📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 সূরা কাফ-এর আলোকে জান্নাতবাসীদের বৈশিষ্ট্য

📄 সূরা কাফ-এর আলোকে জান্নাতবাসীদের বৈশিষ্ট্য


আল্লাহ তাআলা বলেন: وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ غَيْرَ بَعِيدٍ - هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٌ - مَنْ خَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُنِيبٍ - ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ ذَلِكَ يَوْمُ الْخُلُودِ - لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ )
'জান্নাতকে উপস্থিত করা হবে আল্লাহভীরুদের অদূরে। তোমাদের প্রত্যেক অনুরাগী ও স্মরণকারীকে এরই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। যে না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হতো। তোমরা এতে শান্তিতে প্রবেশ করো। এটাই অনন্তকাল বসবাসের জন্য প্রবেশ করার দিন। তারা তথায় যা চাইবে, তা-ই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।' [112]

জান্নাতিদের চারটি বৈশিষ্ট্য

ইবনুল কাইয়িম বলেন, আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা জান্নাতে মুত্তাকিদের জন্য মেহমানদারির কিঞ্চিৎ স্বরূপ উন্মোচন করেছেন, যারা নিম্নের চারটি গুণে গুণান্বিত。

• প্রথম বৈশিষ্ট্য
তাওবাকারী হওয়া; অর্থাৎ পাপ থেকে স্বীয় রবের আনুগত্যের দিকে খুবই দ্রুত প্রত্যাবর্তনকারী এবং মহান রবের ব্যাপারে উদাসীনতা ও অমনোযোগিতা ছেড়ে তার স্মরণে অগ্রগামী হওয়া。
- উবাইদ বিন উমাইর বলেন, ')أَوَّابِ( অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজের গুনাহসমূহের কথা স্মরণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।'
- মুজাহিদ বলেন, ')أَوَّابِ( হলো ওই ব্যক্তি, যখনই তার নিজের গুনাহর কথা স্মরণ হয়, তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে।'
- সাইদ ইবনুল মুসাইয়িব বলেন, '(أَوَّاب) ওই ব্যক্তিকে বলা হয়, যে গুনাহ করে আবার তাওবা করে; পুনরায় গুনাহ করলে আবার তাওবা করে।'

• দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য
সার্বিক আমানত সংরক্ষণের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া。
- ইবনে আব্বাস বলেন, 'অর্থাৎ আল্লাহ যা কিছু স্বীয় বান্দাকে আমানতস্বরূপ দিয়েছেন ও বান্দার ওপর অত্যাবশ্যক করেছেন, সেগুলো যথাযথভাবে আদায়ে যত্নবান হওয়া।'
- কাতাদা বলেন, 'আয়াতে حفیظ শব্দের মর্মার্থ হলো, রব কর্তৃক প্রদানকৃত আমানত ও নিয়ামতরাজির যথাযথ অধিকার সংরক্ষণে অত্যধিক যত্নশীল হওয়া।'

আত্মার শক্তিমত্তার দুটি দিক
১. পালন করার শক্তি, ২. বিরত থাকার শক্তি। সুতরাং أَوَّاب শব্দটির মর্ম হচ্ছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আনুগত্যের দিকে ধাবিত হয়ে কোনো কিছু পালন ও আদায় করার শক্তি সঞ্চয়কারী। পক্ষান্তরে حفیظ শব্দটি আত্মার শক্তির দ্বিতীয় দিক (বিরত থাকা) অর্থাৎ স্বীয় রবের অবাধ্যতা ও নিষেধাবলি থেকে বিরত থাকার মর্মে ব্যবহৃত হয়。
- মোদ্দা কথা حفیظ এর মর্ম হচ্ছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়াবলি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখে। আর أَوَّاب হচ্ছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর দিকে ধাবিত হয়。

• তৃতীয় বৈশিষ্ট্য
যে না দেখেও আল্লাহকে ভয় করে, এই ভয় মূলত (১.) আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর একত্ববাদ ও সর্বময় ক্ষমতা এবং তিনি কর্তৃক বান্দার সার্বিক অবস্থার ওপর পূর্ণরূপে অবগত হওয়া প্রভৃতি সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। (২.) তাঁর আসমানি কিতাবসমূহ, তাঁর সমস্ত রাসুল ও তাঁর আদেশ-নিষেধ প্রভৃতির স্বীকারকেও আওতাভুক্ত করে নেয়। (৩.) তাঁর প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি, শাস্তির ধমকি ও আখিরাতে তাঁর দিদার প্রভৃতি ইমানের আবশ্যকীয় বিষয়াবলিকে অকপটে স্বীকার করে নেওয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সুতরাং উক্ত সব বিষয়ের স্বীকারোক্তি ছাড়া অদৃশ্যে আল্লাহর ভয় কখনো বিশুদ্ধ হবে না。

• চতুর্থ বৈশিষ্ট্য
অনুগতো ও সমর্পিত অন্তরের অধিকারী হওয়া।
ইবনে আব্বাস বলেন, 'যে ব্যক্তি স্বীয় রবের অবাধ্যতা ও পাপাচার থেকে বিমুখ এবং আনুগত্যের ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগামী।'

সর্মপণ ও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনের বাস্তব স্বরূপ

আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর ভালোবাসায় দৃঢ়তা ও অবিচলতাই মূলত ইনাবত তথা সর্বস্ব তাঁকে সঁপে দেওয়ার বাস্তব স্বরূপ।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা উক্ত চার বৈশিষ্ট্যধারী সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের প্রতিদানের ব্যাপারে বলেন:

ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ ذَلِكَ يَوْمُ الْخُلُودِ - لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدُ
'তোমরা এতে শান্তিতে প্রবেশ করো। এটাই অনন্তকাল বসবাসের জন্য প্রবেশ করার দিন। তারা তথায় যা চাইবে, তা-ই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।' [113]

আল্লাহভীতির প্রকৃত স্বরূপ
শাইখ সাদি বলেন, 'আল্লাহকে ভয় করার মর্ম হচ্ছে, তাঁকে লোকচক্ষুর আড়ালে ভয় করা, আর সেটাই হলো প্রকৃত আল্লাহভীতি। পক্ষান্তরে যে ভয় লোকজনের সামনে, তাদের উপস্থিতিতে করা হয়, তা মূলত অধিকাংশই লোকদেখানো ও প্রসিদ্ধির রোগে আক্রান্ত। সুতরাং তা কোনোভাবেই প্রকৃত ভয়ের ইঙ্গিত বহন করে না। কেননা ফলদায়ক ভয় হচ্ছে, লোকচক্ষুর অন্তরালে যা হয়, তাদের অনুপস্থিতিতে তা পরিবর্তন হয় না; বরং সব সময় সমান থাকে。

