📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 বান্দার ওপর আল্লাহর হক

📄 বান্দার ওপর আল্লাহর হক


আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿ وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ ﴾

‘আর কেউ আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিধানাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে আপন পালনকর্তার নিকট তা তার জন্য উত্তম।’

• শাইখ সাদি আয়াতাংশ حُرُمَاتِ اللهِ এর ব্যাখ্যায় বলেন, حُرُمَاتِ الله তথা আল্লাহর সম্মানিত নিদর্শন বলতে প্রত্যেক ওই বস্তুকে বোঝায়, যার মাঝে কোনো না কোনোভাবে মহত্ত্ব, সম্মান ও বিশেষত্ব নিহিত রয়েছে। এবং উহার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চাই তা উপাসনা বা অন্য যেকোনো উপায়েই হোক না কেন। যেমন হজ ও কুরবানি-সম্পর্কিত সকল বিষয়। উদাহরণস্বরূপ হারাম শরিফে ইহরাম বাঁধা ও কুরবানি করার নিমিত্তে আল্লাহর রাহে উৎসর্গিত জন্তু।
তেমনিভাবে অন্যান্য ওই সব ইবাদত, যা তিনি ওই সময় সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব আল্লাহর নিদর্শনের সম্মান বলতে এটির মহত্ত্ব, প্রেম অন্তরে দৃঢ়ভাবে ধারণ এবং হৃদয় দিয়ে তা গভীরভাবে উপলব্ধি করা; সর্বোপরি কোনো রকমের অলসতা, অবজ্ঞা ও অবহেলা ছাড়া ওই সব স্পটে উপাসনাকে পূর্ণরূপ দেওয়া।

• রাসুলুল্লাহ মুআজ-কে বললেন:
يَا مُعَادُ، هَلْ تَدْرِي حَقَّ اللهِ عَلَى عِبَادِهِ، وَمَا حَقُّ العِبَادِ عَلَى اللَّهِ؟ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى العِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَحَقَّ العِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يُعَذِّبَ مَنْ لَا يُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا أُبَشِّرُ بِهِ النَّاسَ؟ قَالَ: لَا تُبَشِّرْهُمْ، فَيَتَّكِلُوا
“হে মুআজ, তুমি কি জানো, বান্দার ওপর আল্লাহর কী হক? এবং আল্লাহর ওপর বান্দার কী হক?” মুআজ বলেন, “আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন?” তিনি বললেন, “বান্দার ওপর আল্লাহর হক হচ্ছে, তাঁর উপাসনা করা ও কারও সাথে তাঁকে অংশীদার সাব্যস্ত না করা। এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হক হচ্ছে, (এখানে তাঁর পক্ষ থেকে উক্ত মহাপ্রতিদানের অকাট্যতা বোঝাতে 'হক' তার রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে) যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করে না, তাকে শাস্তি না দেওয়া।”

• সফলতা-প্রত্যাশী মুমিন ব্যক্তির ওপর সবচেয়ে বড় হক হলো আল্লাহর হক। এই বিষয়টি মুমিন ব্যক্তিমাত্রই সার্বক্ষণিক তার মনস্পটে লালন করে থাকে এবং সে কখনো তাঁর হক ও অধিকারের ওপর অন্য কোনো পার্থিব-অপার্থিব অধিকারকে প্রাধান্য দেয় না। মুমিন বান্দাকে যদিও সচরাচর ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে অন্য দশ জনের ন্যায় নড়াছড়া করতে দেখা যায়, কিন্তু সে সার্বক্ষণিক আপন প্রতিপালকের হকের ব্যাপারে চিন্তামগ্ন থাকে। কোথাও ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক আল্লাহর দরবারে বিগলিত বদনে, অশ্রুসজল নয়নে কান্নাকাটি করে তাওবার মাধ্যমে ত্রুটির ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ করে না। মোটকথা আমাদের ওপর আল্লাহর হক হচ্ছে, তাঁর আনুগত্য পালন ও সর্বদা শয়নে-স্বপনে তাঁকে স্মরণ করা; তাঁর নাফরমানি ও অবাধ্যতা পরিহার করা। তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, কখনো অকৃতজ্ঞ না হওয়া—তাঁর হকের ব্যাপারে সজাগ ও সচেতনতার কার্যকর ফলাফল।

• ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'আত্মিক উন্নতির মাধ্যম হলো আল্লাহর হকের ব্যাপারে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি থাকা। উক্ত হকের ব্যাপারে সচেতনতার দরুন নিম্নোক্ত সুদূরপ্রসারী কতক শুভ পরিণাম বয়ে আনে।

১. নিজের দীনতা, হীনতা ও অসহায়ত্বের উপলব্ধির বীজ বপন করে।
২. যার ফলে লোকদেখানো ও আত্মপ্রশংসা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।
৩. আপন প্রতিপালকের সহিত বিনয়, নম্রতা ও সত্যিকারের দাসত্বের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
৪. আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা লাভে ধন্য হয়। যা ছাড়া মুক্তি অসম্ভব।
৫. সর্বোপরি তার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়ে নেন। কেননা, যার কাজের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ না নেবে, সে অবশ্যই ধ্বংস হবে।'

• আল্লাহ ও নিজ ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতার চূড়ান্ত পর্যায় হচ্ছে, আল্লাহর অধিকারের ওপর নিজ অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়া এবং তার ওপর আল্লাহর অধিকারের ব্যাপারে মোটেও ভ্রুক্ষেপ না করা।

• ইমাম আহমাদের সাড়া জাগানো প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'কিতাবুজ জুহদ'-এ বর্ণিত আছে বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তি তার একটি প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে একাধারে ষাট বছর আল্লাহর উপাসনা ও প্রার্থনায় রত ছিলেন। অথচ, এতকাল পরও তার প্রয়োজনটা মিটেনি এবং তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
অতঃপর সে মনে মনে নিজেকে সম্বোধন করে বলল, আল্লাহর কসম, তোমার মধ্যে যদি কোনো কল্যাণ থাকত; তাহলে অবশ্যই তুমি উদ্দেশ্যে সফল হতে, অর্থাৎ তোমার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যেত। অতঃপর স্বপ্নে এসে তাকে কেউ বলতে লাগল, তোমার অন্তরের এই ক্ষণিকের দীনতা, হীনতার মূল্য কতটুকু, তা কি তুমি কখনো ভেবে দেখেছ। নিশ্চয় ক্ষণিকের এই বিনয়টুকু বিগত ষাট বছর উপাসনার চেয়েও অধিক মূল্যবান। (সুবহানাল্লাহ)

• ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'ছয়টি বিষয়ে আনুগত্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর হক রয়েছে।
১. আমলের মধ্যে নিষ্ঠা, নিষ্কলুষতা ও একনিষ্ঠতা。
২. আল্লাহর সন্তুষ্টিই মুখ্য উদ্দেশ্য থাকা।
৩. আমলের ক্ষেত্রে রাসুল-এর পূর্ণ আনুগত্য করা।
৪. আমলকে ইহসানের স্তরদ্বয়ের যেকোনো এক স্তরে উন্নীত করা। (স্তরদ্বয় ১. এমনভাবে উপাসনা করা, যেন আল্লাহ স্বয়ং আপনার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। ২. এমনভাবে আমল করা যে, আপনি আল্লাহকে না দেখলেও আল্লাহ তাআলা কিন্তু আপনাকে দেখছেন।)
৫. আল্লাহর দয়া ও করুণার অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত রাখা।
৬. সর্বোপরি নিজ ত্রুটির ব্যাপারে সর্বদা সচেতন থাকা।'

