📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 মুতাওয়াতির নয় এমন হাদীসও আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য

📄 মুতাওয়াতির নয় এমন হাদীসও আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য


মুতাওয়াতির নয় এমন হাদীসও আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। মুতাওয়াতির হাদীস বলতে বর্ণনা ধারার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্ব যুগে বর্ণনাকারীদের এমন এক জনগোষ্ঠীর বর্ণনাকেই বুঝানো হয় যাদের মিথ্যা বলা স্বভাবতই অসম্ভব। এর বিপরীতই হচ্ছে এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা যা এমন পর্যায়ের নয়। এ সকল হাদীসও আক্বীদার ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।
কারো কারোর ধারণা, একমাত্র মুতাওয়াতির হাদীসই আক্বীদার ক্ষেত্রে একমাত্র গ্রহণযোগ্য। এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা নয় যা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছুতে পারেনি। এমন ধারণা একেবারেই বাতিল। কারণ, কোন হাদীস রাসূল () এর পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য কোন সূত্রে আমাদের নিকট পৌঁছুলে তা মানতে ও বিশ্বাস করতে আমরা অবশ্যই বাধ্য। কারণ, তা তখন রাসূল () এর হাদীস বলেই প্রমাণিত। অন্য কোন সাধারণ মানুষের কথা নয়। যা মানতে হয় না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَمَا كَانِ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ، وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا. অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল () কোন কিছুর আদেশ করলে তখন আর কোন মু'মিন পুরুষ ও মহিলার জন্য অন্য কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থাকে না। কেউ আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল () এর অবাধ্য হলে সে তো স্পষ্টতই পথভ্রষ্ট। (আহযাব: ৩৬)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ، فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ). অর্থাৎ তুমি বলে দাওঃ তোমরা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল () এর আনুগত্য করো। যদি তারা তা না মানে তা হলে (তারা যেন জেনে রাখে) নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না। (আলি-ইমরান : ৩২)
তিনি আরো বলেনঃ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا. অর্থাৎ যারা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল () এর অবাধ্য হবে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। (জিন: ২৩)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ অর্থাৎ যারা রাসূল () এর আদেশ অমান্য করে তাদের সতর্ক থাকা আবশ্যক এ আশংকায় যে, তাদের উপর নেমে আসবে বিপর্যয় অথবা আপতিত হবে কঠিন শাস্তি। (সূরা নূর: ৬৩)
উক্ত আয়াতসমূহে কোন বিষয়কে বিশেষায়িত করা হয়নি। বরং রাসূল (ﷺ) এর সকল বাণী সর্ব বিষয়ে সমভাবেই গ্রহণযোগ্য। তাতে কোন পার্থক্য সৃষ্টি করা কখনোই বৈধ নয়। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
كُلُّ مَا جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ بِإِسْنَادٍ جَيْدٍ أَقْرَرْنَا بِهِ، وَإِذَا لَمْ نُقِرَّ بِمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، وَدَفَعْنَاهُ وَرَدَدْنَاهُ؛ رَدَدْنَا عَلَى اللهِ أَمْرَهُ؛ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : ﴿وَمَا أَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ، وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا.
অর্থাৎ সঠিক বর্ণন ধারায় রাসূল (ﷺ) এর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট যা কিছু পৌঁছেছে তা সবই আমরা মেনে নেবো। যদি আমরা তা না মানি বরং তার কিয়দংশও প্রত্যাখ্যান করি তা হলে আমরা যেন আল্লাহ্ তা'আলার আদেশই প্রত্যাখ্যান করলাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ রাসূল (ﷺ) তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা তোমরা সাদরে গ্রহণ করো এবং যা করতে তিনি তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন তা হতে তোমরা বিরত থাকো। [সূরা আল-হাশর : ৭ (ইত'হাফুল জামা'আহ্ ১/৪]
ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
قَدْ شَاعَ فَاشِيًا عَمَلُ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ بِخَبْرِ الْوَاحِدِ؛ مِنْ غَيْرِ نَكِيْرٍ، فَاقْتَضَى الاتِّفَاقَ مِنْهُمْ عَلَى الْقَبُوْلِ.
অর্থাৎ এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা যা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পৌঁছোয়নি এমন হাদীসের উপর আমল করার ব্যাপারটি সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিয়ীনদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিলো। এতে কখনো কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। সুতরাং তা সকল বিষয়ে গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারটি ঐকমত্যের রূপই ধারণ করে। (ফাতহুল বারী ১৩/২৩৪)
ইবনু তাইমিয়াহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
السُّنَّةُ إِذَا ثَبَتَتْ فَإِنَّ الْمُسْلِمِينَ كُلَّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى وُجُوبِ اتَّبَاعِهَا.
অর্থাৎ রাসূল (ﷺ) এর কোন হাদীস যখন সঠিক বলে প্রমাণিত হয়ে যায় তখন সকল মুসলমান এ ব্যাপারে একমত যে, তা মানা সকলের উপরই ওয়াজিব। (ফাতাওয়া: ১৯/৮৫)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা যা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি তা যে সকল বিষয়ে মানতে হবে এর বিশেষ প্রমাণসমূহ

