📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 কিয়ামতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই নিকটে

📄 কিয়ামতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই নিকটে


কিয়ামতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই নিকটে। তিনি ভিন্ন অন্য কেউ এ ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান রাখেন না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا، قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي، لَا يُجَلِّيْهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ، ثَقُلَتْ فِي السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ، لَا تَأْتِيْكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا، قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ، وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ. অর্থাৎ তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে যে, তা কখন হবে? তুমি বলে দাওঃ এ ব্যাপারে আমার প্রভুই একমাত্র সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। শুধু তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। তা হবে আকাশ ও পৃথিবীর জন্য এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। আকস্মিকভাবেই তা আসবে। তাদের ধারণা মতে তুমি এ ব্যাপারে বিশেষভাবে অবগত তাই তো তারা তোমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তুমি বলে দাওঃ এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটেই; অথচ অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। (আ'রাফ : ১৮৭)
এ কারনেই হযরত জিবরীল (আঃ) যখন রাসূল (সঃ) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন তখন তিনি বলেনঃ
مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ.
অর্থাৎ যাঁকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চাইতে এ ব্যাপারে বেশি কিছু জানেন না। অর্থাৎ আমরা কেউই এ ব্যাপারে জ্ঞান রাখি না। (মুসলিম ৮)
'ঈসা (আঃ) কিয়ামতের পূর্বক্ষণেই দুনিয়াতে অবতরণ করবেন; অথচ তিনিও এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেনঃ
لَقِيتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى، قَالَ: فَتَذَا كَرُوْا أَمْرَ السَّاعَةِ، فَرُدُّوا أَمْرَهُمْ إِلَى إِبْرَاهِيمَ، فَقَالَ: لَا عِلْمَ لِي بِهَا، فَرُدُّوا الْأَمْرَ إِلَى مُوسَى، فَقَالَ: لَا عِلْمَ لِي بِهَا، فَرُدُّوا الْأَمْرَ إِلَى عِيسَى فَقَالَ: أَمَّا وَجْبَتُهَا فَلَا يَعْلَمُهَا أَحَدٌ إِلَّا اللهُ، وَفِيمَا عَهِدَ إِلَيَّ رَبِّي أَنَّ الدَّجَّالَ خَارِجُ، قَالَ: وَمَعِي قَضِيْبَانِ، فَإِذَا رَآنِي ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الرَّصَاصُ، قَالَ: فَيُهْلِكُهُ اللهُ.
অর্থাৎ ইস্রা (বাইতুল মাকদিসের প্রতি রাসূল (সঃ) এর রাত্রিকালীন বিশেষ ভ্রমণ) এর রাত্রিতে ইব্রাহীম, মূসা ও 'ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তখন তাঁরা পরস্পর কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। সবাই ব্যাপারটিকে ইব্রাহীম (আঃ) এর প্রতিই অর্পণ করলেন। তিনি বললেনঃ না, এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। অতঃপর তাঁরা ব্যাপারটিকে মূসা (আঃ) এর প্রতি অর্পণ করলেন। তিনিও বললেনঃ না, এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। পরিশেষে সবাই ব্যাপারটিকে 'ঈসা (আঃ) এর প্রতি অর্পণ করলেন। তিনি বললেনঃ কিয়ামত সংঘটনের ব্যাপারটি তো আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া আর কেউই জানেন না। তবে আমার প্রভু এ সম্পর্কে যা আমাকে বলেছেন তা হলোঃ দাজ্জাল বেরুবে। তখন আমার হাতে দু'টি ছড়ি বা গাছের ডাল থাকবে। যখন সে আমাকে দেখবে সিসার মতো গলে যাবে। এভাবেই আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ধ্বংস করবেন। (আহমাদ, হাদীস ৩৫৫৬ হা'কিম ৪/৪৮৮-৪৮৯)
কারো কারোর মতে উপরোক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে আল্লামাহ্ আহমাদ্ শাকির হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেন।

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস যে কোন মানুষকে সত্যিকারার্থেই পরকালমুখী করে তোলে

