📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 তেরোতম বিষয় : নেতৃত্ব তালাশ করার ব্যাপারে সাবধান থাকা

📄 তেরোতম বিষয় : নেতৃত্ব তালাশ করার ব্যাপারে সাবধান থাকা


নেতৃত্ব তালাশ করা তালিবে ইলমের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ও কাঁটাযুক্ত বিষয়; সুতরাং আপনি কখন নেতৃত্বের আসনে বসবেন, এই অপেক্ষা করবেন না। বরং আপনি শুধু ইলম অর্জন করুন। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহের পর ইলম অর্জন আপনাকে অনেক কল্যাণের দিকে ধাবিত করবে এবং আপনার কাছ থেকে অনেক অকল্যাণ দূর করে দেবে।

আর যদি কারও ইলম অর্জনের উদ্দেশ্য হয়, কখন নেতৃত্ব গ্রহণ করবে, কখন নেতা হবে এবং কখন শাইখের পদ গ্রহণ করবে, তাহলে নিশ্চিত এখানে তার নিয়তে ভেজাল রয়েছে। সুতরাং সতর্ক থাকতে হবে, পরিপূর্ণ সতর্ক!

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 চোদ্দোতম বিষয় : অনুগ্রহ তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া

📄 চোদ্দোতম বিষয় : অনুগ্রহ তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া


সকল অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য :
قُلْ إِنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ
'বলুন, “নিশ্চয় অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে; তিনি যাকে চান, তাকে দান করেন।”'¹²

এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কথা হলো, কে আপনাকে একটি ইলম শিক্ষা দিয়েছেন এবং কে আপনাকে একটি ফায়দা শিক্ষা দিয়েছেন এবং আপনাকে আপনার অজানা একটি বিষয় শিখিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং অনুগ্রহ তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। আলিমগণ বলেন, 'ইলমে বরকত হওয়ার একটি মাধ্যম হলো, আপনি অনুগ্রহকে তার উপযুক্ত সত্তার কাছে ফিরিয়ে দেবেন।'

إذا أفادك إنسان بفائدة ** من العلوم فأدمن শكره أبدا
أفادنيها وألق الكبر والحسدا ** وقل فلان جزاه الله صالحة
'যখন আপনাকে কোনো মানুষ কোনো ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করে, তখন সব সময় আপনি তার শোকর আদায় করুন এবং বলুন, “আল্লাহ অমুককে নেক প্রতিদান দান করুন! সে আমাকে উপকৃত করেছে।” আর অহংকার ও হিংসাকে ফেলে দিন।'

অনেক মানুষ অনুগ্রহকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বল। বিশেষ করে যখন উপকারকারী তার সমবয়সী কেউ হয়। নিঃসন্দেহে এটা শয়তানের ধোঁকাসমূহ থেকে একটা। সুতরাং অনুগ্রহ তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিন এবং আপনি আনন্দিত হবেন এমন জিনিসে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ গ্রহণ করুন।

টিকাঃ
১২. সুরা আলি ইমরান, ৩ : ৭৩।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 পনেরোতম বিষয় : বিজ্ঞ শাইখদের থেকে ফায়দা গ্রহণ করা এবং তাদের দরসের ব্যাপারে শিথিলতা না করা

📄 পনেরোতম বিষয় : বিজ্ঞ শাইখদের থেকে ফায়দা গ্রহণ করা এবং তাদের দরসের ব্যাপারে শিথিলতা না করা


এটি অনেক বড় একটি বিষয়। বরং এটি ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে একটি নীতি। আলিমদের থেকে ফায়দা গ্রহণ শুধু তাদের ইলমের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। বরং তাদের আচরণ এবং অন্যদের সাথে তাদের উত্তম ব্যবহারের বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 সর্বশেষ বিষয় : বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা

📄 সর্বশেষ বিষয় : বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা


এ ব্যাপারে অনেক তালিবে ইলম অবহেলা করে। তিলাওয়াত এমন একটি ইবাদত, যা মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা বৃদ্ধি করে এবং তাঁর ভয় বৃদ্ধি করার সাথে সাথে ইলম অন্বেষণের আগ্রহও বাড়িয়ে দেয়। ইমাম ইবরাহিম আল-মাকদিসি তার ছাত্র আব্বাস বিন আব্দুদ দায়িম-কে যে উপদেশ দিয়েছিলেন, আমি এখানে হুবহু তা তুলে ধরছি। ইবরাহিম আব্বাসকে বলেন :
'বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করো এবং তা ছেড়ে দিয়ো না। কারণ, তা পাঠ অনুযায়ী তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয় সহজ হবে।'

আব্বাস বলেন :
'আমি বিষয়টি দেখেছি এবং নিজে অনেকবার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমি যখন অনেক তিলাওয়াত করতাম, তখন আমার জন্য অনেক হাদিস শ্রবণ ও লেখা সহজ হতো। আর যখন তিলাওয়াত করতাম না, তখন তা এত সহজ হতো না।'¹³

হে প্রিয় তালিবে ইলম, আপনার জন্যও এই বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াতে সর্বোচ্চ সাধনা করা উচিত। এতেই রয়েছে ইলম অর্জনের জন্য অত্যধিক শক্তি ও দৃঢ় সংকল্প। আর এর ফলেই তিলাওয়াতের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রতিদান অর্জনের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। আর বেশি বেশি তিলাওয়াতের ফলেই আপনি এমন অনেক আয়াত পাবেন, যার অর্থ উপলব্ধি করা আপনার কাছে প্রয়োজন মনে হবে।

অনেক সময় আপনি এমন অনেক শব্দ পাঠ করে যাবেন, যা আপনার কাছে অস্পষ্ট মনে হবে; ফলে আপনার মাঝে তার অর্থ জানার আগ্রহ দেখা দেবে। আবার অনেক সময় আকিদা, ফিকহ, উসুল, ভাষা, চরিত্র ও আত্মশুদ্ধিসংক্রান্ত অনেক বিষয় আপনার সামনে আসবে; ফলে কুরআন আপনার সামনে সকল কল্যাণের দ্বার উন্মোচন করে দেবে। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত ও তাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে তালিবে ইলমের মাঝে দৃঢ় সংকল্প ফিরে আসবে।

টিকাঃ
১৩. জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা : ২/৮৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px