📄 উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা
এ ব্যাপারে তালিবে ইলমদের ভিন্নতা রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলেন, আমি ঘরের তুলনায় মসজিদে বেশি মুখস্থ করতে পারি। আবার কেউ কেউ বলেন, আমি মসজিদের তুলনায় ঘরে বেশি মুখস্থ করতে পারি। এ ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, আপনি নিজের জন্য উপযোগী এমন সময় ও স্থান নির্বাচন করবেন; চাই তা মসজিদ হোক বা ঘর অথবা সাধারণ পাঠাগার বা কোনো খামার হোক।
বাস্তবতা হলো, বিষয়টি প্রত্যেক তালিবে ইলম নিজের জন্য সবচেয়ে উপকারী যা, তা অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।
📄 যে ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করবে বা যা মুখস্থ করার ইচ্ছা, তা থেকে উপযুক্ত পরিমাণ নির্বাচন করা
কোনো কোনো তালিবে ইলম শুরুতেই দীর্ঘ মতন বা মূল পাঠ মুখস্থ করা শুরু করে দেয়; ফলে সে তা মুখস্থ করতে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই তার মাঝে এক ধরনের ক্লান্তি ও ঝিমুনি কাজ করে। আর এটি একসময় তাকে হতাশা ও ইলম শিক্ষা পরিত্যাগ পর্যন্ত ধাবিত করে। নিঃসন্দেহে এমনটি করা ভুল। আমাদের সালাফগণ বলেন :
'ইলম তার কিছু অংশ তোমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত দেবে না, যতক্ষণ না তুমি তোমার পুরো অংশ তাকে দাও।'
মুখস্থ করার ক্ষেত্রে আপনি উপযুক্ত পরিমাণ নির্বাচন করুন; যদিও তা খুব সহজ হয়। কিছু তালিবে ইলম আছে, বিশাল হিম্মত নিয়ে আসে। তারপর সে বিশাল মতন বা লম্বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করা শুরু করে। যখন এত বিশাল অংশ মুখস্থ করে, তখন তার ভুলের পরিমাণ বেড়ে যায়। হয়তো সে কোনো বাক্য ছেড়ে যায় বা এক বাক্যের স্থানে অন্য বাক্য বলে ফেলে অথবা ভাষা বা ব্যাকরণগত ভুল করে বসে। তেমনিভাবে যখন লম্বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ পড়া শুরু করে, তখন পঠিত অধিকাংশ জিনিসই বোঝে না। অনেক সময় ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়। কিন্তু যদি সে ছোট কোনো অংশ মুখস্থ বা ছোট কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ গ্রহণ করত এবং তা ভাগ করে নিত, তাহলে ব্যাপারটা তার জন্য সহজ হতো। ফলে সব সময় তা চালিয়ে যেতে পারত। এমনকি মুখস্থ ও অনুবাধন করাটা তার একটি আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়াত।
📄 উপযুক্ত পরিবেশ গ্রহণ করা
বর্তমানে এমন কিছু মানুষও আছে, যারা গাড়িতে চলার সময় মুখস্থ করার ইচ্ছা করে। অনেক সময় তাদের কেউ কিছু মুখস্থও করতে পারে। কিন্তু কিছু দিন পর তার এই মুখস্থতে দুর্বলতা দেখা দেয়। বস্তুত, তার উচিত ছিল উপযুক্ত সময়ে, উপযুক্ত স্থানে, উপযুক্ত পরিবেশে এবং উপযুক্ত পরিমাণে মুখস্থ করা।