📄 পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস যে কোন মানুষকে সত্যিকারার্থেই পরকালমুখী করে তোলে


আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালের প্রতি দৃঢ় ঈমান মানুষকে যে কোন ভালো কাজ করতে শিখায়। যা মানব রচিত কোন আইনই করতে পারে না। এ কারণেই আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী মানুষ এবং, এতে অবিশ্বাসী মানুষের চিন্তা-চেতনা ও কাজেকর্মে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। পরকালে বিশ্বাসী মানুষ দুনিয়াকে আখিরাত সঞ্চয়ের মহান ক্ষেত্র মনে করে এবং সে সর্বদা সকল ভালো কাজে অত্যন্ত উদ্যমী হয়। তার চাল-চরিত্র অন্যদের চাইতে অনেক ভিন্ন ও উন্নত মানের হয়। সে সর্বদা থাকে ন্যায়ের উপর অটল। তার চিন্তার গণ্ডি হয় খুবই প্রশস্ত। তার ঈমানী শক্তি হয় অত্যন্ত সবল। কঠিন কাজে সে সর্বদা দৃঢ় এবং বিপদাপদে সে খুবই অনড়। কারণ, সে এ সবের মাঝে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই সন্তুষ্টি কামনা করে এবং একমাত্র তাঁর কাছেই সে পরকালের প্রতিদান চায়。
সুহাইব থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল () ইরশাদ করেনঃ عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ ! إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ.
অর্থাৎ মু'মিনের ব্যাপারটি সত্যিই আশ্চর্যজনক। কারণ, সর্বাবস্থায় তার লাভই লাভ। আর এটা মু'মিন ছাড়া আর কারোর পক্ষেই সম্ভবপর নয়। তার জীবনে সুখময় কিছু ঘটলে সে আল্লাহ্ তা'আলার কৃতজ্ঞতা আদায় করে যা তার জন্য কল্যাণকর। তেমনিভাবে তার জীবনে দুঃখকর কোন কিছু ঘটলে সে তাও ধৈর্যের সাথে মেনে নেয় যা তার জন্য অবশ্যই কল্যাণকর। (মুসলিম ২৯৯৯)
একজন পরকালে বিশ্বাসী ব্যক্তি শুধু মানুষেরই কল্যাণ করে না বরং সে যে কোন পশুপাখির উপরও অত্যন্ত দয়াশীল হয়। এ জন্যই তো 'উমার ফারূক বলেনঃ لَوْ عَثَرَتْ بَغْلَةٌ فِي الْعِرَاقِ لَظَنَنْتُ أَنَّ اللهَ سَيَسْأَلُنِي عَنْهَا : لِمَ لَمْ تُسَوِّ لَهَا الطَّرِيقَ يَا عُمَرُ .
অর্থাৎ ইরাকেও যদি রাস্তায় চলতে গিয়ে কোন খচ্চরের পা পিছলে যায় সে জন্য আল্লাহ্ তা'আলা (কিয়ামতের দিন) আমাকে প্রশ্ন করবেনঃ কেন তুমি এর চলার জন্য রাস্তাটি সমান করে দিলে না? ('হিয়াতুল আউলিয়া: ১/৫৩)
এ চেতনা এ কারণেই যে, পরকালে বিশ্বাসী প্রতিটি মুসলমান এ কথা মনে করেন যে, তিনি কিয়ামতের দিন প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়ে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট জিজ্ঞাসিত হবেন। ভালো হলে তো ভালোই আর মন্দ হলে তো কোন উপায় নেই।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ ﴿وَيَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُّحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِنْ سُوْءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا﴾
অর্থাৎ সে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ সৎকর্মসমূহ সামনে উপস্থিত পাবে। মন্দ কাজসমূহ সে দিন তার সামনে উপস্থিত করা হলে সে কামনা করবে, আহ্! তার মাঝে ও তার দুষ্কর্মের মাঝে যদি সুদূর ব্যবধান হতো। (আলি 'ইমরান: ২৯)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ ﴿وَوُضِعَ الْكِتَابُ، فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ، وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِهَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا، وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا، وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا﴾
অর্থাৎ সে দিন আমলনামা উপস্থিত করা হবে। তখন তুমি অপরাধীদেরকে আমলনামায় লিখিত অপরাধ দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হতে দেখবে। তারা তখন বলবেঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের! এটা কেমন গ্রন্থ! ছোট-বড় কিছুই তো বাদ রাখলো না বরং সবই হিসেব করেছে। তখন তারা তাদের সকল কৃতকর্ম সামনে উপস্থিত পাবে। আর তোমার প্রভু তো কারোর প্রতি কোন যুলুম করেন না। (কাহ্ফ: ৪৯)
