📄 জ্ঞান ও জ্ঞানীদের বিশেষ মর্যাদা
আখিরাতের সর্বোচ্চ সোপানে চড়তে ও সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করতে দ্বীনি ইলমের বিকল্প নেই। কেননা, এটিই সর্বোত্তম ও সহজতর পন্থার দিশা দেয়। দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানেই ইলম অন্বেষণের অসংখ্য- অগণিত নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। ইলমের মহাফজিলতের বিষয়টি কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফের মুখনিঃসৃত বাণীর আলোকে একটি অতি প্রসিদ্ধ ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ﴾
'বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?'
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ ﴾
'তোমাদের মধ্যে যারা ইমানদার ও জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন।'
মুআবিয়া থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
'আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।'
আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا، سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ
'আর যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণে পথ চলে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন।'
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
فَضْلُ العَالِمِ عَلَى العَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرَضِينَ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الخَيْرَ
“একজন (মূর্খ আবিদ) ইবাদতগুজার বান্দার তুলনায় একজন আলিমের মর্যাদা এত বেশি, যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন মর্যাদাবিশিষ্ট ব্যক্তির ওপর।” অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন, “ফেরেশতা ও আসমান জমিনের সব অধিবাসীরা; এমনকি গর্তের পিঁপড়া থেকে শুরু করে সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত মানুষদের ইলম শিক্ষাদানকারী ব্যক্তির জন্য কল্যাণের দুআ করতে থাকে।”
সুফইয়ান সাওরি বলেন, 'যার জ্ঞান যত বাড়বে, আল্লাহর নিকট তার নৈকট্যশীলতাও তত বৃদ্ধি পাবে।'
সুতরাং হে দ্বীনি ভাই, স্বল্প পরিসরে হলেও জ্ঞান অন্বেষণের জন্য আপনার একটি রুটিন থাকা চাই। কেননা, যদি আপনি প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে ইলম অর্জনে সময় ব্যয় করেন, তাহলে মাসিক ত্রিশ ঘণ্টা হয়ে যাচ্ছে। যার সুদূরপ্রসারী ফলাফল ও অসামান্য উপকারিতা একটু পরে দৃষ্টিগোচর হবে ইনশাআল্লাহ।
যেমন আপনি দৈনিক পাঁচটি আয়াত তাফসিরসহ তিলাওয়াত করলেন, তাহলে মাসিক আপনার দেড়শর মতো আয়াত মর্মসহ শেখা হয়ে যাচ্ছে।
তেমনই দৈনিক এভাবে পাঁচটি হাদিস যদি খুবই অল্প সময়ে পড়ে নেন, মাস শেষে দেখা যাচ্ছে দেড়শর অধিক হাদিস আপনার পড়া হয়ে যাচ্ছে।
তেমনিভাবে যদি দৈনিক পাঁচটি শরয়ি সমাধান কিংবা ফতওয়া অধ্যয়ন করেন, মাসিক আপনার দেড়শর মতো ফতওয়াও আত্মস্থ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তা হতে হবে ধারাবাহিক ও পাঠ্য বিষয়ের সংক্ষিপ্ত নোট তৈরির মাধ্যমে।
• এভাবে চলতে থাকলে কুরআনের আয়াত ও এর ব্যাখ্যাবলি, হাদিস ও এর ব্যাখ্যা এবং দৈনন্দিনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মাসআলার ক্ষেত্রে আহলে ইলমদের শরয়ি সমাধান ইত্যাদি অর্জনের এক বিরাট ভান্ডার আপনার কাছে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।
• এভাবে আপনার জীবনে ইলম, দ্বীনি বুঝ, সভ্যতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর সফলতা উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারে। এমনকি একসময় আপনি সবকিছু জেনেবুঝে ইবাদতের গূঢ় রহস্য উৎঘাটন করতে পারবেন এবং (আরও মনোযোগী হয়ে) উপাসনা করার স্বাদ লাভ করবেন। ওই সব ব্যক্তির উপাসনার মতো আপনার উপাসনা হবে না, যার ভিত্তিই হচ্ছে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা বা অন্ধতার ওপর প্রতিষ্ঠিত—যেমন বর্তমানের অধিকাংশ মুসলিমদের অবস্থা!
