📄 পাঠ বণ্টন
যখন পঠিতব্য কিতাবটি নির্ধারিত কোনো বিষয়ের ব্যাপারে হবে, তখন চেষ্টা করবেন লাইন বা নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত তা ভাগ ভাগ করে নিতে।
উদাহরণস্বরূপ কিতাবের আলোচ্য বিষয় যদি হয় সালাত, তাহলে আপনি তাকবিরে তাহরিমা থেকে সিজদা পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি আলোচনা ধরে নিন। এরপর সিজদা থেকে শেষ বৈঠক পর্যন্ত আরেকটি পরিপূর্ণ আলোচনা হিসেবে ধরে নিন। আর এভাবে ভাগ ভাগ করে নিন।
অথবা কিতাবটি লাইনের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে নিন বা বিষয়ভিত্তিক কোনো আলোচনার পরিপূর্ণতার মাধ্যমে অথবা পৃষ্ঠার মাধ্যমে ভাগ করে নিন। মোট কথা আপনি এলোমেলোভাবে পাঠ করবেন না। নয়তো এভাবে আপনি আপনার পাঠের অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলবেন। কিন্তু ভাগ ও বিন্যাস আপনার জন্য ফায়দা অর্জনকে সহজ করে দেবে।
📄 শুরু ও শেষের তারিখটি নথিভুক্ত করে রাখা
কিতাবের শুরুতে লিখে রাখবেন, আমি অমুক দিন এই কিতাবটি পড়া শুরু করেছি। আর যখন পড়া শেষ হবে, তখন শেষে লিখে রাখবেন, আমি অমুক দিন কিতাবটি পড়া সমাপ্ত করেছি। প্রথমত এটি হলো, আহলে ইলমদের কাজ। এরপর এটি হিম্মতের দাবি করে এবং সংকল্পকে শক্তিশালী করে।
কিছুদিন পরে যখন কিতাবের ওপরে থাকা শুরুর তারিখটি ও শেষের তারিখটি দেখবেন, তখন আপনার মাঝে হিম্মত ও উদ্যম বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়াও যদি দেখেন যে, বইটি শুরু করে শেষ করতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লেগে গেছে এবং আপনি জানেন যে, এর কারণ হলো, সময় ও বিন্যাসের সমস্যা, তাহলে এটি আপনাকে সময়ের ব্যাপারে আরও যত্নশীল করে তুলবে এবং আপনি সামনে আর অবহেলা করবেন না।
📄 শেষ করার জন্য দ্রুত পড়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা
অনেক সময় আপনি কোনো কিতাব পাঠ করছেন; কিন্তু তার আর এক পৃষ্ঠা বা দুই পৃষ্ঠা বাকি আছে। এখন শুধু আগামীকাল শেষ করার নিয়তে তাড়াহুড়া করা থেকে সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে যখন কিতাবের আলোচ্য বিষয়ে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয়। সুতরাং আপনাকে ধীরে চলতে হবে; যেন আপনি গভীরভাবে বুঝে বুঝে পড়তে পারেন এবং আপনার পঠিত বিষয় থেকে উপকৃত হতে পারেন। তাড়াহুড়া করে ফায়দা অর্জন থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। অনেক সময় এই দুটি পৃষ্ঠায় অনেক ফায়দা থাকতে পারে; যা অন্যান্য সবগুলোর সমান হতে পারে।
📄 পড়ার মাঝে বিক্ষিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা
অনেক সময় পড়ার মাঝে আপনার সামনে অস্পষ্ট কোনো শব্দ আসতে পারে। এই শব্দগুলো দুই ধরনের : যদি বাক্যের অর্থ বোঝা সেই শব্দের ওপর নির্ভর করে, তাহলে আপনি তার অর্থ খুঁজুন। আর যদি এমন হয় যে, সেই শব্দটি বাক্যের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না, তাহলে আপনি তা এড়িয়ে যান এবং শব্দটির নিচে একটি দাগ টেনে রাখুন; যেন পড়া শেষ হলে আপনি তা যাচাই করে নিতে পারেন।
এখানে বিক্ষিপ্ত হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, কিছু তালিবে ইলম আছে, যখন তারা ওই শব্দের—যার অর্থ বোঝার ওপর বাক্য বোঝা নির্ভর করে—অর্থ বোঝার ইচ্ছা করে, তখন বিভিন্ন অভিধান দেখা শুরু করবে। আর এই সময় হয়তো এসব অভিধানের প্রচুর ফায়দা দেখে সে এসব পাঠ করা শুরু করবে এবং একের পর এক পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকবে; ফলে একসময় মূল পড়া থেকে ভিন্ন দিকে সরে যাবে। তবে সর্বোত্তম হলো শুধু কাঙ্ক্ষিত শব্দের অর্থ খোঁজা। যখন নিজের উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যাবে এবং পড়াও পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, তখন সেই ফায়দার দিকে ফিরে আসবে, যা পড়ার মাঝখান থেকে সে এদিকে গিয়েছিল। আর এটি সম্ভব হবে অভিধানের ফায়দাসংবলিত ওই পৃষ্ঠাগুলো নোট করে রাখার মাধ্যমে। যখন মূল পড়া শেষ হবে, তখন নম্বর অনুযায়ী ওই পৃষ্ঠাগুলো দেখে নেবে এবং গভীরভাবে সেগুলো পাঠ করবে।
এটি একটি উদাহরণ, যার ওপর এ ধরনের অন্যান্য বিষয়গুলো অনুমান করা যেতে পারে। সুতরাং কেউ যদি হাদিস পড়তে গিয়ে হাদিসের মান যাচাই করতে চায়, তাহলে শুধু মানটা যাচাই করে মূল পড়ায় ফিরে আসবে। ওই হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট ইলমি বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে না।