📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ গ্রহণ করা

📄 সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ গ্রহণ করা


আপনি যা পাঠ করবেন, তা যদি কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ হয়ে থাকে, যার মূল গ্রন্থের একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, তখন আপনাকে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি গ্রহণ করতে হবে। সুতরাং এ বিষয়ে সর্বাধিক আসান ব্যাখ্যাগ্রন্থ নির্বাচনে আপনাকে আপনার বড় বড় উসতাজ ও বড় তালিবে ইলমদের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

আমি নিজেকে এবং তালিবে ইলমকে সংক্ষিপ্ত কিতাব পাঠ করার উপদেশ দিচ্ছি; চাই তা মূল পাঠ হোক বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ হোক। আপনি দেখবেন যে, এতে মূল পাঠ এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে অধিক ফায়দা লাভ করা যাবে।

উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি ‘কিতাবুত তাওহিদ’ পাঠ করতে চান, তাহলে দেখবেন, এর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও হাশিয়াগ্রন্থ রয়েছে। যেমন : ‘ফাতহুল মাজিদ’ ও ‘তাইসিরুল আজিজিল হামিদ’ ইত্যাদি। তেমনিভাবে পূর্বের চেয়ে আরও সংক্ষিপ্ত হাশিয়াগ্রন্থ রয়েছে। আপনি যদি শাইখ ইবনুল কাসিমের হাশিয়াগ্রন্থ দিয়ে শুরু করেন, এরপর সামনে অগ্রসর হন এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা গ্রহণ করেন, তাহলে প্রথমে ‘আল-আসগার’ এবং তারপর ‘আল-আকবার’ পাঠ করবেন। এটি আপনার জেহেনে আরও বেশি ফায়দা অর্জনের কারণ হবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 পাঠ বণ্টন

📄 পাঠ বণ্টন


যখন পঠিতব্য কিতাবটি নির্ধারিত কোনো বিষয়ের ব্যাপারে হবে, তখন চেষ্টা করবেন লাইন বা নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত তা ভাগ ভাগ করে নিতে।

উদাহরণস্বরূপ কিতাবের আলোচ্য বিষয় যদি হয় সালাত, তাহলে আপনি তাকবিরে তাহরিমা থেকে সিজদা পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি আলোচনা ধরে নিন। এরপর সিজদা থেকে শেষ বৈঠক পর্যন্ত আরেকটি পরিপূর্ণ আলোচনা হিসেবে ধরে নিন। আর এভাবে ভাগ ভাগ করে নিন।

অথবা কিতাবটি লাইনের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে নিন বা বিষয়ভিত্তিক কোনো আলোচনার পরিপূর্ণতার মাধ্যমে অথবা পৃষ্ঠার মাধ্যমে ভাগ করে নিন। মোট কথা আপনি এলোমেলোভাবে পাঠ করবেন না। নয়তো এভাবে আপনি আপনার পাঠের অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলবেন। কিন্তু ভাগ ও বিন্যাস আপনার জন্য ফায়দা অর্জনকে সহজ করে দেবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 শুরু ও শেষের তারিখটি নথিভুক্ত করে রাখা

📄 শুরু ও শেষের তারিখটি নথিভুক্ত করে রাখা


কিতাবের শুরুতে লিখে রাখবেন, আমি অমুক দিন এই কিতাবটি পড়া শুরু করেছি। আর যখন পড়া শেষ হবে, তখন শেষে লিখে রাখবেন, আমি অমুক দিন কিতাবটি পড়া সমাপ্ত করেছি। প্রথমত এটি হলো, আহলে ইলমদের কাজ। এরপর এটি হিম্মতের দাবি করে এবং সংকল্পকে শক্তিশালী করে।

কিছুদিন পরে যখন কিতাবের ওপরে থাকা শুরুর তারিখটি ও শেষের তারিখটি দেখবেন, তখন আপনার মাঝে হিম্মত ও উদ্যম বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়াও যদি দেখেন যে, বইটি শুরু করে শেষ করতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লেগে গেছে এবং আপনি জানেন যে, এর কারণ হলো, সময় ও বিন্যাসের সমস্যা, তাহলে এটি আপনাকে সময়ের ব্যাপারে আরও যত্নশীল করে তুলবে এবং আপনি সামনে আর অবহেলা করবেন না।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 শেষ করার জন্য দ্রুত পড়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা

📄 শেষ করার জন্য দ্রুত পড়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা


অনেক সময় আপনি কোনো কিতাব পাঠ করছেন; কিন্তু তার আর এক পৃষ্ঠা বা দুই পৃষ্ঠা বাকি আছে। এখন শুধু আগামীকাল শেষ করার নিয়তে তাড়াহুড়া করা থেকে সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে যখন কিতাবের আলোচ্য বিষয়ে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয়। সুতরাং আপনাকে ধীরে চলতে হবে; যেন আপনি গভীরভাবে বুঝে বুঝে পড়তে পারেন এবং আপনার পঠিত বিষয় থেকে উপকৃত হতে পারেন। তাড়াহুড়া করে ফায়দা অর্জন থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। অনেক সময় এই দুটি পৃষ্ঠায় অনেক ফায়দা থাকতে পারে; যা অন্যান্য সবগুলোর সমান হতে পারে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px