📄 কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ এবং তার প্রকারভেদ
কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ সাধারণত দু'ভাগে বিভক্ত।
ক. ছোট আলামতসমূহ। যা কিয়ামতের বহু পূর্ব থেকেই দেখা যাচ্ছে এবং যা খুব স্বাভাবিক গতিতেই মানব সমাজে ঘটে যাচ্ছে। যেমনঃ মূর্খতার ছড়াছড়ি, মদ্যপান, ধর্মীয় জ্ঞানের বিশেষ সঙ্কট ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. বড় আলামতসমূহ। যা কিয়ামতের পূর্বক্ষণেই দেখা যাবে এবং যা হবে খুবই অস্বাভাবিক। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।
আবার কেউ কেউ আবির্ভাবের সময়কালকে বিশেষভাবে বিবেচনা করে সেগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। যা নিম্নরূপঃ
ক. যা ইতিপূর্বে ঘটে গেছে। যেমনঃ নবী (সাঃ) এর নবু'ওয়াতপ্রাপ্তি ও তাঁর মৃত্যু, বাইতুল মাকদিসের বিজয়, মদীনার ঐতিহাসিক অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. যা ইতিপূর্বে প্রকাশ পেয়েছে এবং তা এখনো প্রকাশ পাচ্ছে তবে আরো বেশি হারে। যেমনঃ ভূমিকম্প, আমানতের আত্মসাৎ, অযোগ্য লোকের ক্ষমতায়ন, জ্ঞানের বিদায়, মূর্খতার ছড়াছড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি।
গ. যা এখনো প্রকাশ পায়নি এবং যা প্রকাশ পাবে কিয়ামতের পূর্বক্ষণেই। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।
কেউ কেউ আবার আবির্ভাবের স্থান বিবেচনায় সেগুলোকে দু'ভাগে বিভক্ত করেন। যা নিম্নরূপঃ
ক. নভোমণ্ডলীয় নিদর্শনসমূহ। যেমনঃ রাসূল (সাঃ) এর যুগে চন্দ্রের বিদীর্ণ হওয়া, চাঁদ উঠতেই বড় হয়ে উঠা, পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠা ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. ভূমণ্ডলীয় নিদর্শনসমূহ। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।
📄 পরিশিষ্ট
কিয়ামতের ছোট-বড় আলামতগুলোর দীর্ঘ আলোচনা থেকে আমরা যা সংক্ষেপে জানতে পারলাম তা নিম্নরূপ :
১. কিয়ামতের আলামতগুলোতে বিশ্বাস গায়েবে বিশ্বাসের শামিল। সুতরাং কোন মুসলমান কিয়ামতের আলামতগুলোতে বিশ্বাস না করে সত্যিকার মু'মিন হতে পারবে না।
২. কিয়ামতের আলামতগুলোতে বিশ্বাস পরকালে বিশ্বাসের শামিল।
৩. রাসূল (ﷺ) থেকে বিশুদ্ধ বর্ণনায় যা প্রমাণিত চাই তা মুতাওয়াতির হোক অথবা ব্যক্তি বিশেষের বর্ণনা তা বিশ্বাস করতে ও মানতে হবে। তা কখনো কোনোভাবেই প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। কারণ, আক্বীদা-বিশ্বাস যেমন মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত তেমনিভাবে ব্যক্তি বিশেষের বর্ণনা দ্বারাও প্রমাণিত।
৪. রাসূল (ﷺ) নিজ উম্মতকে যা ঘটে গেছে অথবা যা ঘটবে সব কিছুই বর্ণনা করেছেন। আর এ ব্যাপারে কিয়ামতের আলামত সংক্রান্ত বর্ণনাই বেশি।
৫. কিয়ামতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই রাখেন। আর কেউ নন। চাই তিনি নবী-রাসূল হোন অথবা নিকটতম ফিরিস্তা।
৬. দুনিয়ার বয়স সংক্রান্ত কোন শুদ্ধ হাদীস বর্ণিত হয়নি।
৭. কিয়ামতের ছোট আলামতগুলোর অধিকাংশ ইতিমধ্যে পাওয়া গিয়েছে। বাকি আছে শুধু সামান্য।
৮. কিয়ামতের ছোট আলামতগুলো পাওয়া যাওয়া মানে সেগুলো এমনভাবে পাওয়া যাওয়া যে, এর বিপরীত বস্তুটি একেবারেই পাওয়া যাবে না অথবা খুব কমই পাওয়া যাবে।
৯. কোন বস্তু কিয়ামতের আলামত হওয়া মানে তা শরীয়তে একেবারেই নিষিদ্ধ এমন নয়। বরং তা হারামও হতে পারে। এমনকি তা ওয়াজিব, হালাল, ভালো-মন্দ সবই হতে পারে।
১০. এখন পর্যন্ত কিয়ামতের কোন বড়ো আলামত প্রকাশ পায়নি।
১১. যখন কিয়ামতের একটি বড়ো আলামত পাওয়া যাবে তখন পরপর সবই পাওয়া যাবে। যেমনিভাবে মুক্তার হার ছিঁড়ে ফেললে দানাগুলো দ্রুত পড়তে থাকে।
১২. কিয়ামতের যে আলামতগুলো ইতিমধ্যে পাওয়া গিয়েছে তা অবশ্যই রাসূল (ﷺ) এর একান্ত মু'জিযাহ্ তথা নবুওয়াতের বিশেষ প্রমাণ। কারণ, রাসূল (ﷺ) যেভাবেই বলেছেন হুবহু সেভাবেই পাওয়া গিয়েছে।
১৩. অধিকাংশ আলামত পাওয়া যাওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, এ দুনিয়া অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। যেমনটি কোন মানুষের মৃত্যুর পূর্বে তার কিছু আলামত দেখলেই বুঝা যায় যে, তার মৃত্যু অতি সন্নিকটে।
১৪. তাওবার দরোজা এখনো খোলা আছে যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠবে। তবে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠলে তা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।
১৫. পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা মানেই কিয়ামত কায়িম হওয়া নয়। বরং এরপরও দুনিয়া আরো কিছু দিন টিকে থাকবে। বেচা-কেনা চলতে থাকবে।
১৬. কিয়ামতের সর্ব শেষ বড়ো আলামত হচ্ছে এক বিশেষ আগুন বের হওয়া যা মানুষগুলোকে শাম দেশে একত্রিত করবে। আর এটি হবে দুনিয়ার 'হাশর'। কিয়ামতের 'হাশর নয়।
১৭. কিয়ামত কায়িম হবে একেবারেই সর্ব নিকৃষ্ট মানুষদের উপর। নেককারদের উপর নয়।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ।
সমাপ্ত