📄 এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা যা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি তা যে সকল বিষয়ে মানতে হবে এর বিশেষ প্রমাণসমূহ


১. আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً، فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ).
অর্থাৎ মু'মিনদের জন্য এটা কখনো উচিৎ নয় যে, তারা সবাই একই সঙ্গে যুদ্ধের জন্য বের হয়ে পড়বে। এমন কেন হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি ছোট দল বের হবে ধর্মীয় জ্ঞান শেখার জন্য যেন তারা বাকীদেরকে ভয় দেখাতে পারে যখন তারা এলাকায় ফিরে আসবে। হয়তো বা ওরা এরই মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরে আসবে। (তাওবাহ: ১২২)
কুর'আন মাজীদের মধ্যে একজনকেও "ত্বায়িফাহ্” বলা হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا
অর্থাৎ মু'মিনদের দু'টি দল দ্বন্দ্ব-বিগ্রহে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে অবশ্যই মীমাংসা করে দিবে। ('হুজুরাত: ৯)
দু'টি দল কেন শুধুমাত্র দু'জনই কখনো পরস্পর দ্বন্দ্ব-বিগ্রহে লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়াও উক্ত আয়াতেরই অন্তর্গত। আর তখন এদের প্রতি জনই এক একটি ত্বায়িফাহ্ বলে গণ্য হবে।
সুতরাং প্রথমোক্ত আয়াতে ধর্মীয় ব্যাপারে একজনের কথাও যে গ্রহণযোগ্য তাই প্রমাণিত হলো। চাই তা হোক আক্বীদার ক্ষেত্রে অথবা শরীয়তের যে কোন বিধানের ক্ষেত্রে।
২. আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا.
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিকট যে কোন পাপাচারী কোন বার্তা নিয়ে আসলে তোমরা তা যাচাই করে দেখবে। ('হুজুরাত: ৬)
উক্ত আয়াত এটাই প্রমাণ করে যে, সংবাদদাতা যদি সৎ ও নির্ভরযোগ্য হয় তা হলে তার সংবাদ অবশ্যই মানতে হবে। তাতে কোন দ্বিধা করতে হবে না।
৩. তিনি আরো বলেনঃ
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُوْلَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ، فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا.
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য করো, রাসূল (ﷺ) এর আনুগত্য করো এবং তোমাদের উপরস্থদের। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কোন কিছু নিয়ে মতবিরোধ ঘটলে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল (ﷺ) তথা কুর'আন ও হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করো। যদি তোমরা আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে সঠিক বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটাই তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠ পরিসমাপ্তি। (নিসা': ৫৯)
যদি রাসূল এর সকল হাদীস সকল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যই না হয়ে থাকে তা হলে সকল ক্ষেত্রে তাঁর হাদীসের প্রতি প্রত্যাবর্তনের কোন গুরুত্বই থাকে না।
৪. রাসূল (ﷺ) তাঁর সময়কার কাফির রাষ্ট্রপতিদের প্রতি কিছু দিন পরপর তাঁর পক্ষ থেকে দূত পাঠাতেন এবং মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিটি এলাকায় পাঠাতেন তাঁর আমীর উমারাদেরকে। তখন ওই সকল এলাকার লোকজন যে কোন বিষয়ে তাঁদেরই শরণাপন্ন হতো। চাই তা আক্বীদার বিষয়েই হোক কিংবা আমলের বিষয়ে। যদি তাঁদের একার বর্ণনা তথা প্রচার-ফায়সালা শরীয়তের যে কোন ব্যাপারে গ্রহণযোগ্যই না হতো তা হলে যে কোন ব্যাপারে তাদের শরণাপন্ন হওয়ার কোন মানেই থাকে না।
৫. 'উমার তাঁর জনৈক আন্সারী সঙ্গীর সাথে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হন যে, তিনি রাসূল (ﷺ) এর দরবারে অনুপস্থিত থাকলে সঙ্গীটি রাসূল (ﷺ) এর সকল কথা তাঁর নিকট পৌঁছাবে। আর সে অনুপস্থিত থাকলে তিনি রাসূল (ﷺ) এর সকল কথা তার নিকট পৌঁছাবেন। একক ব্যক্তির বর্ণনা যদি সকল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য না হতো তা হলে তাঁদের উক্ত চুক্তির কোন সার্থকতাই থাকে না।
