📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 জান্নাতীদের সবচেয়ে বড় আনন্দ

📄 জান্নাতীদের সবচেয়ে বড় আনন্দ


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ וּجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ﴾ [القيامة: ٢٢، ٢٣]
“সেদিন কতক মুখমণ্ডল হবে হাস্যোজ্জল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপকারী”। [সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২২-২৩]
হাদীসে এসেছে: সুহাইব ইবন সিনান আর রুমী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، قَالَ: يَقُولُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ تُبَيِّضُ وُجُوهَنَا ؟ أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ، وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ، فَمَا أُعْطُوا شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى رَبِّهِمْ عَزَّ وَجَلَّ " وفي رواية: وزاد: ثم تلا هذه الآية: اللذين أحسنوا الحسنى وزيادة [ يونس / الآية - 26 ]. »
"যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন: তোমাদের আরো কিছু বাড়িয়ে দেই এমন কিছুকি তোমরা চাও? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা হাস্যোজ্জল করেন নি? আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি? আপনি কি আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? এরপর আল্লাহ তা'আলা তার চেহারা থেকে পর্দা উঠিয়ে তাদের জন্য নিজ চেহারাকে উন্মুক্ত করবেন। তখন তাদের অনুভুতি হবে আমাদের যা কিছু দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে আল্লাহ তা'আলার এ দর্শনই সর্বাধিক প্রিয়। এ কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর এ বাণীটি তিলাওয়াত করেন: যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম (জান্নাত) এবং আরো বেশি (তা হলো আল্লাহকে সরাসরি দেখা)"। ⁸¹

টিকাঃ
⁸¹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮১。

📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 জান্নাতবাসীরা পৃথিবীর অধিবাসী সাথিদের অবস্থা দেখতে পাবে

📄 জান্নাতবাসীরা পৃথিবীর অধিবাসী সাথিদের অবস্থা দেখতে পাবে


যারা জান্নাতে যাবে পৃথিবীতে তাদের এমন কিছু সহকর্মী, সাথি বন্ধু থাকবে যারা জাহান্নামে যাবে। কারণ, তারা পরকালে বিশ্বাস করতো না। জান্নাতে বসে পৃথিবীর সেই অবিশ্বাসী সঙ্গি-সাথীদের কথা মনে পড়ে যাবে। বলবে, আমার তো অমুক বন্ধু ছিল, কিন্তু সে পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস করতো না। তার অবস্থা এখন কী? সে কোথায় আছে? তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার অবিশ্বাসী বন্ধুদের অবস্থা দর্শন করাবেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ * قَالَ قَابِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ * يَقُولُ أَعِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ * أَعِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَعِنَّا لَمَدِينُونَ * قَالَ هَلْ أَنتُم مُطَّلِعُونَ * فَاطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ * قَالَ تَاللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ * وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ ﴾ [الصافات: ٥٠، ٥٧]
"অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে। তাদের একজন বলবে, (পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল, সে বলত, তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাবো তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেওয়া হবে? আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে? অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে। সে বলবে, আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে! আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম"। [সূরা আস-সাফফাত, আয়াত: ৫০- ৫৭]
এ আয়াতসমূহ থেকে আমরা শিখতে পারলাম, পৃথিবীর কর্মস্থল, পড়াশুনা, যাত্রাপথ ইত্যাদি সুত্রে যে সকল সঙ্গী-সাথি আছে তাদের মধ্যে যারা অবিশ্বাসী তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিৎ। যেমন, এ আয়াতে আমরা দেখি জান্নাতী লোকটি বলবে, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে। হ্যা কুরআনের কথা সত্যি। এ সকল অবিশ্বাসী মানুষের সাথে চলাফেরা উঠা-বসা করলে তারা বিশ্বাসীদের আকীদা-বিশ্বাস নষ্ট করে ফেলে।
অন্য আয়াতে এসেছে:
﴿ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ ﴾ ﴿ عَنِ الْمُجْرِمِينَ مَا سَلَكَكُمْ فِي سَفَرَ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ ﴾ ﴿ حَتَّى أَتَنَا الْيَقِينُ فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ ﴾ [المدثر: ٣٨، ٤٩]
"প্রতিটি প্রাণ নিজ অর্জনের কারণে দায়বদ্ধ; কিন্তু ডান দিকের লোকেরা নয়, জান্নাতসমূহের মধ্যে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে অপরাধীদের সম্পর্কে: কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করালো? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। আর আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না। আর আমরা অনর্থক গল্প-গুজবকারীদের সাথে (বেহুদা আলাপে) মগ্ন থাকতাম। আর আমরা প্রতিদান দিবসকে অবিশ্বাস করতাম। অবশেষে আমাদের কাছে মৃত্যু আগমন করে। অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকার করবে না। আর তাদের কী হয়েছে যে, তারা উপদেশ বাণী থেকে বিমুখ?” [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৩৮-৪৯]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00