আনুগত্যের বাস্তব স্বরূপ

ইবনুল জাওজি বলেন, 'আনুগত্য শুধু নামাজ, রোজার বাহ্যিক ডেকোরেশনের নাম নয়, যেমনটি সাধারণত নির্বোধ ব্যক্তিরা মনে করে থাকে; কেননা, আনুগত্যের মর্মই হচ্ছে, আল্লাহর আদেশাবলি বাস্তবায়ন এবং তাঁর নিষেধাবলি থেকে নিবৃত্তির সাথে বাস্তবিকভাবে একাত্ম হয়ে যাওয়া।'
আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
'হে ইমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চিতরূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।'

• আবু বকর জাজায়িরি এই আয়াতে কারিমার ব্যাখ্যায় বলেন, 'আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের নির্দেশসুলভ ভঙ্গিতে ইসলামে এমন সামষ্টিকভাবে প্রবেশের আহ্বান করছেন যে, তারা যেন ধর্মের বিধিবিধানে নিজেরা অনধিকার চর্চার প্রয়াস না নেয়। অর্থাৎ এমন যেন না হয়, যা নিজের খেয়াল-খুশিমতো হবে, তা গ্রহণ ও পালন করবে; আর যা তাদের প্রবৃত্তির সাথে খাপ খাবে না, তা অবহেলা ও অমান্যতার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে। কেননা, তাদের ওপর ইসলামের সব বিধিবিধান পালন ও গ্রহণ করা অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য। যাতে কারও জন্য একবিন্দু পরিমাণও ছাড় নেই।'

• প্রিয় দ্বীনি ভাই, আপনি কি জানেন? ইসলাম অর্থ সব বিষয়ে আল্লাহর অকুণ্ঠ আনুগত্য করা, তো এরপরও কীভাবে ইসলামকে শুধু নামাজ ও রোজার বাহ্যিক আবরণে আচ্ছাদিত মনে করেন এবং নাজাতের জন্য শুধু উক্ত ইবাদতদ্বয়কেই যথেষ্ট জ্ঞান করেন? বরং ইসলাম মানে সব নির্দেশনা জীবনে বাস্তবায়ন (যেমন, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, বাবা-মায়ের প্রতি সর্বদা সদয় থাকা, সত্য কথা বলা, আমানতের খিয়ানত না করা প্রভৃতি) এবং সব নিষেধ থেকে বিরত থাকা (যেমন: সুদ, জিনা-ব্যভিচার, মিথ্যা, ধোঁকা-প্রতারণা, পরনিন্দা, গালিগালাজ প্রভৃতি)।

টিকাঃ
৫৮. সুরা আল-হজ: ৩০
৫৯. সহিহুল বুখারি: ২৮৫৬
৬০. সুরা আল-বাকারা: ২০৮

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর সত্তা!

📄 হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর সত্তা!


يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ ﴾
'হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, আপনার রহমতের অসিলায় আমি আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমার সকল অবস্থা সংশোধন করে দিন এবং আমাকে আমার নফসের সমীপে চোখের পলকের জন্যও সোপর্দ করবেন না।

রাসুল সকাল-সন্ধ্যা এই দুআ পড়তে বলতেন। কেননা, আল্লাহ ও তাঁর সাহায্য, সংরক্ষণ থেকে কোনো মুসলিম এক মুহূর্তও অমুখাপেক্ষী বা বেপরোয়া হতে পারে না।

أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ এই বাক্যে ক্ষণিক ভাবুন! (كل) শব্দটি ওই শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা ব্যাপকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই এই মূল্যবান দুআটি আবৃত্তির সময় আপনি নিম্নোক্ত মর্মগুলোর প্রতি লক্ষ রাখুন।

