের গলা অতিক্রম করবে না। যখনই তারা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠবে তখনই তা কেটে ফেলা হবে। আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেনঃ যখনই তারা মাথা ছাড়া দিয়ে উঠবে তখনই তা কেটে ফেলা হবে। এমনিভাবে রাসূল (ﷺ) কথাটি বিশ বারেরও বেশি বলেছেন। এমনকি তাদের পেছনেই বেরিয়ে আসবে দাজ্জাল। (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ১৭৪ স'হীহুল্ জামি', হাদীস ৮০২৭)
📄 ‘হাররাহ্ যুদ্ধ
ফিতনাসমূহের মধ্য থেকে আরেকটি ফিতনা হচ্ছে হারাহ্ যুদ্ধ। এখানে 'হাররাহ্ বলতে কালো পাথর বিশিষ্ট মদীনার পূর্বাঞ্চলকেই বুঝানো হয়েছে। যুদ্ধটি মদীনাবাসী ও ইয়াযীদের সৈন্য দলের মাঝে সংঘটিত হয়। মদীনাবাসীরা ইয়াযীদের বায়'আত প্রত্যাখ্যান করলে তাদেরকে শায়েস্তা করার জন্য ইয়াযীদ মুসলিম বিন্ 'উকুবাহ্'র নেতৃত্বে একটি সেনা দল পাঠায়। সেনা দলটি মদীনার চিরাচরিত সম্মান রক্ষা করেনি। বরং তারা সেখানে সশস্ত্র অবস্থায় ঢুকে পড়ে নির্দ্বিধায় ও নির্লজ্জভাবে মদীনাবাসীদের মাঝে হত্যাকাণ্ড চালায়। তাতে সাত শত আন্সার ও মুহাজির সাহাবা সহ আরো দশ হাজার জনসাধারণকে হত্যা করা হয়। সা'ঈদ বিন্ মুসায়্যিব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
تَارَتِ الْفِتْنَةُ الْأُولَى فَلَمْ يَبْقَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا أَحَدُ، ثُمَّ كَانَتِ الثَّانِيَةُ فَلَمْ يَبْقَ مِمَّنْ شَهِدَ الْحُدَيْبِيَّةَ أَحَدُ، قَالَ: وَأَظُنُّ لَوْ كَانَتِ الثَّالِثَةُ لَمْ تَرْتَفِعُ وَفِي النَّاسِ طِبَاخُ.
অর্থাৎ প্রথম ফিতনা তথা 'উসমান হত্যা শুরু হলে বদ্রী সাহাবাদের আর কেউ বেঁচে থাকলো না। তেমনিভাবে দ্বিতীয় ফিতনা তথা 'হার্রাহ্ যুদ্ধ শুরু হলে 'হুদাইবিয়্যাহ্ যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী আর কেউ বেঁচে থাকলো না। তিনি বলেনঃ আমার ধারণা, তৃতীয় আরেকটি ফিতনা শুরু হলে বুদ্ধিমান আর কেউ বেঁচে থাকবে না। (শর্'হুস্ সুন্নাহ্: ১৪/৩৯৬)
📄 বায়তুল্লাহর কুর’আন ফিতনা
আব্বাসী খিলাফতামলে "খাক্কুল কুর'আন" তথা "কুর'আন মাজীদ আল্লাহ্ তা'আলার সৃষ্টি” নামক একটি ফিতনা চালু হয়। উক্ত মতবাদের নেতৃত্ব ও সহযোগিতা করেন আব্বাসী খলীফা মামুন। জাহ্মী ও মু'তাযিলীরা মুসলিম সমাজে উক্ত ফিতনার প্রচার ও প্রসার ঘটায়। যার দরুন বহু 'উলামায়ে কেরাম শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন। মুসলিম সমাজের উপর তখন বড় একটা বিপদ নেমে এসেছে। এ ব্যাপারটি মুসলিম সমাজকে দীর্ঘ দিন ব্যস্ত করে রেখেছে।