📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 নফসকে মুখস্থের ওপর অভ্যস্ত করে তোলা এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া

📄 নফসকে মুখস্থের ওপর অভ্যস্ত করে তোলা এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়া


নফসকে যখন আপনি কোনো বিষয়ে অভ্যস্ত করে তুলবেন, তখন সে ওই বিষয়ের ওপর অভ্যস্ত হয়ে যাবে। কবি বলেন:
والنفس كالطفل إن تهمله شب على حب الرضاع وإن تفطمه ينفطم
'নফস হলো (দুদপানকারী) শিশুর মতো; যদি আপনি তাকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দেন, তাহলে সে স্তন্যপানের ভালোবাসায় বড় হয়ে উঠবে। আর যদি তাকে দুধ ছাড়িয়ে দেন, তাহলে দুধ-ছাড়া হয়ে বেড়ে উঠবে।'

কবির চেয়ে শ্রেষ্ঠ কথা হলো আমাদের নবি -এর কথা : )... إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ ( “নিশ্চয় ইলম আসে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে।...'¹⁵

এই হাদিসটি পেছনে গত হয়েছে। যখন আপনি নিজের মনকে কোনো একটি বিষয়ে অভ্যস্ত করে তুলবেন, তখন সে ওই বিষয়টি পছন্দ করবে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। জনৈক আলিম বলতেন, 'আমি প্রতিদিন মুখস্থ করতাম; যদিও একটি লাইন হতো। যেন আমি মুখস্থ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না যাই।'

কারণ, নফসের মাঝে কিছু শক্তি আছে। যদি আপনি সেগুলোকে ফেলে রাখেন, তাহলে তা পরিত্যক্ত কূপের মতো হয়ে যাবে। খলিল বিন আহমাদ আল-ফারাহিদি বলেন : 'প্রত্যেক ব্যক্তির জন্মগতভাবেই কাব্যিক যোগ্যতা রয়েছে। যদি সে তা কাজে লাগায়, তাহলে তা বিচ্ছুরিত হয়। আর যদি ছেড়ে দেয়, তাহলে তা ডুবে যায়।'

মুখস্থ, বোঝা এবং পড়ার বিষয়টিও তেমনই; যদি মনকে তাতে অভ্যস্ত করে তোলা হয়, তাহলে সে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং তার জন্য তা সহজ হয়ে যায়।

টিকাঃ
১৫. আল-মুজামুল আওসাত: ২৬৬৩, সহিহুল জামিয়িস সগির : ২৩২৮।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 মুখস্থকৃত বিষয়ের যত্ন নেওয়া এবং নিজের সাথে বা অন্যের সাথে তা বারবার আলোচনা করা

📄 মুখস্থকৃত বিষয়ের যত্ন নেওয়া এবং নিজের সাথে বা অন্যের সাথে তা বারবার আলোচনা করা


অনেক সময় মানুষ কোনো জিনিস মুখস্থ করে নিজে নিজে তা অবিচলভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয় না; বরং আল্লাহ তাআলার সাহায্যের পর তাকে তার কোনো ভাইয়ের সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। আর এটি তার জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী প্রমাণিত হয়। অনেক সময় ইবনে আব্বাস মুজাহিদ-এর সাথে বের হতেন এবং বলতেন, 'হে মুজাহিদ, তুমি আমাকে পড়ে শোনাও আর আমিও তোমাকে পড়ে শোনাব।'

এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের মুখস্থকৃত বিষয়টি জেহেনে ভালোভাবে গেঁথে নিতেন। আপনি যখন এমন কোনো সাথি পাবেন, যে আপনার মুখস্থে সাহায্য করবে এবং আপনার সাথে বিশেষ কিছু গুণে সে একত্রিত হবে, তখন আল্লাহর অনুগ্রহের পর তার থেকে সাহায্য গ্রহণ করুন। আপনি তাকে পড়ে শুনান এবং সে আপনাকে পড়ে শুনাবে। আপনি তার সামনে তাকরার বা পুনরাবৃত্তি করুন এবং সে আপনার সামনে পুনরাবৃত্তি করবে। আর এর যে ফল বের হবে, তা আপনাকে আনন্দিত করবে।

