📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 তাওহীদের মূল্যায়ন

📄 তাওহীদের মূল্যায়ন


তাওহীদ বা আল্লাহ তা'আলার একত্ববাদে অবিচল বিশ্বাস দীন ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যার তাওহীদী আকীদা-বিশ্বাসে সমস্যা আছে তার কোনো নেক আমল কাজে আসবে না। দুনিয়া পরিমাণ সম্পদ ছদকা বা আল্লাহর পথে নিজের প্রাণ ও সম্পদ সবকিছু কুরবানী দিলেও নয়। অপরপক্ষে যারা তাওহীদী-আকীদা বিশ্বাস নির্ভেজাল হবে ও এর ওপর অবিচল থাকবে তার অন্য কোনো নেক আমল না থাকলেও তাওহীদের কারণে সে একদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। কিয়ামত পরবর্তী বিচারেও তাওহীদের মূল্যায়ন করা হবে গুরুত্বের সাথে। হাদীসে এর দৃষ্টান্ত এভাবে এসেছে: আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি,
« إِنَّ اللَّهَ سَيُخَلَّصُ رَجُلًا مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُءُوسِ الخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَنْشُرُ عَلَيْهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعِينَ سِجِلًّا كُلُّ سِجِلٌّ مِثْلُ مَدَّ البَصَرِ ، ثُمَّ يَقُولُ: أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا؟ أَظْلَمَكَ كَتَبَتِي الحَافِظُونَ؟ فَيَقُولُ : لَا يَا رَبِّ، فَيَقُولُ: أَفَلَكَ عُذْرُ؟ فَيَقُولُ: لَا يَا رَبِّ، فَيَقُولُ: بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَةً، فَإِنَّهُ لَا ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ، فَتَخْرُجُ بِطَاقَةٌ فِيهَا: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، فَيَقُولُ: احْضُرُ وَزْنَكَ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ مَا هَذِهِ البِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السَّجِلَّاتِ، فَقَالَ: إِنَّكَ لَا تُظْلَمُ "، قَالَ: فَتُوضَعُ السَّجِلَّاتُ فِي كَفَّةٍ وَالبِطَاقَةُ فِي كَفَةٍ، فَطَاشَتِ السَّجِلَّاتُ وَثَقُلَتِ البِطَاقَةُ، فَلَا يَثْقُلُ مَعَ اسْمِ اللَّهِ شَيْءٌ »
"কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে মুক্তি দিবেন এভাবে যে তার সামনে নিরানব্বইটি পাপের দফতর উপস্থিত করা হবে। প্রতিটি দফতরের পরিধি হবে চোখের নজরের পরিধির মত বিশাল। আল্লাহ তা'আলা তাকে বলবেন, তুমি কি এর কোনটি অস্বীকার করো? আমার লেখক ফিরিশতারা কি তোমার প্রতি অন্যায় করে এসব লিখেছে? সে উত্তরে বলবে, না, হে আমার প্রভু! আল্লাহ বলবেন এসব পাপের ব্যাপারে তোমার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ বা বক্তব্য আছে? সে উত্তরে বলবে, না, হে আমার রব! আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তাহলে শোন, তোমার জন্য আমার কাছে একটি মাত্র নেক আমল আছে। আর আজ তোমার প্রতি কোনো যুলুম করা হবে না। এরপর আল্লাহ একটি টিকেট বের করবেন। তাতে লেখা আছে, আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আরো স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহ তা'আলার বান্দা ও রাসূল। এরপর আল্লাহ বলবেন, আমি এ টিকেটটির ওযন দেব। লোকটি বলবে, হে আমার প্রভু! এ টিকেটটির সাথে এতগুলো বিশাল দফতরের ওযন দিলে কী লাভ হবে? আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমার উপর কোনো যুলুম করা হবে না। এই টিকেটটি এক পাল্লায় রাখা হবে আর পাপের দফতরগুলো রাখা হবে অন্য পাল্লায়। টিকেটটির পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। আসলে আল্লাহ তা'আলার নামের সামনে কোনো কিছু কি ভারী হতে পারে?"⁴⁹
এ হাদীসে আমরা দেখলাম আলোচ্য ব্যক্তি পাহাড়সম পাপ করেছিলো। কিন্তু আল্লাহর একত্ববাদে তার বিশ্বাস ছিল নির্ভেজাল। তার বিশ্বাস ছিল শির্কমুক্ত। সে বিশ্বাসী ছিল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেসালাতের প্রতিও। এ কারণে সে মুক্তি পেয়ে গেছে। আমরা কি পেরেছি আমাদের তাওহীদকে নির্ভেজাল করতে? আমরা কি পেরেছি ছোট-বড় সকল শির্ক থেকে সর্বদা নিজেকে পবিত্র রাখতে? আসলে আমরা পারি নি। কখনো জেনে কখনো না জেনে বুঝে আমরা বিভিন্ন শির্কে লিপ্ত হয়ে পড়ছি। আল্লাহকে ভালোবাসতে যেয়ে, তার রাসূলের প্রতি মুহাব্বাতের প্রকাশ করতে যেয়েও আমরা অহরহ শির্কে লিপ্ত।
হচ্ছি। তাই আমাদের সকলের উচিত বার বার নিজের তাওহীদি বিশ্বাসকে যাচাই করে নেওয়া। শির্কের ধারে কাছেও না যাওয়া। যদি কখনো কেহ বলে, এটা শির্ক। ব্যস, সাথে সাথে তা পরিহার করা।
আলোচ্য ব্যক্তি শুধু মুখে মুখে কালেমায়ে শাহাদত উচ্চারণ করেছে বলে মুক্তি পায় নি। মুখে মুখে তো কোটি কোটি লোক উচ্চারণ করে।

