📄 বরযখের শান্তি ও সুখ
হে আল্লাহর বান্দা! মৃত্যুর পর থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় বরযখ।
আর আপনি অবশ্যই জানেন যে, আখিরাতের প্রথম মনযিল হলো কবর। মৃত্যুর পরপরই মৃত ব্যক্তির উপর ছোট কিয়ামত কায়েম হয়ে যায়। মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করার পর প্রতি সকালে ও প্রতি বিকালে তাকে তার ঠিকানা দেখানো হয়। যদি সে জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নام দেখানো হয়। যদি জান্নাতী হয়, তাহলে জান্নাত দেখানো হয়। ঈমানদারের কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। উত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে এভাবে তাকে সুখ-শান্তিতে রাখা হয়। আর যে কাফির তার কবরকে সংকুচিত করে দেওয়া হয়। হাতুরী দিয়ে পিটানো হয়। কবর থেকে উত্থিত না হওয়া পর্যন্ত এ সময়টা হলো বরযখী জীবন।
📄 মৃত্যুকালীন অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ لَعَلَّى أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَابِلُهَا وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ ﴾ [المؤمنون: ٩٩، ١٠٠]
"অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, হে আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠান, যেন আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।' কখনো নয়, এটি একটি বাক্য যা সে বলবে। যেদিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন পর্যন্ত তাদের সামনে থাকবে বরযখ।” [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ৯৯-১০০]
এ আয়াত থেকে আমরা যা শিখতে পেলাম:
১- যখন মৃত্যু উপস্থিত হবে তখন মানুষের চোখ খুলে যাবে। সে তখন ভালো কাজ সম্পাদন করার জন্য আরো সময় কামনা করবে। কিন্তু তাকে আর সময় দেওয়া হবে না।
২- মৃত্যুর সময় এ ধরনের প্রার্থনা অনর্থক। এতে কোনো ফল বয়ে আনে না।
৩- বরযখ এর প্রমাণ পাওয়া গেল।
৪- বরযখী জীবন শুরু হয় মৃত্যু থেকে আর শেষ হবে পুনরুত্থান দিবসে।
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ﴿فَوَقَهُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِ مَا مَكَرُواْ وَحَاقَ بِـَٔالِ فِرۡعَوۡنَ سُوٓءُ ٱلۡعَذَابِ ٤٥ ٱلنَّارُ يُعۡرَضُونَ عَلَيۡهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّاۚ وَيَوۡمَ تَقُومُ ٱلسَّاعَةُ أَدۡخِلُوٓاْ ءَالَ فِرۡعَوۡنَ أَشَدَّ ٱلۡعَذَابِ ٤٦﴾ [غافر: ٤٥، ٤٦]
"অতঃপর তাদের ষড়যন্ত্রের অশুভ পরিণাম থেকে আল্লাহ তাকে রক্ষা করলেন আর ফিরআউনের অনুসারীদেরকে ঘিরে ফেলল কঠিন আযাব। আগুন, তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে উপস্থিত করা হয়, আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে (সেদিন ঘোষণা করা হবে), ফিরআউনের অনুসারীদেরকে কঠোরতম আযাবে প্রবেশ করাও।” [সূরা আল-গাফির, আয়াত: ৪৫-৪৬]।
এ আয়াত থেকে আমরা যা শিখতে পেলাম:
১- মুসা আলাইহিস সালাম ও তার অনুসারীদের আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফির'আউনের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছেন।
২- ফেরআউনের অনুসারীদের পতন হলো।
৩- প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় তাদের দোযখ দেখানো হয়। এ কথা দিয়ে বরযখ ও তার শাস্তির বিষয়টি আবারও প্রমাণিত হলো।
৪- কিয়ামেতর পর অপরাধীদের যে শাস্তি হবে সেটা বরযখের শাস্তির চেয়ে কঠোরতম হবে।
এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে: বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
« خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ، وَلَمَّا يُلْحَدُ، فَجَلَسَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ، كَأَنَّ عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرَ، وَفِي يَدِهِ عُودٌ يَنْكُتُ فِي الْأَرْضِ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: " اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ مَرَّتَيْنِ، أَوْ ثَلَاثًا، " ، ثُمَّ قَالَ: " إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ، نَزَلَ إِلَيْهِ مَلَائِكَةٌ مِنَ السَّمَاءِ بِيضُ الْوُجُوهِ، كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ ، مَعَهُمْ كَفَنُ مِنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ، وَحَنُوطٌ مِنْ حَنُوطِ الْجَنَّةِ، حَتَّى يَجْلِسُوا مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ ، ثُمَّ يَجِيءُ مَلَكُ الْمَوْتِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ، حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَيَقُولُ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ، اخْرُجِي إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ ". قَالَ: " ফাতুখরাজু তাসীলু কামা তাসীলুল কাতরাতু মিন ফিস্ সিকা-য়ি, ফাইয়া’খুযুহা, ফাইযা আখাযাহা লাম ইয়াদাউহা ফী ইয়াদ্হি তারফাতা ‘আইনিন হাত্তা ইয়া’খুযুহা, ফাইয়াজ‘আলুহা ফী যালিকাল কাফানি, ওয়া ফী যালিকাল হানূতি, ওয়া ইয়াখরুজু মিনহা কাআতায়্যিবি নাফহাতি মিসকিন উজিদাত ‘আলা ওয়াজহিল আরদ্বি “ কালা: “ফাইয়াস‘আদূনা বিহা, ফালা ইয়ামুররূনা, ইয়া‘নী বিহা, ‘আলা মালা-য়িম মিনাল মালাইকাতি, ইল্লা কালূ: মা হাজার রূহুত তাইয়্যিবু? ফাইয়াকুলূনা: ফুলা-নুবনু ফুলা-নিন, বিআহসানি আসমা-য়িহিল্লাতী কা-নূ ইউসাম্মূনা বিহা ফিদ্দুনইয়া-, হাত্তা- ইয়ান্তাহূ বিহা ইলাস সামা-য়িদ্দুনইয়া-, ফাইয়াসতাফতিহূনা লাহু, ফাইইউফতাহু লাহুম ফাইইউশাইয়্যু‘উহু মিন কুল্লি সামা-য়িম মুকাররাবূহা ইলাস সামা-য়িল্লাতী তালীহা-, হাত্তা ইউন্তাহা বিহি ইলাস সামা-য়িস সা-বি‘আতি, ফাইয়াকুলুল্লা-হু ‘আয্যা ওয়া জাল্লা: উকত্বিবূ কিতা-বা ‘আবদী ফী ‘ইল্লিয়্যীন, ওয়া আ‘ঈদূহু ইলাল আরদ্বি, ফাইন্নী মিনহা খালাক্বতুহুম, ওয়া ফীহা উ‘ঈদুহুম, ওয়া মিনহা উখরিজুহুম তারাতান উখরা”। কালা : “ফাতু‘আদু রূহুহু ফী জাসাদিহী, ফাইয়া’তীহি মালাকা-নি, ফাইয়ুজলিসা-নিহী, ফাইয়াকূলা-নি লাহু: মান রাব্বুকা? ফাইয়াকুলু: রাব্বিয়াল্লা-হু, ফাইয়াকূলা-নি লাহু: মা দীনুকা? ফাইয়াকুলু: দীনীল ইসলা-মু, ফাইয়াকূলা-নি লাহু: মা হাজা-র রাজুলুল্লাযী বু‘ইসা ফীকুম? ফাইয়াকুলু: হুয়া রাসুলুল্লা-হি সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামা, ফাইয়াকূলা-নি লাহু: ওয়া মা ‘ইলমুকা? ফাইয়াকুলু: ক্বারা’তু কিতা-বাল্লা-হি, ফাআমানতু বিহী ওয়াস্বাদ্দাক্বতু, ফাইয়ুনা-দী মুনা-দিন ফিস্ সামা-য়ি: আন স্বাদাক্বা ‘আবদী, ফাআফরিশূহু মিনাল জান্নাতি, ওয়ালবিসূহু মিনাল জান্নাতি, ওয়াফতাহূ লাহু বা-বান ইলাল জান্নাতি “। কালা: “ ফাইয়া’তীহি মিন রাওহিহা-, ওয়া তীবীহা-, ওয়া ইউফসাহু লাহু ফী ক্বাবরিহী মাদ্দা বাছারিহী “। কালা : “ ওয়া ইয়া’তীহি রাজুলুন হাসানুল ওয়াজহি, হাসানুল ক্বিয়া-বি, তাইয়্যিবুর রীহি, ফাইয়াকুলু: আবশির বিল্লাযী ইয়াসুররুকা, হা-যা ইয়াওমুকাল্লাযী কুংতা তূ‘আদু, ফাইয়াকুলু লাহু: মান