📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 জান্নাতের নদ-নদী

📄 জান্নাতের নদ-নদী


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ إِنَّ الَّذِينَ ءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا * أُوْلَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِّن سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَابِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا ﴾ [الكهف: ٣٠، ٣١]
"নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, নিশ্চয় আমরা এমন কারো প্রতিদান নষ্ট করব না, যে সু-কর্ম করেছে। এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বিশ্রামস্থল"! [সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ৩০-৩১]
﴿مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَرٌ مِّن مَّاءٍ غَيْرِ آسِنٍ وَأَنْهَرٌ مِّن لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرْ طَعْمُهُ وَأَنْهَرٌ مِّنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِّلشَّرِبِينَ وَأَنْهَرٌ مِّنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ كَمَنْ هُوَ خَالِدٌ فِي النَّارِ وَسُقُواْ مَاءً حَمِيمًا فَقَطَّعَ أَمْعَاءَهُمْ ﴾ [محمد: ١٥]
"মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো, তাতে রয়েছে নির্মল পানির নহরসমূহ, দুধের ঝর্নাধারা, যার স্বাদ পরিবর্তিত হয় নি, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহরসমূহ এবং আছে পরিশোধিত মধুর ঝর্নাধারা। তথায় তাদের জন্য থাকবে সব ধরনের ফলমূল আর তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা। তারা কি তাদের ন্যায়, যারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে এবং তাদেরকে ফুটন্ত পানি পান করানো হবে ফলে তা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে?” [সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৫]

📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 জান্নাতের হুর সঙ্গী

📄 জান্নাতের হুর সঙ্গী


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَعِندَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ * كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُونٌ﴾ [الصافات: ٤٨، ٤٩]
"তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা। তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম”। [সূরা সাফফাত, আয়াত: ৪৮-৪৯)
﴿هَذَا ذِكْرٌ وَإِنَّ لِلْمُتَّقِينَ لَحُسْنَ مَابٍ جَنَّاتِ عَدْنٍ مُّفَتَّحَةً لَّهُمُ الْأَبْوَابُ * مُتَّكِينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ وَعِندَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابٌ هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِيَوْمِ الْحِسَابِ إِنَّ هَذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِن نَّفَادٍ﴾ [ص: ٤٩، ٥٤]
"এটি এক স্মরণ, আর মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম নিবাস- চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ থাকবে তাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে তারা হেলান দিয়ে আসীন থাকবে, সেখানে তারা বহু ফলমূল ও পানীয় চাইবে। আর তাদের নিকটে থাকবে আনতনয়না সমবয়সীরা। হিসাব দিবস সম্পর্কে তোমাদেরকে এ ওয়াদাই দেওয়া হয়েছিল। নিশ্চয় এটি আমার দেওয়া রিযিক, যা নিঃশেষ হবার নয়"। [সূরা সাদ, আয়াত: ৪৯-৫৪]

📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 জান্নাতের সুখ-শান্তি হবে চিরস্থায়ী