• আপনি যদি অধিকাংশ লোকদের ইমানের ছয়টি রোকন ও এর ব্যাখ্যা, কিয়ামতের আলামত, কবর, পুলসিরাত, আমলনামা, হাওজে কাওসার, জান্নাত-জাহান্নাম, তেমনিভাবে অজুর ফরজ ও তা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ, মোজার ওপর মাসেহ ও নামাজের রুকন, ওয়াজিব-সুন্নাত-মুস্তাহাব এবং তার সৃষ্টিকর্তার নাম ও গুণাবলির অধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, দেখবেন—অধিকাংশ লোকই কোনো উত্তর দিতে পারে না, অধিকন্তু মূর্খ লোকের মতো হা করে তাকিয়ে থাকে। বরং আপনি যদি তাদের শুধু সুরা ফাতিহা, সুরা ফালাক, সুরা নাস, আত্তাহিয়্যাতু, সিজদার পাঠ্য দুআর ব্যাখ্যা; এভাবে রাসুল -এর জীবনী, তাঁর নাম ও গুণাবলি, তাঁর যুদ্ধসমূহ, পরিবার ও স্ত্রীগণের সাথে তাঁর জীবনযাপন, তেমনই তাঁর পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে দেখবেন— অনেকেই কোনো কিছু বলতে পারে না।
• এখানে কতেক বইয়ের সন্ধান দিচ্ছি। পাঠকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, তারা যেন বইগুলো অধ্যয়ন করেন।
ক. (مختصر الفقه الإسلامي )মুখতাসারুল ফিকহিল ইসলামি) যা শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তুয়াইজিরি কর্তৃক রচিত। এই কিতাবটিতে লেখক আকিদা, আদব, ফিকহ ও অন্যান্য জরুরি জ্ঞাতব্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
খ. (شرح رياض الصالحين )শারহু রিয়াজিস সালিহিন) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন কর্তৃক রচিত।
গ. আবু বকর আল-জাজায়িরি ও শাইখ সাদির তাফসিরে সাদিও সুখপাঠ্য।
ঘ. ডক্টর উমার আশকারের سلسلة العقيدة )সিলসিলাতুল আকিদা) কিতাবটিও সর্বসাধারণের জন্য উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ।
এসব কিতাব অধ্যায়নের পর আপনি বিস্মিত নয়নে লক্ষ করবেন যে, শরয়ি জ্ঞান আল্লাহর কত বড় নিয়ামত ও তাঁর বিশেষ দান।
আলিমের সঠিক স্বরূপ রূপায়ণ
সুফইয়ান বিন উয়াইনা বলেন, 'আলিম শুধু মন্দ থেকে কল্যাণকে পৃথক করতে সক্ষম ব্যক্তির নাম নয়। বরং সত্যিকারের আলিম তো হচ্ছেন তিনি, যিনি কল্যাণকর বিষয় চেনামাত্রই তা অনুসরণ করেন এবং মন্দের পরিচয় লাভমাত্রই তা থেকে বিরত থাকতে সচেষ্ট থাকেন।'
হাসান বসরি বলেন, 'যে জ্ঞানের দিক থেকে সবার ঊর্ধ্বে, আমলের ক্ষেত্রেও তার সবার ঊর্ধ্বে থাকাই বাঞ্ছনীয়।' তেমনিভাবে তিনি আরও বলেন, 'কোনো ব্যক্তি ইলম অন্বেষণে ব্যস্ত থাকলে তার সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে চলাফেরায় সবক্ষেত্রে ইলমের গভীর ছাপ ও নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়।'
আবু হাতিম বলেন, 'কোনো আলিম সত্যিকারার্থে আলিম হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার ভেতর তিনটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
১. নিজ থেকে নীচু ব্যক্তিকে ঘৃণা বা হেয় প্রতিপন্ন না করা।
২. তার থেকে উঁচু মর্যাদাবিশিষ্ট লোকদের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ না রাখা।
৩. তার আমলের বিনিময়ে দুনিয়া অর্জন না করা। অর্থাৎ দুনিয়াকে কোনো ক্ষেত্রেই প্রাধান্য না দেওয়া।'
ফকিহ কে?