• মূলত এসব নৈকট্যশীল পুণ্যবানের ব্যাপারে বলা হয়েছে :
}ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ{ অর্থাৎ তোমরা বালা-মুসিবত ও মন্দ থেকে মুক্ত হয়ে এতে প্রবেশ করো, সব ধরনের অপছন্দনীয় বিষয় থেকে নিরাপদ অবস্থায়। সুতরাং তাদের নিয়ামতের কোনো অন্ত নেই। আর সেখানে কোনো কষ্ট-ক্লেশ ও শত্রুতা থাকবে না।
} ذَلِكَ يَوْمُ الْخُلُودِ { অর্থাৎ সেটা এমন দিন, যার কোনো অস্ত ও মৃত্যু নেই। এবং সেখানে কোনো ধরনের স্বভাববিরোধী বিষয়েরও লেশমাত্র নেই।
{ لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا } .
অর্থাৎ তাদের জন্য সেখানে ওই সব নিয়ামত রয়েছে, যেগুলোর সাথে শুধু তাদের আকাঙ্ক্ষাটাই সম্পর্কযুক্ত হয়। অথবা তার অধিক নিয়ামত চোখের পলকের ব্যবধান হতে না হতেই অর্জিত হয়ে যায়।
}مَزِيدٌ{ অর্থাৎ যে প্রতিদানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাদের সাওয়াব বাড়িয়ে দেন, যা কখনো কোনো চোখ অবলোকন করেনি, কোনো কান শ্রবণ করেনি, এমনকি অন্তরেও এর ভাবনা কোনো দিন উদয় হয়নি। এবং আল্লাহর দিদার অন্য সকল নিয়ামতকে হার মানিয়ে দেবে।

জান্নাতের অধিবাসী কারা?
রাসুলুল্লাহ বলেন :

أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ؟ قَالُوا: بَلَى، قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُّ ضَعِيفٍ مُتَضَعَّفٍ، لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ، ثُمَّ قَالَ: أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ؟ قَالُوا : بَلَى، قَالَ: كُلُّ عُتُلٌ جَوَّاطٍ مُسْتَكْبِرٍ
“আমি কি তোমাদের জান্নাতের অধিবাসীদের ব্যাপারে সংবাদ দেবো না?” সাহাবায়ে কিরাম বললেন, "হ্যাঁ, অবশ্যই।” তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “জান্নাতের অধিবাসী হচ্ছে, দুর্বল ও অসহায় লোক, যারা কোনো কিছুর ব্যাপারে শপথ করলে, আল্লাহ তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করেন। আর আমি কি তোমাদের জাহান্নামের অধিবাসীদের ব্যাপারে সংবাদ দেবো না?” সাহাবায়ে কিরাম বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই।” তখন তিনি বললেন, “তারা হচ্ছে, রূঢ় স্বভাব, অধিক মোটা ও অহংকারী স্বভাবের যারা।” [114]

• নববি বলেন:
مُتَضَعَّفٍ শব্দটি জের ও জবর উভয়ভাবে পড়া যায়, যদিও জবরের বর্ণনাটি অধিক প্রসিদ্ধ।
আইনের (ع) ওপর জবর সহকারে পড়লে এ শব্দের মর্ম দাঁড়ায়, মানুষ যাকে দুর্বল ও তুচ্ছজ্ঞান করে এবং তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়।
আইনের (ع) ওপর জের সহকারে পড়লে তার মর্ম হবে, যিনি বিনয় ও নম্রতার মূর্তপ্রতীক, নিজেকে লুকানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায়।

কাজি ইয়াজ বলেন, 'এখানে দুর্বলতা দ্বারা অন্তরের বিগলন ও নম্র হওয়া, সর্বোপরি ইমানের দাবির সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ মিটিয়ে দেওয়া প্রভৃতি মর্ম নেওয়াও কোনো কোনো সময় বাঞ্ছনীয়।
বি. দ্র. এই হাদিস থেকে মূলত উদ্দেশ্য হচ্ছে, অধিকাংশ জান্নাতবাসী উক্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত এবং অধিকাংশ জাহান্নামি দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে বোঝায়। মানুষকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলির ভিত্তিতে উভয় শ্রেণিতে সীমাবদ্ধ করা কোনোভাবে উদ্দেশ্য নয়।

• রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী : )لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ {

এর মর্ম হচ্ছে, যদি এমন ব্যক্তি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আশাবাদী হয়ে দৃঢ়চিত্তে কোনো বিষয়ের ওপর শপথ করে, আল্লাহ তাআলা তার শপথের লাজ রক্ষা করেন এবং ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়ন করেন। অথবা এ হাদিসের মর্ম হবে, সে দুআ করামাত্র আল্লাহ তা কবুল করেন। যাকে مستجاب الدعوات (মুসতাজাবুদ দাওয়াত) বলা হয়। কিন্তু প্রথম মর্মটি প্রসিদ্ধ।
• জাহান্নামিদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী : }كُلُّ عُتُلَّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ{ এর ব্যাখ্যা : عُتُلُّ এর অর্থ হলো, ঝগড়াটে ও রূঢ় স্বভাবের লোক। جَوَّاظٍ এর অর্থ, যে অধিক থেকে অধিকতর সঞ্চয়কারী, অথচ কৃপণ অথবা এমন ব্যক্তি, যে বিশাল দেহের অধিকারী হওয়ার কারণে চাল-চলনে অহংকারী ও আমিত্বভাব দেখায়। مُسْتَكْبِرٍ এর অর্থ বড়াইকারী, অর্থাৎ যে হককে প্রত্যাখ্যান করে এবং মানুষকে অবজ্ঞা করে।

দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে জান্নাতবাসীদের দুটি (জাগতিক) বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। ১. চিন্তা বা পেরেশানি ২. ভয় বা শঙ্কা।

প্রথম বৈশিষ্ট্য: চিন্তা বা পেরেশানি। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَلُؤْلُؤًا وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرُ - وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورُ )
“তারা প্রবেশ করবে বসবাসের জান্নাতে। তথায় তারা স্বর্ণনির্মিত, মোতিখচিত কঙ্কণ দ্বারা অলংকৃত হবে। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের। আর তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের চিন্তা-পেরেশানি দূর করেছেন। নিশ্চয় আমাদের পালনকর্তা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী। [115]

আয়াতের মর্ম হচ্ছে, তারা কৃতজ্ঞতাসূচক পবিত্র বাক্য আবৃত্তি করতে করতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা বলবে: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورُ

