📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 গুরুত্বপূর্ণ ফায়দাগুলো নোটবন্দী করে রাখা

📄 গুরুত্বপূর্ণ ফায়দাগুলো নোটবন্দী করে রাখা


যখন আপনি কোনো কিতাব পাঠ করবেন, তখন যেন আপনার কলম আপনার সঙ্গী হয় এবং তা আপনার আঙুল থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। যখনই গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় পাবেন, তখনই তা কিতাবের কভারে বা অন্য কোনো নোটবইয়ে সংরক্ষণ করে রাখবেন। ফায়দার সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফায়দাগুলোর মাঝে পার্থক্য রয়েছে। এভাবে লিখে রাখলে যখন প্রয়োজন তখন আবার সেটা দেখে নেওয়া যাবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 কিতাব পাঠ করার সময় ফায়দাগুলোর সারাংশ তৈরি করা

📄 কিতাব পাঠ করার সময় ফায়দাগুলোর সারাংশ তৈরি করা


হয়তো কিতাবের কভারে, না হয় টীকায়, অন্যথায় অন্য কোনো নোটে এটি করতে পারেন। মূল বিষয় হলো যেকোনো ফায়দা যেন ছুটে না যায়, সে ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে। আর যখন নোটবন্দী করা ছাড়া কোনো ফায়দা ছুটে যাবে, তখন সেটি হারিয়ে যাওয়া জিনিসের মতো। খোঁজ করুন; যেন তা পেয়ে যান। এরপর যখন অনেক ফায়দা একত্রিত করতে পারবেন, তখন সেগুলোকে বিষয়ভিত্তিক ভাগ করে ফেলুন : আকিদা, মূলনীতি, ফিকহ ইত্যাদি। আল্লাহর অনুগ্রহের পর পরিপূর্ণরূপে বিশ্বাস করুন যে, যখন আপনি দুটি বা তিনটি অথবা দশটি কিতাব পাঠ করবেন, এরপর শুরুতে যে ফায়দাগুলো আপনি লিখে রেখেছেন, তার সাথে বিষয়ভিত্তিক পরবর্তী ফায়দাগুলো যখন সংযুক্ত করবেন এবং সব ফায়দার বিষয়ভিত্তিক পৃথক পৃথক নোট তৈরি করবেন, তখন তাতে অনেক মূল্যবান ফায়দা দেখবেন এবং এটি আপনার জন্য উৎস হিসেবে কাজ করবে। যখন আপনি তাতে নজর বুলাবেন বা কোনো আলোচনার জন্য তাকাবেন বা একটি বিষয়ে লিখতে যাবেন অথবা কোনো বিষয়ে বিতর্কে জড়াবেন, তখন দেখবেন, আপনার কাছে বিশাল এক কল্যাণের ভান্ডার রয়েছে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 নির্ধারিত কোনো শাস্ত্রে কিতাব পাঠ করলে ওই কিতাবকেই মূল বানিয়ে নেওয়া

📄 নির্ধারিত কোনো শাস্ত্রে কিতাব পাঠ করলে ওই কিতাবকেই মূল বানিয়ে নেওয়া


উদাহরণস্বরূপ আপনি স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার ব্যাপারে কোনো বই পাঠ করছেন। এরপর আপনি স্বপ্ন সম্পর্কে কোনো ফায়দা জানতে পেরেছেন। তাহলে এই ফায়দাটি ওই কিতাবে লিখে রাখুন, অথবা ওই কিতাবের কভারে তা ইশারা দিয়ে রাখুন বা কিছু কাগজে লিখে তা কিতাবের মাঝে রেখে দিন। আপনি যখন কোনো আলোচনা বা কোনো বিষয়ে লেখা অথবা উক্ত বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনার মজলিশে শরিক হতে যাবেন, তখন দেখবেন, পঠিত কিতাবে আপনার ওই আলোচ্য বিষয়ের সাথে সংযুক্ত অনেক ফায়দা রয়েছে। এই ফায়দাগুলো ঘাটতি পূরণ বা পূর্ণ বিষয়কে আরও পরিপূর্ণতা দান করবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 সংযোগ ও পার্থক্যের পদ্ধতি

📄 সংযোগ ও পার্থক্যের পদ্ধতি


একটি কিতাবের যখন অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তখন সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থ দিয়ে প্রথমে অধ্যয়ন শুরু করুন, যা সর্বাধিক পরিপূর্ণ এবং সেটিকে মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থ ধরে নিন। এরপর যখন দ্বিতীয় আরেকটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করবেন, তখন সেখানে এমন অনেক ফায়দা দেখতে পাবেন, যা পূর্বের ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ ছিল না। তাহলে আপনি এখন এসব ফায়দা মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থের উপযুক্ত আলোচনার সংযোগ করে নিন।

এভাবেই আপনি প্রতিটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করবেন। আর এভাবে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে পরিপূর্ণ ফায়দা হাসিল হবে।

উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে। 'আল-আরবাউন আন-নাবাবিয়্যাহ' কিতাবটির অনেকগুলো ব্যাখ্যাগ্রন্থ আছে; যার কিছু পূর্ববর্তী আলিমদের লিখিত এবং কিছু পরবর্তী আলিমদের লিখিত। ইবনে রজব ও ইবনে দাকিকুল ইদের মতো ব্যক্তিরা এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। সমকালীন আলিমদেরও অনেকে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। এসব ক্ষেত্রে ইবনে রজবের ব্যাখ্যাগ্রন্থকে আসল হিসেবে ধরে নিন। প্রথম হাদিসটির ব্যাপারে প্রথমে ইবনে রজবের আলোচনা পাঠ করবেন, তারপর একই হাদিসের ব্যাপারে অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের আলোচনা পাঠ করবেন। এরপর দ্বিতীয় হাদিসের ব্যাপারে অধ্যয়ন শুরু করবেন। তাহলে দেখবেন, মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছাড়াও আপনি অন্যান্য গ্রন্থ থেকে অনেক অনেক ফায়দা অর্জন করতে পারবেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px