১. তাঁর আদেশ পালন এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকার ওপর দৃঢ়তা অর্জনের মাধ্যমে যেন তিনি তাঁর সাথে আপনার সম্পর্কের উন্নতি সাধন করেন।
২. আত্মশুদ্ধি, সংশোধনের মাধ্যমে কুমন্ত্রণাদায়ক নফসের সাথে আপনার যেন সমঝোতা হয়ে যায়।
৩. সব ধরনের মানুষ তথা আপনার বাবা-মা, স্ত্রী-পুত্র, আপনার দাস-দাসী, আত্মীয়, প্রতিবেশী ও বন্ধু সবার সাথে আপনার সম্পর্ক যেন সংশোধিত হয়ে যায়, সব অধিকার আদায়ের মাধ্যমে ও অন্যায় অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে।

• এভাবে আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রকাশ্যে, গোপনে সুখে-দুঃখে, অবস্থার পট পরিবর্তনে—সবক্ষেত্রে সংশোধনের প্রার্থনা করা উচিত।
• সুতরাং একজন মুসলিম হিসেবে প্রত্যেকেরই প্রতিটি অবস্থায় এই দুআকে বারবার আবৃত্তি করা উচিত। কেননা, এতে রয়েছে সকল সমস্যার সমাধান, যা মুসলিম ব্যক্তি তার দৈনন্দিন জীবনে সম্মুখীন হয়—চাই সমস্যাটা সামাজিক, আর্থিক, ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো সমস্যা হোক না কেন।

- কিন্তু একটি বিষয় খুব খেয়াল রাখা চাই যে, মুমিনের প্রত্যেক প্রার্থনায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা, দৃঢ় বিশ্বাস ও ভরসা থাকতে হবে। কেননা, তার প্রতিপালক স্বীয় দাসকে কখনো নিরাশ ও বঞ্চিত করেন না, যদি দুআকামী সত্যিকারার্থে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তাঁর ওপর রাখতে সক্ষম হয়। তিনি এমন এক পবিত্র সত্তা, যাঁকে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের কোনো বস্তুই অক্ষম করতে পারে না। এবং তিনি মহাজ্ঞানী ও সর্বশ্রোতা। তিনি তাঁর কাছে সত্যিকারার্থে আশ্রিত ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত, অপদস্থ ও বঞ্চিত করা থেকে সম্পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র。

টিকাঃ
৫৭. মুস্তাদরাকুল হাকিম : ২০০০

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 আল্লাহর দিকেই মনোনিবেশ করতে হবে

📄 আল্লাহর দিকেই মনোনিবেশ করতে হবে


অত্যন্ত পরিতাপের একটি বিষয় হচ্ছে :