৬. রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
نَضَّرَ اللهُ امْرًا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ، فَرُبَّ مُبَلَّغ أَوْعَى مِنْ سَامِع.
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা সজীব ও সতেজ করুক সে ব্যক্তিকে যে আমার কোন একটি হাদীস শুনে তা মুখস্থ করলো এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিলো। কারণ, অনেক সময় এমনো দেখা যায় যে, যার নিকট হাদীসটি পৌঁছিয়ে দেয়া হলো সে শ্রোতার চাইতেও বেশি ধারণক্ষম। (আহমাদ, হাদীস ৪১৫৭)
যদি রাসূল (ﷺ) এর সকল হাদীস (চাই তা একক বর্ণনায় হোক অথবা একাধিক বর্ণনায়) সকল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য না হতো তা হলে এতো কষ্ট করে হাদীসগুলো মুখস্থ করে অন্যের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারটিকে রাসূল (ﷺ) ব্যাপকহারে উৎসাহিত করতেন না। বরং দয়ার নবী এ কথা সকলকে অবশ্যই জানিয়ে দিতেন যে, একক বর্ণনা আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তা নিয়ে এতো কষ্ট করার কোন কাম নেই।
মূলতঃ একক ব্যক্তির বর্ণনা যে আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয় এমন কথাটি নব আবিষ্কৃত। যদি শরীয়তে এমন কিছু থেকে থাকতো তা হলে সাহাবায়ে কিরাম অবশ্যই তা জানতেন এবং পরবর্তীদেরকে সে ব্যাপারে সংকেতও দিতেন।
বরং পর্যালোচিত বিষয়টি এমন মারাত্মক যে, যদি তা মানা হয় তা হলে বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত এমন অনেকগুলো আক্বীদাকেই প্রত্যাখ্যান করতে হয় যা এমন বর্ণনায় বর্ণিত এবং যা নিম্নরূপঃ
ক. আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) সকল নবী এবং রাসূলগণের চাইতেও শ্রেষ্ঠ।
খ. রাসূল (ﷺ) কিয়ামতের দিন এমন একটি বড় ধরনের সুপারিশ করবেন যা অন্য কোন নবী করতে পারবেন না।
গ. নবী (ﷺ) নিজ উম্মতের মধ্যকার কবীরা গুনাহগারদের জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন।
ঘ. কুর'আন মাজীদ ছাড়া রাসূল (ﷺ) এর সকল মু'জিযাহ্ তথা অলৌকিক কর্মকাণ্ড।
ঙ. সৃষ্টির প্রারম্ভিক কথা, ফিরিস্তা ও জিনের বর্ণনা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বিশদ বর্ণনা যা কুর'আন মাজীদে উল্লিখিত হয়নি।
চ. কবরে মুন্কার ও নাকীর ফিরিস্তাদ্বয়ের প্রশ্নোত্তর।
ছ. মৃত ব্যক্তিকে কবরের ভয়ঙ্কর চাপ।
জ. পুল-স্বিরাত, হাউজে কাউসার ও আমলনামা মাপার বিশেষ দাঁড়িপাল্লার বিশদ বর্ণনা।
ঝ. মায়ের পেটে থাকাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিটি মানুষের রিযিক, মৃত্যু, সুভাগ্য ও দুর্ভাগ্য লিখে দিয়েছেন।
ঙ. রাসূল (ﷺ) এর অনেকগুলো বিশেষত্ব যা বিশুদ্ধ হাদীসে পাওয়া যায়। যেমনঃ রাসূল (ﷺ) নিজ জীবদ্দশায় জান্নাতে প্রবেশ করেছেন, সেখানে তিনি জান্নাতীদেরকে এবং জান্নাতের নিয়ামতসমূহ দেখেছেন। তাঁর সাথের জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইত্যাদি ইত্যাদি।
চ. এ কথা বিশ্বাস করা যে, রাসূল (ﷺ) তাঁর জীবদ্দশায় যাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন তাঁরা নিশ্চয়ই জান্নাতী।
ছ. কবীরা গুনাহগাররা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না। বরং প্রয়োজনীয় শাস্তি গ্রহণের পর তাদেরকে জান্নাত দেয়া হবে।
জ. কিয়ামতের বিস্তারিত বর্ণনা যা কুর'আন মাজীদে উল্লিখিত হয়নি।
ঝ. কিয়ামতের অধিকাংশ আলামতসমূহ। যেমনঃ মাহ্দীর বের হওয়া, ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, দাজ্জাল ও আগুনের বের হওয়া, পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠা, এক আজব পশুর বের হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 আরবী ভাষায় কিয়ামত তথা “আসসা‘আহ্” শব্দের বিভিন্ন ব্যবহার