ঠিক এরই বিপরীতে যে ব্যক্তি পরকালে সত্যিকারের বিশ্বাসী নয় সে তো সর্বদা দুনিয়ার প্রতি থাকে উন্মুখ। কিভাবে কতো কামাবে তাই তার একমাত্র ধান্ধা। কাউকে সে সহজে কোন লাভ দিতে চায় না। সে দুনিয়ার সকল বিষয়কে নিজ স্বার্থের আলোকেই বিচার-বিশ্লেষণ করে। কাউকে কোন ফায়দা দেয়ার আগে সে নিজ ফায়দার কথা ভালোভাবেই ভেবে নেয়। তার দৃষ্টি শুধু এ দুনিয়ার প্রতি এবং তার এ বয়সের প্রতি। পরকালের প্রতি তার এতটুকুও চিন্তা নেই। কারণ, সে পরকালকে অনেক দূর ভাবে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ بَلْ يُرِيدُ الْإِنْسَانُ لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ، يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ অর্থাৎ বরং মানুষ তো চায় তার সম্মুখ জীবন অস্বীকার করতে। সে প্রশ্ন করেঃ আরে কিয়ামত আসবেই বা কখন!? (কিয়ামাহ্: ৫-৬)
ইসলাম পূর্ব জাহিলী যুগে এ চেতনা বিরাজমান ছিলো বলেই তো তারা একে অপরের রক্তপাত করতো। অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে নিতো। চুরি করতো এবং ডাকাতি করতো। কারণ, তারা পরকালে বিশ্বাসী ছিলো না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَقَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا، وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوْثِينَ অর্থাৎ তারা বলেঃ এ পার্থিব জীবনই প্রকৃত জীবন (এরপর আর কোন জীবন নেই) এবং আমাদেরকে আর পুনরুত্থিত করা হবে না। (আন'আম : ২৯)
এ কারণেই তো এরা কখনো মরতে চায় না। বরং চায় আরো হাজার বছর বেঁচে থাকতে। যাতে দুনিয়াকে আরো ভালোভাবে ভোগ করা যায়। আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদীদের সম্পর্কে বলেনঃ وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ، وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوْا، يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ، وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَنْ يُعَمَّرَ، وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ.
অর্থাৎ নিশ্চয়ই তুমি ওদেরকে (ইহুদীদেরকে) অন্যান্যদের তুলনায় বিশেষ করে মুর্শিকদের তুলনায় আরো বেশি বেঁচে থাকতে অধিক উৎসাহী পাবে। তাদের প্রত্যেকেই কামনা করে, আহ্! সে যদি হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারতো; অথচ দীর্ঘায়ু কাউকে আল্লাহ্ তা'আলার শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহ্ তা'আলা তো সবার কর্মকাণ্ড দেখেই আছেন। (বাক্বারাহ্: ৯৬)
তাই তো এদের কেউ কেউ নিজের উপর সম্পূর্ণ আস্থাহীন হয়ে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে না পেরে পরিশেষে আত্মহত্যা করে।
পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস মানুষকে সত্যিকারার্থে পরকালমুখী করে বলেই তো আল্লাহ্ তা'আলা তা তাবৎ বিশ্ব মানবতাকে অনেক ভাবেই বুঝাতে চেয়েছেন। এ জন্যই তো তিনি কুর'আনুল কারীমে এ সংক্রান্ত হরেক রকমের দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন এবং এর বিরোধীদের সকল সন্দেহ অতি সুন্দরভাবে খণ্ডন করেছেন। এমনকি তিনি রাসূল () কে তাঁর সত্তার কসম খেয়ে কিয়ামত যে অবশ্যম্ভাবী তা তাতে সন্দিহান সকল কাফির জনগোষ্ঠীকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে আদেশ করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
﴿زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَّنْ يُبْعَثُوا، قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ، وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرُ.﴾
অর্থাৎ কাফির সম্প্রদায় ধারণা করছে যে, তাদেরকে আর কখনো পুনরুত্থিত করা হবে না। (হে নবী) তুমি বলে দাওঃ বরং তা অবশ্যই করা হবে। আমার প্রভুর কসম খেয়ে বলছি, অবশ্যই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। অতঃপর তোমাদেরকে জানানো হবে যা তোমরা ইতিপূর্বে করেছিলে। এটি তো আল্লাহ্ তা'আলার জন্য একেবারেই সহজ। (তাগাবুন: ৭)
কিয়ামতের নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস পরকালে বিশ্বাসেরই অন্তর্গত এবং তা অলক্ষ্যে বিশ্বাসেরই শামিল। তাই বলে কোন হাদীসে এ সংক্রান্ত আলোচনা দেখে এ কথা বিশ্বাস করার কোন জো নেই যে, আল্লাহ্'র রাসূল () গায়েব জানেন তথা তিনি স্বকীয়ভাবে ভবিষ্যত সম্পর্কে কোন কিছু বলতে পারেন। বরং এ সংক্রান্ত যা তিনি বলেছেন তা একমাত্র ওহীর মাধ্যমেই বলেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা নূহ্ (আঃ) এর উক্তি উল্লেখ করে বলেনঃ ﴿وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ﴾
অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে বলছি না যে, আমার কাছে আল্লাহ্ তা'আলার সকল ভাণ্ডার রয়েছে। আর এটাও বলছি না যে, আমি অদৃশ্যের কথা জানি। (হুদ: ৩১)
আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের রাসূল () কে এ কথা বলতে আদেশ করেন যে,
﴿وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ، وَمَا مَسَّنِيَ السُّوْءُ، إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ﴾
অর্থাৎ আমি যদি গায়েব বা অদৃশ্য কথা জানতাম তা হলে আমি সমূহ কল্যাণই লাভ করতে পারতাম। আর কোন অনিষ্ট বা অকল্যাণ আমাকে ছুঁতেই পারতো না। (আ'রাফ: ১৮৮)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 মুতাওয়াতির নয় এমন হাদীসও আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য

📄 মুতাওয়াতির নয় এমন হাদীসও আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য


মুতাওয়াতির নয় এমন হাদীসও আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। মুতাওয়াতির হাদীস বলতে বর্ণনা ধারার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্ব যুগে বর্ণনাকারীদের এমন এক জনগোষ্ঠীর বর্ণনাকেই বুঝানো হয় যাদের মিথ্যা বলা স্বভাবতই অসম্ভব। এর বিপরীতই হচ্ছে এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা যা এমন পর্যায়ের নয়। এ সকল হাদীসও আক্বীদার ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।
কারো কারোর ধারণা, একমাত্র মুতাওয়াতির হাদীসই আক্বীদার ক্ষেত্রে একমাত্র গ্রহণযোগ্য। এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা নয় যা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছুতে পারেনি। এমন ধারণা একেবারেই বাতিল। কারণ, কোন হাদীস রাসূল () এর পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য কোন সূত্রে আমাদের নিকট পৌঁছুলে তা মানতে ও বিশ্বাস করতে আমরা অবশ্যই বাধ্য। কারণ, তা তখন রাসূল () এর হাদীস বলেই প্রমাণিত। অন্য কোন সাধারণ মানুষের কথা নয়। যা মানতে হয় না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَمَا كَانِ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ، وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا. অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল () কোন কিছুর আদেশ করলে তখন আর কোন মু'মিন পুরুষ ও মহিলার জন্য অন্য কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার থাকে না। কেউ আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল () এর অবাধ্য হলে সে তো স্পষ্টতই পথভ্রষ্ট। (আহযাব: ৩৬)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ، فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ). অর্থাৎ তুমি বলে দাওঃ তোমরা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল () এর আনুগত্য করো। যদি তারা তা না মানে তা হলে (তারা যেন জেনে রাখে) নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না। (আলি-ইমরান : ৩২)
তিনি আরো বলেনঃ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا. অর্থাৎ যারা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল () এর অবাধ্য হবে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। (জিন: ২৩)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُوْنَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ অর্থাৎ যারা রাসূল () এর আদেশ অমান্য করে তাদের সতর্ক থাকা আবশ্যক এ আশংকায় যে, তাদের উপর নেমে আসবে বিপর্যয় অথবা আপতিত হবে কঠিন শাস্তি। (সূরা নূর: ৬৩)
উক্ত আয়াতসমূহে কোন বিষয়কে বিশেষায়িত করা হয়নি। বরং রাসূল (ﷺ) এর সকল বাণী সর্ব বিষয়ে সমভাবেই গ্রহণযোগ্য। তাতে কোন পার্থক্য সৃষ্টি করা কখনোই বৈধ নয়। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
كُلُّ مَا جَاءَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ بِإِسْنَادٍ جَيْدٍ أَقْرَرْنَا بِهِ، وَإِذَا لَمْ نُقِرَّ بِمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، وَدَفَعْنَاهُ وَرَدَدْنَاهُ؛ رَدَدْنَا عَلَى اللهِ أَمْرَهُ؛ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : ﴿وَمَا أَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ، وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا.
