📄 মুমিনদের জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘আত
কিয়ামতের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি শাফা'আত হবে সকলের জন্য। আর সেটা বিচার - ফয়সালা শুরু করার আবেদন সম্পর্কে। সকল নবী ও রাসূল এ ব্যাপারে শাফা'আত করতে অস্বীকার করবে, নিজেদের অপরাগতা প্রকাশ করবে। শেষে আখেরী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফা'আত করবেন। এটা হলো সাধারণ শাফা'আত। সকল মানুষ এ শাফা'আত দ্বারা উপকৃত হবে।
আরেকটি শাফা'আত হবে যে সকল মুমিন পাপের কারণে জাহান্নামে গেছে তাদের উদ্ধার ও মুক্তির জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফা'আত করবেন।
যেমন হাদীসে এসেছে: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« لِكُلِّ نَي دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ، فَتَعَجَّلَ كُلُّ نَيَّ دَعْوَتَهُ، وَإِنِّي اخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَهِيَ نَائِلَةٌ إِنْ شَاءَ اللهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا»
"প্রত্যেক নবীর রয়েছে কিছু দো'আ যা অবশ্যই কবুল করা হয়। সকল নবী এ দো'আগুলো করার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করেছেন। কিন্তু আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন শাফা'আত করার জন্য এ দো'আগুলো আমি ব্যবহার করিনি। ইনশাআল্লাহ সেই শাফা'আত পাবে আমার অনুসারী ঐ সকল ব্যক্তিবর্গ যারা কখনো আল্লাহ তা'আলার সাথে কোনো কিছু শরীক করে নি"। ⁵²
হাদীসে আরো এসেছে: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
« قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لاَ يَسْأَلْنِي عَنْ هَذَا الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ، أَوْ نَفْسِهِ» »
"আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, কিয়ামতের দিন আপনার শাফা'আত দ্বারা কে ভাগ্যবান হবে? তিনি বললেন, "হে আবু হুরায়রা আমি জানি তোমার পূর্বে কেহ এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে নি। তোমাকে হাদীসের বিষয়ে বেশি আগ্রহী দেখছি। কিয়ামতের দিন আমার শাফা'আত দ্বারা সবচেয়ে ভাগ্যবান হবে ঐ ব্যক্তি যে অন্তর দিয়ে নির্ভেজাল পদ্ধতিতে বলেছে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই"। ⁵³
এ দুটো হাদীস পাঠে আমরা জানতে পারলাম কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত দ্বারা কারা ধন্য হবে। যারা অন্তর দিয়ে শির্ক মুক্ত থেকে আল্লাহ তা'আলার তাওহীদে বিশ্বাস করেছে তারাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত পাবে। তারা যতই পাপী হোক না কেন।
আমাদের সমাজে আমরা এমন কিছু লোক দেখি যারা রাসূলের শাফা'আত লাভ করার জন্য বিভিন্ন শির্ক ও বিদ'আতী কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। আর বলে এগুলো করে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত লাভ করতে পারবো। তাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহর সাথে শির্ক করে কখনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফা'আত লাভ করা যাবে না। ঈমান যদি সম্পূর্ণ শির্কমুক্ত থাকে তখন পাপের পাহাড় যত বড়ই হোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত লাভ ও আল্লাহ তা'আলার বিশেষ ক্ষমতায় জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব হবে। কিন্তু ঈমান যদি সম্পূর্ণ শির্কমুক্ত না থাকে তাহলে নেক আমলের পাহাড় নিয়ে উপস্থিত হলেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের সুযোগ নেই। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত লাভে ধন্য হওয়ারও সম্ভাবনা নেই।
টিকাঃ
⁵² সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৯。
⁵³ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯。
📄 তাওহীদবাদী গুনাহগারদের জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা
হাদীসে এসেছে: আবু সায়ীদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا، فَإِنَّهُمْ لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ، وَلَكِنْ نَاسٌ أَصَابَتْهُمُ النَّارُ بِذُنُوبِهِمْ - أَوْ قَالَ بِخَطَايَاهُمْ - فَأَمَاتَهُمْ إِمَاتَةٌ حَتَّى إِذَا كَانُوا فَحْمًا، أُذِنَ بِالشَّفَاعَةِ، فَجِيءَ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ، فَبُثُّوا عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ، ثُمَّ قِيلَ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ، أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ، فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ»
"যারা জাহান্নামবাসী তারা মরবেও না আবার বাঁচবেও না। কিন্তু যে সকল (ঈমানদার) মানুষ পাপের কারণে জাহান্নামে যাবে তাদের এক ধরনের মৃত্যু ঘটানো হবে। তারা পুরে কয়লা হয়ে যাবে। তখন তাদের ব্যাপারে সুপারিশ করার অনুমতি দেওয়া হবে। তাদেরকে এক এক দল করে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। অতঃপর জান্নাতের নদীতে রাখা হবে। এরপর বলা হবে হে জান্নাতবাসীরা! তোমরা তাদের উপর পানি ঢালো। ফলে তারা উদ্ভিদের মতো জীবন লাভ করবে, যেমন বন্যার পানির পলি পেয়ে উদ্ভিদ জন্ম লাভ করে থাকে"। ⁵⁴
এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী রহ. বলেন, কুফুরী করার কারণে যারা জাহান্নামে যাবে তারা চিরকাল সেখানে অবস্থান করবে। তাদের কখনো মৃত্যু হবে না। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُم مِّنْ عَذَابِهَا كَذَلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ ﴾ [فاطর: ٣৬]
"আর যারা কুফুরী করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের প্রতি এমন কোনো ফয়সালা দেওয়া হবে না যে, তারা মারা যাবে এবং তাদের থেকে জাহান্নামের আযাবও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমরা প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে প্রতিফল দিয়ে থাকি”। [সূরা আল-ফাতির, আয়াত: ৩৬]
এমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَى ﴾ [الاعلى: ১৩]
"তারপর সে সেখানে মরবেও না আর বাঁচবেও না”। [সূরা আল-আলা, আয়াত: ১৩]
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা এটাই যে জান্নাতের সুখ আর জাহান্নামের শাস্তি চিরস্থায়ী। তবে এ হাদীসে বর্ণিত মৃত্যু হলো আল্লাহ তা'আলার তাওহীদ বা একত্ববাদে বিশ্বাসী জাহান্নামীদের জন্য। তাদের শাস্তির অনুভূতি লোপ করে মৃত্যুর মতো এক ধরনের অনুভুতিহীনতা দান করা হবে। তাদের নিজ পাপ অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করানো হবে। তাদের এক ধরনের অনুভূতিহীনতা প্রদান করা হবে। এটাকে বলা হয়েছে তারা কয়লা হয়ে যাবে। এরপর তাদের নতুন জীবন দান করা হবে। কাজেই মৃত্যু দেওয়া হবে না বলে যে বাণী এসেছে সেটা কাফিরদের জন্য প্রযোজ্য। (শরহে মুসলিম)
টিকাঃ
⁵⁴ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৫。
📄 আ‘রাফবাসীদের পরিচয়
আরাফ হলো, জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে একটি প্রাচীর। জান্নাতে প্রবেশের প্রতীক্ষায় কিছু সময়ের জন্য যারা সেখানে অবস্থান করবেন তাদেরকে বলা হয় আরাফবাসী।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ وَنَادَىٰ أَصْحَٰبُ ٱلْجَنَّةِ أَصْحَٰبَ ٱلنَّارِ أَن قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدتُّم مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا قَالُوا نَعَمْ ۚ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَيْنَهُمْ أَن لَّعْنَةُ ٱللَّهِ عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ ﴾ ﴿ ٱلَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُم بِٱلْءَاخِرَةِ كَٰفِرُونَ ﴾ ﴿ وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ ۚ وَعَلَى ٱلْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلًّا بِسِيمَٰهُمْ ۚ وَنَادَوْا۟ أَصْحَٰبَ ٱلْجَنَّةِ أَن سَلَٰمٌ عَلَيْكُمْ ۚ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ ﴾ ﴿ وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَٰرُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَٰبِ ٱلنَّارِ قَالُوا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ ٱلْقَوْمِ ٱلظَّٰلِمِينَ ﴾ ﴿ وَنَادَىٰ أَصْحَٰبُ ٱلْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَٰهُمْ قَالُوا۟ مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ ﴾ ﴿ أَهَٰؤُلَاءِ ٱلَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ ٱللَّهُ بِرَحْمَةٍ ۚ ٱدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ ﴾ [الأعراف: ٤٤، ٤٨]
"আর জান্নাতের অধিবাসীগণ আগুনের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, আমাদের রব আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা আমরা সত্য পেয়েছি। সুতরাং তোমাদের রব তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন, তা কি তোমরা সত্যই পেয়েছ? তারা বলবে হ্যাঁ, অতঃপর এক ঘোষক তাদের মধ্যে ঘোষণা দেবে যে, আল্লাহর লানত যালিমদের উপর। যারা আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করত এবং তাতে বক্রতা সন্ধান করত এবং তারা ছিল আখিরাতকে অস্বীকারকারী আর তাদের মধ্যে থাকবে পর্দা এবং আরাফের উপর থাকবে কিছু লোক, যারা প্রত্যেককে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে। আর তারা জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাকবে যে, তোমাদের উপর সালাম। তারা (এখনো) তাতে প্রবেশ করে নি তবে তারা আশা করবে। আর যখন তাদের দৃষ্টিকে আগুনের অধিবাসীদের প্রতি ফেরানো হবে, তারা বলবে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। আর আরাফের অধিবাসীরা এমন লোকদেরকে ডাকবে, যাদেরকে তারা চিনবে তাদের চিহ্নের মাধ্যমে, তারা বলবে, তোমাদের দল এবং যে বড়াই তোমরা করতে তা তোমাদের উপকারে আসেনি। এরাই কি তারা যাদের ব্যাপারে তোমরা কসম করতে যে, আল্লাহ তাদেরকে রহমতে শামিল করবেন না? তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমাদের উপর কোনো ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না"। [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৪৪-৪৯]
