📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 উপযুক্ত পরিবেশ গ্রহণ করা

📄 উপযুক্ত পরিবেশ গ্রহণ করা


বর্তমানে এমন কিছু মানুষও আছে, যারা গাড়িতে চলার সময় মুখস্থ করার ইচ্ছা করে। অনেক সময় তাদের কেউ কিছু মুখস্থও করতে পারে। কিন্তু কিছু দিন পর তার এই মুখস্থতে দুর্বলতা দেখা দেয়। বস্তুত, তার উচিত ছিল উপযুক্ত সময়ে, উপযুক্ত স্থানে, উপযুক্ত পরিবেশে এবং উপযুক্ত পরিমাণে মুখস্থ করা।

তাদের কেউ কেউ বলে, 'চলাফেরা ও আসা-যাওয়ার পথে মুখস্থ করা মজলিশে বসে মুখস্থ করা অপেক্ষা উত্তম।' আমি কিছু ছাত্রকে চিনি, যারা বলে, 'আমাদেরকে আসা-যাওয়ার পথেই মুখস্থ করতে হয়।'

আবার কেউ কেউ বলে, 'হাঁটার সময় আমার বেশি মুখস্থ হয়।'
কারও কথা হলো, 'আমি গভীর রাতে পড়া ছাড়া কুরআন মুখস্থ করতে পারি না। দিনের বেলা মুখস্থ করা আমার জন্য সহজ নয়।'

সুতরাং হে তালিবে ইলম, মুখস্থের ক্ষেত্রে আপনি জাইদ বা আমরকে অনুসরণ করবেন না। কেননা, জাইদের জন্য হয়তো বসা অবস্থাটা হিফজের উপযোগী পরিবেশ অথবা হাঁটা অবস্থা মুখস্থের উপযোগী। আপনি যদি তার অনুসরণের চেষ্টা করেন, তাহলে এটি আপনার জন্য সহজ হবে না।

যা-ই হোক, আপনাকে দেখতে হবে, আপনার উপযোগী সময় কোনটি।

শাফিয়ি ইমামদের কেউ কেউ বলেন : 'উচ্চ আওয়াজে পাঠ মুখস্থের জন্য এবং নিম্ন আওয়াজে পাঠ বোঝার জন্য উপযোগী।'

এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়; কারণ, মানুষ যদি মুখস্থের ইচ্ছা করে, তাহলে সে উচ্চ আওয়াজে পাঠ করলে তার জন্য অধিক উপকারী হবে। কিন্তু যদি দেখেন যে, এটি আপনার জন্য কোনো উপকার বয়ে আনবে না বা আপনার মুখস্থকে বিলম্বিত করবে, তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী যা, তা-ই আপনি গ্রহণ করুন। এ ব্যাপারে পেছনে আলোচনা করা হয়েছে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 মুখস্থকৃত বিষয়টি ভাগ ভাগ করে নেওয়া

📄 মুখস্থকৃত বিষয়টি ভাগ ভাগ করে নেওয়া


এ ব্যাপারে পেছনে আলোচনা করা হয়েছে। যদি মূল পাঠটি দীর্ঘ হয়ে যায়, তাহলে আপনি তা বিভিন্ন অংশে ভাগ করে নিন। এমনকি যদি মূল পাঠটি ছোটও হয়, তবুও আপনি তা আপনার মুখস্থের জন্য সহজ হয় এমনভাবে ভাগ করে নিন; যেন আপনার মুখস্থটা দৃঢ় ও স্থায়ী হয়।

উদাহরণস্বরূপ আপনি ফিকহের কোনো মতন বা মূল পাঠ মুখস্থের ইচ্ছা করেছেন। আপনি দেখলেন যে, লেখক পবিত্রতার বিষয়টিকে চার লাইনে লিপিবদ্ধ করেছেন, আর সালাতের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেছেন দশ লাইনে। এখন আপনি আপনার মুখস্থের এই বিষয়গুলোকে ভাগ করে নিন।

পবিত্রতার বিষয়ে লিখিত চার লাইন আপনার জন্য সহজ হবে। কিন্তু লেখক সালাতের বিষয়ে লিখেছেন দশ লাইন। আর এই দশ লাইন একবারে পরিপূর্ণ মুখস্থ করা আপনার জন্য কঠিন ব্যাপার হবে। সুতরাং আপনাকে এগুলো ভাগ ভাগ করে নিতে হবে। এমন কথা বলবেন না, আমি পুরো পরিচ্ছেদটি মুখস্থ করে ফেলব। কারণ, অনেক সময় আপনার জন্য এই পরিচ্ছেদটি মুখস্থ করা সহজ নাও হতে পারে, যেমনটি পূর্বে আপনার জন্য সহজ হয়েছিল। এখানে মূল কথা হলো, আপনি যদি মুখস্থের বিষয়টিকে ভাগ করে নেন, তাহলে এটি আপনার মাঝে বেশি দৃঢ় হবে। আপনি এমন কথা বলবেন না, আমি মুখস্থের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ব। কারণ, মজবুতভাবে মুখস্থ করতে গিয়ে একটু দেরি হওয়া দুর্বলভাবে তাড়াতাড়ি মুখস্থ করা অপেক্ষা অবশ্যই উত্তম।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 যে কপি থেকে মুখস্থ করার ইচ্ছা, তা এক রাখার চেষ্টা করা

