📄 মুখস্থকৃত বিষয়টি ভাগ ভাগ করে নেওয়া
এ ব্যাপারে পেছনে আলোচনা করা হয়েছে। যদি মূল পাঠটি দীর্ঘ হয়ে যায়, তাহলে আপনি তা বিভিন্ন অংশে ভাগ করে নিন। এমনকি যদি মূল পাঠটি ছোটও হয়, তবুও আপনি তা আপনার মুখস্থের জন্য সহজ হয় এমনভাবে ভাগ করে নিন; যেন আপনার মুখস্থটা দৃঢ় ও স্থায়ী হয়।
উদাহরণস্বরূপ আপনি ফিকহের কোনো মতন বা মূল পাঠ মুখস্থের ইচ্ছা করেছেন। আপনি দেখলেন যে, লেখক পবিত্রতার বিষয়টিকে চার লাইনে লিপিবদ্ধ করেছেন, আর সালাতের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেছেন দশ লাইনে। এখন আপনি আপনার মুখস্থের এই বিষয়গুলোকে ভাগ করে নিন।
পবিত্রতার বিষয়ে লিখিত চার লাইন আপনার জন্য সহজ হবে। কিন্তু লেখক সালাতের বিষয়ে লিখেছেন দশ লাইন। আর এই দশ লাইন একবারে পরিপূর্ণ মুখস্থ করা আপনার জন্য কঠিন ব্যাপার হবে। সুতরাং আপনাকে এগুলো ভাগ ভাগ করে নিতে হবে। এমন কথা বলবেন না, আমি পুরো পরিচ্ছেদটি মুখস্থ করে ফেলব। কারণ, অনেক সময় আপনার জন্য এই পরিচ্ছেদটি মুখস্থ করা সহজ নাও হতে পারে, যেমনটি পূর্বে আপনার জন্য সহজ হয়েছিল। এখানে মূল কথা হলো, আপনি যদি মুখস্থের বিষয়টিকে ভাগ করে নেন, তাহলে এটি আপনার মাঝে বেশি দৃঢ় হবে। আপনি এমন কথা বলবেন না, আমি মুখস্থের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ব। কারণ, মজবুতভাবে মুখস্থ করতে গিয়ে একটু দেরি হওয়া দুর্বলভাবে তাড়াতাড়ি মুখস্থ করা অপেক্ষা অবশ্যই উত্তম।
📄 যে কপি থেকে মুখস্থ করার ইচ্ছা, তা এক রাখার চেষ্টা করা
কারণ, নকশাগুলো জেহেনে গেঁথে যায়; বর্ণগুলোর নকশা, পৃষ্ঠার শুরু এবং পৃষ্ঠার শেষ এবং একই কপি থেকে বারবার পাঠ করার ফলে লেখাগুলো আপনার জেহেনে দৃঢ়ভাবে বসে যাবে। এমনকি মনে হবে, আপনি যখন মুখস্থ পাঠ করছেন, তখন যেন আপনি দেখে দেখেই পাঠ করছেন। কিন্তু যখন ভিন্ন ভিন্ন কপি থেকে মুখস্থ করবেন এবং বিশেষ করে যখন লাইন ও শব্দগুলোর বিন্যাসে ব্যতিক্রম দেখা দেবে, তখন আপনার মুখস্থের বিষয়টি মন্থর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ কেউ যখন কুরআনের এমন কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে মুখস্থ করবে, যার প্রতি পৃষ্ঠা একটি আয়াতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে, সে যদি ভিন্ন কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে মুখস্থ করে, তাহলে তা তার মুখস্থকে বিলম্বিত করবে। আর এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়। সুতরাং কপি যদি একই কপি হয়, তাহলে মুখস্থ তত বেশি হবে এবং দৃঢ় ও মজবুত হবে।
📄 যে মূল পাঠটি মুখস্থ করা হবে, তা হরকত দিয়ে সাজিয়ে নেওয়া
হাফিজ ইবনুস সালাহ বলেন : 'লেখায় নুকতার ব্যবহার অস্পষ্টতা থেকে বারণ করে এবং লেখাকে হরকতযুক্ত করলে তা কাঠিন্য বারণ করে।'¹⁴
অর্থাৎ মতন মুখস্থের পূর্বে তা হরকত দিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। যদি মতন হরকতযুক্ত হয়, তাহলে আপনি সুন্দরভাবে তা মুখস্থ করতে পারবেন। কিন্তু যখন মতন হরকতযুক্ত হবে না, তখন ভাষায় দক্ষ কারও কাছে গিয়ে তা পাঠ করতে পারলে করে নিন; যেন শব্দের বিশুদ্ধ উচ্চারণের সাথে আপনার মুখস্থের বিষয়টি আত্মস্থ হয়।
এটি সবাই জানে যে, যে নিজেকে হরকত দিয়ে মতন মুখস্থ করায় অভ্যস্ত করে নিয়েছে এবং হরকত দিয়ে তা পড়েছে, সেই এ বিষয় আয়ত্তে দৃঢ় যোগ্যতা লাভ করেছে। পক্ষান্তরে ওই ব্যক্তির অবস্থা এর বিপরীত, যে উদাসীন হয়ে মতন মুখস্থ করে; ফলে কখনো পেশের জায়গায় জবর পড়ে এবং জবরের জায়গায় পেশ পড়ে। আর এভাবেই তার পড়ায় অনেক ভুল থেকে যায়।
বিষয়টি যেহেতু এমন; তাই হে তালিবে ইলম, মতনের প্রতিটি অংশে হরকত দিয়ে নিন। তিলাওয়াতের বিষয়টিও এমনই। যখন কেউ কোনো সুরা মুখস্থ করার ইচ্ছা করে; কিন্তু সে কোনো কারি বা সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করতে পারে এমন কারও তিলাওয়াত শ্রবণ না করে, তাহলে সে অনেক কিছুই ভুলভাবে মুখস্থ করে বসবে। কিন্তু যদি সে হরকতগুলো সঠিকভাবে লাগিয়ে মুখস্থ করে, তাহলে এটি অবশ্যই তাকে জিহ্বার সঠিক উচ্চারণে থাকতে সাহায্য করবে এবং তাকে ভাষাগত যোগ্যতাও দান করবে।
টিকাঃ
১৪. মুকাদ্দামাতু ইবনিস সালাহ ফি উলুমিল হাদিস: ৮৯ পৃ.
