📄 দৈনন্দিনের সুন্নাতসমূহ পালনে যত্নশীল হোন
আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত সফলতার সোপানে আরোহণ করতে পারবেন না, যতক্ষণ না সকাল-সন্ধ্যার দৈনিক সুন্নাতের ব্যাপারে পরিপূর্ণ যত্নশীল হবেন। এমনকি যতক্ষণ না আপনার জীবনের হালচাল নববি সুন্নাতের সম্পূর্ণ অনুসারী হয়ে যায়。
• যতই আপনি নবিজি -এর কোনো সুন্নাতের ওপর আমল করবেন এবং তাঁর আদর্শকে আঁকড়ে ধরতে সচেষ্ট হবেন, ততই আপনি আল্লাহর নৈকট্যশীলে পরিণত হবেন। কেননা, মুমিন ব্যক্তির মান-মর্যাদা স্বীয় রবের নিকট উঁচু হতে থাকে নবিজি -এর সুন্নাত ও আদর্শকে তার জীবনে বাস্তবায়ন অনুপাতে। আল্লাহ তাআলা বলেন :
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
'(হে নবি,) আপনি তাদের বলে দিন, "তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, আমার অনুগত্য করো।" তাহলে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন।' [103]
• নবিজি -এর দৈনন্দিনের সুন্নাত অগণিত ও অপরিসীম। নমুনাস্বরূপ এখানে দৈনন্দিনের কতিপয় সুন্নাত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। যেমন : ঘুমানোর পূর্বের ও পরের সুন্নাতসমূহ, খাওয়ার পূর্বের ও পরের সুন্নাতসমূহ, তেমনিভাবে আরও বিভিন্ন বিশেষ মুহূর্ত ও অবস্থার সুন্নাতসমূহ। এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানার জন্য আমার ছোট্ট পুস্তিকা 'দৈনন্দিনের সহস্রাধিক সুন্নাত' দেখা যেতে পারে। তাতে আমি দেখিয়েছি, কীভাবে আপনি কোনো কষ্ট ও সময় অপচয় ছাড়া সহজেই একদিনে রাসুলুল্লাহ -এর এক হাজারেরও অধিক সুন্নাতের ওপর আমল করতে পারবেন। (সমস্ত প্রশংসা কেবল আপনারই হে আল্লাহ!)
• সুতরাং একটু চিন্তা করে দেখুন, এই নববি সুন্নাতসমূহের প্রতি একটু যত্নশীল হওয়ার দ্বারা আপনি প্রতি বছর কত বেশি সাওয়াব ও প্রতিদানের অধিকারী হবেন। তাই নববি সুন্নাতসমূহকে আপনার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ জ্ঞান করুন। কেননা, যে ব্যক্তি যে বিষয় বা অবস্থার ওপর নিজ জীবনকে পরিচালিত করে, তার মৃত্যু অবশ্যই সেই বিষয় বা অবস্থার ওপরই হয় (চাই তা ভালো হোক কিংবা মন্দ)। আল্লাহ আমাদের সকলকে নববি সুন্নাত অনুযায়ী জীবন সাজানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
১০৩. সুরা আলি ইমরান : ৩১
📄 দৈনন্দিনের দুআসমূহ পঠনে সচেষ্ট হোন
আপনি যদি সফলতার সুউচ্চ স্তরে আরোহী হতে চান, তাহলে ওই সব দুআ পাঠের প্রতি সচেষ্ট হোন, যা নবিজি দিবারাত্রি পাঠ করতেন。
* আমরা যদি তাঁর মহা বর্ণাঢ্যময় জীবনের প্রতি একটু লক্ষ করি, তাহলে দেখব, কীভাবে তিনি তাঁর দিবারাত্রির কথাবার্তা ও কাজকর্মের মুহূর্তগুলো স্বীয় রবের স্মরণে কাটিয়েছেন। তিনি আহার-নিদ্রার অগ্র- পশ্চাতে, সকাল-সন্ধ্যায়-বিভিন্ন অবস্থার পরিবর্তনে ও বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে অসংখ্য-অগণিত দুআ পাঠে রত থাকতেন। কেননা, তাঁর অন্তর সর্বদা আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্যে মগ্ন থাকত。
* তাই দুআর মাধ্যমে মুমিন বান্দা স্বীয় রবের সাথে সম্পর্ককে যত বেশি দৃঢ় ও মজবুত করবে, মহান প্রতিপালকের কাছে সে তত বেশি সম্মানিত, মর্যাদাবিশিষ্ট নৈকট্যশীলে পরিণত হবে।
* সুতরাং সামর্থ্যানুযায়ী উক্ত দুআসমূহের ব্যাপারে যত্নশীল হোন। চাই তা নামাজের মধ্যে কিংবা নামাজ শেষে হোক অথবা জীবনের অন্য কোনো ক্ষেত্রে হোক। যেন আপনি সর্বদা আপন রবের সাথে অন্তরঙ্গ হতে পারেন। তাঁর পক্ষ থেকে আপনার জন্য যেন বিশেষ সাহায্য, তাওফিক ইত্যাদি অনবরত আসতেই থাকে。
নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন
আপনি প্রতিদিন দুআর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারেন, যেমন প্রতিদিন একটি করে নতুন দুআ পাঠে ব্রতী হবেন। তাহলে মাসিক আপনার আমলে ত্রিশটি দুআ যোগ হবে, এভাবে দুমাসে যুক্ত হবে ষাটটি দুআ।
• আপনার এই নতুন পরিকল্পনার আশু ফলাফল আপনি দেখতে পাবেন, যখন কতক মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন, রাসুল -এর কয়টি দুআ আপনি মুখস্ত করেছেন? তখন আশ্চর্যজনকভাবে আপনি লক্ষ করবেন, তাদের কেউ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দুআ মুখস্তকরণে ব্রতী হয়নি। তখনই আপনি ওই দৈনিক ছোট্ট পরিকল্পনার ফলাফলের স্বতন্ত্রতা গভীরভাবে অনুভব করতে পারবেন।
• আমার একটি ছোট্ট পুস্তিকা রয়েছে (দৈনন্দিনের সহস্রাধিক সুন্নাত), এই পুস্তিকাতে আমি দিনরাতের সহস্রাধিক দুআ পাঠের কৌশল নিয়ে আলোকপাত করেছি। সেটি দেখা যেতে পারে, উপরন্তু তা সুখপাঠ্যও বটে। তেমনিভাবে শাইখ কাহতানি রচিত 'হিসনুল মুসলিম' নামক পুস্তিকাটিও দেখা যেতে পারে, কেননা তাতে নবিজি -এর সামগ্রিক জীবনের প্রায় ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুআর সংগ্রহ রয়েছে।
- সুতরাং দুআই একমাত্র ইবাদত।
- দুআই মুমিনের জীবনের একমাত্র হাতিয়ার।
– দুআই দয়ালু রবের নিকট অভিযোগের একমাত্র মাধ্যম।
-দুআ নম্রতা, বিনয় এবং প্রতাপশালী সৃষ্টিকর্তার প্রতি মুখাপেক্ষিতার একমাত্র নিদর্শন।