আন্তা? ফাওয়াজহুকাল ওয়াজহু ইয়াজ্বী-উ বিলখাইরি, ফাইয়াকুলু: আনা ‘আমালুকাস স্বা-লিহু, ফাইয়াকুলু: রাব্বি আক্বিমিস সা-‘আতা হাত্তা আরজি‘আ ইলা আহলী ওয়া মা-লী ”। কালা: “ ওয়া ইন্নাল ‘আবদাল কা-ফিরা ইযা কা-না ফিং ক্বিত্বা‘য়িম মিনাদ্দুনইয়া- ওয়া ইক্বা-লিম মিনাল আ-খিরাতি, নাযালা ইলাইহি মিনাছ্ ছামা-য়ি মালা-য়িকাতুন সূদুল উজূহি, মা‘আহুমুল মুসূহু, ফাইয়াজলিসূনা মিনহু মাদ্দাল বাছারি, ছুম্মা ইয়াজ্বী-উ মালাকুল মাওতি, হাত্তা ইয়াজলিছা ‘ইন্দা রা’সিহী, ফাইয়াকুলু: আইয়াতুহান্নাফসুল খাবীছাতু, উখরুজ্বী ইলা সাখাতিম মিনাল্লা-হি ওয়া গাদ্বাবিন “। কালা: “ ফুত্তারাকু ফী জাসাদিহি, ফাইয়ানতাযিউহা কামা ইয়ানতাযিউস সাফুদু মিনাস সুফি আলমাবলুলি, ফাইয়াখুজুহা, ফাইজা আখাজাহা লাম ইয়াদাউহা ফী ইয়াদিহি তারফাতা আইন হাত্তা ইয়াজআলুহা ফী তিলকাল মুসুহি, ওয়া ইয়াখরুজু মিনহা কাআনতানি রিহিন জিফাতিন উজিদাত আলা ওয়াঝিল আরদি, ফাইয়াসআদনা বিহা, ফালা ইয়ামুররুনা বিহা আলা মালা'ইমিনাল মালাইকাতি, ইল্লা কালু: মা হাযার রুহুল খাবিতু? ফাইয়াকুলুনা: ফুলানু বিন ফুলানিন বিআকবাহি আসমাইহিল্লাতি কানা ইয়ুসাম্মা বিহা ফিদ্দুনইয়া, হাত্তা ইয়ুনতাহী বিহী ইলাস সামায়িদ্দুনইয়া, ফাইয়ুসতাফতাহু লাহু, ফালা ইউফতাহু লাহু, সুম্মা কারা রাসুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: (লা তুফাত্তাহু লাহুম আবওয়াবুস সামায়ি ওয়ালা ইয়াদ্খুলুনাল জান্নাতা হাত্তা ইয়ালিজাল জামালু ফী সাম্মিল খিয়াতি) [আল আরাফ: ৪০] ফাইয়াকুলুল্লাহু আযযা ওয়া জাল্লা: "উক্তুবু কিতাবাহু ফী সিজ্জিনিন ফিল আরদিস সুফলা, ফাতুতরাহু রুহুহু তারহা"। সুম্মা কারা: (ওয়া মাঁইয়ুশরিক বিল্লাহি ফাকাআন্নামা খাররা মিনাস সামায়ি ফাতাখতাতুফুত তাইরু আও তাহভী বিহীর রিহু ফী মাকানিন সাহিক) [আল হাজ্জ: ৩১]" ফাতুআদু রুহুহু ফী জাসাদিহি, ওয়া ইয়াতীহি মালাকান, ফাইয়ুজলিসানিহি, ফাইয়াকুলানি লাহু: মার রাব্বুকা? ফাইয়াকুলু: হা-হু হা-হু লা আদরী, ফাইয়াকুলানি লাহু: মা দীনুকা? ফাইয়াকুলু: হা-হু হা-হু লা আদরী, ফাইয়াকুলানি লাহু: মা হাযার রাজুলুল্লাযি বুইসা ফিকুম? ফাইয়াকুলু: হা-হু হা-হু লা আদরী, ফাইয়ুনাদী মুনাদিম মিনাস সামায়ি আন কাজাবা, ফাফরিশু লাহু মিনান্নারি, ওয়াফতাহু লাহু বাবান ইলান্নারি, ফাইয়া'তীহি মিন হারিহা ওয়া সামুমিহা, ওয়া ইয়ুদাইয়্যাকু আলাইহি ক্বরুহু হাত্তা তাখতালিফা ফীহি আদলাউহু, ওয়া ইয়াতীহি রাজুলুন কাবিহুল ওয়াঝহি, কাবিহুল গিয়া-বি, মুনতিনুর রিহি, ফাইয়াকুলু: আবশির বিল্লাযি ইয়াসুয়াউকা, হাযা ইয়াওমুকাল্লাযি কুনতা তুআদু, ফাইয়াকুলু: মান আনতা? ফাওয়াজহুকাল ওয়াঝহু ইয়াজীউ বিশশাররি, ফাইয়াকুলু: আনা আমালুকাল খাবিতু, ফাইয়াকুলু: রাব্বি লা তুকিমিস সাআতা" »
"এক আনসারী ব্যক্তির দাফন-কাফনের জন্য আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। আমরা কবরের কাছে পৌঁছে গেলাম তখনও কবর খোঁড়া শেষ হয় নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসলেন। আমরা তাঁর চার পাশে এমনভাবে বসে গেলাম যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসেছে। আর তাঁর হাতে ছিল চন্দন কাঠ যা দিয়ে তিনি মাটির উপর মৃদু পিটাচ্ছিলেন।
তিনি তখন মাথা জাগালেন আর বললেন, তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কথাটি তিনি দু'বার কিংবা তিন বার বললেন। এরপর তিনি আরো বললেন, যখন কোনো ঈমানদার বান্দা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে আখিরাতের দিকে যাত্রা করে তখন আকাশ থেকে তার কাছে ফিরিশতা আসে। তাদের চেহারা থাকবে সূর্যের মত উজ্জল। তাদের সাথে থাকবে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি।