• ইমাম শাওকানি (الحزن) শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন: ১. পাপাচারের দুশ্চিন্তা এবং আনুগত্য বর্জনের আশঙ্কা প্রভৃতি।

২. الحزن। এমন অবস্থাকে বলা হয়, যা কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতার ব্যাপারে পৃথিবীতে তাদের পেরেশান করে তোলে।

৩. অথবা এর মর্ম হলো, আল্লাহ তাআলা জান্নাতিদের ইহকালীন ও পরকালীন সব ধরনের চিন্তা-পেরেশানি থেকে মুক্ত করেন। কেননা, পৃথিবীতে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের যতই উচ্চমার্গে অবস্থান করুক না কেন, কেউ কিন্তু হঠাৎ বিপদাপদ ও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার পেরেশানি থেকে মুক্ত নয়।

৪. অথবা এর মর্ম হলো, আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে ভয় ও পরিণামের ব্যাপারে শঙ্কিত থাকবে এবং তাদের আমলগুলো কবুল হওয়া না হওয়া নিয়ে সর্বদা অন্তরের দোদুল্যতা ও অস্থিরতায় ভুগতে থাকবে।

৫. অথবা এর মর্ম হলো, তারা মন্দ ও অশুভ পরিণতির ব্যাপারে শঙ্কিত ও ভয়ে তটস্থ থাকবে। এভাবে জান্নাতে প্রবেশের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা দুশ্চিন্তা ও শঙ্কামুক্ত হবে না।

৬. অথবা এর আরেক মর্ম হলো, নিয়ামতরাজি থেকে বঞ্চিত হওয়া। অন্তরের পরিবর্তন ও পরিণতির ব্যাপারে দুশ্চিন্তা ইত্যাদি。

• সুতরাং অন্তরচক্ষু দিয়ে একটু লক্ষ করুন যে, জান্নাতি সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা দুনিয়াবি বড় বড় পদ, সার্টিফিকেট, চাওয়া-পাওয়া, জায়গা-জমি, টাকা-পয়সা প্রভৃতির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে কোনো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হন না। বরং তারা তাদের পরকালীন জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন। যেমন, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের পরিণাম ও অবস্থান নিশ্চিতভাবে না জানার দরুন সর্বদা শঙ্কা ও ভীতি তাদের আচ্ছন্ন করে রাখে।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: ভয় বা শঙ্কা।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: ۞ وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤُ مَّكْنُونُ - وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ - قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ - فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ - إِنَّا كُنَّا مِن قَبْلُ نَدْعُوهُ ۚ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ
'সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে। তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তারা বলবে, আমরা ইতিপূর্বে নিজেদের বাসগৃহে ভীত-কম্পিত ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আগুনের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন। আমরা পূর্বেও আল্লাহকে ডাকতাম। তিনি সৌজন্যশীল, পরম দয়ালু।' [116]

• ইবনে কাসির { إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ } এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ আমরা ইহজগতে পরিবারে অবস্থানরত অবস্থায় আমাদের স্বীয় রবের ভয়ে মুহ্যমান ও তাঁর কঠোর শাস্তির শঙ্কায় সদা কম্পমান থাকতাম।{ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ }অর্থাৎ অতঃপর আল্লাহ আমাদের ওপর দয়া করে পীড়াদায়ক শাস্তি থেকে আমাদের মুক্তি। দিলেন। এবং ভয়ংকর বিষয়াবলি থেকে আমাদের সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত করলেন। }إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلُ نَدْعُوهُ{ অর্থাৎ ইতিপূর্বেও আমরা বিগলিত কণ্ঠে প্রার্থনা করতাম। আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা কবুল করে প্রার্থনাকৃত সেই মহানিয়ামতে আমাদের ভূষিত করলেন। }إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ{ কেননা, তিনিই তো অসীম দয়ালু。

• ইবরাহিম আত-তাইমি বলেন, 'চিন্তামুক্ত ব্যক্তির অবশ্যই এ ব্যাপারে সর্বদা আশঙ্কা ও ভয় করা উচিত যে, সে জান্নাতের অধিবাসী হচ্ছে কি না? কেননা, জান্নাতি ব্যক্তি তো সেদিন বলবে, “সব প্রশংসা ওই সত্তার, যিনি আমাদের থেকে দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন।” আর ভয়হীন ব্যক্তির এ ব্যাপারে আশঙ্কা করা উচিত যে, সে জান্নাতিদের দলভুক্ত হচ্ছে কি না?” কেননা, জান্নাতিরা সেদিন বলবে, "আমরা পরিবারে অবস্থানরত অবস্থায় তাঁর ভয়ে সদা কম্পমান থাকতাম।""

টিকাঃ
১১২. সুরা কাফ: ৩১-৩৫
১১৩. সুরা কাফ: ৩৪-৩৫
১১৪. সহিহু মুসলিম: ২৮৫৩
১১৫. সুরা ফাতির: ৩৩-৩৪
১১৬. সুরা আত-তুর: ২৫-২৮

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নি থেকে মুক্তির উপায়

📄 জাহান্নামের জ্বলন্ত অগ্নি থেকে মুক্তির উপায়


• কি আশ্চর্য! মানুষ বিপদাপদ ও রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় শীতের আগমনের পূর্বেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সামান্য প্রয়োজনও বোধ করে না। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿ فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ ﴾

'তবে সে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফিরদের জন্য।'

• আর তাদের অবস্থা দেখে আরও আশ্চর্যান্বিত হই, যারা তুচ্ছ মশা-মাছির কষ্ট থেকে রেহাই পেতে কত উপায়ই না অবলম্বন করে! অথচ জলন্ত অঙ্গার থেকে নিজেকে বাঁচাতে তেমন কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করে না!

• আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নিজেদের আত্মা, পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ﴾

'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তা-ই করে।

জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে, স্বীয় রবের আদেশ বাস্তবায়ন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর ক্রোধ ও শান্তি অনিবার্যকারী অবাধ্যতা থেকে খাঁটি মনে তাওবা করা।

- আর নিজ সন্তানসন্ততি ও পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর উপায় হচ্ছে, তাদেরকে প্রয়োজনীয় দ্বীনি শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়া, সাথে সাথে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালনে তাদের বাধ্য করা। আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত করার কারণ হলো, নিজ বান্দাদের শিথিলতা প্রদর্শন থেকে সাবধান করা। তাই আল্লাহ তাআলা বলেন:

عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ ﴾

‘যাতে নিয়োজিত আছে কঠোরস্বভাব, পাষাণ হৃদয় ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তা-ই করে।’

অর্থাৎ জাহান্নামের দায়িত্বে আল্লাহ তাদের নিয়োজিত করেছেন। তারা মূলত ১৯ জন। যারা কঠোর হৃদয়, রুঢ় স্বভাব ও প্রচণ্ড শক্তি-ক্ষমতার অধিকারী এবং তাদের রবের আদর্শ বাস্তবায়নে সর্বদা বদ্ধপরিকর।

- দুর্বল চিত্তের অধিকারী ক্ষীণকায় এই মানুষের আরও আশ্চর্যজনক দিক হলো, তারা ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর নিরাপত্তাকে চিরস্থায়ী আখিরাতের নিরাপত্তা ও শান্তির ওপর প্রাধান্য দেয়। পক্ষান্তরে মহান রবের দয়া ও করুণার অন্যতম দিক হলো, তিনি আমাদের এমন কতেক সৎকর্মের সন্ধান দিয়েছেন, যা আমরা একনিষ্ঠতার সাথে পালন করলে, তিনি জাহান্নামের আগুনকে আমাদের ওপর হারাম করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ:

সকাল-সন্ধার আজকার
- আনাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ أَوْ يُمْسِي: اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ أَعْتَقَ اللَّهُ رُبُعَهُ مِنَ النَّارِ، فَمَنْ قَالَهَا مَرَّتَيْنِ أَعْتَقَ اللَّهُ نِصْفَهُ، وَمَنْ قَالَهَا ثَلَاثًا أَعْتَقَ اللَّهُ ثَلَاثَةَ أَرْبَاعِهِ، فَإِنْ قَالَهَا أَرْبَعًا أَعْتَقَهُ اللَّهُ مِنَ النَّارِ

'যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ এই দুআটি একবার করে পাঠ করবে, আল্লাহ তার এক- চতুর্থাংশ শরীর জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন; আর যে দুবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার অর্ধেক শরীর জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন; আর যে তিনবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার তিন-চতুর্থাংশ শরীর জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন; আর যে ব্যক্তি চারবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার পুরো শরীর জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।'

- জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় যত নগণ্যই হোক না কেন, (যেমন : এক টুকরো খেজুর কিংবা একটিমাত্র উত্তম বাক্য উচ্চারণ ইত্যাদি) তা আমাদের সকলেরই অবলম্বন করা উচিত।

- আদি বিন হাতিম থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ، فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ 'তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো, এক টুকরো খেজুর দিয়ে হলেও। আর যদি তা না পাও, তবে উত্তম বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে। '

- ইমাম নববি বলেন, 'এই হাদিসে সদাকা করার ওপর লোকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে, সাথে সাথে এর স্বল্পতার দরুন সদাকা করা থেকে বিরত না থাকতেও উপদেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা, স্বল্প সদাকাও কখনো কখনো জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির উপায় হয়ে দাঁড়ায়। এই হাদিসে আরও বলা হয়েছে, একটি উত্তম বাক্য উচ্চারণও পরকালে মুক্তির উপায় হতে পারে, যে উত্তম বাক্যগুলো দ্বারা মানুষের হৃদয় সন্তুষ্ট ও প্রশান্ত হয়।

অপর মুসলিম ভাইয়ের সম্মান বাঁচানো

আবু দারদা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :

مَنْ رَدَّ عَنْ عِرْضِ أَخِيْهِ رَدَّ اللهُ عَنْ وَجْهِهِ النَّارَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

'যে ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের মান-সম্মানের ওপর আঘাত প্রতিরোধ করে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে তার মুখমণ্ডল থেকে জাহান্নামের আগুনকে হটিয়ে দেবেন।

অর্থাৎ যে ব্যক্তি অপর মুমিন ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি গোপন করে, জাহান্নামের আগুনকে তার ওপর হারাম করে দেওয়া হয়।

বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাস

উবাদা বিন সামিত থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:

مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَنَّ عِيْسَى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحُ مِنْهُ، وَالجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ الجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنَ العَمَلِ

'যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল-আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল আর ঈসা তাঁর বান্দা ও রাসুল এবং তাঁর সেই কালিমা, যা তিনি মারইয়াম -কে পৌঁছিয়েছেন এবং তাঁর নিকট হতে একটি রুহ মাত্র আর জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য— আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; তার আমল যাই হোক না কেন। '

অনুপম চরিত্র
ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:

أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَنْ يَحْرُمُ عَلَى النَّارِ أَوْ بِمَنْ تَحْرُمُ عَلَيْهِ النَّارُ، عَلَى كُلِّ قَرِيبٍ هَيِّنٍ سَهْلٍ

'আমি কি তোমাদের এমন ব্যক্তির ব্যাপারে অবহিত করব না, যে ব্যক্তি জাহান্নামের জন্য হারাম অথবা বলেছেন, যার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম? জাহান্নামের আগুন প্রত্যেক সহজ সরল নম্র ও বিনয়ী ব্যক্তির ওপর হারাম।'
আল্লাহ ও পরকালের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন
রাসুলুল্লাহ বলেন:

فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ، وَيُدْخَلَ الْجَنَّةَ، فَلْتَأْتِهِ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ

'যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে চায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়, তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে, সে আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং সে যেন মানুষের সাথে এমনই আচরণ করে, যেমন সে নিজের জন্য পছন্দ করে।'

সন্তানসন্ততি হারানোর মুহূর্তে ধৈর্যধারণ

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: لَا يَمُوتُ لِأَحَدٍ مِنَ المُسْلِمِينَ ثَلَاثَةٌ مِنَ الوَلَدِ تَمَسُّهُ النَّارُ، إِلَّا تَحِلَّةَ القَسَمِ

'যে মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা গেছে, (সে যদি ধৈর্য ধরে) তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। তবে কসম পূর্ণ করার জন্য (তাকে পুলসিরাতের ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে)।'

সময়মতো নামাজ আদায়ে যত্নবান হওয়া

উমারা বিন রুআইবা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَقَبْلَ غُرُوبِهَا

'যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামাজ আদায় করে, সে কখনো জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে না।'

আল্লাহর রাস্থায় লড়াই করা

আব্দুর রহমান বিন জাবর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: مَا اغْبَرَتْ قَدَمَا عَبْدٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَتَمَسَّهُ النَّارُ

'যে বান্দার পদদ্বয় আল্লাহর রাস্তায় ধুলোমলিন হবে, তাকে জাহান্নামের আগুন কখনো স্পর্শ করবে না।'

