📄 কিছু মানুষের যোগ্যতা আছে; কিন্তু তা ভিন্ন স্থানে বশীভূত হয়ে আছে
আমি এমন কিছু তরুণকে চিনি, যাদের মুখস্থশক্তি রয়েছে এবং মুখস্থের ব্যাপারে তাদের সক্ষমতাও রয়েছে; কিন্তু তারা লাভজনক কোনো কাজে তা ব্যয় করছে না; বরং তারা এই যোগ্যতাকে বহু অনর্থক কাজে লাগিয়ে রেখেছে। তাদের দেখবেন, শত শত কবিতা, মজার মজার জিনিস এবং রসিকতাপূর্ণ বিষয় মুখস্থ করছে; কিন্তু সংক্ষিপ্ত সুরাগুলো পাঠ করার সময় তারা অনেক ভুল করে। মধ্যম পর্যায়ের সুরার ব্যাপার তো দূরের বিষয়। তাদের সকাল-সন্ধ্যা বা ঘুমানোর সময়কার জিকিরগুলোও মুখস্থ নেই। এটি হলো তাদের অবহেলা। তবে এই অবহেলার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, উত্তম জিনিস বাদ দিয়ে অনুত্তম জিনিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া।
এখানে আলোচনার জন্য সবচেয়ে সুন্দর কথা হলো, খতিব আল-বাগদাদি তার কিতাব 'শারাফু আসহাবিল হাদিস' নামক গ্রন্থে ইসাম বিন আলি-এর দিকে তার সনদের সম্পৃক্ততা উল্লেখ করার পর যা বলেছেন, তিনি বলেন, 'আমি আমাশকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, “যখন তোমরা কোনো শাইখকে কুরআন তিলাওয়াত করতে দেখো না এবং হাদিসও লিখতে দেখো না, তখন তাকে চড় মারো। কারণ, সে হলো চাঁদের শাইখ!” আবু সালিহ বলেন, “আমি আবু জাফরকে জিজ্ঞেস করলাম, “চাঁদের শাইখ কে?” তিনি বললেন, “তারা হলো যুগবাদী শাইখ, যারা চাঁদের রাতগুলোতে জড়ো হয় এবং মানুষের জীবনকাল নিয়ে আলোচনা করে; কিন্তু তাদের কেউ কেউ সালাতের জন্য ভালোভাবে অজুও করতে পারে না।”²⁰
এ কারনেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন :
'এ কারনেই আমরা দেখি, যে বেশি বেশি অন্তরের প্রশান্তির জন্য কবিতা শ্রবণ করে, কুরআন শ্রবণের ব্যাপারে তার আগ্রহ কমে যায়। এমনকি একসময়ে সে কুরআন (তিলাওয়াত) অপছন্দ করে।'²¹
এটি বাস্তব বিষয় যে, আপনিও দেখতে পাবেন, কিছু মানুষ একটি পত্রিকা একবার এমনকি দুবারও পড়ে। সে ম্যাগাজিন একটানা পড়তে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এগুলো পড়লেও সে এতে ক্লান্ত হয় না। কিন্তু যদি কুরআন সামনে নিয়ে কয়েক মিনিট পাঠ করে, তাহলে সে বিরক্তিবোধ করে! এটি তার জন্য বড়ই মুসিবত ও দুঃখজনক বিষয়। সুতরাং আপনি এমন জিনিস পড়ার ওপর নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলুন, যা আপনার উপকার বয়ে আনবে।
টিকাঃ
২০. শারাফু আসহাবিল হাদিস : ৬৭-৬৮ পৃ.
২১. ইকতিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম : ৩০৭ পৃ.