হাসান বসরি বলেন, 'ফকিহ হচ্ছেন তিনি, যিনি দুনিয়াবিমুখ; অথচ আখিরাতের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড আগ্রহী। তার পাপাচারের ব্যাপারে অধিক দৃষ্টিসম্পন্ন ও জ্ঞাত। সর্বোপরি আপন প্রতিপালকের উপাসনায় সর্বদা লিপ্ত। উক্ত ব্যক্তিই হচ্ছেন প্রকৃত ফকিহ।'
টিকাঃ
১৪১. সহিহুল বুখারি: ৫৬৪১
১৪২. সুরা আজ-জুমার: ৯
১৪৩. সুরা আল-মুজাদালা: ১১
১৪৪. সহিহুল বুখারি: ৭১
১৪৫. সহিহু মুসলিম: ২৬৯৯
১৪৬. সুনানুত তিরমিজি: ২৬৮৫
📄 কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির মর্যাদা
আয়িশা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ، وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌ، لَهُ أَجْرَانِ
'কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি (বিচার দিবসে) মহাসম্মানিত, নেককার, আমলনামা-লেখক ফেরেশতাদের সাথে অবস্থান করবে। আর মুখের জড়তাবশত কুরআন পাঠে যার অতি কষ্ট ভোগ করতে হয়, তার জন্য তো রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।'
• ইমাম নববি ﷺ বলেন, 'الْمَاهِرُ অর্থাৎ যিনি কুরআন ভালোভাবে আত্মস্থ করে পরিপূর্ণ দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়েছেন। যার কুরআন পাঠে কোনো ধরনের বেগ পেতে হয় না।'
• কাজি ইয়াজ বলেন, 'ফেরেশতাদের সাথে তার সহাবস্থানের মর্ম এও হতে পারে যে, পরকালে তার জন্য বিশেষ আসন থাকবে, যেখানে ফেরেশতারাই তার একমাত্র সহচর হবে, এই সম্মান মূলত আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের প্রতিদান হিসেবেই তাদের দেওয়া হবে। অথবা এর মর্ম এরূপও হতে পারে, কুরআনের বাহকের কাজকর্ম ও চালচলন ফেরেশতাদের অনুরূপ পবিত্রময় নির্ভেজাল হয়ে যাবে।'
• আল্লাহু আকবার! কত বড় সম্মান ও মর্যাদার ব্যাপার যে, কদাকার মানুষ ফেরেশতাদের মতো মহান সত্তাদের সহচর হবে। যারা আনুগত্যের সর্বোচ্চ মার্গে অধিষ্ঠিত।
- তাই, ওহে কল্যাণ-প্রত্যাশী ব্যক্তি, যদি আখিরাতের সর্বোচ্চ সোপানে আরোহণে আশাবাদী হোন, আপনার জন্য কুরআন আত্মস্থ ও তিলাওয়াত করা একান্ত অপরিহার্য।
কুরআন হিফাজতের কতিপয় উপকারিতা :
১. প্রতিনিয়ত অধিক হারে তিলাওয়াতের সক্ষমতা।
২. তাহাজ্জুদের নামাজ দীর্ঘায়িত করতে পারা।
৩. কুরআনের সাথে সম্পর্কের দৃঢ়তা ও গভীরতা।
৪. অন্তর ও জবানে কুরআন সহজবোধ্য হওয়া।
৫. কুরআনের অধিক খতমের সক্ষমতা।
পক্ষান্তরে কুরআনে অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ ব্যক্তি এর সম্পূর্ণ বিপরীত, কেননা তার পক্ষে কুরআন তিলাওয়াত করা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।
• উসমান বলেন, 'যদি তোমাদের অন্তর পবিত্র ও কলুষতামুক্ত হয়ে যেত, তাহলে তোমরা কখনো রবের কালাম পাঠে পরিতৃপ্ত হতে পারতে না।'
কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য কতিপয় আদব
ইবনে মাসউদ বলেন, 'কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য কতিপয় বিষয় অবলম্বন করা অপরিহার্য, যেমন মানুষের ঘুমন্ত অবস্থায় তার রাত্রিজাগরণ, মানুষের পানাহারের অবস্থায় দিনের বেলায় তার রোজা পালন। মানুষের হাসি-ঠাট্টা ও খুশির সময় অধিক হারে ক্রন্দন। মানুষের অহেতুক আড্ডার সময় চুপ থাকা ও একাগ্রতা অবলম্বন করা। তাই কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি জড়তা, উদাসীনতা পরিহার করবে; অতিরিক্ত হাসি-ঠাট্টা থেকে মুক্ত থাকবে এবং অধিক হারে ক্রন্দনকারী, নিষ্কলুষ ও পরকালীন বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে।'
• কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্মান দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বাপেক্ষা বেশি।
