📄 মুখস্থকৃত বিষয়ের যত্ন নেওয়া এবং নিজের সাথে বা অন্যের সাথে তা বারবার আলোচনা করা
অনেক সময় মানুষ কোনো জিনিস মুখস্থ করে নিজে নিজে তা অবিচলভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয় না; বরং আল্লাহ তাআলার সাহায্যের পর তাকে তার কোনো ভাইয়ের সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। আর এটি তার জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী প্রমাণিত হয়। অনেক সময় ইবনে আব্বাস মুজাহিদ-এর সাথে বের হতেন এবং বলতেন, 'হে মুজাহিদ, তুমি আমাকে পড়ে শোনাও আর আমিও তোমাকে পড়ে শোনাব।'
এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের মুখস্থকৃত বিষয়টি জেহেনে ভালোভাবে গেঁথে নিতেন। আপনি যখন এমন কোনো সাথি পাবেন, যে আপনার মুখস্থে সাহায্য করবে এবং আপনার সাথে বিশেষ কিছু গুণে সে একত্রিত হবে, তখন আল্লাহর অনুগ্রহের পর তার থেকে সাহায্য গ্রহণ করুন। আপনি তাকে পড়ে শুনান এবং সে আপনাকে পড়ে শুনাবে। আপনি তার সামনে তাকরার বা পুনরাবৃত্তি করুন এবং সে আপনার সামনে পুনরাবৃত্তি করবে। আর এর যে ফল বের হবে, তা আপনাকে আনন্দিত করবে।
আমি জনৈক তালিবে ইলমকে জানি, যে বলেছিল, 'যখন আমি কোনো বিষয় মুখস্থের ইচ্ছা করি, তখন আমার ভয়েস ক্যাসেটে তা রেকর্ড করি। এরপর আমি নিজ কানে তা দশবার শ্রবণ করি; ফলে আমার জেহেনে তা দৃঢ়ভাবে বসে যায়। এমনকি বহু সময় অতিবাহিত হলেও আমি তা ভুলি না।' এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়।
যা-ই হোক, নিয়ম সেটিই, যা আমি বলেছি : অর্থাৎ একটি সিস্টেম আপনি নিজের জন্য সুবিধাজনক পাবেন এবং মন তা দ্রুত গ্রহণ করে নেবে, তাহলে এই পদ্ধতিটিই আপনি গ্রহণ করুন এবং এরচেয়ে উত্তম পদ্ধতি না পাওয়া পর্যন্ত তা ছেড়ে দেবেন না।
📄 মুখস্থকৃত বিষয়ের ওপর আমল করা
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি বলেন:
'যারা আমাদের কুরআন পাঠ করে শুনাতেন—যেমন উসমান বিন আফফান, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ও অন্যান্যরা-তাঁরা যখন নবিজি থেকে দশটি আয়াত শিখতেন, তখন এরচেয়ে বেশি ততক্ষণ পর্যন্ত শিখতেন না, যতক্ষণ না এর মাঝে থাকা ইলম ও আমল অর্জন করতেন। তারা বলেন, “আমরা কুরআন, ইলম এবং আমল সবই শিখতাম।”¹⁶
আপনি দেখেছেন কি যে, আমাদের কেউ কেউ আছে টয়লেটে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ মুখস্থ বলতে পারে এবং মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআও বলতে পারে; কিন্তু আপনি যদি তাকে কাপড় পরিধান করা অথবা ঘরে প্রবেশ করা বা ঘর থেকে বের হওয়ার দুআ জিজ্ঞেস করেন, তাহলে অধিকাংশ সময়ই সে তা মুখস্থ বলতে পারবে না। যদিও মুখস্থ থাকে, তবে মাঝে মাঝে গুলিয়ে ফেলে। হয়তো কোনো বাক্য ছুটে যায় বা একই বাক্য বারংবার বলে। বস্তুত এর মূল কারণ হলো, আমল না করা। যদি সে এ দুআগুলো পাঠের আমলে নিজেকে অভ্যস্ত করে নিত, তাহলে তার জেহেনে তা দৃঢ়ভাবে বসে যেত।
আমি নিজেকে এবং আপনাকে খতিব আল-বাগদাদি -এর লিখিত 'ইকতিজাউল ইলমিল আমালু' গ্রন্থটি পাঠ করার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছি। তিনি সেখানে অমূল্য কিছু বাণী তুলে ধরেছেন এবং ইলম অনুযায়ী আমলের ব্যাপারে সালাফের আগ্রহের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
১৬. মুকাদ্দামাতুত তাফসির লি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়া : ৩৬ পৃ.
