📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 চতুর্থ বিষয় : আলিমদের জীবনী পাঠ করা

📄 চতুর্থ বিষয় : আলিমদের জীবনী পাঠ করা


এটি অনেক উপকারী একটি বিষয়। সুতরাং আপনি ইলমের হাফিজ ও মুহাদ্দিসিন ও অন্যান্যদের জীবনীসংক্রান্ত গ্রন্থগুলো পাঠ করুন, তাহলে বিস্ময়কর অনেক কিছু দেখতে পাবেন। যদি সনদ ও সংবাদের ধারাবাহিকতা না থাকত, তাহলে অনেক বাস্তব বিষয়কেও অস্বীকার করা হতো। কারণ, মানুষ তাদের দৃঢ়তার শক্তি, বুঝের বিশালতা এবং রচিত গ্রন্থসমূহের সামনে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। জীবনীসংক্রান্ত গ্রন্থ অনেক। তবে এর মাঝে সবচেয়ে উপকারী কিছু গ্রন্থ হলো ‘তাজকিরাতুল হুফফাজ’ এবং ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’। দুটিই ইমাম আজ-জাহাবি -এর রচিত গ্রন্থ। আর সকল মাজহাবের ইমামদের জীবনী নিয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না।

যা-ই হোক, তালিবে ইলমের জন্য উচিত হলো, জীবনীসংক্রান্ত গ্রন্থ পাঠের জন্য নিজের কিছু সময় বরাদ্দ রাখা; যেন পূর্ববর্তী মহা মনীষীদের জীবনী পাঠ করে তার হিম্মত শক্তিশালী হয় এবং তার দৃঢ়তা মজবুতি লাভ করে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 পঞ্চম বিষয় : ইলম অন্বেষণের আদবসংক্রান্ত কিছু গ্রন্থ পাঠ করা

📄 পঞ্চম বিষয় : ইলম অন্বেষণের আদবসংক্রান্ত কিছু গ্রন্থ পাঠ করা


এগুলো হলো সে সকল কিতাব, যা ইলম-অন্বেষীদের জন্য রচনা করা হয়েছে; যেন তালিবে ইলম ও ইলমের প্রাথমিক ছাত্র ইলমের মজলিশে উপস্থিত হয়ে কীভাবে ইলম অর্জন করবে, তা সম্পর্কে জানতে পারে। সে কীভাবে ইলমের শাইখদের সামনে উপস্থিত হবে, কীভাবে নিজের সমবয়সীদের সামনে উপস্থিত হবে এবং কীভাবে সে অজ্ঞদের ইলম শেখাবে? সে কীভাবে নিজের পরিবারের লোকদের সাথে আচরণ করবে এবং এ ধরনের আরও অনেক কিছু আছে। ইলম অন্বেষণসংক্রান্ত গ্রন্থগুলো মানুষের সামনে কল্যাণের অনেক দরজা উন্মোচিত করে দেয়।

এ রকম কিছু কিতাবের উদাহরণ হলো, 'আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি ওয়া আদাবিস সামিয়ি'-খতিব আল-বাগদাদি -এর রচিত। তেমনই আরেকটি কিতাব হলো 'তাজকিরাতুস সামিয়ি ওয়াল মুতাকাল্লিম'-এটি ইবনে জামাআহ আল-কিনানি কর্তৃক রচিত। এ ব্যাপারে আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 ষষ্ঠ বিষয় : পাঠ করা, বোঝা এবং মুখস্থ করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রতার অধিকারীদের মজলিশে বসা

📄 ষষ্ঠ বিষয় : পাঠ করা, বোঝা এবং মুখস্থ করার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রতার অধিকারীদের মজলিশে বসা


এখানে এই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে, আপনি ইলম অন্বেষণের ব্যাপারে যার মাঝে আগ্রহ দেখবেন, তার সাথে বসবেন; কারণ, আপনার সাথিরা সকলে বরাবর নয়। ইলম মুখস্থ করা, বোঝা এবং পাঠ করার ক্ষেত্রে তাদের মাঝে স্বতন্ত্রতা রয়েছে। ইবাদত ও আচরণেও রয়েছে ব্যবধান। সুতরাং তাকে আঁকড়ে থাকার ব্যাপারে আগ্রহী হোন, যে আপনাকে ইলম, চরিত্র ও হিম্মতের আধিক্যের ক্ষেত্রে উপকৃত করতে পারবে।

📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 সপ্তম বিষয় : নফসের মুজাহাদা করা এবং নিরাশ না হওয়া

📄 সপ্তম বিষয় : নফসের মুজাহাদা করা এবং নিরাশ না হওয়া


প্রাথমিক অনেক শিক্ষার্থী প্রথম যাত্রায়ই আত্মসমর্পণ করে বসে! দেখা যায়, তারা একটি মূল বিষয় মুখস্থ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে; ফলে আত্মসমর্পণ করেছে এবং নিরাশ হয়ে গেছে। অথবা কোনো কিতাব পড়া পূর্ণ করতে অক্ষম হয়ে গেছে; ফলে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অথবা কোনো একটি ক্লাস বুঝতে অক্ষম হয়ে গেছে; অথচ সে ক্লাসেই ছিল; ফলে সে তা থেকে সরে গেছে এবং উদাসীন হয়ে গেছে!

নিঃসন্দেহে এমন বিষয় একজন তালিবে ইলমের ক্ষেত্রে কখনোই কাম্য নয়। সুতরাং আপনি নিজের নফসের সাথে সাধনা করতে থাকবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
'আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব।'⁴

আল্লাহ তাআলা যখন দেখবেন যে, আপনি ধৈর্য ও অবিচলতার জন্য নিজের নফসের সাথে মুজাহাদা করছেন, তখন আপনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এমন জিনিসের মাধ্যমে সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকে আনন্দিত করবে। রাসুল বলেন: إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ، وَإِنَّমَا الْحِلْمُ بِالتَّحَلُّمِ، مَنْ يَتَحَرَّى الْخَيْرَ يُعْطَهُ، وَمَنْ يَتَّقِ الشَّرَّ يُوقَهُ،
'নিশ্চয় ইলম আসে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে। আর হিলম আসে সহনশীলতার মাধ্যমে। আর যে কল্যাণের অনুসন্ধান করে, তাকে তা প্রদান করা হয় এবং যে অকল্যাণের ব্যাপারে সতর্ক থাকে, তাকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়।'⁵

জনৈক বৃদ্ধ লোক আমাকে সংবাদ দিল, মক্কার হারামে একজন লোক হিজরত করে এসেছিল। তার জিহ্বায় জড়তা ছিল। লোকটি বলল, 'যখন সে কুরআন তিলাওয়াত করত, তখন আরবি হরফ উচ্চারণে জিহ্বার নড়াচড়া ঠিক করার জন্য উচ্চ আওয়াজে তিলাওয়াত করত।' লোকটি আরও বলল, 'তার জড়তাপূর্ণ উচ্চ আওয়াজে আমরা কষ্ট পেতাম। এরপর একসময় আমরা সে যখন তিলাওয়াত করে, তখন তার তিলাওয়াত শোনার জন্য উৎসুক হয়ে পড়ি।'

শিক্ষা : মানুষ যখন নফসের সাথে মুজাহাদা করে এবং আত্মসমর্পণ না করে, তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিজয় ও সহজতা দেখতে পায়।

টিকাঃ
৪. সুরা আল-আনকাবুত, ২৯: ৬৯।
৫. আল-মুজামুল আওসাত: ২৬৬৩, সহিহুল জামিয়িস সগির: ২৩২৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px