আমি জনৈক তালিবে ইলমকে জানি, যে বলেছিল, 'যখন আমি কোনো বিষয় মুখস্থের ইচ্ছা করি, তখন আমার ভয়েস ক্যাসেটে তা রেকর্ড করি। এরপর আমি নিজ কানে তা দশবার শ্রবণ করি; ফলে আমার জেহেনে তা দৃঢ়ভাবে বসে যায়। এমনকি বহু সময় অতিবাহিত হলেও আমি তা ভুলি না।' এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়।

যা-ই হোক, নিয়ম সেটিই, যা আমি বলেছি : অর্থাৎ একটি সিস্টেম আপনি নিজের জন্য সুবিধাজনক পাবেন এবং মন তা দ্রুত গ্রহণ করে নেবে, তাহলে এই পদ্ধতিটিই আপনি গ্রহণ করুন এবং এরচেয়ে উত্তম পদ্ধতি না পাওয়া পর্যন্ত তা ছেড়ে দেবেন না।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 মুখস্থকৃত বিষয়ের ওপর আমল করা

📄 মুখস্থকৃত বিষয়ের ওপর আমল করা


আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি বলেন:
'যারা আমাদের কুরআন পাঠ করে শুনাতেন—যেমন উসমান বিন আফফান, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ও অন্যান্যরা-তাঁরা যখন নবিজি থেকে দশটি আয়াত শিখতেন, তখন এরচেয়ে বেশি ততক্ষণ পর্যন্ত শিখতেন না, যতক্ষণ না এর মাঝে থাকা ইলম ও আমল অর্জন করতেন। তারা বলেন, “আমরা কুরআন, ইলম এবং আমল সবই শিখতাম।”¹⁶

আপনি দেখেছেন কি যে, আমাদের কেউ কেউ আছে টয়লেটে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআ মুখস্থ বলতে পারে এবং মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুআও বলতে পারে; কিন্তু আপনি যদি তাকে কাপড় পরিধান করা অথবা ঘরে প্রবেশ করা বা ঘর থেকে বের হওয়ার দুআ জিজ্ঞেস করেন, তাহলে অধিকাংশ সময়ই সে তা মুখস্থ বলতে পারবে না। যদিও মুখস্থ থাকে, তবে মাঝে মাঝে গুলিয়ে ফেলে। হয়তো কোনো বাক্য ছুটে যায় বা একই বাক্য বারংবার বলে। বস্তুত এর মূল কারণ হলো, আমল না করা। যদি সে এ দুআগুলো পাঠের আমলে নিজেকে অভ্যস্ত করে নিত, তাহলে তার জেহেনে তা দৃঢ়ভাবে বসে যেত।

আমি নিজেকে এবং আপনাকে খতিব আল-বাগদাদি -এর লিখিত 'ইকতিজাউল ইলমিল আমালু' গ্রন্থটি পাঠ করার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছি। তিনি সেখানে অমূল্য কিছু বাণী তুলে ধরেছেন এবং ইলম অনুযায়ী আমলের ব্যাপারে সালাফের আগ্রহের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।

টিকাঃ
১৬. মুকাদ্দামাতুত তাফসির লি শাইখিল ইসলাম ইবনি তাইমিয়া : ৩৬ পৃ.

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 কতিপয় আহলে ইলম এমন কিছু খাবার ও পানীয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যা মুখস্থের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হয়

📄 কতিপয় আহলে ইলম এমন কিছু খাবার ও পানীয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যা মুখস্থের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হয়


তাদের কেউ কেউ বলেন, এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়। মানুষ খাবারের ক্ষেত্রে সুন্নাতের অনুসরণ করবে এবং নিজের খাবারের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বাকি রাখবে এবং খাদ্যের যা কিছু তার আকল ও দেহের জন্য উপকারী, তা গ্রহণ করবে। এতে কিছু বিষয় একত্রিত হবে : তার একটি হলো, এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও তাঁর নৈকট্য অর্জন। আরেকটি হলো, রাসুল -এর সুন্নাতের অনুসরণ। আর এটিই হবে তার আকল ও দেহের জন্য সবচেয়ে উপকারী। কারণ, শরিয়ত দেহ ও আকলের জন্য শুধু কল্যাণই নিয়ে আসে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px