📄 আল্লাহর রাস্তার শহিদদের তাৎপর্য
• আখিরাতের সফরে উন্নতি-প্রত্যাশী ব্যক্তির একমাত্র চাওয়া-পাওয়া হচ্ছে, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও পরকালের উঁচু মর্যাদা লাভে ধন্য হওয়া। এদের মধ্য থেকে আল্লাহর নিকট শহিদগণের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা উম্মতের যে কারও মর্যাদা ও নৈকট্যতাকে হার মানায়-তা স্বভাবতই অনুমেয়, কেননা তারা চিরস্থায়ী উন্নতির ক্ষেত্রে সর্বদা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিলেন। ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার উন্নতি লাভের জন্য কখনো তারা প্রয়োজনও বোধ করেননি。
• ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'শাহাদাতের মর্যাদা রবের পক্ষ থেকে স্বীয় বান্দাদেরকে দেওয়া উঁচু মর্যাদাসমূহের মধ্যে সর্বোৎकृष्ट। বস্তুত, সিদ্দিকিনের পরেই শহিদের স্থান।'
- আমাদের মহান প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে এমন কতককে শহিদ হিসেবে গ্রহণ করতে চান, যারা তাঁর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসায় মাতোয়ারা হয়ে নিজ দেহের রক্ত ঝরাবেন এবং তাদের আত্মিক চাহিদার ওপর প্রেমাস্পদ রবের ভালোবাসা ও সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেবেন।
• শাহাদাত এমনই উঁচু মর্তবা, যা তিনি যথাযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কাউকে দান করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
( وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ )
'আর তিনি তোমাদের মধ্য হতে কিছু লোককে শহিদ হিসেবে গ্রহণ করতে চান। '
শহিদের সংজ্ঞা
যে নিজ প্রাণ উৎসর্গের মাধ্যমে এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করে যে, তার নিকট স্বীয় রবের মনোনীত ধর্মই সবচেয়ে মূল্যবান। এই দ্বীনের বিজয়ের জন্যই সে নিজ জীবন ও আত্মাকে বিলীন করে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
দুনিয়াবি উপাধির স্বরূপ
অনেকেই সাধারণ লোকের মাঝে নিজের জন্য একটি সম্মানজনক উপাধি খুঁজে বেড়ায়, যা দিয়ে তাকে আহ্বান ও সম্মান করাকে সে পছন্দ করে। তাকে তার সম্মানজনক উপাধির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদা ও অধিকার না দিলে সে ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে, যেমন: ডক্টর, শাইখ, কারি, আল্লামা, প্রভাষক, উস্তাজ, সুমিষ্ট বক্তা ইত্যাদির মতো আরও লম্বা লম্বা উপাধি ও মিথ্যা দাবিসমূহ। অথচ রবের নিকট তার জন্য কোনো উপাধি বরাদ্দ করতে ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার ব্যাপারে আদৌ সে প্রয়োজন বোধ করে না। যেমন: মুত্তাকি, দয়াবান, সত্যবাদী, শহিদ, নিষ্ঠাবান, নৈকট্যশীল, অনুগত, দানশীল, শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, একাগ্রতার মূর্তপ্রতীক, ধৈর্যশীল প্রভৃতি উপাধি ও বিশেষণের ব্যাপারে তারা উদাসীন ও বেখবর।
• আমরা কি কুরআনে বর্ণিত এসব গুণ অর্জন করতে পেরেছি? আল্লাহ বলেন:
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ﴾
'নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ইমানদার পুরুষ, ইমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ, রোজা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী—তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।
• হে প্রিয় ভাই, এই উপাধিগুলোই একমাত্র পরকালে উপকারে আসবে। সুতরাং এগুলো অর্জন করে নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে এখন থেকেই সচেষ্ট হোন।
একটু ভাবুন, এসব বৈশিষ্ট্য থেকে আমরা কত দূরে!
• প্রিয় পাঠক, উল্লিখিত সব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী মহান আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ উৎসর্গকারী ভাগ্যবান শহিদগণ ছাড়া আর কে হতে পারে? (যেহেতু তারাই আপন রবের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি পূরণে সর্বাধিক সত্যবাদী)
প্রকৃত শহিদ হবার কতিপয় শর্ত
১. কেবল কালিমার পতাকাকে উড্ডীন করার জন্য লড়াই করা।
২. ধৈর্যধারণ করা।
৩. আল্লাহর নিকট পূর্ণ প্রতিদানের আশা রাখা।
৪. লড়াইয়ে অগ্রগামী হওয়া।
৫. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন না করা।
• হে প্রিয় ভাই, আপনি কি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছেন, যেন এসব শর্ত পূরণ করে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করতে পারেন? উক্ত গুণাবলি অর্জনের চেষ্টাই-বা করেছেন কি? (একটু ভেবে দেখুন!)
