📄 নির্ধারিত কোনো শাস্ত্রে কিতাব পাঠ করলে ওই কিতাবকেই মূল বানিয়ে নেওয়া
উদাহরণস্বরূপ আপনি স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার ব্যাপারে কোনো বই পাঠ করছেন। এরপর আপনি স্বপ্ন সম্পর্কে কোনো ফায়দা জানতে পেরেছেন। তাহলে এই ফায়দাটি ওই কিতাবে লিখে রাখুন, অথবা ওই কিতাবের কভারে তা ইশারা দিয়ে রাখুন বা কিছু কাগজে লিখে তা কিতাবের মাঝে রেখে দিন। আপনি যখন কোনো আলোচনা বা কোনো বিষয়ে লেখা অথবা উক্ত বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনার মজলিশে শরিক হতে যাবেন, তখন দেখবেন, পঠিত কিতাবে আপনার ওই আলোচ্য বিষয়ের সাথে সংযুক্ত অনেক ফায়দা রয়েছে। এই ফায়দাগুলো ঘাটতি পূরণ বা পূর্ণ বিষয়কে আরও পরিপূর্ণতা দান করবে।
📄 সংযোগ ও পার্থক্যের পদ্ধতি
একটি কিতাবের যখন অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তখন সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থ দিয়ে প্রথমে অধ্যয়ন শুরু করুন, যা সর্বাধিক পরিপূর্ণ এবং সেটিকে মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থ ধরে নিন। এরপর যখন দ্বিতীয় আরেকটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করবেন, তখন সেখানে এমন অনেক ফায়দা দেখতে পাবেন, যা পূর্বের ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ ছিল না। তাহলে আপনি এখন এসব ফায়দা মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থের উপযুক্ত আলোচনার সংযোগ করে নিন।
এভাবেই আপনি প্রতিটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করবেন। আর এভাবে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে পরিপূর্ণ ফায়দা হাসিল হবে।
উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে। 'আল-আরবাউন আন-নাবাবিয়্যাহ' কিতাবটির অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থ আছে; যার কিছু পূর্ববর্তী আলিমদের লিখিত এবং কিছু পরবর্তী আলিমদের লিখিত। ইবনে রজব ও ইবনে দাকিকুল ইদের মতো ব্যক্তিরা এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। সমকালীন আলিমদেরও অনেকে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। এসব ক্ষেত্রে ইবনে রজবের ব্যাখ্যাগ্রন্থকে আসল হিসেবে ধরে নিন। প্রথম হাদিসটির ব্যাপারে প্রথমে ইবনে রজবের আলোচনা পাঠ করবেন, তারপর একই হাদিসের ব্যাপারে অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের আলোচনা পাঠ করবেন। এরপর দ্বিতীয় হাদিসের ব্যাপারে অধ্যয়ন শুরু করবেন। তাহলে দেখবেন, মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছাড়াও আপনি অন্যান্য গ্রন্থ থেকে অনেক অনেক ফায়দা অর্জন করতে পারবেন।
📄 মৌসুমের বই মৌসুমেই পাঠ করা
এটি তালিবে ইলমের জন্য খুবই উপকারী; আপনি হজের মৌসুমে হজসংক্রান্ত কিতাব পাঠ করার চেষ্টা করুন। প্রথমে সংক্ষিপ্ত কিতাব, তারপর মিডিয়াম এবং সব শেষে বড় কিতাব পাঠ করবেন। তাহলে উপলব্ধি করতে পারবেন যে, আপনি অনেক ফায়দা অর্জন করছেন, ইনশাআল্লাহ। এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়। যখন নির্ধারিত ইবাদতের মৌসুমে সে ব্যাপারে কিতাব পাঠ করবেন, তখন আপনি মৌসুমি ইবাদতগুলো পালন করতে গিয়ে আলাদা স্বাদ অনুভব করবেন। কারণ, আপনি ইলম ও বিচক্ষণতার সাথে আমল করছেন।
📄 ফাতওয়ার কিতাবসমূহ পাঠ করা
আমি এখন আপনাদের সামনে আমার পাওয়া সর্বোত্তম একটি পদ্ধতির কথা বলব। আমি এই পদ্ধতিটি কিছু ফারিগিন ছাত্রের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছি। ফলে আমিও উপকৃত হয়েছি এবং তারাও উপকৃত হয়েছে। এই আলোচনাটি ইমাম বুখারির এই আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত :
باب طرح الإمام المسألة على أصحابه ليختبر ما عندهم من العلم
'ইমাম কর্তৃক তার সাথিদের সামনে মাসআলা তুলে ধরা; যাতে তাদের কাছে যে ইলম আছে, তা তিনি পরীক্ষা করে নিতে পারেন—এই অধ্যায়।'
আমি বলব, এক ভাই তার সাথিদের সামনে মাসআলা তুলে ধরছেন; যেন তাদের কাছে থাকা ইলমের বিষয়ে তিনি জানতে পারেন। ফাতওয়ার কিতাবসমূহ থেকে একটি কিতাব নিন। আর এটি সুন্দর হবে যদি ইবাদতের নির্ধারিত মৌসুমে সে বিষয়ে হয়। কারণ, আপনি হুবহু ওই ইবাদতের বিষয়ে কিতাব পাঠ করছেন। কিতাব নির্বাচনের পর আপনার একজন সাথি বা কয়েকজন সাথির সাথে কিতাবটির ওপর পরস্পর আলোচনা হবে। তাদের একজন আপনাদের প্রশ্ন করবে এবং আপনারা যার যার মতো উত্তর দেবেন। যখন একজনের জবাব আরেকজনের জবাবের বিপরীত হবে, তখন প্রত্যেকেই নিজ নিজ জবাবের প্রমাণ ও কারণ পেশ করবে এবং অপরজনের দলিল প্রত্যাখ্যান করবে। আর এটি আল্লাহর ব্যাপারে না জেনে কথা বলার অন্তর্ভুক্ত হবে না। বরং এটি হলো শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। যখন আপনাদের আলোচনা সমাপ্ত হয়ে যাবে, তখন একজন কিতাবের উত্তরটি পাঠ করবে। তখন সকলেই কিতাবের উত্তরটি শোনার জন্য উৎসাহী থাকবে। কার উত্তর ভুল হয়েছে এবং কার উত্তর সঠিক হয়েছে, বিষয়টি জানার জন্য সকলেই আগ্রহী হবে। আর এই আগ্রহ ও উদ্দীপনা ফায়দাটি জেহেনে মজবুতভাবে গেঁথে দেবে। এরপর পাঠকারী আরেকটি প্রশ্ন করবে এবং সকলেই আগের মতো উত্তর দেবে।
এভাবে যখন কিছু প্রশ্ন করা হয়ে যাবে, তখন আবার পেছনের সবগুলো প্রশ্ন করা হবে এবং উত্তর দেওয়া হবে। তারপর নতুন প্রশ্নোত্তর শুরু করবে।