📄 যে কপি থেকে মুখস্থ করার ইচ্ছা, তা এক রাখার চেষ্টা করা


কারণ, নকশাগুলো জেহেনে গেঁথে যায়; বর্ণগুলোর নকশা, পৃষ্ঠার শুরু এবং পৃষ্ঠার শেষ এবং একই কপি থেকে বারবার পাঠ করার ফলে লেখাগুলো আপনার জেহেনে দৃঢ়ভাবে বসে যাবে। এমনকি মনে হবে, আপনি যখন মুখস্থ পাঠ করছেন, তখন যেন আপনি দেখে দেখেই পাঠ করছেন। কিন্তু যখন ভিন্ন ভিন্ন কপি থেকে মুখস্থ করবেন এবং বিশেষ করে যখন লাইন ও শব্দগুলোর বিন্যাসে ব্যতিক্রম দেখা দেবে, তখন আপনার মুখস্থের বিষয়টি মন্থর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ কেউ যখন কুরআনের এমন কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে মুখস্থ করবে, যার প্রতি পৃষ্ঠা একটি আয়াতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে, সে যদি ভিন্ন কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে মুখস্থ করে, তাহলে তা তার মুখস্থকে বিলম্বিত করবে। আর এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়। সুতরাং কপি যদি একই কপি হয়, তাহলে মুখস্থ তত বেশি হবে এবং দৃঢ় ও মজবুত হবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 যে মূল পাঠটি মুখস্থ করা হবে, তা হরকত দিয়ে সাজিয়ে নেওয়া

📄 যে মূল পাঠটি মুখস্থ করা হবে, তা হরকত দিয়ে সাজিয়ে নেওয়া


হাফিজ ইবনুস সালাহ বলেন : 'লেখায় নুকতার ব্যবহার অস্পষ্টতা থেকে বারণ করে এবং লেখাকে হরকতযুক্ত করলে তা কাঠিন্য বারণ করে।'¹⁴

অর্থাৎ মতন মুখস্থের পূর্বে তা হরকত দিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন। যদি মতন হরকতযুক্ত হয়, তাহলে আপনি সুন্দরভাবে তা মুখস্থ করতে পারবেন। কিন্তু যখন মতন হরকতযুক্ত হবে না, তখন ভাষায় দক্ষ কারও কাছে গিয়ে তা পাঠ করতে পারলে করে নিন; যেন শব্দের বিশুদ্ধ উচ্চারণের সাথে আপনার মুখস্থের বিষয়টি আত্মস্থ হয়।

এটি সবাই জানে যে, যে নিজেকে হরকত দিয়ে মতন মুখস্থ করায় অভ্যস্ত করে নিয়েছে এবং হরকত দিয়ে তা পড়েছে, সেই এ বিষয় আয়ত্তে দৃঢ় যোগ্যতা লাভ করেছে। পক্ষান্তরে ওই ব্যক্তির অবস্থা এর বিপরীত, যে উদাসীন হয়ে মতন মুখস্থ করে; ফলে কখনো পেশের জায়গায় জবর পড়ে এবং জবরের জায়গায় পেশ পড়ে। আর এভাবেই তার পড়ায় অনেক ভুল থেকে যায়।

বিষয়টি যেহেতু এমন; তাই হে তালিবে ইলম, মতনের প্রতিটি অংশে হরকত দিয়ে নিন। তিলাওয়াতের বিষয়টিও এমনই। যখন কেউ কোনো সুরা মুখস্থ করার ইচ্ছা করে; কিন্তু সে কোনো কারি বা সুন্দরভাবে তিলাওয়াত করতে পারে এমন কারও তিলাওয়াত শ্রবণ না করে, তাহলে সে অনেক কিছুই ভুলভাবে মুখস্থ করে বসবে। কিন্তু যদি সে হরকতগুলো সঠিকভাবে লাগিয়ে মুখস্থ করে, তাহলে এটি অবশ্যই তাকে জিহ্বার সঠিক উচ্চারণে থাকতে সাহায্য করবে এবং তাকে ভাষাগত যোগ্যতাও দান করবে।

টিকাঃ
১৪. মুকাদ্দামাতু ইবনিস সালাহ ফি উলুমিল হাদিস: ৮৯ পৃ.

ফন্ট সাইজ
15px
17px