সোনায় সোহাগা সৌভাগ্যবান শহিদ যদি শহিদ ব্যক্তি কুরআনের হাফিজ ও শরিয়তের আলিম কিংবা শরয়ি জ্ঞান অন্বেষণকারী ও আল্লাহর পথে আহ্বানকারী, রোজাদার, সুন্নাতের পূর্ণাঙ্গ অনুসারী ও অনুপম চরিত্রে চরিত্রবান ইত্যাদি সব গুণেরও আধার হন, তাহলে তার মাহাত্ম্য ও মর্যাদার উচ্চতা আর কে দেখে?
টিকাঃ
৩০২. সুরা আলি ইমরান: ১৪০
৩০৩. সুরা আল-আহজাব: ৩৫
📄 শহিদের ফজিলত ও সুমহান মর্যাদা
আখিরাতে উন্নতি-প্রত্যাশী ব্যক্তি সর্বদা আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হতে ব্যাকুল থাকে, এমনকি শহিদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সে কোথাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে না। তাই এতে এমন কীই-বা রয়েছে, যার জন্য সত্যিকারের মুমিনরা এত পাগলপারা! নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
১. শহিদগণের পবিত্র আত্মা রবের নিকট জীবিত
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ
'আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদের তুমি কখনো মৃত মনে কোরো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও রিজিকপ্রাপ্ত।'
• ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ তাআলা শহিদদের ব্যাপারে বলেছেন যে, তারা এই পৃথিবীতে নিহত হলেও তাদের আত্মা চিরস্থায়ী জান্নাতে জীবিত ও রিজিকপ্রাপ্ত।'
• আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন, 'আমরা রাসুলুল্লাহ-কে এই আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন:
أَرْوَاحُهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ، لَهَا قَنَادِيلُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ، تَسْرَحُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شَاءَتْ، ثُمَّ تَأْوِي إِلَى تِلْكَ الْقَنَادِيلِ، فَاطَّلَعَ إِلَيْهِمْ رَبُّهُمُ اطَّلَاعَةٌ، فَقَالَ: هَلْ تَشْتَهُونَ شَيْئًا؟ قَالُوا: أَيَّ شَيْءٍ نَشْتَهِي وَنَحْنُ نَسْرَحُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شِثْنَا، فَفَعَلَ ذَلِكَ بِهِمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَلَمَّا رَأَوْا أَنَّهُمْ لَنْ يُتْرَكُوا مِنْ أَنْ يُسْأَلُوا، قَالُوا: يَا رَبِّ، نُرِيدُ أَنْ تَرُدَّ أَرْوَاحَنَا فِي أَجْسَادِنَا حَتَّى نُقْتَلَ فِي سَبِيلِكَ مَرَّةً أُخْرَى، فَلَمَّا رَأَى أَنْ لَيْسَ لَهُمْ حَاجَةٌ تُرِكُوا
'শহিদগণের আত্মা জান্নাতি সবুজ পাখির উদরে অবস্থান করবে। যার জন্য রয়েছে আরশের নিচে ঝুলন্ত প্রদীপ, সে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছে ভ্রমণ করে, অতঃপর উক্ত প্রদীপে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। একদা তাদের দিকে তাদের রব দৃষ্টি দেন, অতঃপর বলেন, "তোমরা কি চাও?” তারা বললেন, “আমরা কি আর চাইব! আমরা তো জান্নাতের যেখানে ইচ্ছে সেখানেই ঘুরছি।” এভাবে তাদের তিনবার জিজ্ঞেস করা হবে। যখন তারা দেখবে যে, তাদেরকে এভাবে কোনো কিছু চাওয়া ব্যতীত এমনি নিস্তার দেওয়া হবে না, তখন তারা বলবেন, "হে রব, আমরা চাই, আমাদের রুহগুলো আমাদের শরীরে পুনরায় ফিরিয়ে দিন, যেন আবার আপনার পথে পুনরায় শহিদ হতে পারি।” অতঃপর যখন তিনি দেখবেন যে, তাদের কোনো চাহিদা নেই, তখন তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।'
সুতরাং হে প্রিয় ভাই, এই হাদিসটি নিয়ে একটু ভাবুন, বারবার আবৃত্তি করুন, যেন রবের নিকট শহিদদের সুমহান মর্যাদার ব্যাপারে আপনার অন্তরে বদ্ধমূল বিশ্বাস জন্ম নেয়।
২. আরও ১০ বার স্বীয় রবের পথে নিহত হওয়ার জন্য পৃথিবীতে পুনরায় প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ
• আনাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
مَا أَحَدٌ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَلَهُ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا الشَّهِيدُ، يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنَ الكَرَامَةِ
'যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাকে দুনিয়ার সমুদয় সম্পত্তি দেওয়া হলেও সে পুনরায় দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তনকে পছন্দ করবে না, একমাত্র শহিদ ব্যতীত। কেননা, সে শাহাদাতের সুমহান মর্যাদা প্রত্যক্ষ করেছে, বিধায় পুনরায় দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করে আরও ১০ বার শাহাদতবরণ করতে মুখিয়ে থাকে।'
• খুব ভালোভাবে লক্ষ করুন, সে একবার বা দুবার নয়, দশ দশবার নিহত হতে মুখিয়ে আছে, এর একমাত্র কারণ হলো, সে শাহাদাতের এমন সুমহান মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে ধন্য হয়েছে, যা কারও বিবেক দিয়ে অনুধাবন করা ও কলম-কালি দিয়ে বর্ণনা দেওয়া অসম্ভব।
• ইবনে তাইমিয়া বলেন, 'শহিদদের মৃত্যু থেকে অধিকতর সহজ ও সর্বোত্তম মৃত্যু আর দ্বিতীয়টি নেই।'
• আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! আলিম, খতিব, ফকিহ, বিজ্ঞ ব্যক্তি, দায়ী ও অন্যান্য বান্দার মধ্যে থেকে কেউই দুনিয়ায় পুনর্বার প্রত্যাবর্তনে আশাবাদী হবে না, কেবল শহিদ ব্যতীত—শাহাদাতের সুমহান মর্যাদা সে প্রত্যক্ষ করার কারণে।
৩. শহিদগণের জন্য রয়েছে স্বীয় রবের নিকট কয়েকটি বিশেষ পুরস্কার
• মিকদাম বিন মাহদিকারাব হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
ক. রক্তের প্রথম ফোঁটা ঝরার সাথে সাথে তাকে (আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত লাভকারীকে) ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
খ. তাকে জান্নাতে স্বীয় বাসস্থান প্রত্যক্ষ করানো হয়।
গ. তাকে ইমানের সাজে সজ্জিত করানো হয়।
ঘ. ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট আনত নয়না হুরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা হবে।
ঙ. কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়。
চ. মহা আতঙ্ক থেকে নিরাপদ রাখা হয়।
ছ. তার মাথায় মর্যাদার বিশেষ মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়, যার একেকটি মুক্তোদানা পৃথিবী ও তার সমুদয় বস্তু থেকে উত্তম।
জ. তাকে বাহাত্তর জন হুরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা হবে।
ঝ. নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সত্তর জন পাপী ব্যক্তির ব্যাপারে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে。
৪. শহিদদের বাসস্থান জান্নাতের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ
• সামুরা বিন জুনদুব থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي، فَصَعِدَا بِي الشَّجَرَةَ فَأَدْخَلَانِي دَارًا هِيَ أَحْسَنُ وَأَفْضَلُ، لَمْ أَرَ قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهَا، قَالَا : أَمَّا هَذِهِ الدَّارُ فَدَارُ الشُّهَدَاءِ
'একরাতে আমার নিকট দুজন আগন্তুক এসে আমাকে একটি গাছের ওপর উঠিয়ে নিলেন। অতঃপর আমাকে এমন একটি ঘরে প্রবেশ করালেন, যার চেয়ে দৃষ্টিনন্দন সুন্দর ঘর ইতিপূর্বে আমি দেখিনি। তারা বললেন, "এই ঘরটি শহিদদের বাসস্থান।”’
• খুব ভালোভাবে চিন্তা করুন, রাসুল জান্নাত ও তার অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যকে অবলোকন করতে করতে যখন শহিদদের বাসস্থান প্রত্যক্ষ করলেন, তখন অবলীলায় বলে উঠলেন, 'আমি এর থেকে দৃষ্টিনন্দন ও উত্তম ঘর আর দেখিনি।' সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
হায়, সাহাবায়ে কিরামের শাহাদাতের তামান্না ছিল কত দৃঢ়! আর আমরা দুনিয়াপ্রেমেই মত্ত হয়ে আছি! আল্লাহ আমাদের মাঝেও তাদের মতো মনোবল দান করুন। (আমিন)
৫. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শহিদগণ কিয়ামতের বিভীষিকাময় মুহূর্তে রবের আরশের ছায়ায় অবস্থান করবেন, যাদের ওপরে নবিগণ ছাড়া আর কেউ থাকবেন না।
• রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, ‘নিহতরা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। (তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হলো:) ক. ওই মুমিন ব্যক্তি, যে জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে, তখন লড়াই করতে করতে শহিদ হয়েছে। এমন শহিদগণ পরীক্ষায় পূর্ণরূপে উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা আরশের নিচের শিবিরে থাকবে, তাদের থেকে মাত্র এক স্তর ওপরে থাকবেন নবিগণ।’
• আহ, কেমন সুমহান মর্যাদা, যার থেকে শুধু এক স্তর ওপরে থাকবেন নবিগণ, সুবহানাল্লাহ!