📄 যেসব জিনিস কঠিন বা যা মুখস্থ রাখা কঠিন, তার জন্য বর্ণগত পরিভাষা বা নিয়ম বানিয়ে নেওয়া
অনেক সময় মতনে এমন কিছু শব্দ বা বাক্য থাকে, অধিকাংশ সময় তা মুখস্থ রাখতে গিয়ে ভুল হয়ে যায় বা মুখস্থের শুরু পর্যায়ে তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আপনি সব সময় তা পাঠ করতে গিয়ে ভুলের শিকার হবেন। এটি প্রসিদ্ধ একটি বিষয়। আর এর সমাধানে আপনি নিজের মাথায় বিশেষ একটি নিয়ম মুখস্থ করে নিন।
আমি আপনার জন্য এমন কিছু উদাহরণ পেশ করছি, যা সকলেই মুখস্থ করে থাকে : যদি আমি আপনাদের কাউকে বলি যে, সংখ্যাবাচক আরবি হরফগুলো বলুন, যা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। এখন যদি তার জেহেনে সংখ্যাবাচক আরবি হরফগুলো নির্ধারিত কোনো বাক্যে সাজানো না থাকে—চাই কবিতা আকারে হোক বা ছন্দ আকারে—তাহলে অধিকাংশ সময় হয়তো সে একই হরফ একাধিকবার পড়ে ফেলবে, না হয় কোনো হরফ ছেড়ে দেবে। কিন্তু যখন সে আরবদের কথা অনুযায়ী এভাবে মুখস্থ করে নেবে, তখন আর এই সমস্যা হবে না :
أبجد هوز.... الخ
এভাবে সুন্দর মুখস্থ হয়ে যাবে।
আরেকটি উদাহরণ : যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'ইদগামের হরফগুলো কী কী?' এখন যদি সে সবগুলো হরফ কোনো সুন্দর নিয়ম ছাড়া বলে দিতে চায়, তাহলে হয়তো বাড়িয়ে বলবে, না হয় কমিয়ে বলবে, অন্যথায় একই হরফ একাধিকবার বলবে; কিন্তু যদি সে সবগুলো হরফ একই শব্দে এভাবে বলে দেয়: (يَرْمَلُوْنَ), তাহলে কিস্সা খতম হয়ে যায়।
আরেকটি উদাহরণ : কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠের কার্যক্রম বিষয়ে। সেখানে হাওজে কাওসার থাকবে, পুলসিরাত থাকবে এবং মিজান বা দাঁড়িপাল্লাও থাকবে। তো এখানে ধারাবাহিক কাজগুলো কীভাবে হবে, তা মুখস্থ রাখা আমার জন্য অনেক সময় কঠিন হয়ে যেত। আমি অনেক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসার পর বুঝতে পারলাম যে, এ ব্যাপারে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো, হাওজে কাওসার হলো প্রথম, এরপর মিজান এবং তারপর পুলসিরাত। কিন্তু সমস্যা হলো কিছু দিন পর যখন আমি সঠিক মতটি বের করতে যাই, তখন আমার সামনে সব গুলিয়ে যায়। তাই আমি আমার মাথায় একটি শব্দ মুখস্থ করে রাখলাম : (حمص)।
অর্থাৎ ح - হাওজ; م - মিজান; ص - সিরাত। এ পদ্ধতিতে মনে রাখার কারণে আল্লাহর অনুগ্রহে আমি আর কখনো তা ভুলিনি।
আমি নিশ্চিত যে, আপনারা মরে যাবেন; কিন্তু কখনো তা ভুলে যাবেন না; কারণ, এটি আপনাদের মনে দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেছে। আল্লাহ চাহে তো দীর্ঘ দিন কল্যাণের ওপর থাকার পরেও ভুলবেন না।