টিকাঃ
⁴⁹ তিরমিজী, হাদীস নং ২৬৩৯, তিনি হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন সিলসিলাতুল আহাদীস আস সহীহা নং ১৩৫。

📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 পুলসিরাত সম্পর্কে হাদীস

📄 পুলসিরাত সম্পর্কে হাদীস


আবু সায়ীদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন,
«قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ القِيَامَةِ؟ قَالَ: «هَلْ تُضَارُونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ وَالقَمَرِ إِذَا كَانَتْ صَحْوًا؟»، قُلْنَا: لَا ، قَالَ: «فَإِنَّكُمْ لَا تُضَارُونَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ يَوْمَئِذٍ، إِلَّا كَمَا تُضَارُونَ فِي رُؤْيَتِهِمَا ثُمَّ قَالَ: " يُنَادِي مُنَادٍ : لِيَذْهَبْ كُلُّ قَوْمٍ إِلَى مَا كَانُوا يَعْبُدُونَ، فَيَذْهَبُ أَصْحَابُ الصَّلِيبِ مَعَ صَلِيبِهِمْ، وَأَصْحَابُ الْأَوْثَانِ مَعَ أَوْثَانِهِمْ، وَأَصْحَابُ كُلِّ آلِهَةٍ مَعَ الهَتِهِمْ، حَتَّى يَبْقَى مَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهَ مِنْ بَرَّ أَوْ فَاجِرٍ، وَعُبَّرَاتٌ مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ، ثُمَّ يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ تُعْرَضُ كَأَنَّهَا سَرَابٌ، فَيُقَالُ لِلْيَهُودِ: مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ؟ قَالُوا : كُنَّا نَعْبُدُ عُزَيْرَ ابْنَ اللَّهِ، فَيُقَالُ: كَذَبْتُمْ، لَمْ يَكُنْ لِلَّهِ صَاحِبَةٌ وَلَا وَلَدٌ، فَمَا تُرِيدُونَ؟ قَالُوا: نُرِيدُ أَنْ تَسْقِيَنَا، فَيُقَالُ: اشْرَبُوا، فَيَتَسَاقَعُونَ فِي جَهَنَّمَ، ثُمَّ يُقَالُ لِلنَّصَارَى مَا كُنْتُمْ تَعْبُدُونَ؟ فَيَقُولُونَ: كُنَّا نَعْبُدُ المَسِيحَ ابْنَ اللَّهِ، فَيُقَالُ: كَذَبْتُمْ، لَمْ يَكُنْ لِلَّهِ صَاحِبَةٌ، وَلَا وَلَدٌ، فَمَا تُرِيدُونَ؟ فَيَقُولُونَ: نُرِيدُ أَنْ تَسْقِيَنَا، فَيُقَالُ: اشْرَبُوا فَيَتَسَاقَطُونَ فِي جَهَنَّمَ، حَتَّى يَبْقَى مَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهَ مِنْ بَرَّ أَوْ فَاجِرٍ، فَيُقَالُ لَهُمْ: مَا يَحْبِسُكُمْ وَقَدْ ذَهَبَ النَّاسُ؟ فَيَقُولُونَ: فَارَقْنَاهُمْ، وَنَحْنُ أَحْوَجُ مِنَّا إِلَيْهِ اليَوْمَ، وَإِنَّا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي: لِيَلْحَقُ كُلُّ قَوْمٍ بِمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ، وَإِنَّمَا نَنْتَظِرُ رَبَّنَا، قَالَ: فَيَأْتِيهِمُ الجَبَّارُ فِي صُورَةٍ غَيْرِ صُورَتِهِ الَّتِي رَأَوْهُ فِيهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ، فَيَقُولُ: أَنَا رَبُّكُمْ، فَيَقُولُونَ: أَنْتَ رَبُّنَا، فَلَا يُكَلِّمُهُ إِلَّا الْأَنْبِيَاءُ، فَيَقُولُ: هَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ آيَةٌ تَعْرِفُونَهُ؟ فَيَقُولُونَ: السَّاقُ، فَيَكْشِفُ عَنْ سَاقِهِ، فَيَسْجُدُ لَهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ، وَيَبْقَى مَنْ كَانَ يَسْجُدُ لِلَّهِ رِيَاءٌ وَسُمْعَةً، فَيَذْهَبُ كَيْمَا يَسْجُدَ، فَيَعُودُ ظَهْرُهُ طَبَقًا وَاحِدًا، ثُمَّ يُؤْتَى بِالْجِسْرِ فَيُجْعَلُ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ ، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا الجَسْرُ؟ قَالَ: " مَدْحَضَةٌ مَزِلَةٌ، عَلَيْهِ خَطَاطِيفُ وَكَلالِيبُ، وَحَسَكَةٌ مُفَلْطَحَةٌ لَهَا شَوْكَةٌ عُقَيْفَاءُ، تَكُونُ بِنَجْدٍ يُقَالُ لَهَا: السَّعْدَانُ، المُؤْمِنُ عَلَيْهَا كَالطَّرْفِ وَكَالْبَرْقِ وَكَالرِّيحِ، وَكَأَجَاوِيدِ الخَيْلِ وَالرِّكَابِ، فَنَاجٍ مُسَلَّمُ، وَنَاجٍ مَخْدُوشُ، وَمَكْدُوسٌ فِي نَارِ جَهَنَّمَ، حَتَّى يَمُرَّ آخِرُهُمْ يُسْحَبُ سَحْبًا، فَمَا أَنْتُمْ بِأَشَدَّ لِي مُنَاشَدَةً في الحَقِّ، قَدْ تَبَيَّنَ لَكُمْ مِنَ الْمُؤْمِنِ يَوْمَئِذٍ لِلْجَبَّارِ، وَإِذَا رَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ نَجَوْا، فِي إِخْوَانِهِمْ، يَقُولُونَ: رَبَّنَا إِخْوَانُنَا ، كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَنَا، وَيَصُومُونَ مَعَنَا، وَيَعْمَلُونَ مَعَنَا، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: اذْهَبُوا، فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ دِينَارٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ، وَيُحَرِّمُ اللَّهُ صُوَرَهُمْ عَلَى النَّارِ، فَيَأْتُونَهُمْ وَبَعْضُهُمْ قَدْ غَابَ فِي النَّارِ إِلَى قَدَمِهِ، وَإِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ، فَيُخْرِجُونَ مَنْ عَرَفُوا ، ثُمَّ يَعُودُونَ، فَيَقُولُ: اذْهَبُوا فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ نِصْفِ دِينَارٍ فَأَخْرِجُوهُ، فَيُخْرِجُونَ مَنْ عَرَفُوا، ثُمَّ يَعُودُونَ، فَيَقُولُ: اذْهَبُوا فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ، فَيُخْرِجُونَ مَنْ عَرَفُوا " قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَإِنْ لَمْ تُصَدِّقُونِي فَاقْرَءُوا: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةٌ يُضَاعِفُهَا} [النساء: 