• কতক লোককে দেখা যায় যে, তারা সৃষ্টিকর্তার প্রতি উৎসাহী ও ধাবিত হওয়ার চেয়ে নগণ্য সৃষ্টিকুলের প্রতি অধিক আগ্রহী ও ধাবমান।
• তারা সৃষ্টিকর্তার দিকে নিবিষ্ট হওয়ার চেয়ে মানুষের প্রতিই অধিক নিবিষ্ট ও অনুরাগী।
• আর কতক লোক আছে, তারা আল্লাহর আওতাধীন বিষয়ের চেয়ে মানুষের আওতাধীন মেকি বিষয়ের প্রতি সর্বাধিক লোলুপ-লোভাতুর হয়ে থাকে। মানুষের কাছেই তারা হাত পাতে।
• তারা মানুষের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে, তাদের সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আড্ডা দিতে থাকে। কিন্তু আপন সৃষ্টিকর্তার সাথে একটুখানি সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজনটুকুও অনুভব করে না, এমনকি তাঁর আনুগত্য কিংবা তাঁর কালামে মাজিদ পাঠকালে পর্যন্ত বিরক্তিবোধ করে। অথচ, তিনিই তাদের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা।
• আল্লাহর ক্ষমতা ও শক্তির চেয়েও মানুষের ক্ষমতা ও শক্তির ওপর তারা অধিক নির্ভরশীল ও আস্থা রেখে থাকে!
• মানুষের জন্য তারা সব ধরনের কষ্ট-ক্লেশ ও ভোগান্তি পোহাতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করে না। অথচ, আপন প্রতিপালকের সন্তুষ্টির জন্য সামান্য কষ্ট স্বীকার করতে হাজারো টালবাহানা করে থাকে। এ ক্ষেত্রে আদৌ কোনো কষ্ট বা ত্যাগ স্বীকার করতেই তারা প্রস্তুত নয়。
• কেউ আছে, মানুষের অন্তরে নিজের মান-মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সর্বদা তৎপর ও অতি উৎসাহী থাকে। অথচ, আপন সৃষ্টিকর্তার নিকট নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কোনো চেষ্টা তো করেই না; বরং এ ব্যাপারে সে কোনো তোয়াক্কাই করে না。
• আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ ও সম্পর্ক দৃঢ়করণের চেয়ে মানুষের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে অধিক ব্যস্ত তারা, যেমন নামাজের প্রতি তাদের কোনো ভ্রক্ষেপ নেই; অথচ, নামাজ হচ্ছে বান্দা ও রবের মাঝে সেতুবন্ধনের অন্যতম মাধ্যম।
• আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আগ্রহী ও উৎসাহী হওয়ার চেয়ে সৃষ্টিকুলের সন্তুষ্টি অর্জনে সে অধিক আগ্রহী ও অতি উৎসাহী।
হে আমার প্রিয় দ্বীনি ভাই, আপনার অন্তর থেকে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জিজ্ঞেস করুন, যেন আপনি আপনার বাস্তব মর্যাদা ও সম্মান এবং আপনার কাছে ইমানের গুরুত্ব কতটুকু আর আপনি কোথায় মজে আছেন—এসব ব্যাপারে সম্যক অবগত হতে পারেন।

আল্লাহর বড়ত্ব, মহত্ত্ব, সুমহান মর্যাদা, তাঁর ভালোবাসা ও ভীতি কি আপনার হৃদয়কে জয় করতে এবং আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে? আপনার চিন্তা-চেতনা, সর্বোপরি আপনার সর্বাধিক প্রিয় বস্তু, প্রাণ ইত্যাদি কি নিরবচ্ছিন্নভাবে মহান রবের দিকেই ধাবমান ও মনোযোগী?

আপনার অন্তর কি তিনি ব্যতীত অন্যত্র ঝুঁকে? চাই ভালোবাসা, সম্মান কিংবা বিনয়, নম্রতা—যেকোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন।

• সুফইয়ান সাওরি বলেন, 'তোমার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহ সবকিছুই আল্লাহকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলো।'

সবচেয়ে ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট আগ্রহ ও উদ্দীপনা

মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, 'সবচেয়ে জঘন্য লিপ্সা হচ্ছে, পরকালের আমল দ্বারা দুনিয়া কামাই করা।'
• সুতরাং সাবধান! সতর্ক হোন! আপনি নিজেকে কত সম্মানি মনে করেন, অথচ আল্লাহর কাছে কত তুচ্ছ ও নিন্দনীয় আপনি। নিজেকে আপনি কত কল্যাণের আধার মনে করেন, অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত। আপনি নিজেকে অনেক বড় জ্ঞানী ভেবে থাকেন, অথচ আপনার ভেতরে জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার শূন্যতা ছাড়া অন্য কিছু দৃষ্টিগোচর হয় না।

• আপনি নিজ আত্মাকে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর ছাড়া সরাসরি প্রশ্ন করুন, আপনার অন্তর কি মহান আল্লাহকে প্রাধান্য দেয়? আপনার অন্তর কি তাঁকে সবচেয়ে বড় জ্ঞানী মনে করে? না আপনার কাছে দুনিয়াই সবকিছু এবং এর স্বার্থ সব স্বার্থের ঊর্ধ্বে?