📄 আরবী ভাষায় কিয়ামত তথা “আসসা‘আহ্” শব্দের বিভিন্ন ব্যবহার


আরবী ভাষায় "আস্সা'আহ্" শব্দটি নিম্নোক্ত তিনটি অর্থেই ব্যবহার করা হয়ঃ
ক. ছোট কিয়ামত তথা মানুষের মৃত্যু। সুতরাং যে ব্যক্তি মারা গেলো তার কিয়ামত কায়েম হয়ে গেলো। কারণ, সে পরকালে পাড়ি জমিয়েছে।
খ. মাঝারী কিয়ামত তথা একই শতাব্দীর সকল মানুষের মৃত্যু। আরবের বেদুইনরা রাসূল (ﷺ) কে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাদের মধ্যকার অল্প বয়সের লোকটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলতেনঃ
إِنْ يَعِشُ هَذَا لَمْ يُدْرِكْهُ الْهَرَمُ قَامَتْ عَلَيْكُمْ سَاعَتُكُمْ.
অর্থাৎ এ লোকটি যদি বেঁচে থাকে এবং তাকে বার্ধক্য পেয়ে না বসে তা হলে তখনই তোমাদের কিয়ামত কায়েম হবে। (ফাতহুল বারী ১১/৩৬৩)
গ. বড় কিয়ামত তথা হিসাব-নিকাশের জন্য মানুষের পুনরুত্থান। সাধারণত "আস্সা'আহ্" বলতে বড় কিয়ামতকেই বুঝানো হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ
অর্থাৎ কিয়ামত একেবারেই অত্যাসন্ন; চন্দ্র তো বিদীর্ণ হয়ে গেছে। (ক্বামার: ১)
আল্লাহ্ তা'আলা "আল্-ওয়াক্বি‘আহ্" ও "আল্-ক্বিয়ামাহ্” সূরাদ্বয়ে ছোট-বড় উভয় কিয়ামতের কথাই একই সঙ্গে উল্লেখ করেন।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ এবং তার প্রকারভেদ

📄 কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ এবং তার প্রকারভেদ


কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ সাধারণত দু'ভাগে বিভক্ত।
ক. ছোট আলামতসমূহ। যা কিয়ামতের বহু পূর্ব থেকেই দেখা যাচ্ছে এবং যা খুব স্বাভাবিক গতিতেই মানব সমাজে ঘটে যাচ্ছে। যেমনঃ মূর্খতার ছড়াছড়ি, মদ্যপান, ধর্মীয় জ্ঞানের বিশেষ সঙ্কট ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. বড় আলামতসমূহ। যা কিয়ামতের পূর্বক্ষণেই দেখা যাবে এবং যা হবে খুবই অস্বাভাবিক। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।
আবার কেউ কেউ আবির্ভাবের সময়কালকে বিশেষভাবে বিবেচনা করে সেগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন। যা নিম্নরূপঃ
ক. যা ইতিপূর্বে ঘটে গেছে। যেমনঃ নবী (সাঃ) এর নবু'ওয়াতপ্রাপ্তি ও তাঁর মৃত্যু, বাইতুল মাকদিসের বিজয়, মদীনার ঐতিহাসিক অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. যা ইতিপূর্বে প্রকাশ পেয়েছে এবং তা এখনো প্রকাশ পাচ্ছে তবে আরো বেশি হারে। যেমনঃ ভূমিকম্প, আমানতের আত্মসাৎ, অযোগ্য লোকের ক্ষমতায়ন, জ্ঞানের বিদায়, মূর্খতার ছড়াছড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি।
গ. যা এখনো প্রকাশ পায়নি এবং যা প্রকাশ পাবে কিয়ামতের পূর্বক্ষণেই। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।
কেউ কেউ আবার আবির্ভাবের স্থান বিবেচনায় সেগুলোকে দু'ভাগে বিভক্ত করেন। যা নিম্নরূপঃ
ক. নভোমণ্ডলীয় নিদর্শনসমূহ। যেমনঃ রাসূল (সাঃ) এর যুগে চন্দ্রের বিদীর্ণ হওয়া, চাঁদ উঠতেই বড় হয়ে উঠা, পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠা ইত্যাদি ইত্যাদি।
খ. ভূমণ্ডলীয় নিদর্শনসমূহ। যেমনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, 'ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00