📄 আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নবু’ওয়াতপ্রাপ্তি
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নবু'ওয়াতপ্রাপ্তি কিয়ামতের একটি ছোট নিদর্শন। কারণ, তিনি সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আর কোন নবী আসবেন না।
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ.
অর্থাৎ আমাকে এবং কিয়ামতকে এতো নিকটবর্তী সময়ে পাঠানো হয়েছে যে, যেমন একটি আঙ্গুল আরেকটি আঙ্গুলের একেবারেই পাশাপাশি। (বুখারী ৬৫০৪; মুসলিম ২৯৫১)
আবূ জুবাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
بُعِثْتُ فِي نَسَمِ السَّاعَةِ.
অর্থাৎ আমাকে কিয়ামতের প্রাদুর্ভাব কালেই পাঠানো হয়েছে। (দুলাবী/কুনা ১/২৩ ইবনু মান্দাহ্/মা'রিফাহ্ ২/২৩৪/২)
রাসূল () আরো বলেনঃ
بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ جَمِيعًا، إِنْ كَادَتْ لَتَسْبِقُنِي.
অর্থাৎ আমাকে এবং কিয়ামতকে একত্রেই পাঠানো হয়েছে। এমনকি কিয়ামত আমার আগেই আসতে চাচ্ছিলো। (আহমদ ৫/৩৪৮)
মুত্ব'ইম বিন্ 'আদি' থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ
أَنَا الْخَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمَيَّ، وَأَنَا الْعَاقِبُ الَّذِي لَيْسَ بَعْدَهُ أَحَدٌ.
অর্থাৎ আমি 'হাশির যাঁর পরপরই মানুষের হাশ্র-নশর হবে এবং আমি 'আক্বিব যাঁর পর আর কোন নবী আসবেন না। (বুখারী ৩৫৩২; মুসলিম ২৩৫৪)
📄 চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া
চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়াও কিয়ামতের একটি ছোট নিদর্শন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ অর্থাৎ কিয়ামত একেবারেই অত্যাসন্ন; চন্দ্র তো বিদীর্ণ হয়ে গেছে। (ক্বামার: ১)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِمِنّى إِذِ انْفَلَقَ الْقَمَرُ فِلْقَتَيْنِ، فَكَانَتْ فِلْقَةٌ وَرَاءَ الْجَبَلِ، وَفِلْقَةً دُونَهُ، فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : اشْهَدُوا. অর্থাৎ আমরা একদা রাসূল () এর সাথে মিনায় অবস্থান করছিলাম। এমতাবস্থায় হঠাৎ চাঁদটি দু' টুকরো হয়ে গেলো। এক টুকরো পাহাড়ের পেছনে এবং আরেক টুকরো পাহাড়ের সামনে। তখন রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমরা এ ব্যাপারে সাক্ষী থাকো। (মুসলিম ৪/১১৫৮)
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ মক্কাবাসীরা রাসূল (ﷺ) এর নিকট একটি নিদর্শন কামনা করছিলো। আর তখনই তিনি তাদেরকে চন্দ্রের দ্বিখণ্ডিত হওয়া দেখালেন। (মুসলিম ৪/১১৫৮)
📄 আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর মৃত্যু বরণ
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর মৃত্যু বরণও কিয়ামতের একটি ছোট নিদর্শন। 'আউফ্ বিন্ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
أعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ : مَوْتِي، ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ، ثُمَّ مُوْتَانُ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الْغَنَمِ، ثُمَّ اسْتِفَاضَةُ الْمَالِ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِئَةَ دِينَارٍ فَيَظُلُّ سَاخِطًا، ثُمَّ فِتْنَةٌ لَا يَبْقَى بَيْتُ مِنَ الْعَرَبِ إِلَّا دَخَلَتْهُ، ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الْأَصْفَرِ فَيَغْدِرُونَ، فَيَأْتُوْنَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةٍ، تحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا.
অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি বিষয় গুনে রাখো যা অবশ্যই ঘটবে। আমার মৃত্যু অতঃপর বাইতুল মাকদিসের বিজয়। অতঃপর তোমাদের মাঝে বিপুল হারে মৃত্যু বরণ ছাগলের "কু'আস্ব” রোগের ন্যায় দেখা দিবে। যা দেখা দিলে ছাগলের নাক দিয়ে কিছু একটা বের হয়ে ছাগলটি হঠাৎ মরে যায়। অতঃপর মানুষের মাঝে ধন-সম্পদের অত্যাধিক্য দেখা দিবে। এমনকি কাউকে একশ'টি দীনার সাদাকা দিলেও সে খুশি হবে না। অতঃপর এমন ফিতনা যা আরবদের প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর তোমাদের মাঝে ও রোমানদের মাঝে একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে। কিন্তু তারা উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে আশিটি ঝাণ্ডার অধীনে যুদ্ধ করবে। প্রত্যেক ঝাণ্ডার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য। (বুখারী ৩১৭৬)
📄 বাইতুল মাক্বদিসের বিজয়
বাইতুল মাকদিসের বিজয় কিয়ামতের আরেকটি নিদর্শন। যা পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। 'উমর (রাঃ) এর যুগে তথা ষোল হিজরী সনে বাইতুল মাকদিসের মহা বিজয় সাধিত হয়। তখন হযরত 'উমার (রাঃ) নিজেই সেখানে গিয়েছেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাথে চুক্তি করেছেন। তিনি উক্ত পবিত্র ভূমিকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কজামুক্ত করেন। এমনকি সেখানে বাইতুল্ মাক্বদিসের কিবলামুখে একটি মসজিদও তৈরি করেন।