রবের ভয়ে ক্রন্দন ও তাঁর রাস্তায় প্রহরা দেওয়া
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:

عَيْنَانِ لَا تَمَسُّهُمَا النَّارُ: عَيْنُ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ، وَعَيْنُ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِي سَبِيلِ اللهِ
'দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন কখনো স্পর্শ করবে না। ১. যে চোখ আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, ২. যে চোখ রাত জেগে আল্লাহর রাস্তায় প্রহরা দেয়। '

চার রাকআত নামাজের ওপর যত্নবান হওয়া
উম্মে হাবিবা বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেন:

مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ، وَأَرْبَعِ بَعْدَهَا، حَرُمَ عَلَى النَّارِ
'যে ব্যক্তি জোহরের পূর্বে ও পরে চার রাকআত নামাজে যত্নশীল হবে, তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। '

আল্লাহর রাস্তায় রোজা পালন
আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:

مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللهِ ، بَعَدَ اللهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا
'যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছর পরিমাণ দূরে রাখেন। '

আল্লাহর ওপর কোনো অধিকার না খাটানো

ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'পূর্ণ বিনয় হলো, বান্দা নিজের জন্য আমলের বিনিময়ে আল্লাহর ওপর কোনো অধিকার আছে বলে মনে না করা। কেননা, সে তো দাসত্ব, লাঞ্ছনা-বঞ্চনাতেই অবস্থান করছে। তাই যে আল্লাহর ওপর স্বীয় অধিকার আছে বলে মনে করবে, তাহলে বুঝতে হবে, তার উপাসনা ও দাসত্বে অবশ্যই ঘুণ ধরেছে।'

টিকাঃ
২৭৫. সুরা আল-বাকারা: ২৪
২৭৬. সুরা আত-তাহরিম: ৬
২৭৭. সুরা আত-তাহরিম: ৬
২৭৮. সুনানু আবি দাউদ: ৫০৬৯
২৭৯. সহিহুল বুখারি: ৬০২৩
২৮০. সুনানুত তিরমিজি: ১৯৩১
২৮১. সহিহুল বুখারি: ৩৪৩৫
২৮২. সুনানুত তিরমিজি: ২৪২৮
২৮৩. সহিহু মুসলিম: ১৮৪৪
২৮৪. সহিহুল বুখারি: ৬৬৫৬
২৮৫. সহিহু মুসলিম: ৬৩৪
২৮৬. সহিহুল বুখারি: ২৮১১
২৮৭. সুনানুত তিরমিজি: ১৬৩৯
২৮৮. সুনানু আবি দাউদ: ১২৬৯
২৮৯. সহিহুল বুখারি: ২৮৪০

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 আখিরাতের ফসল ফলানোর সুবর্ণ সুযোগ

📄 আখিরাতের ফসল ফলানোর সুবর্ণ সুযোগ


• প্রকৃত উপকারী ফসল আখিরাতে একমাত্র আল্লাহর নিকটেই রয়েছে, যা অনন্তকালীন জীবনের স্থায়ী সফলতার অন্যতম নিয়ামক, যেখানে কোনো ধরনের কৃত্রিমতা ও কলুষতার লেশমাত্র নেই, আর না তথায় মৃত্যু কিংবা কোনো রোগব্যাধির আশঙ্কা রয়েছে; যা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

مَنْ كَانَ يُرِيدُ ثَوَابَ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللَّهِ ثَوَابُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَكَانَ اللهُ سَمِيعًا بَصِيرًا

‘যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ আল্লাহরই নিকট রয়েছে। আর আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও দেখেন’।

• ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘অর্থাৎ হে দুনিয়ালোভী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি, খুব ভালোভাবে স্মরণ রেখো, তোমার রবের নিকট মূলত উভয় জাহানের প্রতিদান রয়েছে, তাই তুমি যা-ই প্রার্থনা করো, মহান রব তা-ই দান করবেন। সুতরাং তুমি ক্ষণস্থায়ী জীবনের ক্ষীণ সংকল্প ও লালসার মাধ্যমে নিজ পরকালকে ধ্বংস করো না, বরং তুমি দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে উভয় জাহানের সফলতা অর্জন করো, কেননা লাভ- লোকসান সবকিছুর নিয়ন্তা তো কেবল আল্লাহ তাআলাই, যিনি দুনিয়া- আখিরাতে মানুষের মাঝে দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্যকে বণ্টন করেছেন, সাথে সাথে পূর্ণ ন্যায়ের সহিত তাদের মাঝে নিজ ফয়সালা কার্যকর করেছেন, কেননা তিনিই অধিক শ্রবণকারী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সত্তা।

- নিম্নে আখিরাতের পাথেয় অর্জনের জন্য সুবর্ণ সুযোগের ব্যাপারে আলোকপাত করা হলো, যার সদ্ব্যবহার করা প্রত্যেক মুমিনের ওপর আবশ্যক। কেননা, তাতে রয়েছে বড় বড় প্রতিদানের অভূতপূর্ব সমাহার, সাথে অল্প আমলেই অধিক প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি।’

১. কল্যাণের চাবিসমূহ
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرٍ فَاعِلِهِ

‘যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথ দেখায়, সে উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর মতো প্রতিদান পায়’।

• যেমন আপনার কোনো সন্তান বা বন্ধুকে মাসনুন কোনো দুআ শিক্ষা দিলেন, তখন সে যতবার উক্ত দুআটি পাঠ করবে, ততবার আপনার জন্য প্রতিদান লিপিবদ্ধ করা হবে। এবার যদি আপনি দুআজাতীয় একটি বই হাদিয়া দেন, তখন কিন্তু আপনার জন্য এই বইয়ে বর্ণিত প্রত্যেকটি দুআর বিনিময়েই উল্লেখযোগ্য প্রতিদান লিপিবদ্ধ হবে, তা বলাই বাহুল্য।

২. একসাথে চারটি ফসল লাভের সুবর্ণ সুযোগ
সালাম, মুসাফাহা (সাক্ষাতে পরস্পর হাত মিলানো), সাথে মুচকি হাসি ও পবিত্র বাক্য উচ্চারণ।

হে প্রিয় ভাই, কখনো ভেবেছেন কি? আপনি একসাথেই চারটি ইবাদত সম্পাদনে চারটি ফসল লাভে ধন্য হচ্ছেন?

ক. সালাম : রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জনৈক সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন: أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ؟ قَالَ: تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ

“ইসলামের কোন আমলটি উত্তম?” তিনি উত্তরে বললেন, “লোকদের খাবার খাওয়ানো ও পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।”

- অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ বলে সালাম দেয়, তার জন্য ত্রিশটি সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়।

আর প্রত্যেক সৎকর্মের প্রতিদান মহান রব দশ গুণ করে যে বৃদ্ধি করেন, তা তো রিজার্ভ আছেই!