40]، * فَيَشْفَعُ النَّبِيُّونَ وَالْمَلَائِكَةُ وَالْمُؤْمِنُونَ، فَيَقُولُ الجَبَّارُ: بَقِيَتْ شَفَاعَتِي، فَيَقْبِضُ قَبْضَةٌ مِنَ النَّارِ، فَيُخْرِجُ أَقْوَامًا قَدْ امْتُحِشُوا، فَيُلْقَوْنَ فِي نَهَرٍ بِأَفْوَاهِ الجَنَّةِ، يُقَالُ لَهُ: مَاءُ الحَيَاةِ، فَيَنْبُتُونَ فِي حَافَتَيْهِ كَمَا تَنْبُتُ الحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ، قَدْ رَأَيْتُمُوهَا إِلَى جَانِبِ الصَّخْرَةِ، وَإِلَى جَانِبِ الشَّجَرَةِ، فَمَا كَانَ إِلَى الشَّمْسِ مِنْهَا كَانَ أَخْضَرَ ، وَمَا كَانَ مِنْهَا إِلَى الظَّلَّ كَانَ أَبْيَضَ، فَيَخْرُجُونَ كَأَنَّهُمُ اللُّؤْلُؤُ، فَيُجْعَلُ فِي رِقَابِهِمُ الخَوَاتِيمُ، فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، فَيَقُولُ أَهْلُ الْجَنَّةِ: هَؤُلَاءِ عُتَقَاءُ الرَّحْمَنِ، أَدْخَلَهُمُ الجَنَّةَ بِغَيْرِ عَمَلٍ عَمِلُوهُ، وَلَا خَيْرٍ قَدَّمُوهُ، فَيُقَالُ لَهُمْ: لَكُمْ مَا رَأَيْتُمْ وَمِثْلَهُ مَعَهُ " »
“আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবো? তিনি বললেন, “তোমরা কি সূর্য বা চাঁদকে দেখতে ভীড় করো যখন আকাশ পরিস্কার থাকে? আমরা বললাম, না, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, তাহলে তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে কষ্ট করতে হবে না যে রকম সূর্য বা চন্দ্রকে দেখতে তোমাদের কষ্ট করতে হয় না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, প্রত্যেক জাতি যেন যার যার উপাস্য নিয়ে উপস্থিত হয়। তখন ক্রুশ পুজারীরা তাদের ক্রুশ নিয়ে উপস্থিত হবে। মূর্তিপূজারীরা তাদের মূর্তি নিয়ে উপস্থিত হবে। এভাবে প্রত্যেক জাতি তাদের উপাস্যগুলো নিয়ে উপস্থিত হবে; কিন্তু যারা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইবাদত করতো - সৎকর্মশীল ও পাপী- তারা আর ইসলামপূর্ব ইয়াহুদী খৃষ্টানদের মধ্যে যারা খাটি একত্বাবাদী ছিল তারা অবশিষ্ট থাকবে। এরপর তাদের জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে। সংখ্যায় মনে হবে বন্যার ঢলের মত। ইয়াহুদীদের প্রশ্ন করা হবে, তোমরা কার উপাসনা করতে? তারা বলবে আমরা আল্লাহর পুত্র উযাইরের উপাসনা করতাম। তাদের বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলেছো। আল্লাহর কোনো স্ত্রী পুত্র নেই। তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, এখন তোমরা কি চাও? তারা বলবে, আমরা পানি পান করতে চাই। তাদের বলা হবে, ঠিক আছে পান করো। তারপর তারা জাহান্নামে পতিত হবে।
