📄 আসমানি লাঞ্ছনা থেকে সাবধান!
পরের সমালোচনা—অমুক এমন করেছে, তমুক এমন করেছে, এ জাতীয় অগ্রহণযোগ্য, নিষ্প্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে সাবধান! বরং সময় ফুরানোর পূর্বেই নিজে সংশোধন হওয়ার চেষ্টা করুন।
নিজে নিজের দোষ-ত্রুটি ধরার উপায়
১. আত্মার ব্যাধি ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে প্রাজ্ঞবান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাইখের সাহচর্য গ্রহণ করা।
২. সত্যবাদী দ্বীনদার সহপাঠী অন্বেষণ করা। যে আপনার ভুল ধরে দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করবে।
৩. শত্রুদের মুখ থেকে নিজ দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে অবগত হলে সংশোধনের চেষ্টা করা (যদি তা সত্য হয়)।
৪. সাধারণ লোকজনের সাথে মেশা—এ উদ্দেশ্য যে, তাদের কাছে যে অভ্যাস নিন্দিত বলে জানবে, তা সে পরিহার করে চলবে。
* উমর বিন খাত্তাব বলেন, 'আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে দয়া করুন, যে আমাদের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেয়।'
* আমাদের সালাফ ওই ব্যক্তিকে বেশি ভালোবাসতেন, যে তাদের ভুল ধরিয়ে দিত। অথচ, আজকাল আমাদের নিকট সেই ব্যক্তিই হয় সর্বাধিক ঘৃণার পাত্র, যে আমাদের ভুল ধরিয়ে দিয়ে শুধরানোর চেষ্টা করে।
* নিজের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে প্রাজ্ঞবান হওয়া মহান রবের পক্ষ থেকে কল্যাণ বর্ষিত হওয়ার অন্যতম নিদর্শন।
* রাসুলুল্লাহ নিম্নোক্ত দুআটি পাঠ করতেন :
اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا
'হে আল্লাহ, আমাদের আত্মায় তাকওয়ার (আল্লাহভীতির) বীজ বপন করে দিন এবং তা পূত-পবিত্র করে দিন। (কেননা,) আপনিই তো সর্বোত্তম পবিত্রকারী ও অভিভাবক।'
আপনি কি নিজ ব্যক্তিত্বের প্রতি সন্তুষ্ট ও আত্মতৃপ্ত?
ইবনে আব্বাস বলেন, 'যখন তুমি তোমার কোনো সঙ্গীর দোষ ধরার ইচ্ছা করবে, তখন প্রথমেই নিজের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।'
একদা জনৈক ব্যক্তি রাবি বিন খুসাইমকে বললেন, 'আমি নিজের ব্যাপারে সন্তুষ্ট নই, তাই অন্যের দোষ ধরে নিন্দা করার অবকাশ পাই না। পক্ষান্তরে সাধারণ মানুষ আজকাল আল্লাহর বান্দাদের পাপাচারে কত যে উদ্বিগ্ন! অথচ, নিজ পাপের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন।'
টিকাঃ
২৯২. সহিহু মুসলিম: ২৭২২