📄 আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর মৃত্যু বরণ
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর মৃত্যু বরণও কিয়ামতের একটি ছোট নিদর্শন। 'আউফ্ বিন্ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
أعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ : مَوْتِي، ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، ثُمَّ مُوْتَانُ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الْغَنَمِ، ثُمَّ اسْتِفَاضَةُ الْمَالِ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِئَةَ دِينَارٍ فَيَظُلُّ سَاخِطًا، ثُمَّ فِتْنَةٌ لَا يَبْقَى بَيْتُ مِنَ الْعَرَبِ إِلَّا دَخَلَتْهُ، ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الْأَصْفَرِ فَيَغْدِرُونَ، فَيَأْتُوْنَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةٍ، تحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا.
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি বিষয় গুনে রাখো যা অবশ্যই ঘটবে। আমার মৃত্যু অতঃপর বাইতুল মাকদিসের বিজয়। অতঃপর তোমাদের মাঝে বিপুল হারে মৃত্যু বরণ ছাগলের "কু'আস্ব” রোগের ন্যায় দেখা দিবে। যা দেখা দিলে ছাগলের নাক দিয়ে কিছু একটা বের হয়ে ছাগলটি হঠাৎ মরে যায়। অতঃপর মানুষের মাঝে ধন-সম্পদের অত্যাধিক্য দেখা দিবে। এমনকি কাউকে একশ'টি দীনার সাদাকা দিলেও সে খুশি হবে না। অতঃপর এমন ফিতনা যা আরবদের প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর তোমাদের মাঝে ও রোমানদের মাঝে একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে। কিন্তু তারা উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে আশিটি ঝাণ্ডার অধীনে যুদ্ধ করবে। প্রত্যেক ঝাণ্ডার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য। (বুখারী ৩১৭৬)
📄 বাইতুল মাক্বদিসের বিজয়
বাইতুল মাকদিসের বিজয় কিয়ামতের আরেকটি নিদর্শন। যা পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। 'উমর (রাঃ) এর যুগে তথা ষোল হিজরী সনে বাইতুল মাকদিসের মহা বিজয় সাধিত হয়। তখন হযরত 'উমার (রাঃ) নিজেই সেখানে গিয়েছেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাথে চুক্তি করেছেন। তিনি উক্ত পবিত্র ভূমিকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কজামুক্ত করেন। এমনকি সেখানে বাইতুল্ মাক্বদিসের কিবলামুখে একটি মসজিদও তৈরি করেন।
📄 ‘আমওয়াস মহামারী
'আমওয়াস অঞ্চলের ভয়াবহ মহামারী কিয়ামতের আরেকটি নিদর্শন। যা পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। 'আমওয়াস অঞ্চলটি ফিলিস্তিনের একটি শহর যা রামাল্লাহ্ শহর থেকে ছয় মাইল দূরে বাইতুল মাকদিসের পথেই অবস্থিত। 'উমার (রাঃ) এর যুগে তথা আঠারো হিজরী সনে সেখানে ভয়াবহ এক মহামারী দেখা দেয়। পরে তা আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহাসিকদের মতে সে মহামারীতে ২৫ হাজার মুসলমান মৃত্যু বরণ করে। তাতে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবী আবূ 'উবাইদাহ্ 'আমির বিন্ জারাহ্ মৃত্যু বরণ করেন।
📄 ধন-সম্পদের অত্যাধিক্য
ধন-সম্পদের অত্যাধিক্য কিয়ামতের আরেকটি নিদর্শন। যা পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ، فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ، وَحَتَّى يَعْرِضَهُ فَيَقُوْلَ الَّذِي يَعْرِضُهُ عَلَيْهِ لَا أَرَبَ لِي.
অর্থাৎ কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না তোমাদের সম্পদ বেড়ে যায়। এমনভাবে বেড়ে যাবে যে, সম্পদই সম্পদশালীর মাথা ব্যথার কারণ হবে। সে সাদাকাহ্ গ্রহণকারীর খোঁজে বের হবে। এমনকি যাকেই সে সাদাকAH্ দিতে চাবে সে বলবেঃ এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী ১৪১২; মুসলিম ১৭৫)
আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَطُوفُ الرَّجُلُ فِيهِ بِالصَّدَقَةِ مِنَ الذَّهَبِ ثُمَّ لَا يَجِدُ أَحَدًا يَأْخُذُهَا مِنْهُ.