আর এই পরিমাণ তো নিতান্তই অল্প। কেননা, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তার প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। তাই সালামকে পূর্ণরূপে করতে নিজেকে অভ্যস্ত করে তুলি, যেন প্রতিদানও পূর্ণরূপে পাওয়া যায়।

খ. মুসাফাহা (সাক্ষাতে পরস্পর হাত মিলানো): রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:

مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ، فَيَتَصَافَحَانِ إِلَّا غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَفْتَرِقَا

'দুজন মুসলিম পরস্পর সাক্ষাৎ লাভে মুসাফাহা করলে আল্লাহ তাআলা উভয়কে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই ক্ষমা করে দেন।'
- হাসান বসরি বলেন, 'মুসাফাহা পরস্পর ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।'
- ইমাম নববি বলেন, 'মুসাফাহা সাক্ষাতের এমন এক সুন্নাত, যাতে কারও কোনো দ্বিমত নেই।'

গ. মুচকি হাসি : রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:

لَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا، وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ

'কোনো ভালো কাজকে তোমরা তুচ্ছ মনে করো না, যদিও তা হোক তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা।'

ঘ. কোনো দ্বীনি ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতে পবিত্র বাক্য উচ্চারণ। যেমন جَزَاكَ اللَّهُ، بَارَكَ اللَّهُ، حَفِظَكَ اللَّهُ ইত্যাদি বাক্যগুলো মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা। সুতরাং আপনি কোনো ভাইকে সালাম দিলে উক্ত চার সুন্নাতের ওপর অভ্যস্ত হয়ে উঠুন, সাথে মহান প্রতিপালকের মহাপ্রতিদানে ভূষিত হোন।
পারলৌকিক ফসল ফলানোর নানা সুবর্ণ সুযোগ

১. রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:

يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلَامَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ، فَكُلُّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ، وَأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ، وَنَهْيٌ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَانِ يَرْكَعُهُمَا مِنَ الضُّحَى

'তোমাদের প্রত্যেকে এমন অবস্থায় সকালে উপনীত হয়, যখন তার শরীরের প্রত্যেকটি জোড়ার ওপর সদাকা ওয়াজিব হয়। আর প্রত্যেক তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ বলা) সদাকা, তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) সদাকা, তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) সদাকা, তাকবির (আল্লাহু আকবার বলা) সদাকা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া সদাকা, মন্দকাজ থেকে নিষেধ করা সদাকা। চাশতের সময় দুই রাকআত নামাজ পড়া এগুলোর সমপর্যায়ের। '

২. উম্মুল মুমিনিন জুয়াইরিয়া থেকে বর্ণিত: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةٌ حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ، وَهِيَ فِي مَسْجِدِهَا، ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ أَنْ أَضْحَى، وَهِيَ جَالِسَةٌ، فَقَالَ: مَا زِلْتِ عَلَى الْحَالِ الَّتِي فَارَقْتُكِ عَلَيْهَا؟ قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

'নবিজি ﷺ একদা সাজ-সকালে তার কাছ থেকে বের হলেন, যখন তিনি নামাজরত ছিলেন, অতঃপর নবিজি ﷺ নামাজ শেষ করে ফিরে এসেও তাকে নামাজের স্থানে পূর্বের ন্যায় বসা দেখে বললেন, "তুমি কি পূর্বের অবস্থায় এখনো দিব্যি বসে রয়েছ?" তিনি বললেন, “হ্যাঁ।" তখন নবিজি ﷺ বললেন, "আমি ফজরের নামাজ আদায়ের পর এমন চারটি বাক্য তিনবার পাঠ করেছি, ওইগুলো যদি এখন পর্যন্ত তোমার কৃত আমলের বিপরীতে পাল্লায় তুলে মাপা হয়, তাহলে উক্ত চারটি বাক্যের পাল্লাই ভারী হবে। তা হলো: سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ، عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ

• আল্লাহর মাখলুখের সংখ্যা কেউ গণনা করে শেষ করতে পারবে না, যা ফেরেশতাকুল, মানব-দানব, পাহাড়-পর্বত, জীবজন্তু, পশু-পাখি ও গাছপালা ইত্যাদি সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাঁর অশেষ করুণা ও দয়ায় আপনাকে সৃষ্টিকুলের সমপরিমাণ প্রতিদান দানে ধন্য করছেন, তেমনই তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ নেকি দানে ভূষিত করছেন।

৩. আবু হুরাইরা বলেন: أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَلَاثٍ: صِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيِ الضُّحَى، وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَنَامَ 'আমাকে আমার প্রিয় বন্ধু রাসুলুল্লাহ প্রতি মাসে তিনটি রোজা, চাশতের দুই রাকআত নামাজ এবং ঘুমের পূর্বে মাসনুন দুআ পড়ে নিতে উপদেশ দিয়েছেন। '

৪. আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ، حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ 'দুটি বাক্য আছে, যা উচ্চারণে সহজ আমলনামায় অনেক ভারী এবং আল্লাহর নিকট খুবই প্রিয়, তা হলো: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ

৫. রাসুলুল্লাহ বলেন: أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا، وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ، فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ

"আমি কি তোমাদের এমন আমলের সন্ধান দেবো না, যা করলে আল্লাহ পাপরাশি মোচন করে দেন এবং উহার বিনিময়ে মর্যাদা বৃদ্ধি করেন?” সাহাবিগণ জবাব দিলেন, “হ্যাঁ।” তখন তিনি বললেন, "কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণরূপে অজু করা, মসজিদে আসার জন্য বেশি পদচারণা করা এবং এক নামাজের পর আরেক নামাজের অপেক্ষায় থাকা। আর এ কাজগুলোই হলো সীমান্ত প্রহরা (অর্থাৎ সাওয়াবের ক্ষেত্রে এর সদৃশ)।”

এখানে পূর্ণরূপে অজু বলতে অজুর অঙ্গগুলোকে সুন্নাত মোতাবেক যথাযথ ধৌত করা আর কষ্টকর অবস্থা বলতে গা কাঁপানো ঠান্ডা অথবা শারীরিক অসুস্থতা প্রভৃতি।

৬. উম্মে হাবিবা বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি : مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا، غَيْرَ فَرِيضَةٍ، إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ، أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتُ فِي الْجَنَّةِ ‘যে মুমিন বান্দা ফরজ ছাড়াও বারো রাকআত নফল তথা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আদায়ে সচেষ্ট হবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’