তারা তার চোখ বন্ধ করা পর্যন্ত তার কাছে বসে থাকবে। মৃত্যুর ফিরিশতা এসে তার মাথার কাছে বসবে। সে বলবে, হে সুন্দর আত্মা! তুমি আল্লাহ তা'আলার ক্ষমা ও তার সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো। আত্মা বেরিয়ে আসবে যেমন বেড়িয়ে আসে পান-পাত্র থেকে পানির ফোটা। সে আত্মাকে গ্রহণ করে এক মুহুর্তের জন্যেও ছাড়বে না। তাকে সেই জান্নাতের কাফন পরাবে ও সুগন্ধি লাগাবে। পৃথিবিতে যে মিশক আছে সে তার চেয়ে বেশি সুগন্ধি ছড়াবে। তাকে নিয়ে তারা আসমানের দিকে যেতে থাকবে। আর ফিরিশতাদের প্রতিটি দল বলবে, কে এই পবিত্র আত্মা? তাদের প্রশ্নের উত্তরে তারা তার সুন্দর নাম নিয়ে বলবে যে, অমুক অমুকের ছেলে। এমনিভাবে প্রথম আসমানে চলে যাবে। তার জন্য প্রথম আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে। এমনি করে প্রতিটি আসমান অতিক্রম করে যখন সপ্তম আসমানে যাবে তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলবেন, আমার বান্দা আমলনামাটা ইল্লিয়ীনে লিখে দাও। আর আত্মাটা দুনিয়াতে তার দেহের কাছে পাঠিয়ে দাও।
এরপর কবরে প্রশ্নোত্তরের জন্য দুজন ফিরিশতা আসবে। তারা প্রশ্ন করবে, তোমার প্রভু কে? সে বলবে আমার প্রভু আল্লাহ। তারা প্রশ্ন করবে, তোমার দীন কি? সে উত্তর দেবে, আমার দীন ইসলাম। তারা প্রশ্ন করবে এই ব্যক্তিকে চেন, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে? সে উত্তরে বলবে, সে আল্লাহর রাসূল। তারা বলবে, তুমি কীভাবে জানলে? সে উত্তরে বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছি। তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি। তাকে সত্য বলে স্বীকার করেছি। তখন আসমান থেকে একজন আহবানকারী বলবে, আমার বান্দা অবশ্যই সত্য বলেছে। তাকে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তার কবর থেকে জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। জান্নাতের সুঘ্রাণ ও বাতাস আসতে থাকবে। যতদূর চোখ যায় ততদূর কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। তার কাছে সুন্দর চেহারার সুন্দর পোশাক পরিহিত সুগন্ধি ছড়িয়ে এক ব্যক্তি আসবে। সে তাকে বলবে, তুমি সুসংবাদ নাও। সুখে থাকো। দুনিয়াতে এ দিনের ওয়াদা দেওয়া হচ্ছিল তোমাকে। মৃত ব্যক্তি সুসংবাদ দাতা এ ব্যক্তিকে সে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে উত্তরে বলবে, আমি তোমার নেক আমল (সৎকর্ম)। তখন সে বলবে, হে আমার রব! কিয়ামত সংঘটিত করুন! হে আমার রব! কিয়ামত সংঘটিত করুন!! যেন আমি আমার সম্পদ ও পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি। আর যখন কোনো কাফির দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে আখিরাত পানে যাত্রা করে তখন তার কাছে কালো চেহারার ফিরিশতা আগমন করে। তার সাথে থাকে চুল দ্বারা তৈরি কষ্ট দায়ক কাপর। তারা চোখ বুজে যাওয়া পর্যন্ত তার কাছে বসে থাকে। এরপর আসে মৃত্যুর ফিরিশতা। তার মাথার কাছে বসে বলে, হে দুর্বিত্ত পাপিষ্ট আত্মা বের হয়ে আল্লাহর ক্রোধ ও গজবের দিকে চলো। তখন তার দেহে প্রচন্ড কম্পন শুরু হয়। তার আত্মা টেনে বের করা হয়, যেমন আদ্র রেশমের ভিতর থেকে লোহার ব্রাশ বের করা হয়। যখন আত্মা বের করা হয় তখন এক মুহুর্তের জন্যও ফিরিশতা তাকে ছেড়ে দেয় না। সেই কষ্টদায়ক কাপড় দিয়ে তাকে পেচিয়ে ধরে। তার লাশটি পৃথিবীতে পড়ে থাকে। আত্মাটি নিয়ে যখন উপরে উঠে তখন ফিরিশতারা বলতে থাকে কে এই পাপিষ্ট আত্মা? তাদের উত্তরে তার নাম উল্লেখ করে বলা হয় অমুক, অমুকের ছেলে। প্রথম আসমানে গেলে তার জন্য দরজা খোলার অনুরোধ করা হলে দরজা খোলা হয় না। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করলেন:
﴿لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ﴾ [الاعراف: ٤٠]
"তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে"। [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৪০]
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তার আমলনামা সিজ্জীনে লিখে দাও যা সর্ব নিম্ন স্তর। এরপর তার আত্মাকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হবে।
এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করেন:
﴿ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ ﴾ [الحج: ٣١]
"আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ল। অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বাতাস তাকে দূরের কোনো জায়গায় নিক্ষেপ করল"। [সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৩১]।
এরপর তার দেহে তার আত্মা চলে আসবে। দু'ফিরিশতা আসবে। তাকে বসাবে। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করবে, তোমার প্রভু কে? সে বলবে, হায়! হায়!! আমি জানি না। তারা তাকে আবার জিজ্ঞেস করবে, তোমার ধর্ম কি? সে বলবে, হায়! হায়!! আমি জানি না। তারপর জিজ্ঞেস করবে, এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মধ্যে পাঠানো হয়েছিল? সে উত্তর দেবে, হায়! হায়!! আমি জানি না। তখন আসমান থেকে এক আহবানকারী বলবে, সে মিথ্যা বলেছে। তাকে জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। জাহান্নামের একটি দরজা তার জন্য খুলে দাও। জাহান্নামের তাপ ও বিষাক্ততা তার কাছে আসতে থাকবে। তার জন্য কবরকে এমন সঙ্কুচিত করে দেওয়া হবে যাতে তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে। তার কাছে এক ব্যক্তি আসবে যার চেহার বিদঘুটে, পোশাক নিকৃষ্ট ও দুর্গন্ধময়। সে তাকে বলবে, যে দিনের খারাপ পরিণতি সম্পর্কে তোমাকে বলা হয়েছিলো তা আজ উপভোগ করো। সে এই বিদঘুটে চেহারার লোকটিকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে বলবে, আমি তোমার অসৎকর্ম। এরপর সে বলবে, হে প্রভু! আপনি যেন কিয়ামত সংঘটিত না করেন"।²
এ হাদীস থেকে আমরা যা জানতে পারলাম:
১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গী সাথিদের নিয়ে অন্যের দাফন-কাফনে অংশ গ্রহণ করতেন।
২- কবরের শাস্তির বিষয়টি একটি সত্য বিষয়। এটি বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ।
৩- কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহ তা'আলার কাছে আশ্রয় চাওয়া সুন্নত।
৪- ঈমানদার ও বেঈমানের মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য।
৫- কবরে যাওয়ার পর ঈমানদার তার পুরস্কার ও প্রতিদান পাওয়ার জন্য কিয়ামত তাড়াতাড়ি কামনা করবে। আর বেঈমান মনে করবে কিয়ামত কায়েম হলে তাদের জাহান্নামের আযাব শুরু হয়ে যাবে। তাই তারা কিয়ামত কামনা করবে না।
৬- ওয়াজ ও নসীহতের সময় কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেছেন ও কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
৭- কবরে ফিরিশতাদের প্রশ্ন ও তার উত্তর দেওয়া একটি সত্য বিষয়। এর প্রতি বিশ্বাস রাখা ঈমানের অংশ।