এরপর খৃষ্টানদের জিজ্ঞাসা করা হবে তোমরা কার উপাসনা করতে? তারা বলবে আমরা আল্লাহর পুত্র মসীহ-এর উপাসনা করতাম। তাদের বলা হবে, তোমরা মিথ্যা বলেছো। আল্লাহর কোনো স্ত্রী পুত্র নেই। তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, এখন তোমরা কি চাও? তারা বলবে, আমরা পানি পান করতে চাই। তাদের বলা হবে, ঠিক আছে পান করো। তারপর তারা জাহান্নামে পতিত হবে। এরপর যারা আল্লাহ তা'আলার উপাসনা করতো তাদের মধ্যে থাকবে পাপী ও নেককার সকলেই তাদের বলা হবে লোকেরা চলে গেছে তোমরা গেলে না কেন? কিসে তোমাদের আটকে রেখেছে? তারা বলবে আমরা তাদের থেকে আলাদা ছিলাম।
তাদের থেকে আলাদা থাকাটাই আমাদের জন্য প্রয়োজন ছিল এটা আজ বুঝে এসেছে। আমরা একজন ঘোষকের ঘোষণা শুনেছি সে ঘোষণা করেছে প্রত্যেক জাতি যার যার উপাস্য নিয়ে হাজির হোক। এ ঘোষণা শুনে আমরা আমাদের প্রতিপালকের অপেক্ষায় থাকলাম। এরপর তাদের কাছে আসবেন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ। তিনি আগের দেখা আকৃতি থেকে ভিন্ন আকৃতিতে আসবেন। তিনি বলবেন, আমি তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আপনি আমাদের প্রতিপালক। বুখারীর বর্ণনায় এসেছে তারা বলবে, এটা আমাদের অবস্থান। যতক্ষণ না আমাদের প্রতিপালক আমাদের কাছে আসেন। আমাদের প্রতিপালক যখন আসবেন আমরা তাকে চিনতে পারবো। আল্লাহ তাদের কাছে এমন আকৃতিতে আসবেন যে তারা দেখে চিনতে পারবে। নবীগণই তাঁর সাথে কথা বলবেন। তিনি জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের আর তোমাদের প্রভুর মধ্যে এমন কোনো আলামত আছে যা দেখে তোমরা তাকে চিনতে পারো? তখন তারা বলবে, তাঁর পায়ের গোছা আমরা চিনি। তখন তিনি তাঁর পায়ের গোছা উন্মুক্ত করবেন। প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তি তাকে সাজদাহ করবে। কিন্তু যারা মানুষকে দেখানো বা শুনানোর জন্য সালাত পড়তো তারা সাজদাহ করতে পারবে না। তারা চেষ্টা করবে সাজদাহ দিতে কিন্তু তাদের পিঠ একটি সোজা কাঠের তক্তার মত শক্ত হয়ে যাবে। অতঃপর জাহান্নামের উপর একটি পুল স্থাপন করা হবে। এ কথা শুনে সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলো ইয়া রাসূলাল্লাহ! পুলটি কি ধরনের হবে? তিনি বললেন, পুলটি হবে পিচ্ছিল, লোহার কাটা ওয়ালা, দীর্ঘ, তাতে থাকবে আরো এমন কাটা যা দেখতে নজদ এলাকার সাদান কাটার মত। ঈমানদার ব্যক্তিরা কেহ পার হবে চোখের পলকের গতিতে, কেহ পার হবে বিজলীর গতিতে, কেহ পার হবে বাতাসের গতিতে, কেহ পার হবে ঘোড়া বা যানবাহনের গতিতে। এভাবে একদল সহি সালামতে পার হয়ে যাবে। একদল পার হবে অনেক কষ্টে। আর একদল পার হতে গিয়ে পতিত হবে জাহান্নামে।