সুতরাং আপনি যদি তুচ্ছ পার্থিব বিষয়কে আল্লাহর আদেশের ওপর প্রাধান্য দেন, আল্লাহর আনুগত্য বাদ দিয়ে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার কোনো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, এর স্বার্থেই যদি অবাধ্যতা করেন- যেমন : মুআজ্জিন আজান দিচ্ছে, অথচ আপনি আপনার কাজেই ব্যস্ত, এর প্রতি আপনার বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ নেই; সর্বোপরি হারামকে হালালের ওপর প্রাধান্য দেন-তাহলে নিশ্চিত জেনে রাখুন, আপনার অন্তরে অবশ্যই আল্লাহর চেয়ে দুনিয়া ও তার তুচ্ছ স্বার্থ অনেক বড়। (নাউজুবিল্লাহ)।

সোনার ফ্রেমে বেঁধে রাখার মতো একটি মূল্যবান উপদেশ

ইবনুল কাইয়িম বলেন, ‘আল্লাহর প্রতি আগ্রহ, তাঁর সন্তুষ্টি ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য গভীর উদ্দীপনা প্রভৃতি মূলত কোনো বান্দার মূল সম্পদ ও সকল সাফল্যের চাবিকাঠি। পবিত্র জীবনের মূল উপকরণ এবং তার সৌভাগ্য, সফলতা, নিয়ামত ও চক্ষুশীতলতার মূল উৎস। কেননা, এ জন্য তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, এ জন্য নবি-রাসূল পাঠিয়েছেন এবং নাজিল করেছেন আসমানি কিতাব।’

অতএব আল্লাহর প্রতি অধিক আগ্রহী ও উৎসাহী হওয়া ব্যতীত আত্মিক পরিশুদ্ধি ও প্রশান্তি অর্জন কিছুতেই সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ - وَإِلَى رَبِّكَ فَارْغَبْ )

‘অতএব, যখন অবসর পান পরিশ্রম করুন। এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন।’

আল্লাহর যথাযথ পরিচয় লাভের সুদূরপ্রসারী যুগান্তকারী ফলাফল

ইবনুল কাইয়িম বলেন, ‘যে আল্লাহর যথাযথ পরিচয় লাভে ধন্য হয়েছে—

- তার জীবন হবে নির্মলতা ও আত্মিক প্রশান্তিতে আচ্ছাদিত এবং পবিত্রতার চাদরে আবৃত।

- তার একটি ব্যক্তিত্ব অর্জিত হবে এবং তার অন্তর থেকে সৃষ্টিকুলের ভয় দূর হয়ে যাবে।

- রবের সাথে তার সম্পর্কে উন্নতি হবে, অপরদিকে মানুষের সাথে সম্পর্ক ক্রমশ হ্রাস পাবে।

- আপন প্রতিপালকের সামনেই সে শুধু লজ্জিত হবে এবং তাঁকেই বড় জ্ঞান করবে এবং সর্বদা অন্তরে জাগরূক রাখবে তাঁরই ধ্যান-খেয়াল।

- বস্তুত, সে আল্লাহকেই সত্যিকারার্থে ভালোবাসবে, তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে এবং তাঁকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে। সব বিষয় তাঁর সন্তুষ্টির ওপর ন্যস্ত করবে।’

আগ্রহ দুপ্রকার

১. আল্লাহর দিদার, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও একান্ত আলাপ এবং তাঁর দিকেই সর্বদা দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকার আগ্রহ ও উৎসাহ।

২. জান্নাত ও তার অভ্যন্তরের অনন্তকালের নিয়ামতরাজি এবং উভয় জগতের কামিয়াবি লাভের আগ্রহ।

টিকাঃ
১২৩. সুরা আল-ইনশিরাহ: ৭-৮

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও...

📄 অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও...


আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ إِنِّي لَكُمْ مِنْهُ نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴾

'অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তাঁর তরফ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী।'

• প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম তবারি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, 'হে লোক সকল, তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে ইমানের মাধ্যমে তাঁর দয়া ও অনুকম্পার দিকে ধাবিত হও। এবং তাঁর নিরঙ্কুশ আনুগত্যের মাধ্যমে কর্ম সম্পাদনে ব্রতী হও।'

• ইবনুল কাইয়িম বলেন, (الفرار) শব্দের বাস্তবধর্মী মর্ম হচ্ছে, এক বস্তু থেকে অপর বস্তুর দিকে পলায়ন করা। এটি মূলত দুপ্রকার। (১.) সৌভাগ্যবানদের পলায়ন। তা হচ্ছে সবকিছুকে ফেলে রেখে আল্লাহর দিকেই ধাবিত ও অগ্রগামী হওয়া। (২.) দুর্ভাগাদের পলায়ন। তা হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে পালিয়ে আসা। অর্থাৎ মহান রবের শাস্তি থেকে বাঁচতে অন্য কারও সাহায্য প্রার্থনা করা।'

• সাহল আত-তুসতারি প্রায়শ উপদেশের সুরে স্বীয় শিষ্যদের বলতেন, 'আল্লাহ ছাড়া সবকিছুকে বাদ দিয়ে তোমরা একমাত্র তাঁরই দিকে পালিয়ে এসো।'

আল্লাহর নিকট পলায়নের কতিপয় প্রকারভেদ

শাইখ সাদি আল্লাহর নিকট পলায়নের বিভিন্ন প্রকারভেদ চিহ্নিত করেছেন, যা নিম্নরূপ:

১. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ—আল্লাহর সব অপছন্দনীয় বিষয় থেকে তাঁর প্রিয় বস্তুর দিকে ফিরে আসা, চাই তা প্রত্যক্ষ হোক কিংবা পরোক্ষ হোক।

২. অজ্ঞতা থেকে প্রজ্ঞার দিকে পলায়ন。

৩. কুফর থেকে ইমানের দিকে প্রত্যাবর্তন।

৪. অবাধ্যতা থেকে আনুগত্যের দিকে পলায়ন।

৫. অলসতা ও উদাসীনতা থেকে রবের স্মরণের দিকে পলায়ন।

৬. আল্লাহর এক তাকদির থেকে অন্য তাকদিরের দিকে পলায়ন。

• আল্লাহর নিকট পলায়নের মূল উপপাদ্য বিষয় হলো, বান্দা আল্লাহর কোনো অংশী সাব্যস্তকরণ (যেমন, মূর্তি-ভাস্কর্য কিংবা কবর পূজা ইত্যাদি, যা তিনি ব্যতীত অন্য কারও উপাসনাকেই অনিবার্য করে তোলে।) থেকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের দিকেই ফিরে আসা এবং স্বীয় রবের জন্য উপাসনা, ভয়, আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রার্থনা ও প্রত্যাবর্তন-সব বিষয় বরাদ্দ করা। যে উক্ত বিষয়াবলিকে পরিপূর্ণরূপে অর্জন করল, সে যেন পুরো দ্বীনকেই পরিপূর্ণভাবে নিজের সাথে জড়িয়ে নিল。

• ওহে, আপনি কে? যার স্বীয় রবের দিকে পলায়নের প্রয়োজনই নেই! ওহে আল্লাহর দুর্বল বান্দা, আপনি কি ভুলে গেছেন যে, নিজের লাভ-ক্ষতি কোনো কিছুরই মালিক আপনি নন? যেমন আপনি হঠাৎ সুস্থ আবার হঠাৎ অসুস্থ। জীবনযাপনের প্রাক্কালে হঠাৎ-ই বার্ধক্যে উপনীত। এখন জন্ম তো ক্ষণিক পরে আবার মৃত্যু। সর্বোপরি আপনি এমন এক দুর্বল সত্তার অধিকারী, যে কিনা কোনো ধরনের বালা-মুসিবতই সহ্য করতে পারে না। কোনো আসমানি ফয়সালা অকেজো করতে সম্পূর্ণরূপে অক্ষম আপনি, এ হলো আপনার বাস্তব প্রকৃত অবস্থা। তো আপনি কোথায় মজে আছেন! হে বন্ধু, একটুখানি ভাবুন!