• রাসুলুল্লাহ বলেন: مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ الْم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য এর বিনিময়ে একটি সাওয়াব। আর প্রতিটি সাওয়াব দশ গুণ করে বৃদ্ধি পায়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ。
• সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর প্রতিদান কতই না উত্তম! তবুও কেউ তা লাভের প্রয়োজন মনে করে না। অথচ, আপনি যদি লোকদের মাঝে ঘোষণা দেন, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য এত পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তখন অধিকাংশ লোককে কুরআন পাঠে অতি উৎসাহীরূপে পেতেন। শুধু তাই নয় প্রতিদিন তারা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠের জন্য নির্ধারণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। এর একমাত্র কারণ হলো, মানুষের অন্তরে বাস্তবিক অর্থেই পুণ্যকর্মের মূল্যের চেয়ে ধন-সম্পদ, টাকা-কড়ির মূল্য অধিক। তাই আল্লাহ তাআলা বলেন :
بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَوٰةَ الدُّنْيَا ﴿16﴾ وَالْاٰخِرَةُ خَيْرٌ وَّاَبْقٰى ﴾
'বস্তুত, তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও। অথচ, পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী。
• পাঠকদের আরবি ভাষায় রচিত كيف تحفظ القرآن )কাইফা তাহফাজুল কুরআন তথা কুরআন হিফজ করার পদ্ধতি) নামক বইটি অধ্যয়নের অনুরোধ করছি।
টিকাঃ
১৭৭. সহিহু মুসলিম: ৭৯৮
১৭৮. সুনানুত তিরমিজি: ২৯১০
১৭৯. সুরা আল-আলা: ১৬-১৭
📄 আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন
আখিরাতে সর্বোত্তম মনজিল-প্রত্যাশী ব্যক্তির জন্য তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে-কথা, কাজ, আখলাক ও চালচলনে অপরের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শনের বিকল্প নেই। তাই আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ )
'আর অনুগ্রহ করো। নিশ্চয় আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন। '
• শাইখ সাদি বলেন, 'অনুগ্রহ প্রদর্শনের এই মানবিক নীতি জীবনের সব প্রেক্ষাপটে সমানভাবে প্রযোজ্য। কেননা, আয়াতে এটিকে কোনো বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়নি।'
নিম্নে ইনসানের কয়েকটি প্রকার নিয়ে আলোচনা করা হলো :
১. আল্লাহর উপাসনার ক্ষেত্রে ইহসানের আসল স্বরূপ হচ্ছে, যা হাদিসে জিবরিলে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ বলেন :
أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ
'এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে নাও দেখো; তিনি কিন্তু তোমাকে ঠিকই দেখছেন। '
২. ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে ইহসান।
৩. মর্যাদা-সম্মান ও সুপারিশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইহসান।
৪. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধের ক্ষেত্রে ইহসান।
৫. কল্যাণকর জ্ঞান শেখার ক্ষেত্রে ইহসান।
৬. মানুষের দুর্যোগ ও কঠিন মুহূর্তে তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে ইহসান।
৭. অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-শুশ্রূষার ক্ষেত্রে ইহসান।
৮. মুমিনের জানাজায় অংশগ্রহণে ইহসান।
৯. পথভোলা ব্যক্তিকে পথের সন্ধান, শ্রমিকের কাজে সাহায্য ও অসহায় ব্যক্তিদের সহায়তার ক্ষেত্রে ইহসান।
• সুতরাং যে ব্যক্তি উল্লিখিত গুণে গুণান্বিত হবে, সে ওই সব সুসংবাদপ্রাপ্ত লোকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন :
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ
'যারা সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরও অতিরিক্ত কিছু।'
- এরাই হচ্ছে ইহসানের মূর্তপ্রতীক, যাদের জন্য মহান রবের পক্ষ হতে অনাবিল শান্তির আধার জান্নাতে আল্লাহর দিদারের নিয়ামত রয়েছে এবং মহান আল্লাহ তাআলা তাদেরকে নিজের সন্তুষ্টি ও প্রফুল্লতার নিয়ামত দান করবেন। আর তারা কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশার স্বপ্নিল জান্নাতের ক্যানভাসে অনায়াসে অবগাহন করতে থাকবে।
• আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْزَغُ بَيْنَهُمْ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوًّا مُبِينًا ﴾
'আমার বান্দাদের বলে দিন, "তারা যেন যা উত্তম এমন কথাই বলে।” শয়তান তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধায়। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।'
শাইখ সাদি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, 'বস্তুত, তা রবের পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম করুণার অংশবিশেষ যে, তিনি স্বীয় বান্দাদের পার্থিব-অপার্থিব সফলতা আনয়নকারী উত্তম কাজ, কথা ও উন্নত চরিত্র গঠনের জন্য সর্বোত্তম উপায় বাতলে দিয়ে বলেন: وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ অর্থাৎ 'আমার বান্দাদের বলে দিন, তারা যেন যা উত্তম এমন কথাই বলে।' এর দ্বারা মূলত ওই সব বাক্য উদ্দেশ্য, যা দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয় তথা: কুরআন তিলাওয়াত, ইলম অর্জন, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ ইত্যাদি।
• (সুতরাং আখিরাতে উন্নতি-প্রত্যাশীদের জন্য উচিত হলো) সুন্দর কথা ও মানুষের সাথে মর্যাদা ভেদে উত্তম আচরণ ও নম্রতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। অপরপক্ষে দুটি উত্তম বিষয়ে দ্বন্দ্বের আশঙ্কা হলে সর্বোত্তম বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বৈপরীত্য নিরসন করা।
• সুন্দর কথাবার্তা সর্বোত্তম চরিত্র ও সৎকর্মের উৎসস্বরূপ। কেননা, যে ব্যক্তি নিজ জবানের নিয়ন্ত্রক, সে সব কাজের নিয়ন্ত্রক।
ইহসানের সংজ্ঞা
রাসূলুল্লাহ বলেন: أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ
'এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে নাও দেখো; তিনি কিন্তু তোমাকে ঠিকই দেখছেন।'
ইবনে রজব হাম্বলি ইহসানের ব্যাখ্যায় বলেন, 'বান্দা যখন স্বীয় রবের নৈকট্যতার অনুভূতি জাগ্রত অবস্থায় ইবাদতে মগ্ন হয়, তখন সে আপন রবকে অন্তরচক্ষু দিয়ে অবলোকন করতে সক্ষম হয়। যা তার আল্লাহভীতি ও ইমানকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। যেমন আবু হুরাইরা -এর বর্ণনায় এসেছে:
أَنْ تَخْشَى اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنَّكَ إِنْ لَا تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ
"এমনভাবে আল্লাহকে ভয় করো, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে নাও দেখো; তিনি কিন্তু তোমাকে ঠিকই দেখছেন।""
তেমনই ইবাদতে একনিষ্ঠতা, স্বচ্ছতা ও সৌন্দর্যতা আনয়নে কঠোর পরিশ্রম কাম্য।
• অন্যের সাথে ইহসানের পদ্ধতি
ঈসা বলেন, 'তোমার ওপর দয়াবান ব্যক্তিকে করুণা করা প্রকৃত ইহসান নয়। বরং তোমার শত্রুর ওপর করুণা করাই হচ্ছে প্রকৃত ইহসান।'
অন্যের ওপর দয়াবান ব্যক্তিদের কতিপয় গুণাবলি : আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ - آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ - كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ - وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾
'আল্লাহভীরুরা জান্নাতে ও প্রস্রবণে থাকবে। এমতাবস্থায় যে, তারা গ্রহণ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদেরকে দেবেন। নিশ্চয় ইতিপূর্বে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তারা রাতের সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত। রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত। এবং তাদের ধন-সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক ছিল।'
শাইখ সাদি বলেন, 'পালনকর্তার ইবাদতের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম ইহসান হলো, রাত্রিকালীন নামাজ। যা তার একনিষ্ঠতা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অন্তরের স্থিরতা আনয়নে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ জন্য আল্লাহ তাআলা বলেন:
كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ} অর্থাৎ তাদের রাত্রিকালীন ঘুম অত্যন্ত স্বল্প হয় এবং অধিকাংশ রাত তারা স্বীয় মহান রবের সন্তুষ্টির নিমিত্তে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, প্রার্থনা ও বিনয় প্রদর্শনে কাটিয়ে দেয়।
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} অর্থাৎ তারা সাহরির আগ পর্যন্ত পুরো রাত নামাজে কাটিয়ে দিয়ে রাতের একেবারে শেষাংশে কায়মনোবাক্যে তাদের কৃত অপরাধের ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা, শেষ রাতের ইসতিগফারের সাথে অন্যকিছুর তুলনাই হয় না। যেমন আল্লাহ তাআলা আনুগত্যশীল ইমানদারদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ
'এবং তারা রাতের শেষাংশে ইসতিগফারকারী।'
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ 'এবং তাদের ধন-সম্পদে যাচক ও বঞ্চিতের হক থাকত।'
যাদের কেউ লোকদের কাছে হাত পেতে বসে। আবার কেউ তো লোকদের কাছে তাদের করুণ অবস্থার কোনো কিছুই প্রকাশ করে না।
টিকাঃ
১৬০. সুরা আল-বাকারা: ১৯৫
১৬১. সহিহুল বুখারি: ৫০
১৬২. সুরা ইউনুস: ২৬
১৬৩. সুরা বনি ইসরাইল: ৫৩
১৬৪. সহিহুল বুখারি: ৫০
১৬৫. সহিহু মুসলিম: ১০
১৬৬. সুরা আজ-জারিআত: ১৫-১৯
১৬৭. সুরা আলি ইমরান: ১৭
১৬৮. সুরা আজ-জারিয়াত: ১৯
📄 আল্লাহর রাস্তার শহিদদের তাৎপর্য
• আখিরাতের সফরে উন্নতি-প্রত্যাশী ব্যক্তির একমাত্র চাওয়া-পাওয়া হচ্ছে, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও পরকালের উঁচু মর্যাদা লাভে ধন্য হওয়া। এদের মধ্য থেকে আল্লাহর নিকট শহিদগণের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা উম্মতের যে কারও মর্যাদা ও নৈকট্যতাকে হার মানায়-তা স্বভাবতই অনুমেয়, কেননা তারা চিরস্থায়ী উন্নতির ক্ষেত্রে সর্বদা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিলেন। ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার উন্নতি লাভের জন্য কখনো তারা প্রয়োজনও বোধ করেননি。
• ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'শাহাদাতের মর্যাদা রবের পক্ষ থেকে স্বীয় বান্দাদেরকে দেওয়া উঁচু মর্যাদাসমূহের মধ্যে সর্বোৎकृष्ट। বস্তুত, সিদ্দিকিনের পরেই শহিদের স্থান।'
- আমাদের মহান প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে এমন কতককে শহিদ হিসেবে গ্রহণ করতে চান, যারা তাঁর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসায় মাতোয়ারা হয়ে নিজ দেহের রক্ত ঝরাবেন এবং তাদের আত্মিক চাহিদার ওপর প্রেমাস্পদ রবের ভালোবাসা ও সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেবেন।