এমনকি সর্বশেষ ব্যক্তি সাতার দেওয়ার মত হামাগুরি দিয়ে করে পুল পার হবে। সেদিনটি হবে এমনি একটি কঠিন ও ভয়াবহ দিন। সেদিন মহাপরাক্রমশালীর কাছে সত্যিকার ঈমানদারগণ প্রকাশ হয়ে পড়বেন। যখন ঈমানদারগণ দেখবে যে তারা নিজেরা মুক্তি পেয়েছে কিন্তু নিজেদের অনেক সঙ্গী সাথী জাহান্নামে পতিত হয়েছে তখন তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এ ভাইয়েরা তো আমাদের সাথে সালাত পড়েছে, আমাদের সাথে রোযা রেখেছে, আমাদের সাথে অন্যান্য নেক আমল করেছে। আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেন, তোমরা যাও। যার মধ্যে তোমরা একটি দীনার পরিমাণ ঈমান পাবে তাকে বের করে আনো। আল্লাহ তাদের শরীরকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিবেন। তাদের নিয়ে আসা হবে। কারো শরীর পা পর্যন্ত, কারো শরীর অর্ধ গোছা পর্যন্ত জাহান্নামের আগুন স্পর্ষ করেছে। এভাবে পরিচিত জনকে বের করে আনা হবে। এরপর আল্লাহ তা'আলা আবার বলবেন, এবার যাও। যাদের মধ্যে অর্ধেক দীনার পরিমাণ ঈমান পাবে তাদের বের করে আনো। তারা যাবে ও যাদের চিনতে পারবে তাদের বের করে আনবে। এরপর আল্লাহ বলবেন, আবার যাও যাদের অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসো। তারা যাদের চিনবে তাদের বের করে আনবে। হাদীসটির বর্ণনাকারী আবু সায়ীদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, যদি তোমরা আমার কথা বিশ্বাস না করো তবে আল্লাহ তা'আলার এ বাণীটি পড়ে দেখ: আল্লাহ কারো প্রতি অনু পরিমাণ যুলুম করেন না। যদি কোনো ভালো থাকে তাকে তিনি অনেক গুণে বাড়িয়ে দেন। নবীগণ, ফিরিশতাগণ ও ঈমানদারগণ সুপারিশ করবেন। এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমার সুপারিশ বাকী আছে। তিনি জাহান্নাম থেকে অগ্নিদগ্ধ এক মুষ্ঠিকে বের করে আনবেন। তাদের জান্নাতের সম্মুখে একটি নদীতে ছেড়ে দিবেন। সেই নদীটির নাম মা-উল হায়াত (জীবন নদী) সেখানে তারা নতুনভাবে গঠিত হবে যেমন ভাবে নতুন পলি পেয়ে উদ্ভিদ অংকুরিত হয়। যেমনটি তোমরা দেখে থাকো যে রোদ লাগা বৃক্ষটি সবুজ হয় আর রোদের আড়ালে থাকা বৃক্ষটি সাদা হয়ে যায়। তারা এ নদী থেকে বের হয়ে আসবে হীরার মত উজ্জল হয়ে। তাদের গল দেশে সীলমোহর করে দেওয়া হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন জান্নাতবাসীরা বলবে, এরা হলো দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা তাদের জান্নাতে প্রবেশ করালেন কিন্তু তারা দুনিয়াতে কোনো সৎকর্ম করে নি ও কোনো কল্যাণকর কিছু সংগ্রহও করে নি। তখন তাদের বলা হবে, যা তোমরা পেলে তা তো তোমাদের জন্য আছেই, সাথে সাথে তাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করা হয়েছে তার অনুরূপ অনুগ্রহ তোমরা লাভ করবে"।⁵⁰