৮- ইল্লিয়্যীন ও সিজ্জিনের পরিচয় জানা গেল। এ দুটি জান্নাত ও জাহান্নামের অংশ বিশেষ।
৯- বরযখী জীবনের সত্যতা এ হাদীস দিয়েও প্রমাণিত হলো।
১০- হে আমার রব! কিয়ামত সংঘটিত করুন!! যেন আমি আমার সম্পদ ও পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি। এ কথা দ্বারা ঈমানদার ব্যক্তি সম্পদ বলতে তার নেক আমলের সওয়াব ও পুরস্কার বুঝিয়েছেন। আর ঈমানদার ব্যক্তি জান্নাতে তার পরিবার পরিজনের সাথে মিলিত হবেন। যদি তার পরিবারবর্গ ঈমানদার ও সৎকর্মশীল হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَهُم مِّنْ عَمَلِهِم مِّن شَيْءٍ كُلُّ أَمْرِي بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ ﴾ [الطور: ٢٠]
"আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোনো অংশই কমাব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কামাইয়ের ব্যাপারে দায়ী থাকবে"। [সূরা আত-তুর, আয়াত: ২১]
১১- বরযখী জীবনের সুখ ও তার শাস্তির কিছু বর্ণনা এ হাদীসের মাধ্যমে জানা গেল।
১২- হাদীসে জান কবচকারী ফিরিশতাকে মালাকুল মউত বলা হয়েছে। এর অর্থ মৃত্যুর ফিরিশতা। তার নাম কি, তা কুরআনে বা কোনো সহীহ হাদীসে বলা হয় নি। আমরা যে এ ফিরিশতার নাম দিয়েছি আজরাঈল এটা কুরআন বা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। সম্ভব এটা ইয়াহুদীদের থেকে এসেছে। তাই এ নামটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
টিকাঃ
² মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১৮৫৩৪, আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৭৫৩, মুসতাদরাক হাকেম, হাদীস নং ১০৭। আলবানী রহ. আহকামুল জানায়িয কিতাবে এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 দুই ফিরিশতার প্রশ্ন পর্ব
হাদীসে এসেছে: আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«إِنَّ العَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ، وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ، فَيَقُولَانِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ، فَيَقُولُ : أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ ، فَيُقَالُ لَهُ: انْظُرُ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الجَنَّةِ، فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا - قَالَ قَتَادَةُ: وَذُكِرَ لَنَا: أَنَّهُ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيثِ أَنَسٍ - قَالَ: وَأَمَّا الْمُنَافِقُ وَالكَافِرُ فَيُقَالُ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ : لا أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ، فَيُقَالُ: لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ، وَيُضْرَبُ بِمَطَارِقَ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةٌ، فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ »
"মানুষকে যখন তার কবরে রাখা হয় আর তার সাথিরা চলে যায়, তখন মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার আওয়ায শুনতে পায়। এমন সময় দু জন ফিরিশতা এসে তাকে বসায়। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী ধারনা রাখতে? তখন ব্যক্তি যদি ঈমানদার হয়, সে উত্তর দেবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