• শাহাদাত এমনই উঁচু মর্তবা, যা তিনি যথাযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কাউকে দান করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
( وَيَتَّخِذَ مِنْكُمْ شُهَدَاءَ )
'আর তিনি তোমাদের মধ্য হতে কিছু লোককে শহিদ হিসেবে গ্রহণ করতে চান। '
শহিদের সংজ্ঞা
যে নিজ প্রাণ উৎসর্গের মাধ্যমে এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করে যে, তার নিকট স্বীয় রবের মনোনীত ধর্মই সবচেয়ে মূল্যবান। এই দ্বীনের বিজয়ের জন্যই সে নিজ জীবন ও আত্মাকে বিলীন করে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
দুনিয়াবি উপাধির স্বরূপ
অনেকেই সাধারণ লোকের মাঝে নিজের জন্য একটি সম্মানজনক উপাধি খুঁজে বেড়ায়, যা দিয়ে তাকে আহ্বান ও সম্মান করাকে সে পছন্দ করে। তাকে তার সম্মানজনক উপাধির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদা ও অধিকার না দিলে সে ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠে, যেমন: ডক্টর, শাইখ, কারি, আল্লামা, প্রভাষক, উস্তাজ, সুমিষ্ট বক্তা ইত্যাদির মতো আরও লম্বা লম্বা উপাধি ও মিথ্যা দাবিসমূহ। অথচ রবের নিকট তার জন্য কোনো উপাধি বরাদ্দ করতে ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার ব্যাপারে আদৌ সে প্রয়োজন বোধ করে না। যেমন: মুত্তাকি, দয়াবান, সত্যবাদী, শহিদ, নিষ্ঠাবান, নৈকট্যশীল, অনুগত, দানশীল, শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, একাগ্রতার মূর্তপ্রতীক, ধৈর্যশীল প্রভৃতি উপাধি ও বিশেষণের ব্যাপারে তারা উদাসীন ও বেখবর।
• আমরা কি কুরআনে বর্ণিত এসব গুণ অর্জন করতে পেরেছি? আল্লাহ বলেন:
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ﴾
'নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ইমানদার পুরুষ, ইমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ, রোজা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী—তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।
• হে প্রিয় ভাই, এই উপাধিগুলোই একমাত্র পরকালে উপকারে আসবে। সুতরাং এগুলো অর্জন করে নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে এখন থেকেই সচেষ্ট হোন।
একটু ভাবুন, এসব বৈশিষ্ট্য থেকে আমরা কত দূরে!
• প্রিয় পাঠক, উল্লিখিত সব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী মহান আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ উৎসর্গকারী ভাগ্যবান শহিদগণ ছাড়া আর কে হতে পারে? (যেহেতু তারাই আপন রবের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি পূরণে সর্বাধিক সত্যবাদী)
প্রকৃত শহিদ হবার কতিপয় শর্ত
১. কেবল কালিমার পতাকাকে উড্ডীন করার জন্য লড়াই করা।
২. ধৈর্যধারণ করা।
৩. আল্লাহর নিকট পূর্ণ প্রতিদানের আশা রাখা।
৪. লড়াইয়ে অগ্রগামী হওয়া।
৫. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন না করা।
• হে প্রিয় ভাই, আপনি কি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছেন, যেন এসব শর্ত পূরণ করে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করতে পারেন? উক্ত গুণাবলি অর্জনের চেষ্টাই-বা করেছেন কি? (একটু ভেবে দেখুন!)
সোনায় সোহাগা সৌভাগ্যবান শহিদ যদি শহিদ ব্যক্তি কুরআনের হাফিজ ও শরিয়তের আলিম কিংবা শরয়ি জ্ঞান অন্বেষণকারী ও আল্লাহর পথে আহ্বানকারী, রোজাদার, সুন্নাতের পূর্ণাঙ্গ অনুসারী ও অনুপম চরিত্রে চরিত্রবান ইত্যাদি সব গুণেরও আধার হন, তাহলে তার মাহাত্ম্য ও মর্যাদার উচ্চতা আর কে দেখে?
টিকাঃ
৩০২. সুরা আলি ইমরান: ১৪০
৩০৩. সুরা আল-আহজাব: ৩৫