টিকাঃ
⁵⁰ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৪৩৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৩。

📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 সর্বশেষে যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে

📄 সর্বশেষে যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে


পুলসিরাত সম্পর্কিত একটি দীর্ঘ হাদীসের শেষাংশে এসেছে,
« وَيُبْقَى رَجُلٌ مِنْهُمْ مُقْبِلُ بِوَجْهِهِ عَلَى النَّارِ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ، قَدْ قَشَبَنِي رِيحُهَا، وَأَحْرَقَنِي ذَكَاؤُهَا، فَاصْرِفْ وَجْهِي عَنِ النَّارِ، فَلا يَزَالُ يَدْعُو اللَّهَ، فَيَقُولُ: لَعَلَّكَ إِنْ أَعْطَيْتُكَ أَنْ تَسْأَلَنِي غَيْرَهُ، فَيَقُولُ : لا وَعِزَّتِكَ لا أَسْأَلُكَ غَيْرَهُ، فَيَصْرِفُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ، ثُمَّ يَقُولُ بَعْدَ ذَلِكَ : يَا رَبِّ قَرَّبُنِي إِلَى بَابِ الجَنَّةِ، فَيَقُولُ: أَلَيْسَ قَدْ زَعَمْتَ أَنْ لا تَسْأَلَنِي غَيْرَهُ، وَيْلَكَ ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ، فَلَا يَزَالُ يَدْعُو، فَيَقُولُ: لَعَلِّي إِنْ أَعْطَيْتُكَ ذَلِكَ تَسْأَلُنِي غَيْرَهُ، فَيَقُولُ : لا وَعِزَّتِكَ لَا أَسْأَلُكَ غَيْرَهُ، فَيُعْطِي اللَّهَ مِنْ عُهُودٍ وَمَوَاثِيقَ أَنْ لَا يَسْأَلَهُ غَيْرَهُ، فَيُقَرِّبُهُ إِلَى بَابِ الْجَنَّةِ، فَإِذَا رَأَى مَا فِيهَا سَكَتَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ، ثُمَّ يَقُولُ: رَبِّ أَدْخِلْنِي الجَنَّةَ، ثُمَّ يَقُولُ: أَوَلَيْسَ قَدْ زَعَمْتَ أَنْ لَا تَسْأَلَنِي غَيْرَهُ، وَيْلَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ لَا تَجْعَلْنِي أَشْقَى خَلْقِكَ، فَلَا يَزَالُ يَدْعُو حَتَّى يَضْحَكَ، فَإِذَا ضَحِكَ مِنْهُ أَذِنَ لَهُ بِالدُّخُولِ فِيهَا، فَإِذَا دَخَلَ فِيهَا»
"এক ব্যক্তি জাহান্নামের দিকে মুখ করা অবস্থায় থাকবে। তখন সে বলবে, হে আমার প্রভূ! জাহান্নামের গরম বায়ু আমাকে শেষ করে দিল। আমার চেহারাটা আপনি জাহান্নাম থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দিন। সে এভাবে আল্লাহ তা'আলার কাছে বার বার প্রার্থনা করতে থাকবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, তোমার এ প্রার্থনা কবুল হলে এরপর তুমি যেন আর কিছু না চাও। সে বলবে, আপনার মর্যাদার কসম করে বলছি, এরপর আপনার কাছে আর কিছু চাবো না। তখন জাহান্নামের দিক থেকে তার চেহারা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তারপর সে আবার বলতে শুরু করবে, হে আমার প্রভু! আমাকে একটু জান্নাতের দরজার নিকটবর্তী করে দেন। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি বলোনি এরপর আর কিছু চাইবে না? ধিক হে মানব সন্তান। তুমি কোনো কথা রাখো না। কিন্তু এ ব্যক্তি প্রার্থনা করতেই থাকবে। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমার তো মনে হয় তোমার এ দাবী পুরণ করা হলে আবার অন্য কিছু চাইবে। সে বলবে, আপনার মর্যাদার কসম করে বলছি, এরপর আপনার কাছে আর কিছু চাইবো না। সে আর কিছু চাইবে না এ শর্তে আল্লাহ তা'আলা তাকে জান্নাতের গেটের নিকটবর্তী করে দিবেন। যখন সে জান্নাতে গেটের দিকে তাকিয়ে জান্নাতের সুখ শান্তি দেখবে তখন কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার প্রার্থনা করতে শুরু করবে, হে আমার রব, আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি বলো নি এরপর আর কিছু চাইবে না? ধিক হে মানব সন্তান। তুমি কোনো কথা রাখো না। সে বলবে, হে আমার প্রভু আমাকে আপনার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা করে রাখবেন না। এভাবে সে প্রার্থনা করতে থাকবে। অবশেষে আল্লাহ হাসি দিবেন। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন"। ⁵¹