📄 জান্নাতের সুখ-শান্তি হবে চিরস্থায়ী


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَالَّذِينَ ءَامَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِيلًا ﴾ [النساء: ٥٧]
“আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা হবে স্থায়ী। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র সঙ্গীগণ এবং তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব বিস্তৃত ঘন ছায়ায়”। [সূরা নিসা, আয়াত: ৫৭]
হাদীসে এসেছে: আবু সায়ীদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ لِأَهْلِ الجَنَّةِ: يَا أَهْلَ الجَنَّةِ، فَيَقُولُونَ: لَبَّيْكَ رَبَّنَا وَسَعْدَيْكَ وَالخَيْرُ فِي يَدَيْكَ، فَيَقُولُ: هَلْ رَضِيتُمْ؟ فَيَقُولُونَ: وَمَا لَنَا لَا نَرْضَى يَا رَبِّ وَقَدْ أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، فَيَقُولُ: أَلَا أُعْطِيكُمْ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ، فَيَقُولُونَ: يَا رَبِّ وَأَيُّ شَيْءٍ أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ، فَيَقُولُ: أُحِلُّ عَلَيْكُمْ رِضْوَانِي فَلَا أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ بَعْدَهُ أَبَدًا »
“আল্লাহ তা'আলা জান্নাতবাসীদের বলবেন, হে জান্নাতবাসীগণ! তারা বলবে, উপস্থিত হে রব, সৌভাগ্য ও কল্যাণতো আপনারই হাতে। তারা বলবে, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো? তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা কেন সন্তুষ্ট হবো না? আপনি আমাদের এমন নেওয়ামত ও সুখ-শান্তি দিয়েছেন যা কখনো অন্য কাউকে দেননি। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমি কি তোমাদের এরচেয়ে উত্তম কোনো কিছু দেব? তখন তারা বলবে, হে প্রতিপালক! যা দিয়েছেন তার চেয়ে আবার উত্তম কোনো জিনিস আছে কী? আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আজ থেকে আমার সন্তুষ্টি তোমাদের উপর স্থায়ী হয়ে গেল। আর কোনো দিন তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবো না"। ⁷⁹
হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারলাম আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্টি লাভ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ নি'আমত। ব্যাপারটা আমরা এভাবে বুঝতে পারি, আপনি যদি কোনো এক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানের অধীনে চাকুরী করেন। আর সকল দায়িত্ব কর্তব্য পালন করে যান, তাহলে সে আপনার প্রাপ্য পুরোপুরিভাবে আদায় করবে। আপনাকে নিয়মের মধ্যে থেকে পদোন্নতি দেবে। এরচেয়ে বেশি কি? কিন্তু তিনি যদি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আপনাকে তার প্রিয় করে নেন, তাহলে ব্যাপারটা কত বড় হয়ে গেল। তখন শুধু নির্ধারিত বেতন আর পদোন্নতি নয়। পাবেন সব সুখ শান্তি, সম্মান, এমনকি কর্তৃত্বও।
এভাবেই আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদের জান্নাতের সুখ শান্তি দিবেন। কিন্তু যখন তিনি ঘোষণা করবেন আমি স্থায়ীভাবে তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম, তখন এটার মর্যাদা ও আনন্দ যে কত বিশাল হবে সেটা শুধু তখনই অনুভব করা যাবে।
আল্লাহ তা'আলা মেহেরবানী করে আমাদের জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
হাদীসে এসেছে: আবু সায়ীদ ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« يُنَادِي مُنَادٍ : إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلَا تَمُوتُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلَا تَبْأَسُوا أَبَدًا " فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ: (وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ) [الأعراف: 43] »
“জান্নাতে একজন ঘোষক ঘোষণা দেবে: তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। তোমরা চিরদিন জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যু আসবে না। তোমরা চিরদিন যুব থাকবে। বার্ধক্যে তখনো তোমাদের স্পর্ষ করবে না। তোমরা সর্বদা পরিতৃপ্ত থাকবে। কখনো ক্ষুধার্ত হবে না। আর এটা আল্লাহ তা'আলার সেই কথার বাস্তবায়ন: তাদেরকে ডেকে বলা হবে, ঐ হলো জন্নাত। তোমরা যা কাজ করেছো, তার বিনিময়ে এর উত্তরাধিকারী করা হলো”। ⁸⁰

টিকাঃ
⁷⁹ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫১৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮২৯。
⁸⁰ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮৩৭。

📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 জান্নাতীদের সবচেয়ে বড় আনন্দ

📄 জান্নাতীদের সবচেয়ে বড় আনন্দ


আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ וּجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ﴾ [القيامة: ٢٢، ٢٣]
“সেদিন কতক মুখমণ্ডল হবে হাস্যোজ্জল। তাদের রবের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপকারী”। [সূরা আল-কিয়ামা, আয়াত: ২২-২৩]
হাদীসে এসেছে: সুহাইব ইবন সিনান আর রুমী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ، قَالَ: يَقُولُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: تُرِيدُونَ شَيْئًا أَزِيدُكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: أَلَمْ تُبَيِّضُ وُجُوهَنَا ؟ أَلَمْ تُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ، وَتُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: فَيَكْشِفُ الْحِجَابَ، فَمَا أُعْطُوا شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَى رَبِّهِمْ عَزَّ وَجَلَّ " وفي رواية: وزاد: ثم تلا هذه الآية: اللذين أحسنوا الحسنى وزيادة [ يونس / الآية - 26 ]. »
"যখন জান্নাতবাসীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন: তোমাদের আরো কিছু বাড়িয়ে দেই এমন কিছুকি তোমরা চাও? তারা বলবে, আপনি কি আমাদের চেহারা হাস্যোজ্জল করেন নি? আপনি কি আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করাননি? আপনি কি আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি? এরপর আল্লাহ তা'আলা তার চেহারা থেকে পর্দা উঠিয়ে তাদের জন্য নিজ চেহারাকে উন্মুক্ত করবেন। তখন তাদের অনুভুতি হবে আমাদের যা কিছু দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে আল্লাহ তা'আলার এ দর্শনই সর্বাধিক প্রিয়। এ কথা বলার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর এ বাণীটি তিলাওয়াত করেন: যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম (জান্নাত) এবং আরো বেশি (তা হলো আল্লাহকে সরাসরি দেখা)"। ⁸¹

টিকাঃ
⁸¹ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00