অর্থাৎ মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে যখন সে স্বর্ণের সাদাকা নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে; অথচ তা নেয়ার জন্য সে কাউকে খুঁজে পাবে না। (মুসলিম ১০১২)
'আদি' বিন্ হা'তিম থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী () এর নিকট অবস্থান করছিলাম এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে দারিদ্রের অভিযোগ করছিলো আর অন্য জন করছিলো ডাকাতির অভিযোগ। তখন রাসূল () আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে 'আদি'! তুমি কি 'হীরায় গিয়েছিলে? আমি বললামঃ যাইনি। তবে 'হীরা এলাকার নাম শুনেছি। তখন রাসূল () আমাকে বললেনঃ হে 'আদি'! তুমি বেঁচে থাকলে অবশ্যই দেখবে যে, একদা জনৈকা মুসাফির মহিলা 'হীরা থেকে রওয়ানা করে মক্কায় পৌঁছে কা'বা ঘর তাওয়াফ করবে; অথচ পথিমধ্যে সে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া আর কাউকেই ভয় পাবে না। হযরত 'আদি' বলেনঃ তখন আমি মনে মনে ভাবছিলাম, আরে! ত্বায় গোত্রের ডাকাতরা তখন কোথায় থাকবে?! যারা অত্র অঞ্চলটিকে সর্বদা উত্তপ্ত করে রাখছিলো। রাসূল () আরো বলেনঃ হে 'আদি'! তুমি বেঁচে থাকলে অবশ্যই দেখবে যে, একদা কিস্সা তথা পারস্য সম্রাটের ধনভাণ্ডার তোমাদের করায়ত্তে আসবে। তখন আমি বলছিলামঃ হুরমুযের ছেলে কিস্সা?! তিনি বললেনঃ অবশ্যই। রাসূল () আরো বলেনঃ
لَئِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ لَتَرَيَنَّ الرَّجُلَ يُخْرِجُ مِلْءَ كَفِّهِ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ يَطْلُبُ مَنْ يَقْبَلُهُ مِنْهُ فَلَا يَجِدُ أَحَدًا يَقْبَلُهُ مِنْهُ.
অর্থাৎ (হে 'আদি'!) তুমি বেঁচে থাকলে অবশ্যই দেখবে যে, একদা জনৈক ব্যক্তি এক করতলভর্তি সোনা বা রুপার সাদাকা নিয়ে তা গ্রহণ করার জন্য লোক খুঁজবে; অথচ সে এমন কাউকে পাবে না। (বুখারী ৩৫৯৫)
ঐতিহাসিকদের মতে 'উমার বিন্, 'আব্দুল আযীযের যুগে এমনটি ঘটেছিলো। তখন সাদাকা নেয়ার কেউ ছিলো না। 'ঈসা ও মাহ্দী (আলাইহিমাস্ সালাম) এর যুগে আবারো ধনাধিক্য দেখা দিবে। তখনো সাদাকা নেয়ার জন্য কেউ থাকবে না। জমিন তখন তার সমস্ত ধন-ভাণ্ডার উগলে দিবে।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল ইরশাদ করেনঃ
تَقِيءُ الْأَرْضُ أَفْلَاذَ كَبِدِهَا، أَمْثَالَ الْأَسْطُوَانِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، فَيَجِيءُ الْقَاتِلُ فَيَقُولُ : فِي هَذَا قَتَلْتُ، وَيَجِيءُ الْقَاطِعُ فَيَقُولُ : فِي هَذَا قَطَعْتُ رَحِمِي، وَيَجِيءُ السَّارِقُ فَيَقُولُ : فِي هَذَا قُطِعَتْ يَدِي، ثُمَّ يَدَعُوْنَهُ، فَلَا يَأْخُذُوْنَ مِنْهُ شَيْئًا.
অর্থাৎ জমিন তখন তার সমস্ত ধন-ভাণ্ডার সোনা-রুপার খুঁটির ন্যায় উগলে দিবে। তখন হত্যাকারী তা দেখে বলবেঃ এ সম্পদের জন্যই তো আমি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলাম। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী বলবেঃ এ সম্পদের জন্যই তো আমি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছিলাম। চোর বলবেঃ এ সম্পদের জন্যই তো আমার হাত খানা কাটা হয়েছিলো। অতঃপর কেউই উক্ত সম্পদ গ্রহণ করবে না। তা যথাস্থানে রেখেই সবাই চলে যাবে। (মুসলিম ১০১৩)