সুনানে তিরমিজির অন্য বর্ণনায় এসেছে: مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بُنِيَ لَهُ بَيْتُ فِي الْجَنَّةِ: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الْفَجْرِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ ‘যে ব্যক্তি সারা দিনে বারো রাকআত নামাজ পড়বে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। উক্ত বারো রাকআত হচ্ছে, জোহরের পূর্বে চার ও পরে দুই রাকআত,

মাগরিব ও ইশার পরপর দুই রাকআত এবং ফজরের নামাজের পূর্বে দুই রাকআত। '

• একটু চিন্তা করুন, শুধু বারো রাকআত নামাজ আদায় করলেই আপনার জন্য একটি ঘর নির্মিত হচ্ছে! সুতরাং এখন পুরো বছরে হিসাব করুন আপনার জন্য জান্নাতে কতটি ঘর নির্মাণ হতে পারে?
৭. আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছেন: مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا 'যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। '

আল্লাহ তাআলা বলেন: إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلَّمُوا تَسْلِيمًا ) 'নিশ্চয় আল্লাহ নবির প্রশংসা করেন এবং ফেরেশতাগণ নবির জন্য দুআ ও ইসতিগফার করেন। হে মুমিনগণ, তোমরা নবির জন্য রহমতের দুআ করো এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ করো। '

• শাইখ সাদি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, 'এই আয়াতে রাসুল-এর শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর সুমহান মর্যাদা এবং স্বীয় রবের নিকট ও সৃষ্টিকুলের কাছে সুউচ্চ সম্মানের ইঙ্গিত রয়েছে। যেমন আল্লাহর বাণী: )إِنَّ الله (وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ তাঁর গুণকীর্তন করেন, যা তাঁর প্রতি আল্লাহর অশেষ ভালোবাসার প্রমাণ বহন করে, তেমনিভাবে ফেরেশতাগণও তাঁর জন্য কায়মনোবাক্যে বিগলিতভাবে প্রার্থনা করেন।

)يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا{ অর্থাৎ (হে মুমিনগণ) সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাদের অনুকরণে এবং তোমাদের ওপর রাসুল -এর অধিকার, সম্মান, ভালোবাসা ও মর্যাদা অনুযায়ী তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো, যা তোমাদের নেকি বৃদ্ধি ও পাপরাশি মোচন করবে।'

- দরুদের সর্বোত্তম পদ্ধতি, যা সাহাবিগণ অনুসরণ করতেন : নামাজে পঠিত দরুদে ইবরাহিম: (যেমন সহিহ বুখারিতে এসেছে) : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

- দরুদ ও সালামের এই হুকুমটি সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আবার কতিপয় আলিম নামাজে দরুদ পাঠকে ওয়াজিব পর্যন্ত সাব্যস্ত করেছেন।
- একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যখনই আপনি রাসুল -এর ওপর দরুদ পাঠ করবেন, তখন দরুদ ও সালাম উভয়টিকেই একসাথে পাঠ করুন। কখনো একটির ওপর ক্ষান্ত হবেন না, তাই শুধু ﷺ عَلَيْهِ اللَّهِ صَلَّى বলবেন না। কেননা, আল্লাহ তাআলা দুটিকেই একসাথে করার নির্দেশ দিয়েছেন।

৮. রাসুলুল্লাহ বলেন: مَنِ اسْتَغْفَرَ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ حَسَنَةً

'যে ব্যক্তি সমস্ত মুমিন-মুমিনার জন্য মাগফিরাত কামনা করে, আল্লাহ তাকে প্রত্যেক মুমিন-মুমিনার সংখ্যা অনুপাতে একটি করে নেকি দান করেন।'

• প্রত্যেক ভালো কাজই সদাকা - রাসুলুল্লাহ বলেন: كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ 'প্রত্যেক ভালো কাজই সদাকা।'

ইমাম নববি বলেন, 'প্রতিদানের ক্ষেত্রে সব কল্যাণই সদাকার অনুরূপ প্রতিদান বয়ে আনে।'

• কল্যাণের দ্বার রুদ্ধ হওয়ার পূর্বেই তা অর্জনে সচেষ্ট হই

- খালিদ বিন মা'দান বলেন, 'যখন তোমাদের কারও জন্য কল্যাণের কোনো দ্বার উন্মুক্ত হয়, তখন তার দিকে দ্রুত বেগে আগুয়ান হও। কেননা, ওই উন্মুক্ত দ্বারটি কখন যে রুদ্ধ হয়ে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।'

- সুতরাং হে প্রিয় দ্বীনি ভাই, মৃত্যু কিংবা রোগব্যাধি, দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও বার্ধক্যের দরুন কল্যাণের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায়, তাই সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই উন্মুক্ত কোনো কল্যাণের দ্বারের দিকে এগিয়ে যান। কেননা, সময় ফুরিয়ে গেলে কিন্তু শত আফসোস করেও কোনো লাভ হবে না।

- আহ! কত মৃত ব্যক্তি একটি মাত্র তাসবিহ আদায় কিংবা এক পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত বা শুধু এক রাকআত নামাজ আদায় বা খেজুরের দানা পরিমাণ হলেও সদাকা করার জন্য কত বুকভরা আশা নিয়ে চেয়ে আছে! অথচ তাদের পক্ষে এখন আর কোনো কিছুই সম্ভব হচ্ছে না। কেননা, তাদের সেই সুবর্ণ সুযোগ তো ফুরিয়ে গেছে, এখন হাজার বছর ক্রন্দন করেও কোনো লাভ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ - لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ ﴾

'যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, “হে আমার পালনকর্তা, আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) প্রেরণ করুন। যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি।” কখনোই নয়; এটা একটা কথার কথা, যা সে মুখে বলছে মাত্র। তাদের সামনে পর্দা আছে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।

– কাতাদা বলেন, 'উক্ত ব্যক্তি কিন্তু তার পরিবার ও জাতির কাছে ফিরে আসতে আশা করবে না, বরং সে শুধু আল্লাহর আনুগত্য করার জন্যই ফিরে আসতে চাইবে। 'সুতরাং অবাধ্য কাফিরের পরকালীন আকাঙ্ক্ষা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।

- ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'আপনি নিজ পার্থিব জীবনে আল্লাহকে নিয়েই ব্যস্ত থাকুন, তাহলে মৃত্যু পরবর্তীকালে তিনিই আপনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন এবং নিশ্চিত আপনার কাজে আসবেন।'