অর্থাৎ সঠিক বর্ণন ধারায় রাসূল (ﷺ) এর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট যা কিছু পৌঁছেছে তা সবই আমরা মেনে নেবো। যদি আমরা তা না মানি বরং তার কিয়দংশও প্রত্যাখ্যান করি তা হলে আমরা যেন আল্লাহ্ তা'আলার আদেশই প্রত্যাখ্যান করলাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ রাসূল (ﷺ) তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা তোমরা সাদরে গ্রহণ করো এবং যা করতে তিনি তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন তা হতে তোমরা বিরত থাকো। [সূরা আল-হাশর : ৭ (ইত'হাফুল জামা'আহ্ ১/৪]
ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
قَدْ شَاعَ فَاشِيًا عَمَلُ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ بِخَبْرِ الْوَاحِدِ؛ مِنْ غَيْرِ نَكِيْرٍ، فَاقْتَضَى الاتِّفَاقَ مِنْهُمْ عَلَى الْقَبُوْلِ.
অর্থাৎ এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা যা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পৌঁছোয়নি এমন হাদীসের উপর আমল করার ব্যাপারটি সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিয়ীনদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিলো। এতে কখনো কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। সুতরাং তা সকল বিষয়ে গ্রহণযোগ্য হওয়ার ব্যাপারটি ঐকমত্যের রূপই ধারণ করে। (ফাতহুল বারী ১৩/২৩৪)
ইবনু তাইমিয়াহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
السُّنَّةُ إِذَا ثَبَتَتْ فَإِنَّ الْمُسْلِمِينَ كُلَّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى وُجُوبِ اتَّبَاعِهَا.
অর্থাৎ রাসূল (ﷺ) এর কোন হাদীস যখন সঠিক বলে প্রমাণিত হয়ে যায় তখন সকল মুসলমান এ ব্যাপারে একমত যে, তা মানা সকলের উপরই ওয়াজিব। (ফাতাওয়া: ১৯/৮৫)

📘 কিয়ামতের ছোটবড় নিদর্শন সমূহ > 📄 এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা যা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি তা যে সকল বিষয়ে মানতে হবে এর বিশেষ প্রমাণসমূহ

📄 এক বা একাধিক ব্যক্তির বর্ণনা যা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি তা যে সকল বিষয়ে মানতে হবে এর বিশেষ প্রমাণসমূহ


১. আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً، فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ).
