📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 সংক্ষিপ্ত বই দ্বারা পাঠ শুরু করা

📄 সংক্ষিপ্ত বই দ্বারা পাঠ শুরু করা


অধ্যয়নে আগ্রহী নতুন অনেক যুবক শুরুতে খুব উদ্যমী ও দুঃসাহসী হয়ে থাকে। এটি প্রশংসনীয় একটি বিষয়। কিন্তু তারা আলিম ও বড় তালিবে ইলমদের সাথে পরামর্শ ছাড়াই কিতাব অধ্যয়ন শুরু করে। সময়ের তালে তালে একসময় তাদের মাঝে ক্লান্তি দেখা দেয় এবং দুর্বলতা তাদের ঘায়েল করে ফেলে। ফলে তারা এক ধরনের অলসতা অনুভব করে। আর এভাবে সে একসময় ইলমের পথ থেকেই ছিটকে পড়ে।

তাই তালিবে ইলমের জন্য এটি জানা জরুরি যে, ইলমের পথ অনেক দীর্ঘ। যে তা খুব দ্রুত অর্জন করতে চাইবে, সে তা দ্রুত বর্জন করবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 পঠিতব্য কিতাব সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে, তা পাঠের ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া

📄 পঠিতব্য কিতাব সম্পর্কে যা কিছু লেখা হয়েছে, তা পাঠের ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া


উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি 'আল-আরবাউন আন- নাবাবিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শারহু ইবনি রজব' পড়তে চান, অথবা 'বুলুগুল মারাম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইমাম সানআনি -এর 'সুবুলুস সালাম' পাঠ করতে চান, তাহলে 'সুবুলুস সালাম'-এর ব্যাপারে আগে পাঠ করুন। লেখকের পদ্ধতি, পরিভাষা এবং সিস্টেম জেনে নিন। সাথে সাথে লেখকের জীবনীও পাঠ করুন। এ জাতীয় বিষয়গুলো আপনাকে লেখকের পদ্ধতির প্রতি ভালোবাসা, বুঝ এবং আয়ত্তের বিষয়টি দান করবে। পড়া অবস্থায় আপনার পথ আলোকিত করবে। পক্ষান্তরে যখন আপনি বইয়ের লেখক বা তার পদ্ধতি ও পরিভাষার ব্যাপারে কিছুই না জেনে বইয়ের মূল পাঠ পড়বেন, তো অনেক সময় দেখা যাবে যে, কিতাবের মাঝখানে এমন একটি পরিভাষা আসবে—আপনি তার ভুল ব্যাখ্যা করবেন বা তাকে অন্য কোনো পরিভাষার ওপর অনুমান করবেন; ফলে এই অনুমান সঠিক হবে না।

উদাহরণস্বরূপ ইবনে হাজার -এর কিতাব 'তাকরিবুত তাহজিব'-এ (৩)-এর সংকেত ইমাম সুয়ুতি -এর কিতাব 'আল-জামিউস সগির'-এর (৩)-এর সংকেতের বিপরীত; 'তাকরিবুত তাহজিব'-এ (৩) দ্বারা ইশারা করা হয়েছে ইবনে মাজাহ আল-কাজবিনি -এর দিকে; অথচ 'আল-জামিউস সগির'-এ এর মাধ্যমে তাদের কথা 'মুত্তাফাক আলাইহি' ইশারা করা হয়েছে।

'মুত্তাফাক আলাইহি' দ্বারা মাজদুদ্দিন ইবনে তাইমিয়া -এর 'মুনতাকাল আখবার'-এ উদ্দেশ্য করা হয়েছে : ইমাম আহমাদ, ইমাম বুখারি ও মুসলিমকে; অথচ অন্যদের কাছে 'মুত্তাফাক আলাইহি' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শুধু ইমাম বুখারি ও মুসলিম।

সাংকেতিক অর্থের ভিন্নতা সম্পর্কে এই হলো কিছু উদাহরণ। সুতরাং ব্যাখ্যাতাদের পরিভাষা ও মানহাজ কীভাবে তাদের বিধানের ক্ষেত্রে এক হতে পারে?

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ গ্রহণ করা

📄 সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ গ্রহণ করা


আপনি যা পাঠ করবেন, তা যদি কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ হয়ে থাকে, যার মূল গ্রন্থের একাধিক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, তখন আপনাকে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি গ্রহণ করতে হবে। সুতরাং এ বিষয়ে সর্বাধিক আসান ব্যাখ্যাগ্রন্থ নির্বাচনে আপনাকে আপনার বড় বড় উসতাজ ও বড় তালিবে ইলমদের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

আমি নিজেকে এবং তালিবে ইলমকে সংক্ষিপ্ত কিতাব পাঠ করার উপদেশ দিচ্ছি; চাই তা মূল পাঠ হোক বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ হোক। আপনি দেখবেন যে, এতে মূল পাঠ এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে অধিক ফায়দা লাভ করা যাবে।

উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি ‘কিতাবুত তাওহিদ’ পাঠ করতে চান, তাহলে দেখবেন, এর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও হাশিয়াগ্রন্থ রয়েছে। যেমন : ‘ফাতহুল মাজিদ’ ও ‘তাইসিরুল আজিজিল হামিদ’ ইত্যাদি। তেমনিভাবে পূর্বের চেয়ে আরও সংক্ষিপ্ত হাশিয়াগ্রন্থ রয়েছে। আপনি যদি শাইখ ইবনুল কাসিমের হাশিয়াগ্রন্থ দিয়ে শুরু করেন, এরপর সামনে অগ্রসর হন এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা গ্রহণ করেন, তাহলে প্রথমে ‘আল-আসগার’ এবং তারপর ‘আল-আকবার’ পাঠ করবেন। এটি আপনার জেহেনে আরও বেশি ফায়দা অর্জনের কারণ হবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 পাঠ বণ্টন

📄 পাঠ বণ্টন


যখন পঠিতব্য কিতাবটি নির্ধারিত কোনো বিষয়ের ব্যাপারে হবে, তখন চেষ্টা করবেন লাইন বা নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত তা ভাগ ভাগ করে নিতে।

উদাহরণস্বরূপ কিতাবের আলোচ্য বিষয় যদি হয় সালাত, তাহলে আপনি তাকবিরে তাহরিমা থেকে সিজদা পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি আলোচনা ধরে নিন। এরপর সিজদা থেকে শেষ বৈঠক পর্যন্ত আরেকটি পরিপূর্ণ আলোচনা হিসেবে ধরে নিন। আর এভাবে ভাগ ভাগ করে নিন।

অথবা কিতাবটি লাইনের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে নিন বা বিষয়ভিত্তিক কোনো আলোচনার পরিপূর্ণতার মাধ্যমে অথবা পৃষ্ঠার মাধ্যমে ভাগ করে নিন। মোট কথা আপনি এলোমেলোভাবে পাঠ করবেন না। নয়তো এভাবে আপনি আপনার পাঠের অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলবেন। কিন্তু ভাগ ও বিন্যাস আপনার জন্য ফায়দা অর্জনকে সহজ করে দেবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px