টিকাঃ
⁵¹ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫৭৩。

📘 কিয়ামতের ভয়াবহতা ও তারপর > 📄 মুমিনদের জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘আত

📄 মুমিনদের জাহান্নাম থেকে বের করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা‘আত


কিয়ামতের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি শাফা'আত হবে সকলের জন্য। আর সেটা বিচার - ফয়সালা শুরু করার আবেদন সম্পর্কে। সকল নবী ও রাসূল এ ব্যাপারে শাফা'আত করতে অস্বীকার করবে, নিজেদের অপরাগতা প্রকাশ করবে। শেষে আখেরী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফা'আত করবেন। এটা হলো সাধারণ শাফা'আত। সকল মানুষ এ শাফা'আত দ্বারা উপকৃত হবে।
আরেকটি শাফা'আত হবে যে সকল মুমিন পাপের কারণে জাহান্নামে গেছে তাদের উদ্ধার ও মুক্তির জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফা'আত করবেন।
যেমন হাদীসে এসেছে: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« لِكُلِّ نَي دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ، فَتَعَجَّلَ كُلُّ نَيَّ دَعْوَتَهُ، وَإِنِّي اخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَهِيَ نَائِلَةٌ إِنْ شَاءَ اللهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا»
"প্রত্যেক নবীর রয়েছে কিছু দো'আ যা অবশ্যই কবুল করা হয়। সকল নবী এ দো'আগুলো করার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করেছেন। কিন্তু আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন শাফা'আত করার জন্য এ দো'আগুলো আমি ব্যবহার করিনি। ইনশাআল্লাহ সেই শাফা'আত পাবে আমার অনুসারী ঐ সকল ব্যক্তিবর্গ যারা কখনো আল্লাহ তা'আলার সাথে কোনো কিছু শরীক করে নি"। ⁵²
হাদীসে আরো এসেছে: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
« قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ القِيَامَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لاَ يَسْأَلْنِي عَنْ هَذَا الحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الحَدِيثِ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، خَالِصًا مِنْ قَلْبِهِ، أَوْ نَفْسِهِ» »
"আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, কিয়ামতের দিন আপনার শাফা'আত দ্বারা কে ভাগ্যবান হবে? তিনি বললেন, "হে আবু হুরায়রা আমি জানি তোমার পূর্বে কেহ এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে নি। তোমাকে হাদীসের বিষয়ে বেশি আগ্রহী দেখছি। কিয়ামতের দিন আমার শাফা'আত দ্বারা সবচেয়ে ভাগ্যবান হবে ঐ ব্যক্তি যে অন্তর দিয়ে নির্ভেজাল পদ্ধতিতে বলেছে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই"। ⁵³
এ দুটো হাদীস পাঠে আমরা জানতে পারলাম কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত দ্বারা কারা ধন্য হবে। যারা অন্তর দিয়ে শির্ক মুক্ত থেকে আল্লাহ তা'আলার তাওহীদে বিশ্বাস করেছে তারাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত পাবে। তারা যতই পাপী হোক না কেন।
আমাদের সমাজে আমরা এমন কিছু লোক দেখি যারা রাসূলের শাফা'আত লাভ করার জন্য বিভিন্ন শির্ক ও বিদ'আতী কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। আর বলে এগুলো করে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত লাভ করতে পারবো। তাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহর সাথে শির্ক করে কখনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফা'আত লাভ করা যাবে না। ঈমান যদি সম্পূর্ণ শির্কমুক্ত থাকে তখন পাপের পাহাড় যত বড়ই হোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত লাভ ও আল্লাহ তা'আলার বিশেষ ক্ষমতায় জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব হবে। কিন্তু ঈমান যদি সম্পূর্ণ শির্কমুক্ত না থাকে তাহলে নেক আমলের পাহাড় নিয়ে উপস্থিত হলেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের সুযোগ নেই। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা'আত লাভে ধন্য হওয়ারও সম্ভাবনা নেই।

টিকাঃ
⁵² সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৯。
⁵³ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৯৯。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00