তাকে বলা হবে জাহান্নামে তোমার যেখানে অবস্থান ছিল সে দিকে তাকাও। আল্লাহ জাহান্নামের এ অবস্থানকে তোমার জন্য জান্নাত দিয়ে পরিবর্তন করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনে, সে উভয় অবস্থানকেই দেখবে। আর ব্যক্তি যদি মুনাফেক বা কাফির হয়, যখন তাকে প্রশ্ন করা হবে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী ধারনা রাখতে? তখন উত্তরে সে বলবে, আমি জানি না। মানুষ যা বলত আমি তাই বলতাম। তাকে ফিরিশতাদ্বয় বলবে, তুমি জানলে না ও তাকে অনুসরণ করলে না। তখন তাকে লোহার হাতুরী দিয়ে প্রচন্ড আঘাত করা হয়। ফলে এমন চিৎকার দেয় যা মানুষ ও জিন ব্যতীত সকল প্রাণী শুনতে পায়।"³
এ হাদীস থেকে আমরা যা জানতে পারলাম:
১- মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করার সাথে সাথে তার আত্মাকে তার দেহে ফিরিয়ে আনা হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব সম্পন্ন করার জন্য।
২- কোনো কোন হাদীসে একটি প্রশ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনাকারী নিজ বর্ণনা সংক্ষেপ করার জন্য এটা করেছেন। এটা তার অধিকারের মধ্যে গণ্য। আসলে প্রশ্ন করা হবে তিনটি বিষয় সম্পর্কে। একটি বিষয় উল্লেখ করার অর্থ বাকী দুটো বিষয় অস্বীকার করা নয়।
৩- তিনটি প্রশ্নের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চেনা ও তার অনুসরণ সম্পর্কে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহর রাসূল বলে সাক্ষ্য দিয়েছে, সে প্রভু হিসাবে আল্লাহ ও ধর্ম হিসাবে ইসলামকে স্বীকার করে নিয়েছে। তাই যে এ একটি প্রশ্নের উত্তর দেবে এর মধ্যে বাকী দুটোর উত্তর এমনিতেই এসে যাবে।
৪- মৃত্যুর পর ঈমানদারকে জাহান্নাম দেখানো হবে। সে যে কত বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে এটি তাকে বুঝাবার জন্য।
৫- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গভীরভাবে জানতে হবে। কাফির ও মুনাফিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যথাযথভাবে জানে না ও জানতে চায় না।
টিকাঃ
³ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩৭৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৮৭০।
📄 মুনকার ও নাকীর প্রসঙ্গ
হাদীসে এসেছে: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« إِذَا قُبِرَ الْمَيِّتُ، أَوْ قَالَ: أَحَدُكُمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ أَسْوَدَانِ أَزْرَقَانِ، يُقَالُ لَأَحَدِهِمَا: الْمُنْكَرُ، وَلِلآخَرِ النَّكِيرُ، فَيَقُولَانِ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ؟ فَيَقُولُ: مَا كَانَ يَقُولُ: هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولَانِ: قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ هَذَا ، ثُمَّ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا فِي سَبْعِينَ، ثُمَّ يُنَوِّرُ لَهُ فِيهِ، ثُمَّ يُقَالُ لَهُ ، نَمْ ، فَيَقُولُ: أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي فَأُخْبِرُهُمْ، فَيَقُولَانِ: نَمْ كَنَوْمَةِ العَروسِ الَّذِي لَا يُوقِظُهُ إِلَّا أَحَبُّ أَهْلِهِ إِلَيْهِ، حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ، وَإِنْ كَانَ مُنَافِقًا قَالَ : سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ، فَقُلْتُ مِثْلَهُ، لَا أَدْرِي، فَيَقُولَانِ: قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ ذَلِكَ، فَيُقَالُ لِلأَرْضِ : التَيْنِي عَلَيْهِ، فَتَلْتَئِمُ عَلَيْهِ، فَتَخْتَلِفُ فِيهَا أَضْلاعُهُ، فَلا يَزَالُ فِيهَا مُعَذِّبًا حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ».