অর্থাৎ মু'মিনদের জন্য এটা কখনো উচিৎ নয় যে, তারা সবাই একই সঙ্গে যুদ্ধের জন্য বের হয়ে পড়বে। এমন কেন হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি ছোট দল বের হবে ধর্মীয় জ্ঞান শেখার জন্য যেন তারা বাকীদেরকে ভয় দেখাতে পারে যখন তারা এলাকায় ফিরে আসবে। হয়তো বা ওরা এরই মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরে আসবে। (তাওবাহ: ১২২)
কুর'আন মাজীদের মধ্যে একজনকেও "ত্বায়িফাহ্” বলা হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ
وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا
অর্থাৎ মু'মিনদের দু'টি দল দ্বন্দ্ব-বিগ্রহে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে অবশ্যই মীমাংসা করে দিবে। ('হুজুরাত: ৯)
দু'টি দল কেন শুধুমাত্র দু'জনই কখনো পরস্পর দ্বন্দ্ব-বিগ্রহে লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়াও উক্ত আয়াতেরই অন্তর্গত। আর তখন এদের প্রতি জনই এক একটি ত্বায়িফাহ্ বলে গণ্য হবে।
সুতরাং প্রথমোক্ত আয়াতে ধর্মীয় ব্যাপারে একজনের কথাও যে গ্রহণযোগ্য তাই প্রমাণিত হলো। চাই তা হোক আক্বীদার ক্ষেত্রে অথবা শরীয়তের যে কোন বিধানের ক্ষেত্রে।
২. আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا.
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিকট যে কোন পাপাচারী কোন বার্তা নিয়ে আসলে তোমরা তা যাচাই করে দেখবে। ('হুজুরাত: ৬)
উক্ত আয়াত এটাই প্রমাণ করে যে, সংবাদদাতা যদি সৎ ও নির্ভরযোগ্য হয় তা হলে তার সংবাদ অবশ্যই মানতে হবে। তাতে কোন দ্বিধা করতে হবে না।
৩. তিনি আরো বলেনঃ
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُوْلَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ، فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا.
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য করো, রাসূল (ﷺ) এর আনুগত্য করো এবং তোমাদের উপরস্থদের। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কোন কিছু নিয়ে মতবিরোধ ঘটলে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল (ﷺ) তথা কুর'আন ও হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করো। যদি তোমরা আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে সঠিক বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটাই তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠ পরিসমাপ্তি। (নিসা': ৫৯)
যদি রাসূল এর সকল হাদীস সকল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যই না হয়ে থাকে তা হলে সকল ক্ষেত্রে তাঁর হাদীসের প্রতি প্রত্যাবর্তনের কোন গুরুত্বই থাকে না।
৪. রাসূল (ﷺ) তাঁর সময়কার কাফির রাষ্ট্রপতিদের প্রতি কিছু দিন পরপর তাঁর পক্ষ থেকে দূত পাঠাতেন এবং মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিটি এলাকায় পাঠাতেন তাঁর আমীর উমারাদেরকে। তখন ওই সকল এলাকার লোকজন যে কোন বিষয়ে তাঁদেরই শরণাপন্ন হতো। চাই তা আক্বীদার বিষয়েই হোক কিংবা আমলের বিষয়ে। যদি তাঁদের একার বর্ণনা তথা প্রচার-ফায়সালা শরীয়তের যে কোন ব্যাপারে গ্রহণযোগ্যই না হতো তা হলে যে কোন ব্যাপারে তাদের শরণাপন্ন হওয়ার কোন মানেই থাকে না।
৫. 'উমার তাঁর জনৈক আন্সারী সঙ্গীর সাথে এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হন যে, তিনি রাসূল (ﷺ) এর দরবারে অনুপস্থিত থাকলে সঙ্গীটি রাসূল (ﷺ) এর সকল কথা তাঁর নিকট পৌঁছাবে। আর সে অনুপস্থিত থাকলে তিনি রাসূল (ﷺ) এর সকল কথা তার নিকট পৌঁছাবেন। একক ব্যক্তির বর্ণনা যদি সকল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য না হতো তা হলে তাঁদের উক্ত চুক্তির কোন সার্থকতাই থাকে না।
৬. রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ
نَضَّرَ اللهُ امْرًا سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ، فَرُبَّ مُبَلَّغ أَوْعَى مِنْ سَامِع.