সুতরাং হে প্রিয় ভাই, আপনার সম্পূর্ণ ব্যস্ততা এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে একমাত্র স্বীয় রবের আনুগত্যের গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখুন, সাথে সাধ্যমতো তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। আপনি যদি তা করতে সক্ষম হন, তাহলে নিশ্চিতভাবে মৃত্যুপরবর্তী কবরের সংকটময় ও বিচার দিবসের ভয়ংকর মুহূর্তে তিনিই আপনার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন এবং আপনার উপকারে আসবেন।

টিকাঃ
২২২. সুরা আন-নিসা : ১৩৪
২২৩. সহিহ মুসলিম : ১৮৯৩
২২৪. সহিহুল বুখারি: ১২
২২৫. সুনানুত তিরমিজি: ২৬৮৯
২২৬. সুনানু আবি দাউদ : ৫২১২
২২৭. সহিহু মুসলিম : ২৬২৬
২২৮. সহিহ মুসলিম: ৭২০
২২৯. সহিহ মুসলিম: ২৭২৬
২৩০. সহিহুল বুখারি: ১৯৮১
২৩১. সহিহুল বুখারি: ৬৪০৬, সহিহু মুসলিম: ২৬৯৪
২৩২. সহিহু মুসলিম: ২৫১
২৩৩. সহিহু মুসলিম: ৭২৮
২৩৪. সুনানুত তিরমিজি: ৪১৫
২৩৫. সহিহু মুসলিম: ৪০৮
২৩৬. সুরা আল-আহজাব: ৫৬
২৩৭. সহিহুল বুখারি: ৩৩৭০
২৩৮. মুসনাদুশ শামিয়্যিন, তাবারানি: ২১৫৫
২৩৯. সহিহুল বুখারি: ৬০২১
২৪০. সুরা আল-মুমিনুন: ৯৯-১০০

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 হে পরকালমুখী অভিযাত্রী থাকো! একটু ভাবো!

📄 হে পরকালমুখী অভিযাত্রী থাকো! একটু ভাবো!


নিম্নে সালাফের মুখনিঃসৃত মনি-মুক্তোসদৃশ কিছু অমিয় বাণী নিয়ে আলোকপাত করা হলো, যা আখিরাতের পথিকদের জন্য উত্তম, কার্যকর পাথেয় হিসেবে কাজ দেবে।

প্রথম স্পট: সারি আস-সাকাতি বলেন, 'নিজের মাঝে অনুপস্থিত গুণকে কৃত্রিমভাবে সজ্জিত করার দরুন আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।'

সুতরাং হে প্রিয় ভাই, নিজের মাঝে অনুপস্থিত বিষয়ে অহেতুক কৃত্রিমতা ও তা সজ্জিত করা থেকে সাবধান! চাই তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি বা অন্য যেকোনো ইবাদতের ক্ষেত্রেই হোক না কেন। সুতরাং নিজ অন্তরে লালনকৃত বিষয়ের বিপরীত অবস্থা প্রকাশ করা আল্লাহর রহমতের সুদৃষ্টি থেকে পড়ে যাওয়ার অন্যতম নিয়ামক।

দ্বিতীয় স্পট: জনৈক প্রাজ্ঞবান ব্যক্তি বলেন, 'বুদ্ধিমান মুমিনের জন্য পাঁচটি সুযোগের সদ্ব্যবহার করা অপরিহার্য। ক. অতীত পাপের ব্যাপারে সর্বদা অনুতপ্ত থাকা। খ. ক্ষমা পাওয়া না পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত থাকা। গ. সৎকর্মের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শঙ্কায় থাকা। ঘ. জান্নাত ও জাহান্নামের ব্যাপারে আশঙ্কায় থাকা যে, কোথায় হবে আমার ঠিকানা? অনন্তকালের শান্তির নীড় জান্নাত না চিরস্থায়ী শাস্তির ঠিকানা জাহান্নাম? ঙ. স্বীয় রবের সন্তুষ্টির ব্যাপারে সর্বদা শঙ্কায় থাকা।

তৃতীয় স্পট : মালিক বিন দিনার বলেন, 'যখন তুমি অন্তরে কাঠিন্য ও শরীরে ক্লান্তি অনুভব করবে, তখন নিশ্চিত থাকো যে, তুমি অবশ্যই অহেতুক কথাবার্তায় জড়িয়েছ।'

চতুর্থ স্পট: আবুল আলিয়া বলেন, 'আমি আশা রাখি যে, বান্দা দুটি বিষয়কে আঁকড়ে ধরলে কখনো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে না। ক. আল্লাহর নিয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায়। খ. নিজ গুনাহের কারণে ক্ষমা প্রার্থনা করা।'

পঞ্চম স্পট : ইমাম ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'বান্দার ওপর আল্লাহর দুটি অত্যাবশকীয় অধিকার রয়েছে, যে অধিকারদ্বয়ের ক্ষেত্রে সে কখনো শিথিলতা প্রদর্শন করতে পারে না। ক. মহান প্রভুর আদেশ-নিষেধ পালনে যথাযথ যত্নবান হওয়া। খ. আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামতের ওপর কৃতজ্ঞ হওয়া।'

ষষ্ঠ স্পট : ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ বলেন, 'দাউদ-এর হিকমার কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। প্রকৃত বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য চারটি সময়ে শিথিলতা প্রদর্শন কখনো বাঞ্ছনীয় নয়।

ক. রবের সাথে একান্ত আলাপের সময়。
খ. আত্মসমালোচনার সময়।
গ. বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঘুরে বেড়ানোর সময়, যদি তাদের কোনো একটি বিচ্যুতি শুধরিয়ে দেওয়া সম্ভবপর হয়।
ঘ. বৈধ ও প্রশংসনীয় বিষয়ের স্বাদ আস্বাদন করার সময়।”

বুদ্ধিমানের ওপর আরও আবশ্যক হলো, নিজ সময়ের ব্যাপারে সদা সজাগ থাকা।'

• হায়, উক্ত আলোচিত উপদেশাবলি বাস্তবায়নে আমরা যদি সত্যি সত্যি যত্নবান হতাম, তবে আমরা সফলতার কতই না উচ্চ শিখরে উন্নীত হতাম!

সপ্তম স্পট : ইমাম ইবনে কাইয়িম বলেন, 'বান্দার চিরস্থায়ী সফলতার পূর্বশর্ত হলো, দৃঢ় প্রত্যয়, বিপদে ধৈর্যধারণ, মানসিকভাবে সাহসী, আন্তরিক দৃঢ়তা, যা মূলত সবই আল্লাহর অনুগ্রহের অংশ, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকেই দান করেন।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00