📄 কতিপয় আহলে ইলম এমন কিছু খাবার ও পানীয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যা মুখস্থের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হয়
তাদের কেউ কেউ বলেন, এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়। মানুষ খাবারের ক্ষেত্রে সুন্নাতের অনুসরণ করবে এবং নিজের খাবারের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বাকি রাখবে এবং খাদ্যের যা কিছু তার আকল ও দেহের জন্য উপকারী, তা গ্রহণ করবে। এতে কিছু বিষয় একত্রিত হবে : তার একটি হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও তাঁর নৈকট্য অর্জন। আরেকটি হলো, রাসুল -এর সুন্নাতের অনুসরণ। আর এটিই হবে তার আকল ও দেহের জন্য সবচেয়ে উপকারী। কারণ, শরিয়ত দেহ ও আকলের জন্য শুধু কল্যাণই নিয়ে আসে।
📄 হাফিজদের জীবনীর দৃষ্টান্ত নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলো পাঠ করা
জীবনী নিয়ে রচিত গ্রন্থ অনেক। কিন্তু বর্তমানে এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যেখানে লেখকগণ কতিপয় আলিম এবং হাফিজদের বিস্ময়কর মুখস্থশক্তির দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন। শাইখ আব্দুল কাইয়ুম আস-সুহাইবানির একটি ছোট বই আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। সেখানে সূক্ষ্ম কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠকের মাঝে মুখস্থশক্তির ব্যাপারে প্রভাব সৃষ্টি করবে। তাকে দ্রুত মুখস্থের বিষয়টি বিস্মিত করবে। যদি বইটি সকলেই পাঠ করত, তাহলে সবাই ফায়দা গ্রহণ করতে পারত। সত্যি আহলে ইলমদের হিম্মত হলো বিশাল এবং তাদের দৃঢ় সংকল্পগুলো বিস্ময়কর!
আপনাদের সান্ত্বনার জন্য আমি আপনাদের সামনে মুখস্থ ও বিশাল সংকল্পের ব্যাপারে সূক্ষ্ম কিছু বিষয় উল্লেখ করছি :
উবাইদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন শারিক বলেন :
'আমি এমন একটি সভায় অংশগ্রহণ করলাম; যাতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। আমি আমার পিঠে চুলকানি ও নড়াচড়া অনুভব করলাম। যখন পেছনে ফিরতে চাইলাম, তখন এক লোক আমাকে বসিয়ে দিল। আমি বললাম, “আপনার কী হয়েছে?” তিনি বললেন, "আপনি বসুন! কারণ, আমি আপনার পিঠে পুরো মজলিশের আলোচনাটি লিখে নিয়েছি। এখন আমার শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”¹⁷
ইবনে আবি আসিম বলেন, 'যখন বসরায় আলাবির বিষয়টি ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন আমার গ্রন্থসমূহ সব নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলোর একটিও বাকি ছিল না। এরপর আমি নিজের স্মৃতি থেকে পঞ্চাশ হাজার হাদিস লিপিবদ্ধ করলাম। আমি তখন এক সবজি-বিক্রেতার কাছে যেতাম। আর তার বাতির আলোতে তা লিখতাম। এরপর চিন্তা করলাম যে, আমি তো বাতির মালিক থেকে অনুমতি নিইনি! অতঃপর আমি সাগরে গিয়ে গোসল সেরে আসলাম এবং পুনরায় তা লিপিবদ্ধ করলাম।'¹⁸
এই মুখস্থশক্তি কোনো অবসরতা থেকে আসে না; বরং আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহের পর বিশাল হিম্মত ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমেই তা আসে।
টিকাঃ
১৭. আদাবুল ইমলা ওয়াল ইসতিমলায়ি লিস সামআনি : ১৮৪ পৃ.
১৮. সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৮/৫৭৭।