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা সজীব ও সতেজ করুক সে ব্যক্তিকে যে আমার কোন একটি হাদীস শুনে তা মুখস্থ করলো এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিলো। কারণ, অনেক সময় এমনো দেখা যায় যে, যার নিকট হাদীসটি পৌঁছিয়ে দেয়া হলো সে শ্রোতার চাইতেও বেশি ধারণক্ষম। (আহমাদ, হাদীস ৪১৫৭)
যদি রাসূল (ﷺ) এর সকল হাদীস (চাই তা একক বর্ণনায় হোক অথবা একাধিক বর্ণনায়) সকল ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য না হতো তা হলে এতো কষ্ট করে হাদীসগুলো মুখস্থ করে অন্যের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারটিকে রাসূল (ﷺ) ব্যাপকহারে উৎসাহিত করতেন না। বরং দয়ার নবী এ কথা সকলকে অবশ্যই জানিয়ে দিতেন যে, একক বর্ণনা আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তা নিয়ে এতো কষ্ট করার কোন কাম নেই।
মূলতঃ একক ব্যক্তির বর্ণনা যে আক্বীদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয় এমন কথাটি নব আবিষ্কৃত। যদি শরীয়তে এমন কিছু থেকে থাকতো তা হলে সাহাবায়ে কিরাম অবশ্যই তা জানতেন এবং পরবর্তীদেরকে সে ব্যাপারে সংকেতও দিতেন।
বরং পর্যালোচিত বিষয়টি এমন মারাত্মক যে, যদি তা মানা হয় তা হলে বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত এমন অনেকগুলো আক্বীদাকেই প্রত্যাখ্যান করতে হয় যা এমন বর্ণনায় বর্ণিত এবং যা নিম্নরূপঃ
ক. আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) সকল নবী এবং রাসূলগণের চাইতেও শ্রেষ্ঠ।
খ. রাসূল (ﷺ) কিয়ামতের দিন এমন একটি বড় ধরনের সুপারিশ করবেন যা অন্য কোন নবী করতে পারবেন না।
গ. নবী (ﷺ) নিজ উম্মতের মধ্যকার কবীরা গুনাহগারদের জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন।
ঘ. কুর'আন মাজীদ ছাড়া রাসূল (ﷺ) এর সকল মু'জিযাহ্ তথা অলৌকিক কর্মকাণ্ড।
ঙ. সৃষ্টির প্রারম্ভিক কথা, ফিরিস্তা ও জিনের বর্ণনা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বিশদ বর্ণনা যা কুর'আন মাজীদে উল্লিখিত হয়নি।
চ. কবরে মুন্কার ও নাকীর ফিরিস্তাদ্বয়ের প্রশ্নোত্তর।
ছ. মৃত ব্যক্তিকে কবরের ভয়ঙ্কর চাপ।
জ. পুল-স্বিরাত, হাউজে কাউসার ও আমলনামা মাপার বিশেষ দাঁড়িপাল্লার বিশদ বর্ণনা।
ঝ. মায়ের পেটে থাকাবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিটি মানুষের রিযিক, মৃত্যু, সুভাগ্য ও দুর্ভাগ্য লিখে দিয়েছেন।
ঙ. রাসূল (ﷺ) এর অনেকগুলো বিশেষত্ব যা বিশুদ্ধ হাদীসে পাওয়া যায়। যেমনঃ রাসূল (ﷺ) নিজ জীবদ্দশায় জান্নাতে প্রবেশ করেছেন, সেখানে তিনি জান্নাতীদেরকে এবং জান্নাতের নিয়ামতসমূহ দেখেছেন। তাঁর সাথের জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। ইত্যাদি ইত্যাদি।
চ. এ কথা বিশ্বাস করা যে, রাসূল (ﷺ) তাঁর জীবদ্দশায় যাঁদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন তাঁরা নিশ্চয়ই জান্নাতী।
ছ. কবীরা গুনাহগাররা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না। বরং প্রয়োজনীয় শাস্তি গ্রহণের পর তাদেরকে জান্নাত দেয়া হবে।
জ. কিয়ামতের বিস্তারিত বর্ণনা যা কুর'আন মাজীদে উল্লিখিত হয়নি।
ঝ. কিয়ামতের অধিকাংশ আলামতসমূহ। যেমনঃ মাহ্দীর বের হওয়া, ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, দাজ্জাল ও আগুনের বের হওয়া, পশ্চিম আকাশে সূর্য উঠা, এক আজব পশুর বের হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00