আরাফবাসীদের পরিচয় সম্পর্কে হাদীসে এসেছে: হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন,
« أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ قَوْمٌ تَجَاوَزَتْ بِهِمْ حَسَنَاتُهُمُ النَّارَ، وَقَصُرَتْ بِهِمْ سَيِّئَاتُهُمْ عَنِ الْجَنَّةِ، فَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ، قَالُوا: رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ. فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذِ اطَّلَعَ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ. قَالَ: «قُومُوا ادْخُلُوا الْجَنَّةَ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ» »
"আরাফবাসী হলো এমন এক দল, যাদের সৎকর্ম এত পরিমাণ যে তা তাদের জাহান্নামে যেতে দেয় না আবার পাপাচার এত পরিমাণ যে তা জান্নাতে প্রবেশ করতে দেয় না। (অর্থাৎ পাপ ও পুণ্য সমানে সমান) যখন তাদের মুখ জাহান্নামবাসীদের দিকে ফেরানো হবে তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না। তারা এমনি অবস্থায় থাকবে। তখন তোমার প্রতিপালক বলবেন, যাও, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম"। ⁵⁵
ইবন কাসীর রহ. আরাফ ও আরাফবাসীদের পরিচয় প্রসঙ্গে বলেন, সূরা আরাফে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কথা দ্বারা বুঝা গেল জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে একটি প্রাচীর আছে। যার কারণে জাহান্নামীরা জান্নাতের কাছে যেতে পারবে না। ইবন জরীর রহ. বলেন, এই প্রাচীর সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
﴿ فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُ بَابٌ بَاطِنُهُ فِيهِ الرَّحْمَةُ وَظَهِرُهُ مِن قِبَلِهِ الْعَذَابُ ﴾ [الحديد: ١٣]
"তারপর তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর স্থাপন করে দেওয়া হবে, যাতে একটি দরজা থাকবে। তার ভিতরভাগে থাকবে রহমত এবং তার বহির্ভাগে থাকবে আযাব”। [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১৩]
আর সূরা আরাফে আল্লাহ এ প্রাচীরের কাছে অবস্থানকারীদের সম্পর্কে বলেছেন এবং আরাফের উপর থাকবে কিছু লোক।
আরবী ভাষায় উঁচু স্থানকে আরাফ বলা হয়।
আরাফবাসী কারা হবে এ সম্পর্কে তাফসীরবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে সকলের মতামত একত্র করলে যে ফলাফল বের হয়ে আসে তা হলো, যাদের সৎকর্ম ও পাপাচারের পরিমাণ সমানে সমান হবে তারাই হবে আরাফবাসী। সাহাবী হুযাইফা, ইবন আব্বাস, ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু প্রমুখের মতামত এ রকমই। (তাফসীরে ইবন কাসীর)
টিকাঃ
⁵⁵ হাকেম, হাদীস নং ৩২৪৭, তিনি বলেছেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। ইমাম জাহাবী এ কথার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
📄 পুলসিরাত ও জান্নাতের মধ্যে একটি প্রতিবন্ধক গেট
যখন মুমিনগণ পুলসিরাত অতিক্রম করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবেন আর আল্লাহ তা'আলা শাফাআতের অনুমতি দিয়ে বহু সংখ্যক লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন তখন যে সকল মানুষ দ্বারা অন্যেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা পুলসিরাতের প্রতিবন্ধক গেটে আটকা পড়ে যাবে। তাদের আটকে দেওয়া হবে এ জন্য, যে সকল মানুষের অধিকার সে ক্ষুন্ন করেছে তাদের প্রতিকার আদায় করা হবে তার থেকে।
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে: আবুল মুতাওক্কিল আন-নাজী থেকে বর্ণিত, আবু সায়ীদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«﴿يَخْلُصُ الْمُؤْمِنُونَ مِنَ النَّارِ، فَيُحْبَسُونَ عَلَى قَنْطَرَةِ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، فَيُقَصُّ لِبَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ مَظَالِمُ كَانَتْ بَيْنَهُمْ فِي الدُّنْيَا، حَتَّى إِذَا هُذِّبُوا وَنُقُوا أُذِنَ لَهُمْ فِي دُخُولِ الْجَنَّةِ﴾»
"মুমিনগণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে কিন্তু তারা জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি গেটে আটকে যাবে। তখন দুনিয়াতে তারা একজন অপর জনের প্রতি যে যুলুম ও অন্যায় আচরণ করেছে তার প্রতিকার ও বিচার করা হবে। যখন দায়মুক্ত হবে ও তারা পবিত্র হবে তখন জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি পাবে"।⁵⁶
হাফেয ইবন হাজার রহ, বলেছেন, সম্ভবত এরাই হবে আরাফবাসী। যারা অন্য লোকের অধিকার হরণ বা তাদের ওপর যুলুম-অত্যাচার করার কারণে জান্নাতে প্রবেশের পথে আটকে যাবে।
টিকাঃ
⁵⁶ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫৩৫。