"যখন তোমাদের মধ্যে কোনো মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়া হয় তখন কালো ও নীল বর্ণের দু জন ফিরিশতা আগমন করে। একজনের নাম মুনকার অন্যজনের নাম হলো নাকীর। তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কী বলতে? সে বলবে, সে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তখন ফিরিশতাদ্বয় বলবে, আমরা আগেই জানতাম তুমি এ উত্তরই দেবে। এরপর তার কবরকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। সেখানে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাকে বলা হয়, এখন তুমি নিদ্রা যাও। সে বলবে, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যাবো, তাদেরকে (আমার অবস্থা সম্পর্কে) এ সংবাদ দেব। তখন ফিরিশতাদ্বয় তাকে বলে, তুমি ঘুমাও সেই নব বধুর মত যাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেহ জাগ্রত করে না। এমনিভাবে একদিন আল্লাহ তাকে জাগ্রত করবেন। আর যদি সে ব্যক্তি মুনাফেক হয়, সে উত্তর দেবে আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ) সম্পর্কে মানুষকে যা বলতে শুনেছি তাই বলতাম। বাস্তব অবস্থা আমি জানি না। তাকে ফেরেস্তাদ্বয় বলবে, আমরা জানতাম, তুমি এই উত্তরই দেবে। তখন মাটিকে বলা হবে তার উপর চাপ সৃষ্টি করো। মাটি এমন চাপ সৃষ্টি করবে যে, তার হাড্ডিগুলো আলাদা হয়ে যাবে। কিয়ামত সংঘটনের সময় তার উত্থান পর্যন্ত এ শাস্তি অব্যাহত থাকবে"।⁴
হাদীসটি থেকে আমরা যা শিখতে পারলাম:
১- কবরে প্রশ্নকারী ফিরিশতাদের নাম ও তাদের বর্ণ আলোচনা হলো।
২- ঈমানদারদের জন্য কবর প্রশস্ত করা হবে। কবরের অন্ধকার দূর করতে আলোর ব্যবস্থা করা হবে।
৩- ঈমানদার কবরের প্রশ্নোত্তর পর্বের পর পরিবারের কাছে ফিরে আসতে চাবে তার নিজের সফলতার সুসংবাদ শুনানোর জন্য ও পরিবারের লোকেরা যেন এ সফলতা অর্জনের জন্য সৎকর্ম করে সে ব্যাপারে উৎসাহিত করার জন্য।
৪- ঈমানদার ব্যক্তি বরযখের জীবনে সুখ-নিদ্রায় বিভোর থাকবে। যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে তখন তার নিদ্রা ভেঙ্গে যাবে ফলে সে অনেকটা বিরক্তির স্বরে বলবে: ﴿قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَا هَٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَٰنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ ﴾ [يس: ٥٢]
টিকাঃ
⁴ তিরমিজী, হাদীস নং ১০৭১, তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব। আলবানী রহ. বলেছে হাদীসটির সূত্র হাসান। হাদীসটি ইমাম মুসলিমের বিশুদ্ধতার শর্তে উত্তীর্ণ।