📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 পঞ্চম বিষয় : ইলম অন্বেষণের আদবসংক্রান্ত কিছু গ্রন্থ পাঠ করা

📄 পঞ্চম বিষয় : ইলম অন্বেষণের আদবসংক্রান্ত কিছু গ্রন্থ পাঠ করা


এগুলো হলো সে সকল কিতাব, যা ইলম-অন্বেষীদের জন্য রচনা করা হয়েছে; যেন তালিবে ইলম ও ইলমের প্রাথমিক ছাত্র ইলমের মজলিশে উপস্থিত হয়ে কীভাবে ইলম অর্জন করবে, তা সম্পর্কে জানতে পারে। সে কীভাবে ইলমের শাইখদের সামনে উপস্থিত হবে, কীভাবে নিজের সমবয়সীদের সামনে উপস্থিত হবে এবং কীভাবে সে অজ্ঞদের ইলম শেখাবে? সে কীভাবে নিজের পরিবারের লোকদের সাথে আচরণ করবে এবং এ ধরনের আরও অনেক কিছু আছে। ইলম অন্বেষণসংক্রান্ত গ্রন্থগুলো মানুষের সামনে কল্যাণের অনেক দরজা উন্মোচিত করে দেয়।

এ রকম কিছু কিতাবের উদাহরণ হলো, 'আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামিয়ি'-খতিব আল-বাগদাদি -এর রচিত। তেমনই আরেকটি কিতাব হলো 'তাজকিরাতুস সামিয়ি ওয়াল মুতাকাল্লিম'-এটি ইবনে জামাআহ আল-কিনানি কর্তৃক রচিত। এ ব্যাপারে আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 ষষ্ঠ বিষয় : পাঠ করা, বোঝা এবং মুখস্থ করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রতার অধিকারীদের মজলিশে বসা

📄 ষষ্ঠ বিষয় : পাঠ করা, বোঝা এবং মুখস্থ করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রতার অধিকারীদের মজলিশে বসা


এখানে এই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে, আপনি ইলম অন্বেষণের ব্যাপারে যার মাঝে আগ্রহ দেখবেন, তার সাথে বসবেন; কারণ, আপনার সাথিরা সকলে বরাবর নয়। ইলম মুখস্থ করা, বোঝা এবং পাঠ করার ক্ষেত্রে তাদের মাঝে স্বতন্ত্রতা রয়েছে। ইবাদত ও আচরণেও রয়েছে ব্যবধান। সুতরাং তাকে আঁকড়ে থাকার ব্যাপারে আগ্রহী হোন, যে আপনাকে ইলম, চরিত্র ও হিম্মতের আধিক্যের ক্ষেত্রে উপকৃত করতে পারবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 সপ্তম বিষয় : নফসের মুজাহাদা করা এবং নিরাশ না হওয়া

📄 সপ্তম বিষয় : নফসের মুজাহাদা করা এবং নিরাশ না হওয়া


প্রাথমিক অনেক শিক্ষার্থী প্রথম যাত্রায়ই আত্মসমর্পণ করে বসে! দেখা যায়, তারা একটি মূল বিষয় মুখস্থ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে; ফলে আত্মসমর্পণ করেছে এবং নিরাশ হয়ে গেছে। অথবা কোনো কিতাব পড়া পূর্ণ করতে অক্ষম হয়ে গেছে; ফলে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অথবা কোনো একটি ক্লাস বুঝতে অক্ষম হয়ে গেছে; অথচ সে ক্লাসেই ছিল; ফলে সে তা থেকে সরে গেছে এবং উদাসীন হয়ে গেছে!

নিঃসন্দেহে এমন বিষয় একজন তালিবে ইলমের ক্ষেত্রে কখনোই কাম্য নয়। সুতরাং আপনি নিজের নফসের সাথে সাধনা করতে থাকবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব।'⁴

আল্লাহ তাআলা যখন দেখবেন যে, আপনি ধৈর্য ও অবিচলতার জন্য নিজের নফসের সাথে মুজাহাদা করছেন, তখন আপনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এমন জিনিসের মাধ্যমে সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকে আনন্দিত করবে। রাসুল বলেন: إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ، وَإِنَّমَا الْحِلْمُ بِالتَّحَلُّمِ، مَنْ يَتَحَرَّى الْخَيْرَ يُعْطَهُ، وَمَنْ يَتَّقِ الشَّرَّ يُوقَهُ،
'নিশ্চয় ইলম আসে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে। আর হিলম আসে সহনশীলতার মাধ্যমে। আর যে কল্যাণের অনুসন্ধান করে, তাকে তা প্রদান করা হয় এবং যে অকল্যাণের ব্যাপারে সতর্ক থাকে, তাকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়।'⁵

জনৈক বৃদ্ধ লোক আমাকে সংবাদ দিল, মক্কার হারামে একজন লোক হিজরত করে এসেছিল। তার জিহ্বায় জড়তা ছিল। লোকটি বলল, 'যখন সে কুরআন তিলাওয়াত করত, তখন আরবি হরফ উচ্চারণে জিহ্বার নড়াচড়া ঠিক করার জন্য উচ্চ আওয়াজে তিলাওয়াত করত।' লোকটি আরও বলল, 'তার জড়তাপূর্ণ উচ্চ আওয়াজে আমরা কষ্ট পেতাম। এরপর একসময় আমরা সে যখন তিলাওয়াত করে, তখন তার তিলাওয়াত শোনার জন্য উৎসুক হয়ে পড়ি।'

শিক্ষা : মানুষ যখন নফসের সাথে মুজাহাদা করে এবং আত্মসমর্পণ না করে, তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিজয় ও সহজতা দেখতে পায়।

টিকাঃ
৪. সুরা আল-আনকাবুত, ২৯: ৬৯।
৫. আল-মুজামুল আওসাত: ২৬৬৩, সহিহুল জামিয়িস সগির: ২৩২৮।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 অষ্টম বিষয় : উপদেশ গ্রহণ এবং নিজের পরিচিত ও সমবয়সীদের প্রতি লক্ষ করা

📄 অষ্টম বিষয় : উপদেশ গ্রহণ এবং নিজের পরিচিত ও সমবয়সীদের প্রতি লক্ষ করা


আপনি আপনার পরিচিত বা আশপাশের তালিবে ইলমদের দিকে লক্ষ করলে এমন কিছু ইলমপিপাসুকে দেখবেন, যারা বয়সে আপনার চেয়ে ছোট; কিন্তু আপনার তুলনায় অনেক বেশি ইলম অর্জন করেছে। আপনি এখানে এমন অনেককে পাবেন, যাদের কাছে ইলম অর্জনে প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণও নেই; কিন্তু আপনার কাছে সেগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে, তবুও তারা ইলমের দিক দিয়ে আপনার চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করেছে। এই তুলনা ও পার্থক্য আপনাকে তাদের মতো হতে বা তাদের চেয়ে উত্তম হতে উদ্বুদ্ধ করবে। আপনি যখন নিজের সাথিদের দিকে তাকাবেন, তখন অনেক পার্থক্য দেখতে পাবেন। যে আপনার থেকে সম্পদে কম এবং যার আসবাবও পর্যাপ্ত পরিমাণ নেই, তার প্রতি লক্ষ করুন। যখন এদের থেকে এমন কাউকে পাবেন, যে ইলমের দিক দিয়ে আপনাকে ছাড়িয়ে গেছে, তখন অবশ্যই তাকে দেখে আপনার হিম্মত শক্তিশালী হবে এবং আপনি তখন তার প্রতি ঈর্ষা করবেন, হিংসা নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px