📘 কীভাবে পড়বেন কীভাবে বুঝবেন কীভাবে মুখস্থ করবেন 📄 অবতরণিকা

📄 অবতরণিকা


সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল আমাদের নবি মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাথির ওপর।

পর-সমাচার :

এটি সর্বজনস্বীকৃত বিষয় যে, ইলম অন্বেষণ এবং তা অর্জনে চেষ্টা সর্বোত্তম নেক আমল এবং সর্বোচ্চ মর্যাদার বিষয়। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহের পর ইলমের কল্যাণে মানুষ জানতে পারে, সে কীভাবে সঠিকভাবে তার রবের ইবাদত করবে। কীভাবে সে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং কীভাবে অসৎ কাজে বাধা দেবে। সে জানতে পারে কীভাবে কামনা ও সন্দেহের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকবে।

ইলম অন্বেষণের মাধ্যমেই মানুষ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আর এর মাধ্যমেই দুনিয়াতে বিভিন্ন কাজের তাওফিক এবং আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা অর্জন করতে পারে। আর এভাবে সে অর্জন করতে পারে বিশাল অনুগ্রহ।

ইলম অন্বেষণে কিছু যুবকের চেষ্টা-সাধনা ও উদ্যম আশা জাগিয়ে তোলে। এটি পরস্পরকে সুসংবাদ দেওয়ার মতো বিষয়। তারা নিজেদের সময় ও সম্পদ ইলম অন্বেষণের পথে ব্যয় করছে এবং এ পথে নিজেদের শরীরকে ক্লান্ত করে তুলছে। এটি মহান একটি লক্ষ্য, প্রশংসনীয় একটি মনজিল এবং বিশাল এক মর্যাদা। বরং এটি আমাদেরকে প্রথম যুগের নেককার সালাফের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যারা ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ-পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এমনকি তাঁদের হিম্মত এই পর্যন্ত পৌঁছেছে যে, তাঁরা একটি মাত্র হাদিস শেখার জন্য এক মাসের পথ অতিক্রম করেছেন। ইলমের জন্য তাঁরা যে পথ সফর করেছেন, তা বলার মতো নয়! আর ইলম অন্বেষণে চেষ্টা ও সফর অনেক বড় নেক কাজ। আলিমগণ এ ব্যাপারে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ ব্যাপারে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো, খতিব আল-বাগদাদি -এর লিখিত 'আর-রিহলাতু ফি তালাবিল হাদিস' গ্রন্থটি। আর জীবনী ও ইলম অন্বেষণের আদবসংক্রান্ত গ্রন্থে এ ব্যাপারে যা লিখিত হয়েছে, তা অনেক বেশি; যা গণনা করা তো দূরের বিষয়, খতিয়ে দেখাও সম্ভব নয়।

যেহেতু ইলম অন্বেষণের জন্য সাধনা, সুবিন্যাস এবং কিছু নিয়মনীতির প্রয়োজন হয়, তাই ইলম অন্বেষণকারীকে এসব নিয়মনীতি শ্রবণের ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে। হয়তো আল্লাহ তাআলার সাহায্যের পর সে এগুলোর মাধ্যমে ইলম অর্জনে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আমি আমার কিতাবের ভূমিকায় সকল তালিবে ইলমের জন্য প্রয়োজন এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করব; চাই এগুলো তাদের মুখস্থ করা, বোঝা অথবা পাঠ করার ব্যাপারে হোক না কেন। এরপর আমি আমার সামান্য পুঁজি অনুযায়ী পড়া, বোঝা এবং মুখস্থ করার বিষয়ে সহজে বিস্তারিত কিছু আলোকপাত করব। বাস্তবতা হলো আমি অন্যের কাছ থেকে শুনে থাকি, আমার কাছ থেকে অন্য কেউ শুনে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px