📄 আরবী ভাষায় কিয়ামত তথা “আসসা‘আহ্” শব্দের বিভিন্ন ব্যবহার
আরবী ভাষায় "আস্সা'আহ্" শব্দটি নিম্নোক্ত তিনটি অর্থেই ব্যবহার করা হয়ঃ
ক. ছোট কিয়ামত তথা মানুষের মৃত্যু। সুতরাং যে ব্যক্তি মারা গেলো তার কিয়ামত কায়েম হয়ে গেলো। কারণ, সে পরকালে পাড়ি জমিয়েছে।
খ. মাঝারী কিয়ামত তথা একই শতাব্দীর সকল মানুষের মৃত্যু। আরবের বেদুইনরা রাসূল (ﷺ) কে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাদের মধ্যকার অল্প বয়সের লোকটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলতেনঃ
إِنْ يَعِشُ هَذَا لَمْ يُدْرِكْهُ الْهَرَمُ قَامَتْ عَلَيْكُمْ سَاعَتُكُمْ.
অর্থাৎ এ লোকটি যদি বেঁচে থাকে এবং তাকে বার্ধক্য পেয়ে না বসে তা হলে তখনই তোমাদের কিয়ামত কায়েম হবে। (ফাতহুল বারী ১১/৩৬৩)
গ. বড় কিয়ামত তথা হিসাব-নিকাশের জন্য মানুষের পুনরুত্থান। সাধারণত "আস্সা'আহ্" বলতে বড় কিয়ামতকেই বুঝানো হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ
অর্থাৎ কিয়ামত একেবারেই অত্যাসন্ন; চন্দ্র তো বিদীর্ণ হয়ে গেছে। (ক্বামার: ১)
আল্লাহ্ তা'আলা "আল্-ওয়াক্বি‘আহ্" ও "আল্-ক্বিয়ামাহ্” সূরাদ্বয়ে ছোট-বড় উভয় কিয়ামতের কথাই একই সঙ্গে উল্লেখ করেন।
📄 কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ এবং তার প্রকারভেদ
কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ সাধারণত দু'ভাগে বিভক্ত।
ক. ছোট আলামতসমূহ। যা কিয়ামতের বহু পূর্ব থেকেই দেখা যাচ্ছে এবং যা খুব স্বাভাবিক গতিতেই মানব সমাজে ঘটে যাচ্ছে। যেমনঃ মূর্খতার ছড়াছড়ি, মদ্যপান, ধর্মীয় জ্ঞানের বিশেষ সঙ্কট ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. বড় আলামতসমূহ। যা কিয়ামতের পূর্বক্ষণেই দেখা যাবে এবং যা হবে খুবই অস্বাভাবিক। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।
আবার কেউ কেউ আবির্ভাবের সময়কালকে বিশেষভাবে বিবেচনা করে সেগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। যা নিম্নরূপঃ
ক. যা ইতিপূর্বে ঘটে গেছে। যেমনঃ নবী (সাঃ) এর নবু'ওয়াতপ্রাপ্তি ও তাঁর মৃত্যু, বাইতুল মাকদিসের বিজয়, মদীনার ঐতিহাসিক অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. যা ইতিপূর্বে প্রকাশ পেয়েছে এবং তা এখনো প্রকাশ পাচ্ছে তবে আরো বেশি হারে। যেমনঃ ভূমিকম্প, আমানতের আত্মসাৎ, অযোগ্য লোকের ক্ষমতায়ন, জ্ঞানের বিদায়, মূর্খতার ছড়াছড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি।
গ. যা এখনো প্রকাশ পায়নি এবং যা প্রকাশ পাবে কিয়ামতের পূর্বক্ষণেই। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।
কেউ কেউ আবার আবির্ভাবের স্থান বিবেচনায় সেগুলোকে দু'ভাগে বিভক্ত করেন। যা নিম্নরূপঃ
ক. নভোমণ্ডলীয় নিদর্শনসমূহ। যেমনঃ রাসূল (সাঃ) এর যুগে চন্দ্রের বিদীর্ণ হওয়া, চাঁদ উঠতেই বড় হয়ে উঠা, পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠা ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. ভূমণ্ডলীয় নিদর্শনসমূহ। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।