• আপনি দয়ার সাগর আল্লাহর দিকে কেনই-বা প্রত্যাবর্তন করেন না? অথচ তিনিই তো সবচেয়ে সম্মানিত ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তিনিই তো আমাদের রিজিকদাতা, আমাদের জীবন-মৃত্যুর মালিক। মূলত তাঁর হাতেই তো পার্থিব-অপার্থিব সব ধরনের সফলতার মূল চাবিকাঠি।

• আল্লাহর শপথ! আপনি যদি সত্যিই স্বীয় রবের দিকে পালিয়ে আশ্রয় নেন, তাহলে অবশ্যই আপনি আর্থিক স্থিরতা, সার্বিক সফলতা, প্রফুল্লতা ও প্রশান্তির স্নিগ্ধময় আভা অনুভব করবেন。

• পক্ষান্তরে যদি তাঁর থেকে পলায়ন করে অন্য কোথাও আশ্রয় নেন, তাহলে আপনি অবশ্যই দুনিয়া-আখিরাত—উভয় জগতেই সীমাহীন কষ্ট-ক্লেশ, কোণঠাসাবোধ, দুশ্চিন্তা-দুর্ভাগ্য ইত্যাদি পেরেশানিতে জর্জরিত হতে থাকবেন।

• সুতরাং এমন দিন আসার আগেই পলায়ন করুন মহান প্রতিপালকের দিকে, যেদিন তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাবর্তনের সক্ষমতা থাকবে না। তা এমন দিন, যেদিন আপনার প্রাণপাখি কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। শরীরের বাহ্যিক আবরণ থেকে প্রাণ বের হয়ে ঊর্ধ্বজগতে উড়াল দেবে। যেদিন আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হতে হবে, সেদিন আসার আগেই তাঁর দিকে পলায়নে ব্রতী হোন। কেননা, সেদিন আপনি আপনার চোখের সামনে জাহান্নামের আগুনকে টগবগ করতে দেখতে পাবেন, কিন্তু আপনার ইজ্জত, সম্মান, ধন-সম্পদ কিছুই তখন কোনো কাজে আসবে না। ফলে আপনাকে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে, যার কোনো রকমের ক্ষতিপূরণ আদতে নেই। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।

• আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُمْ مَا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُمْ مَا كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ ﴾

'তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, যেমন আমি প্রথমে তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোমাদের যা দিয়েছিলাম, তা পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের দেখছি না। যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবি ছিল যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। বাস্তবিকই তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের দাবি উধাও হয়ে গেছে। '

• আপনি কি শয়তানের আনুগত্য থেকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে পলায়ন করছেন, না পলায়ন করছেন আল্লাহর আনুগত্য থেকে শয়তানের আনুগত্যের দিকে?

• খুব ভালো করে জেনে রাখুন, আপনার মধ্যে আল্লাহভীতির পরিমাণ অনুপাতেই তাঁর প্রতি পলায়নের হার হবে। স্বীয় রবের ভয় যার যত বেশি হবে, তার পলায়নও তার দিকে সে পরিমাণ হবে।

• মণিমুক্তোখচিত একটি অমিয়বাণী: প্রত্যেক ভয়ংকর বস্তু থেকে মানুষ পলায়ন করে একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত, কেননা মানুষ তাঁকে ভয় করা সত্ত্বেও তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং তাঁর আশ্রয় গ্রহণ করে।

টিকাঃ
১২৪. সুরা আজ-জারিয়াত: ৫০
১২৫. সুরা আল-আনআম : ৯৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00