📄 কুরআন ও জিহাদের মর্যাদা
জান্নাতে কুরআনের বাহক ও মুজাহিদদের জন্য উঁচু স্তর রয়েছে। যে ব্যক্তি পরকালীন জীবনের সফলতা ও উন্নতি কামনা করে, সে যেন উক্ত স্তরসমূহ অর্জনের প্রচেষ্টা চালায়। নিম্নে এ প্রচেষ্টার পদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
• আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ، أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ
'জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর পথের মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। যেগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান। '
• ইমাম কুরতুবি বলেন, 'তাদের জন্য সুউচ্চ মর্যাদা বলতে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ ও দৃষ্টিনন্দন অট্টালিকাকে বোঝানো হয়েছে, যার সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে ফিরদাউস।' অতঃপর তিনি একটি সন্দেহের অপনোদন করতে গিয়ে বলেন, 'এ থেকে কেউ যেন মনে না করে যে, জান্নাতের স্তরসংখ্যা একশতেই সীমাবদ্ধ। কেননা, জান্নাতের স্তর তো অসংখ্য, অগণিত। আল্লাহ ছাড়া কেউ এর সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে অবগত নয়। যেমন কুরআনের ধারক-বাহকদের ফজিলতের ব্যাপারে অন্য জায়গায় এসেছে, "তুমি পড়ো এবং ওপরে আরোহণ করতে থাকো। কেননা, তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াত যেখানেই সমাপ্ত হবে, সেটাই তোমার গন্তব্য। এর দ্বারা বোঝা যায়, জান্নাতে অসংখ্য স্তর রয়েছে। কেননা, উক্ত হাদিস দ্বারা সাধারণ একজন হাফিজে কুরআনের জন্যই কুরআনের আয়াতের সমপরিমাণ ছয় হাজারেরও অধিক স্তর বরাদ্দ রয়েছে। তাই একজন মানুষের মধ্যে যখন জিহাদ ও কুরআন উভয় নিয়ামত একত্রিত হবে, তার জন্য উল্লিখিত সব স্তরই জান্নাতে বরাদ্দ রয়েছে। এভাবে সৎকর্মের পরিধি যত বাড়বে, আপনার স্তরও তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে।' তাই মহান রবের কাছে আকুল আবেদন, তিনি আমাদের মাঝে যেন কুরআন ও জিহাদের সব স্তরকে একীভূত করে দেন, আমিন!
টিকাঃ
৩১০. সহিহ মুসলিম: ১৮৭৮
৩১১. সহিহ মুসলিম: ১৯১০
৩১২. সহিহুল বুখারি: ২৭৯০
📄 মুজাহিদদের বৈশিষ্ট্যবলি
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।