• সুতরাং হে সম্মানিত ভাই, আপনি কি স্বীয় রবের নিকট ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শহিদ হবার জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেন?- যে শহিদ জানমাল নিয়ে স্বীয় রবের পথে বেরিয়ে লড়াই করতে করতে নিহত হয়েছেন—যেন আপনিও এই সুমহান মর্যাদায় ভূষিত হতে পারেন। কেননা, আল্লাহর হাতেই তো রয়েছে পার্থিব-অপার্থিব কল্যাণের চাবি।
৬. জান্নাতে মুজাহিদদের সুউচ্চ মর্যাদা
• আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: إِنَّ فِي الجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ، أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ
‘জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা তার পথের মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। যেগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান।’
টিকাঃ
৩০৪. সুরা আলি ইমরান: ১৬৯
৩০৫. সহিহু মুসলিম: ১৮৮৭
৩০৬. সহিহুল বুখারি: ২৮১৭
৩০৭. সুনানু সাইদ ইবনে মানসুর: ২৫৬২, সুনানুত তিরমিজি: ১৬৬৩, সুনানু ইবনি মাজাহ; ২৭৯৯
৩০৮. সহিহুল বুখারি: ২৭৯১
৩০৯. সহিহুল বুখারি: ২৭৯০
📄 কুরআন ও জিহাদের মর্যাদা
জান্নাতে কুরআনের বাহক ও মুজাহিদদের জন্য উঁচু স্তর রয়েছে। যে ব্যক্তি পরকালীন জীবনের সফলতা ও উন্নতি কামনা করে, সে যেন উক্ত স্তরসমূহ অর্জনের প্রচেষ্টা চালায়। নিম্নে এ প্রচেষ্টার পদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
• আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ، أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ
'জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর পথের মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। যেগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব আসমান ও জমিনের দূরত্বের সমান। '
• ইমাম কুরতুবি বলেন, 'তাদের জন্য সুউচ্চ মর্যাদা বলতে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদ ও দৃষ্টিনন্দন অট্টালিকাকে বোঝানো হয়েছে, যার সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে ফিরদাউস।' অতঃপর তিনি একটি সন্দেহের অপনোদন করতে গিয়ে বলেন, 'এ থেকে কেউ যেন মনে না করে যে, জান্নাতের স্তরসংখ্যা একশতেই সীমাবদ্ধ। কেননা, জান্নাতের স্তর তো অসংখ্য, অগণিত। আল্লাহ ছাড়া কেউ এর সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে অবগত নয়। যেমন কুরআনের ধারক-বাহকদের ফজিলতের ব্যাপারে অন্য জায়গায় এসেছে, "তুমি পড়ো এবং ওপরে আরোহণ করতে থাকো। কেননা, তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াত যেখানেই সমাপ্ত হবে, সেটাই তোমার গন্তব্য। এর দ্বারা বোঝা যায়, জান্নাতে অসংখ্য স্তর রয়েছে। কেননা, উক্ত হাদিস দ্বারা সাধারণ একজন হাফিজে কুরআনের জন্যই কুরআনের আয়াতের সমপরিমাণ ছয় হাজারেরও অধিক স্তর বরাদ্দ রয়েছে। তাই একজন মানুষের মধ্যে যখন জিহাদ ও কুরআন উভয় নিয়ামত একত্রিত হবে, তার জন্য উল্লিখিত সব স্তরই জান্নাতে বরাদ্দ রয়েছে। এভাবে সৎকর্মের পরিধি যত বাড়বে, আপনার স্তরও তত বৃদ্ধি পেতে থাকবে।' তাই মহান রবের কাছে আকুল আবেদন, তিনি আমাদের মাঝে যেন কুরআন ও জিহাদের সব স্তরকে একীভূত করে দেন, আমিন!
টিকাঃ
৩১০. সহিহ মুসলিম: ১৮৭৮
৩১১. সহিহ মুসলিম: ১৯১০
৩১২. সহিহুল বুখারি: ২৭৯০
📄 মুজাহিদদের বৈশিষ্ট্যবলি
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।