📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 পড়ার মাঝে বিক্ষিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা

📄 পড়ার মাঝে বিক্ষিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা


অনেক সময় পড়ার মাঝে আপনার সামনে অস্পষ্ট কোনো শব্দ আসতে পারে। এই শব্দগুলো দুই ধরনের : যদি বাক্যের অর্থ বোঝা সেই শব্দের ওপর নির্ভর করে, তাহলে আপনি তার অর্থ খুঁজুন। আর যদি এমন হয় যে, সেই শব্দটি বাক্যের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না, তাহলে আপনি তা এড়িয়ে যান এবং শব্দটির নিচে একটি দাগ টেনে রাখুন; যেন পড়া শেষ হলে আপনি তা যাচাই করে নিতে পারেন।

এখানে বিক্ষিপ্ত হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, কিছু তালিবে ইলম আছে, যখন তারা ওই শব্দের—যার অর্থ বোঝার ওপর বাক্য বোঝা নির্ভর করে—অর্থ বোঝার ইচ্ছা করে, তখন বিভিন্ন অভিধান দেখা শুরু করবে। আর এই সময় হয়তো এসব অভিধানের প্রচুর ফায়দা দেখে সে এসব পাঠ করা শুরু করবে এবং একের পর এক পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকবে; ফলে একসময় মূল পড়া থেকে ভিন্ন দিকে সরে যাবে। তবে সর্বোত্তম হলো শুধু কাঙ্ক্ষিত শব্দের অর্থ খোঁজা। যখন নিজের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে এবং পড়াও পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, তখন সেই ফায়দার দিকে ফিরে আসবে, যা পড়ার মাঝখান থেকে সে এদিকে গিয়েছিল। আর এটি সম্ভব হবে অভিধানের ফায়দাসংবলিত ওই পৃষ্ঠাগুলো নোট করে রাখার মাধ্যমে। যখন মূল পড়া শেষ হবে, তখন নম্বর অনুযায়ী ওই পৃষ্ঠাগুলো দেখে নেবে এবং গভীরভাবে সেগুলো পাঠ করবে।

এটি একটি উদাহরণ, যার ওপর এ ধরনের অন্যান্য বিষয়গুলো অনুমান করা যেতে পারে। সুতরাং কেউ যদি হাদিস পড়তে গিয়ে হাদিসের মান যাচাই করতে চায়, তাহলে শুধু মানটা যাচাই করে মূল পড়ায় ফিরে আসবে। ওই হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট ইলমি বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে না।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 গুরুত্বপূর্ণ ফায়দাগুলো নোটবন্দী করে রাখা

📄 গুরুত্বপূর্ণ ফায়দাগুলো নোটবন্দী করে রাখা


যখন আপনি কোনো কিতাব পাঠ করবেন, তখন যেন আপনার কলম আপনার সঙ্গী হয় এবং তা আপনার আঙুল থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। যখনই গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় পাবেন, তখনই তা কিতাবের কভারে বা অন্য কোনো নোটবইয়ে সংরক্ষণ করে রাখবেন। ফায়দার সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফায়দাগুলোর মাঝে পার্থক্য রয়েছে। এভাবে লিখে রাখলে যখন প্রয়োজন তখন আবার সেটা দেখে নেওয়া যাবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 কিতাব পাঠ করার সময় ফায়দাগুলোর সারাংশ তৈরি করা

📄 কিতাব পাঠ করার সময় ফায়দাগুলোর সারাংশ তৈরি করা


হয়তো কিতাবের কভারে, না হয় টীকায়, অন্যথায় অন্য কোনো নোটে এটি করতে পারেন। মূল বিষয় হলো যেকোনো ফায়দা যেন ছুটে না যায়, সে ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে। আর যখন নোটবন্দী করা ছাড়া কোনো ফায়দা ছুটে যাবে, তখন সেটি হারিয়ে যাওয়া জিনিসের মতো। খোঁজ করুন; যেন তা পেয়ে যান। এরপর যখন অনেক ফায়দা একত্রিত করতে পারবেন, তখন সেগুলোকে বিষয়ভিত্তিক ভাগ করে ফেলুন : আকিদা, মূলনীতি, ফিকহ ইত্যাদি। আল্লাহর অনুগ্রহের পর পরিপূর্ণরূপে বিশ্বাস করুন যে, যখন আপনি দুটি বা তিনটি অথবা দশটি কিতাব পাঠ করবেন, এরপর শুরুতে যে ফায়দাগুলো আপনি লিখে রেখেছেন, তার সাথে বিষয়ভিত্তিক পরবর্তী ফায়দাগুলো যখন সংযুক্ত করবেন এবং সব ফায়দার বিষয়ভিত্তিক পৃথক পৃথক নোট তৈরি করবেন, তখন তাতে অনেক মূল্যবান ফায়দা দেখবেন এবং এটি আপনার জন্য উৎস হিসেবে কাজ করবে। যখন আপনি তাতে নজর বুলাবেন বা কোনো আলোচনার জন্য তাকাবেন বা একটি বিষয়ে লিখতে যাবেন অথবা কোনো বিষয়ে বিতর্কে জড়াবেন, তখন দেখবেন, আপনার কাছে বিশাল এক কল্যাণের ভান্ডার রয়েছে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 নির্ধারিত কোনো শাস্ত্রে কিতাব পাঠ করলে ওই কিতাবকেই মূল বানিয়ে নেওয়া

📄 নির্ধারিত কোনো শাস্ত্রে কিতাব পাঠ করলে ওই কিতাবকেই মূল বানিয়ে নেওয়া


উদাহরণস্বরূপ আপনি স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার ব্যাপারে কোনো বই পাঠ করছেন। এরপর আপনি স্বপ্ন সম্পর্কে কোনো ফায়দা জানতে পেরেছেন। তাহলে এই ফায়দাটি ওই কিতাবে লিখে রাখুন, অথবা ওই কিতাবের কভারে তা ইশারা দিয়ে রাখুন বা কিছু কাগজে লিখে তা কিতাবের মাঝে রেখে দিন। আপনি যখন কোনো আলোচনা বা কোনো বিষয়ে লেখা অথবা উক্ত বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনার মজলিশে শরিক হতে যাবেন, তখন দেখবেন, পঠিত কিতাবে আপনার ওই আলোচ্য বিষয়ের সাথে সংযুক্ত অনেক ফায়দা রয়েছে। এই ফায়দাগুলো ঘাটতি পূরণ বা পূর্ণ বিষয়কে আরও পরিপূর্ণতা দান করবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px