তাদের কেউ কেউ বলে, 'চলাফেরা ও আসা-যাওয়ার পথে মুখস্থ করা মজলিশে বসে মুখস্থ করা অপেক্ষা উত্তম।' আমি কিছু ছাত্রকে চিনি, যারা বলে, 'আমাদেরকে আসা-যাওয়ার পথেই মুখস্থ করতে হয়।'
আবার কেউ কেউ বলে, 'হাঁটার সময় আমার বেশি মুখস্থ হয়।'
কারও কথা হলো, 'আমি গভীর রাতে পড়া ছাড়া কুরআন মুখস্থ করতে পারি না। দিনের বেলা মুখস্থ করা আমার জন্য সহজ নয়।'
সুতরাং হে তালিবে ইলম, মুখস্থের ক্ষেত্রে আপনি জাইদ বা আমরকে অনুসরণ করবেন না। কেননা, জাইদের জন্য হয়তো বসা অবস্থাটা হিফজের উপযোগী পরিবেশ অথবা হাঁটা অবস্থা মুখস্থের উপযোগী। আপনি যদি তার অনুসরণের চেষ্টা করেন, তাহলে এটি আপনার জন্য সহজ হবে না।
যা-ই হোক, আপনাকে দেখতে হবে, আপনার উপযোগী সময় কোনটি।
শাফিয়ি ইমামদের কেউ কেউ বলেন : 'উচ্চ আওয়াজে পাঠ মুখস্থের জন্য এবং নিম্ন আওয়াজে পাঠ বোঝার জন্য উপযোগী।'
এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়; কারণ, মানুষ যদি মুখস্থের ইচ্ছা করে, তাহলে সে উচ্চ আওয়াজে পাঠ করলে তার জন্য অধিক উপকারী হবে। কিন্তু যদি দেখেন যে, এটি আপনার জন্য কোনো উপকার বয়ে আনবে না বা আপনার মুখস্থকে বিলম্বিত করবে, তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী যা, তা-ই আপনি গ্রহণ করুন। এ ব্যাপারে পেছনে আলোচনা করা হয়েছে।
📄 মুখস্থকৃত বিষয়টি ভাগ ভাগ করে নেওয়া
এ ব্যাপারে পেছনে আলোচনা করা হয়েছে। যদি মূল পাঠটি দীর্ঘ হয়ে যায়, তাহলে আপনি তা বিভিন্ন অংশে ভাগ করে নিন। এমনকি যদি মূল পাঠটি ছোটও হয়, তবুও আপনি তা আপনার মুখস্থের জন্য সহজ হয় এমনভাবে ভাগ করে নিন; যেন আপনার মুখস্থটা দৃঢ় ও স্থায়ী হয়।
উদাহরণস্বরূপ আপনি ফিকহের কোনো মতন বা মূল পাঠ মুখস্থের ইচ্ছা করেছেন। আপনি দেখলেন যে, লেখক পবিত্রতার বিষয়টিকে চার লাইনে লিপিবদ্ধ করেছেন, আর সালাতের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেছেন দশ লাইনে। এখন আপনি আপনার মুখস্থের এই বিষয়গুলোকে ভাগ করে নিন।
পবিত্রতার বিষয়ে লিখিত চার লাইন আপনার জন্য সহজ হবে। কিন্তু লেখক সালাতের বিষয়ে লিখেছেন দশ লাইন। আর এই দশ লাইন একবারে পরিপূর্ণ মুখস্থ করা আপনার জন্য কঠিন ব্যাপার হবে। সুতরাং আপনাকে এগুলো ভাগ ভাগ করে নিতে হবে। এমন কথা বলবেন না, আমি পুরো পরিচ্ছেদটি মুখস্থ করে ফেলব। কারণ, অনেক সময় আপনার জন্য এই পরিচ্ছেদটি মুখস্থ করা সহজ নাও হতে পারে, যেমনটি পূর্বে আপনার জন্য সহজ হয়েছিল। এখানে মূল কথা হলো, আপনি যদি মুখস্থের বিষয়টিকে ভাগ করে নেন, তাহলে এটি আপনার মাঝে বেশি দৃঢ় হবে। আপনি এমন কথা বলবেন না, আমি মুখস্থের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ব। কারণ, মজবুতভাবে মুখস্থ করতে গিয়ে একটু দেরি হওয়া দুর্বলভাবে তাড়াতাড়ি মুখস্থ করা অপেক্ষা অবশ্যই উত্তম।